Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > উইন্ডোজ ৭ ও ৮-এর মূল পার্থক্য
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: লুৎফুন্নেছা রহমান
মোট লেখা:১৩৯
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৩ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
উইণ্ডোজ
তথ্যসূত্র:
সফটওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
উইন্ডোজ ৭ ও ৮-এর মূল পার্থক্য

অপারেটিং অন্যতম দিকপাল মাইক্রোসফট তার ব্যবহারকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষক্ষ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পরিবেশে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের নতুন নতুন ভার্সন উপহার দিয়ে আসছে এর শুরু থেকেই। এই ধারাবাহিকতায় মাইক্রোসফট সম্প্রতি তার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম পরিবারে নতুন সদস্য উইন্ডোজ ৮ অবমুক্ত করে। উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমে নতুন কী কী বৈশিষ্ট্য সংযোজিত হয়েছে সে সম্পর্কে ইতোপূর্বে কমপিউটার জগৎ-এ বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এ লেখায় উইন্ডোজ ৮-এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার পাশাপাশি উপস্থাপন করা হয়েছে উইন্ডোজ ৭ ও ৮ অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে কিছু পার্থক্য, যার আলোকে ব্যবহারকারীরা যথার্থ উপযোগী অপারেটিং সিস্টেম কোনটি হবে, তা নির্বাচন করতে পারবেন খুব সহজেই।

উইন্ডোজ ৭ ও ৮ : মেট্রো ইন্টারফেস এবং টাচ

উইন্ডোজ ৭ ও ৮-এর মধ্যে সরাসরি এবং মৌলিক পার্থক্য হলো এর ইন্টারফেসে যদিও ডেস্কটপ ভিউ গতানুগতিক উইন্ডোজের মতো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি উইন্ডোজ ৮-এর মেট্রো ইন্টারফেসের সাথে ইন্টারেক্ট করতে পারবেন এবং তখনই পার্থক্য বুঝতে পারবেন। মেট্রো ইন্টারফেস হলো উইন্ডোজ ৮-এর ডিফল্ট হোম স্ক্রিন এবং বৈশিষ্ট্য হলো এক সিরিজ কালারফুল টাইলস। এগুলোর প্রতিটি পৃথক অ্যাপ্লিকেশনে অ্যাক্সেসের সুবিধা দেয়। প্রতিটি অফার করে লাইভ ইনফরমেশন। এর ফলে কোনো অ্যাপ্লিকেশন ওপেন না করেই আপনি বুঝতে পারবেন কতগুলো ই-মেইল আপনার ইনবক্সে রয়েছে। ইচ্ছে করলে আপনার ডিভাইসের মেট্রো ইন্টারফেসকে কাস্টোমাইজ করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ যুক্ত করতে পারবেন অ্যাক্সেস অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েবপেজ, ইমেজ বা ছবি, কন্টাক্ট লিস্ট ইত্যাদি।

মেট্রো দেখতে বোল্ড এবং স্ট্রাইকিং এবং ইচ্ছে করলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী এর কালার স্কিম পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। একটি অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করতে পারবেন এবং আপনার সেটিং ও অ্যাপস সাথে করে নিয়ে যেতে পারবেন যেখানেই যান না কেনো। ব্যাপারটি অনেকটা অ্যান্ড্রয়িডে গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার মতো। মেট্রো বেশ স্কেলেবেল, তাই জুম আউট করলে টাইলস নিজেদেরকে অর্থপূর্ণভাবে পুনর্বিন্যাশ করবে।

একথা সত্য যে মেট্রো যেমন প্রশংসিত হয়েছে তেমনই সমালোচিত হয়েছে অনেকে। কেননা প্রকৃত অর্থ মেট্রো বেশ জটিল এবং উইন্ডোজ ৮-এর নতুন যুক্ত হয়েছে। এটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এটি টাচ-এনাবল ডিভাইসের সাথে খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারবে। যদি আপনি টাচস্ক্রিনবিহীন উইন্ডোজ ৭ পিসি রান করেন, তাহলে কোনো পরিবর্তন আপনার জন্য ভালো হবে না, যদি টাচস্ক্রিন পিসি এবং ল্যাপটপের সম্ভাব্য মূল্যের ব্যাপারে অনেক বিতর্ক হতে পারে এবং তর্কাতীতভাবে বলা যায়, সম্পূর্ণ খাড়া স্ক্রিনে টাইপ করার জন্য টাচস্ক্রিন আদর্শ নয়। যদি আপনার টাচ এনাবল ডিভাইস থাকে, তাহলে আপনি উইন্ডোজ ৮ পিসির সাথে ইন্টাররেক্ট করতে পারবেন।

উইন্ডোজ ৮-এ শেস্নট অ্যান্ড বস্নুটুথ কিবোর্ড সেটআপ করে টাইপ করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ ই-মেইল, তবে মেইলটি সেন্ড করতে চাইলে স্ক্রিনে স্পর্শ করতে হয়। উইন্ডোজ ৭-এ টাচ ক্যাপাবিলিটি রয়েছে, তবে তা সত্যিকার অর্থে টাচস্ক্রিন ওএসের মতো নয়। যেমনটি পরিলক্ষিত হয় মেট্রো ইন্টারফেসের ক্ষেত্রে।

উইন্ডোজ ৭ ও ৮ : উইন্ডোজ স্টোর এবং অ্যাপস

মেট্রো ইন্টারফেস দেখতে মনে হয় স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ওএসের মতো এবং তা অনুসরণ করে উইন্ডোজ ৮-এর থিমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে উইন্ডোজ স্টোর। এই অনলাইন শপফ্রন্টটি উইন্ডোজ অ্যাপস দিয়ে পরিপূর্ণ। এগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে X46 উইন্ডোজ পিসিতে ল্যাপটপ এবং ট্যাবলেট যেমন রান করতে পারে, তেমনি ARM ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোনে রান করতে পারে। উইন্ডোজ ৮ অ্যাপস মেট্রোর মতো একই ডিজাইন নীতি অনুসরণ করে গঠন করে তথ্যের ক্যাসক্যাডিং লাইভ টাইলস প্রাথমিক কালারের। এগুলোর সবই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে সক্ষম স্ট্যান্ডার্ডভাবে এবং ইন্টারফেসের একই নীতি অনুসরণ করে। ফলে নতুন অ্যাপ ব্যবহার করতে চাইলে আলাদাভাবে কোনো প্রশিক্ষণের দরকার হয় না।

উইন্ডোজ ৮-এ সমন্বিত নেটিভ অ্যাপস সম্পৃক্ত করে মেইল, ই-মেইল অ্যাপ, একটি ক্যালেন্ডার অ্যাপ এবং আরো অনেক উন্নত কন্টাক্ট অ্যাপ, যাকে People বলা হয়। এখানে ফটো, মিউজিক, ইন্টারনেট এক্সপেস্নারার, ওয়েদার, ফিন্যান্স, স্পর্টসহ আরো অনেক অ্যাপস আছে। এগুলোর প্রতিটি চমৎকার, তবে যদি আপনি উইন্ডোজ ৭-এর ব্যবহারকারী হন, তাহলেও এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন কেননা X86 সফটওয়্যার প্রোগ্রামগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। এটি উইন্ডোজ আরটি এবং উইন্ডোজ ফোন ৮ ছাড়া সব ফ্লেভারের প্রতি যত্নশীল।

উইন্ডোজ ৮-এ পুরনো সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে ব্যবহার করতে হবে ডেস্কটপ। এটি উইন্ডোজের নিজস্ব গ--র অ্যাপ এবং এমন এক পরিবেশে ওপেন হয়, যা আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় উইন্ডোজ ৭-এর মতো। এ বিষয়টিকে উইন্ডোজ ৮-এ ভার্চুয়ালাইজড উইন্ডোজ ৭ হিসেবে ভাবা যেতে পারে।

উইন্ডোজ ৮-এর ডেস্কটপ মোড উইন্ডোজ ৭-এর ডেস্কটপ মোড থেকে ভিন্ন, তবে সূক্ষ্ম ও জটিল এবং উইন্ডোজ ৮-এ স্টার্ট মেনু নেই। উইন্ডোজ ৮-এর যেকোনো জায়গায় থাকেন না কেনো, হতে পারে তা স্ক্রিনের মধ্যে ডান দিকে টাচিং অবস্থায় বা মাউস দিয়ে Charms মেনুতে কাজ করতে পারবেন, যা ধারণ করে Search, Share, Start, Devices এবং Settings আইকন। এ পরিবর্তনগুলো ব্যবহার করা যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে, কেননা এর মাধ্যমে পুরনো ধারার চেয়ে অনেক দ্রম্নত ও সহজে কাজ করা যায়।

মাইক্রোসফটের মতো উইন্ডোজ ৮ এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে টাচ, কিবোর্ড এবং মাউস দিয়ে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যাবে যেকোনো ধরনের কাজে। স্ক্রিনের প্রান্ত মাউস ব্যবহারের জন্য সহজ, এ কারণে Start বাটনটিকে অদৃশ্য করা হয়েছে। Start মেনু পাওয়ার জন্য নিচের বাম দিকে বাটনে মাউস ক্লিক করলে হবে। অনুরূপভাবে মাউস ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ওপরে বাম দিকে ‘back’ বাটন রয়েছে। Charms-এর জন্য ডান দিকে গিয়ে সুইপ করতে হবে। অনুরূপভাবে কিবোর্ড নেভিগেশনকে সমন্বয় করা হয়েছে।

উইন্ডোজ ৭ ও ৮ : সিকিউরিটি, ক্লাউড, টাস্ক ম্যানেজার

উইন্ডোজ ৮-এ তুলনামূলকভাবে ছোটখাটো আরো কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। তবে সেগুলো ছোটখাটো হলেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এসব ফিচার উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারীদেরকে উইন্ডোজ ৮-এ আপগ্রেড করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। উইন্ডোজ ৮-এ ক্লাউড কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে, যা এক প্রলুব্ধকর ফিচার। মাইক্রোসফট সব সেটিং এবং কাস্টোমাইজেশন ক্লাউডে স্টোর করে। সুতরাং উইন্ডোজ ৮ মেশিনে লগঅন করে কাজ করা যাবে।

জি-মেইল থেকে ই-মেইল টেনে আনাসহ ক্লাউড সিস্টেমে অন্যান্য উপাদান যেমন ফেসবুকে ফটো ভিউ করা যায়। প্রতিটি উইন্ডোজ ৮ ডিভাইস ক্লাউডভিত্তিক স্টোরেজ স্কাইড্রাইভ (SkyDrive) অ্যাকাউন্ট এনাবল্ড। এটি ইন্টিগ্রেড করতে পারে উইন্ডোজ ফোনের সাথে। ফলে উইন্ডোজ ফোনে শুট করা ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কাইড্রাইভ অ্যাকাউন্টে সেন্ড হয়। স্কাইড্রাইভ অ্যাকাউন্ট থাকলে ব্যবহারকারীরা যেকোনো জায়গা থেকে স্টোর করা রিসোর্সে ট্যাব করতে পারবেন। স্কাইড্রাইভের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্টোর করা যেকোনো জিনিস বৈধ অন্যান্য ব্যবহারকারীর সাথে শেয়ার করতে পারবেন।

উইন্ডোজ ৮-এ সমন্বিত করা হয়েছে ফিচার লক স্ক্রিন, যার মাধ্যমে ফটো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। এর অর্থ হচ্ছে আপনি ছবি জুড়িয়ে দিতে পারবেন স্ক্রিন করার জন্য। গতানুগতিক ধারার উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারীরা লকড কমপিউটারে অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য পাসওয়ার্ড টাইপ করেন। কিন্তু উইন্ডোজ ৮-এ যুক্ত করা হয়েছে পিকচার পাসওয়ার্ড। ফলে যখনই ব্যবহারকারী লগইন করে, তখনই উপস্থাপিত হয় পিকচার তথা ছবি দিয়ে এবং ডান দিকে পিকচারে স্পর্শ করে ডিভাইসকে আনলক করতে পারবেন।

সিকিউরিটির বিষয়টিকে মাথায় রেখে মাইক্রোসফট তার নতুন অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ৮-এ অ্যান্টিভাইরাসকে প্রথমবারের মতো সমন্বিত করেছে মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়াল ফর্মে, যা অবস্থান করে সিকিউরিটি সেন্টারে ফায়ারওয়াল সফটওয়্যারের পাশে। এর ফলে সিকিউরিটি সফটওয়্যারের জন্য আর বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে না ব্যবহারকারীকে।

উইন্ডোজ ৭ ও ৮-এর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হলো টাস্ক ম্যানেজারকেন্দ্রিক। আপাতদৃষ্টিতে উইন্ডোজ ৭ হলো অপারেটিং সিস্টেমের শেষ ভার্সন, যেখানে ব্যবহার হচ্ছে এই সহায়ক ফিচার টাস্ক ম্যানেজার। নতুন টাস্ক ম্যানেজার অর্থাৎ উইন্ডোজ ৮-এর টাস্ক ম্যানেজার আরো সহজ এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি। এখানে শুধু টাস্ক এবং প্রসেস প্রদর্শিত হয় যেগুলো বর্তমানে রান হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে যেকোনো আইটেমকে থামানো যায় এক ক্লিকের মাধ্যমে। এর ফলে সিস্টেম রিসোর্স কিছুটা ফ্রি হয়। টাস্ক ম্যানেজারের আরো কিছু অ্যাডভান্স ফিচার আছে যেগুলোর অ্যাক্সেস করা যায় শুধু More Details-এ ক্লিক করে।

উইন্ডোজ ৭ ও ৮ : গতি

উইন্ডোজ ৭ থেকে উইন্ডোজ ৮ অনেক বেশি দ্রম্নতগতিসম্পন্ন এবং একই ধরনের হার্ডওয়্যারে কাজ করতে পারবে। ফলে আপগ্রেডেশনের প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এমন বিশ্বাস অর্জন করতে মাইক্রোসফট কাজ করে যাচ্ছে।

‘উইন্ডোজ ৮ ফান্ডামেন্টালস টিম’-এর প্রিন্সিপ্যাল ও গ্রম্নপ প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিল ক্যারাগোনিশ (Bill Karagounis) সম্প্রতি দাবি করেন যে একই হার্ডওয়্যারে উইন্ডোজ ৭-এর স্টার্টআপ সময়ের চেয়ে উইন্ডোজ ৮-এর স্টার্টআপ সময় শতকরা ৪০ ভাগ বেশি দ্রম্নততর এবং এই নতুন ওএসের মেমরির ব্যবহার ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি ভালো। তিনি আরো বলেন, ট্যাবলেট থেকে শুরু করে ওয়ার্কস্টেশন পিসি পর্যন্ত সব ডিভাইসের জন্য উইন্ডোজ কোড সুবিধাজনকভাবে বিন্যাস করা হয়েছে। তিনি একই ল্যাপটপে উইন্ডোজ ৭ ও ৮ ব্যবহারিকভাবে অর্থাৎ ডেমোনস্ট্রেট করে দেখান যে অপেক্ষাকৃত কম কনফিগারেশনে (১ গি.বা. র‌্যাম ব্যবহার করে)।

এই ডেমোনস্ট্রেশনে ক্যারাগোনিস দেখতে পান উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে ৩৮৯ মে.বা. সিস্টেম মেমরি। আর সেক্ষেত্রে উইন্ডোজ ৮ ব্যবহার করে মাত্র ৩৩০ মে.বা. সিস্টেম মেমরি। শুধু তাই নয়, উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমের ফাংশনালিটিও বেশি। তিনি বলেন, ওএসকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে সুইচ অন বা অফ করার সাথে সাথে কাজ করবে স্মার্টফোনের মতো। উইন্ডোজ ৮-এর একটি টাস্ক হলো নতুন ফাংশনালিটির জন্য স্থান তৈরি করা এবং সেই সাথে বিদ্যমান ফাংশনালিটির মেমরি ব্যবহার কমানোর উপায় বের নেয়া।

উইন্ডোজ ৭ ও ৮ : মেমরি কনজ্যাম্পশন

উইন্ডোজ ৭ ও ৮-এর মেমরি ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের সবচেয়ে সহজতম উপায় হলো উভয় অপারেটিং সিস্টেম সম্বলিত মেশিনে ১ গি.বা মেমরি ইনস্টল করে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের জন্য মাল্টিপল সময়ে রিবুট করে পরখ করে দেখুন। নিচের চিত্রের মাধ্যমে উইন্ডোজ ৭ ও ৮-এর মাধ্যমে মেমরি কনজ্যাম্পশনের পার্থক্য।

লক্ষণীয় : নতুন ইনস্টল করা উইন্ডোজ ৮ মেশিনে থাকে এক্সটেনডেন্ট উইন্ডোজ ডিফেন্ডার টেকনোলজি, যার জন্য প্রথমবারের মতো সমন্বিত করা হয়েছে কমপ্লিট অ্যান্টিম্যালওয়্যার ফাংশনালিটি। শুধু তাই নয়, মেমরি ও রিসোর্স ব্যবহারের জন্য অপটিমাইজ করা হয়েছে। এই ফাংশনালিটি নতুন ইনস্টল করা উইন্ডোজ ৭-এ পাবেন না। তাই রিকোমান্ড করা হয় সিকিউরিটি সফটওয়্যার যুক্ত করার জন্য।

মেমরির অগ্রাধিকার

অ্যাপ্লিকেশন এবং সিস্টেম কম্পোনেন্টের মাধ্যমে উইন্ডোজ ৮-এ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেমরি অ্যালোকেশনের জন্য রয়েছে এক চমৎকার কর্মপরিকল্পনা। এর অর্থ হচ্ছে উইন্ডোজ চমৎকারভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কোন মেমরি রাখতে হবে আর কোন মেমরি তাড়াতাড়ি অপসারণ করতে হবে।

উদাহরণ : অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম যখন চালু করা হয়, তখন ফাইলকে বিভিন্নভাবে চেক করে। সাধারণত ভাইরাস সিগনেচার চেক করার জন্য অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম যে মেমরি অ্যালোকট করে, তা হলো ওয়ান-টাইম অ্যালোকেশন। উইন্ডোজ ৭-এ মেমরি এমনভাবে পরিচালিত হয়, মনে হবে সিস্টেমে একই প্রায়োরিটি থাকে, যেমনটি অন্যান্য মেমরিতে দেখা যায়। যদি মেমরি অপ্রতুল হয়ে পরে, তাহলে উইন্ডোজ ৭ মেমরি অপসারণের চেষ্টা করে, যা হবে এক্ষেত্রে সিস্টেমের রেসপন্সের জন্য সেরা পছন্দ।

উইন্ডোজ ৮-এ যেকোনো প্রোগ্রাম মেমরি অ্যালকেটে ‘Low priority’ হিসেবে সক্ষম। এটি উইন্ডোজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল, যদি মেমরি চাপের মধ্যে পড়ে। উইন্ডোজ এই লো-প্রায়োরিটি মেমরিকে অপসারণ করতে পারে, যদি স্পেসের প্রয়োজন হয়। তবে এর ফলে সিস্টেমের রেসপনসিভ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মেমরিকে কোনোভাবে প্রভাবিত করে না।

কজ
ফিডব্যাক : swapan52002@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস