Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: রিয়াদ জোবায়ের
মোট লেখা:৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৩ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
মোবাইলপ্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার

হাতের কাছে টুকিটাকি ইন্টারনেট সেবা নিতে মোবাইল ফোন এক অপরিহার্য বস্ত্ততে পরিণত হয়েছে। খুব সহজ কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলেই মোবাইলে অল্প সময়ে, সাশ্রয়ে এবং দ্রম্নততার সাথে নিরাপদভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব। মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে তা হলো :

ব্রাউজার নির্বাচন

মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সবচেয়ে ভালো ও সুবিধাজনক ব্রাউজার হলো অপেরা মিনি। এ ব্রাউজার থেকে কোনো ওয়েবসাইটে লগঅন করলে তা আগে কমপ্রেস করে এবং খুব অল্প ডাটা খরচ করেই পেজ লোড হয়। এজন্য অবশ্য ব্রাউজারে লোড নেয়া ছবির গুণগত মানও যে খুব বেশি ভালো হবে তা কিন্তু নয়। কারণ কোনো পেজ লোড নেয়ার সময় এটি পেজটির প্রায় ৯০ শতাংশ ডাটা কমিয়ে দেয়। এ মোবাইল ব্রাউজারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যেসব মোবাইলের হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন নিম্নমানের, সেসব মোবাইলেও এটি ব্যবহার করা যায়। এছাড়া মাল্টি-ট্যাব ব্যবহারের সুবিধা, আলাদা ডাউনলোডার, হিস্ট্রি থেকে ওয়েবপেজ ব্রাউজ করার সুবিধা, ওয়েবপেজ সেভ করে রাখার সুবিধা তো সাথে রয়েছেই। আর সবচেয়ে দ্রম্নতগতির ও সাশ্রয়ী হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় অপেরা মিনি ব্রাউজারই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। এছাড়া প্রত্যেক মোবাইল থেকে ব্রাউজ করার জন্য মোবাইলের বিল্ট-ইন ব্রাউজারের পাশাপাশি মজিলা মোবাইল ব্রাউজার, ডলফিন মোবাইল ব্রাউজার, মাক্সথন মোবাইল ব্রাউজার, অ্যাপলের সাফারি ব্রাউজারও বেশ জনপ্রিয়।

বুকমার্ক

বারবার কোনো সাইট ভিজিট করতে প্রত্যেকবার ওয়েব অ্যাড্রেস লেখাটা বেশ বিড়ম্বনার। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যে ওয়েবসাইটে বেশি ঢুঁ মারতে হয় বা পছন্দের ওয়েব পেজগুলো বুকমার্ক করে রাখা, যাতে ইন্টারনেট ব্রাউজার অন করেই বুকমার্ক থেকে সরাসরি চলে যেতে পারবেন আপনার পছন্দের ওয়েবসাইটে। মোটামুটি সব ওয়েব ব্রাউজারেই মেনু থেকে ‘বুকমার্ক দিস পেজ’ অপশন বুকমার্ক করা যায়।

সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহার

বর্তমানে বেশিরভাগ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন ভার্চুয়াল সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে। চ্যাটিং, স্ট্যাটাস আপডেটসহ ফটো শেয়ারিংয়ের জন্য সবাই মোটামুটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন। মোটামুটি সব সামাজিক যোগাযোগ সাইটেরই অ্যাপিস্নকেশন পাওয়া যায়, যা মোবাইলে ইনস্টল করে ব্যবহার করা সুবিধাজনক। চ্যাটিং এবং শেয়ারিংয়ের জন্য আলাদা অ্যাপিস্নকেশন পাওয়া যায়, যা আপনার পছন্দমতো ইনস্টল করতে পারবেন। বিশেষ করে ফেসবুকে চ্যাটিংয়ের জন্য ফেসবুক মেসেঞ্জারসহ ই-বাডি, নিমবাজ, মিগ থারটি-থ্রিও ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে স্ট্যাটাস শেয়ার করার জন্য প্রত্যেক ধরনের মোবাইলের জন্য ফেসবুক অ্যাপিস্নকেশন রয়েছে। তাছাড়া স্ন্যাপটু দিয়েও ফেসবুক ব্যবহার করা যায়। অনেক সময় ফেসবুকে ছবি আপলোড করার অপশন খুঁজে পাওয়া যায় না, সে ক্ষেত্রে ফেসবুক হোমপেজে ফটোজ অপশন থেকে আপলোড ফটোজ অপশন বেছে নিয়ে মেমরির ঠিক কোন জায়গায় কাঙিক্ষত ছবিটি আছে তা নির্দিষ্ট করে দিলেই ফেসবুকে ছবি আপলোড হবে।

পেজ কনটেন্ট সেটিং

বেশিরভাগ সময়ে ওয়েব পেজ আসতে দেরি হওয়ার কারণ হলো পেজের আকার অনেক বড় হওয়া। পেজের আকার বড় হয় সাধারণত অনেক ছবি ও অনাকাঙিক্ষত বিজ্ঞাপনসমৃদ্ধ ছবি থাকার ফলে। আর এতসব ছবিসমৃদ্ধ পেজ লোড নিতেও অনেক ডাটা খরচ হয়। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ অনেক বেড়ে যায়। যদি ওয়েব পেজে ছবি নিয়ে কোনো কাজ না থাকে তবে ওয়েব ব্রাউজারের মেনুতে গিয়ে ‘লোড ইমেজ’ অপশনটি বন্ধ করে রাখলেই আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের গতি অনেক বেড়ে যাবে। এ ছাড়া মেনু থেকে কুকি, ক্যাশ, হিস্ট্রি ক্লিয়ার রেখেও ব্রাউজার অনেক গতিসম্পন্ন রাখা যায়।

মোবাইল ভার্সন পেজ

অনেক ওয়েবসাইটেরই মোবাইল ভার্সন পেজ তৈরি করা থাকে। সাধারণত কমপিউটার থেকে আমরা যেসব ওয়েব পেজ দেখতে পাই, তা মোবাইলে পুরোপুরি লোড হয় না। অন্যদিকে এসব পেজের মেনু-সাবমেনু স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইলে চালুও হয় না। আবার কমপিউটার ভার্সন পেজগুলো অনেক বড় হয় এবং অনেক কনটেন্ট থাকার ফলে ডাটাও অনেক খরচ হয়। তাই বেশিরভাগ ওয়েবসাইটেরই মোবাইল ভার্সন পেজ থাকে। যেমন : মোবাইল থেকে ক্রিকেট নিউজ পেতে www.cricinfo.com-এর পরিবর্তে m.cricinfo.com-এ গেলে মোবাইলের জন্য তৈরি পেজ দেখা যাবে, যেগুলো তুলনামূলক দ্রম্নতগতিতে ব্রাউজ করা যায় এবং মোবাইল থেকে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যায়। আবার কিছু কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোয় মোবাইল ব্রাউজার দিয়ে লগঅন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল পেজ প্রদর্শন করে।

ইন্টারনেট সেটিংস

যদি মোবাইলে ইন্টারনেট সেটিংস ঠিক করা না থাকে তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অথবা ম্যানুয়ালি ঠিক করে নেয়া যায়। অপারেটরভেদে সেটিংসগুলো :

সিটিসেল
কমপিউটারে ইন্টারনেট সেটিং :
Dial Number: #777
User Name: waps
Password# waps
APN Name:
Domain Name:

এবং সিটিসেল মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সেটিং বিল্টইন থাকে। যদি কোন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে হবে।

গ্রামীণফোন

স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটিংস পেতে মেসেজ অপশন থেকে টাইপ করুন All এবং পাঠিয়ে দিন ৫০০০ নম্বরে। আর নিজে নিজে ঠিক করতে ইন্টারনেট অপশনে গিয়ে প্রোফাইল তৈরি করুন নিম্নরূপে :

Profile/Settings Name: GP-WAP
APN (access point name): gpwap
WAP Gateway (Proxy) IP: 10.128.1.2
WAP Gateway (Proxy) port: 8080
Data Bearer: GPRS

বাংলালিংক

স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটিংস পেতে ১২১ নম্বরে কল করে কাস্টমার কেয়ার এজেন্টের সাথে কথা বলতে হবে। অথবা নিজে নিজে ঠিক করতে ইন্টারনেট অপশনে গিয়ে প্রোফাইল তৈরি করুন নিমণরূপে :

Profile/Settings Name: blweb
APN (access point name): blweb
WAP Gateway (Proxy) IP: 10.10.55.34
WAP Gateway (Proxy) port: 8799
Protocol: http

রবি

স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটিংস পেতে মেসেজ অপশন থেকে টাইপ করুন wap এবং পাঠিয়ে দিন ১২২৭ নম্বরে। আর নিজে নিজে ঠিক করতে ইন্টারনেট অপশনে গিয়ে প্রোফাইল তৈরি করুন নিম্নরূপে :

Profile/Settings Name: Robi-WAP
APN (access point name): wap
WAP Gateway (Proxy) IP: 10.16.18.77
WAP Gateway (Proxy) port: 9028

এয়ারটেল

এয়ারটেলে প্রথমবার কোনো মোবাইলে সিমকার্ড থাকা অবস্থায় ফোন চালু করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেট সেটিংস আসে এবং তা সেভ করলেই হয়ে যায়। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে মোবাইল ফোনের এয়ারটেল মেনুতে গিয়ে সেলফ সার্ভিস অপশনটি সিলেক্ট করুন, তারপর মাল্টিমিডিয়া সেটিংস সিলেক্ট করুন এবং রিসেট সেটিংস সিলেক্ট করুন। এরপর কনফারমেশন মেসেজে ইয়েস করে দিন, পরে আবার সেটিংস সেভ করে নিলেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

টেলিটক

স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটিংস পেতে মেসেজ অপশন থেকে টাইপ করুন reg এবং পাঠিয়ে দিন ১১১ নম্বরে। আর নিজে নিজে ঠিক করতে ইন্টারনেট অপশনে গিয়ে প্রোফাইল তৈরি করুন নিমণরূপে :

Profile/Settings Name: T-Talk WAP
APN (access point name): wap
WAP Gateway (Proxy) IP: 192.168.145.101
WAP Gateway (Proxy) port: 9201

তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে আজেবাজে ও নিরাপত্তা খারাপ এমন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এমন ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করলে অনেক সময় মোবাইল ফোনে ভাইরাসের আক্রমণ ঘটতে পারে। এজন্য সতর্ক থাকা এবং মোবাইলের কনফিগারেশন ভালো হলে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা ভালো

কজ
ফিডব্যাক : riyadzubair@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস