Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > এক মলাটে আমার দেখা ফ্রিল্যান্সিং
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: জাবেদ মোর্শেদ চৌধুরী
মোট লেখা:২৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৩ - মার্চ
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ফ্রিল্যান্স
তথ্যসূত্র:
ঘরে বসে ‍আয়
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
এক মলাটে আমার দেখা ফ্রিল্যান্সিং

প্রথমেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে নেই। এই লেখাটি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিংকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবাই কমবেশি কাজ করে যাচ্ছেন। অনেককেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, অনেককেই চিনি না। তাই সবার কথা বলা সম্ভবও হয়নি আলোচনায়। তবে সবাইকেই আমি আমার সহযোদ্ধা মনে করি ও তাদের অবদানকে সম্মান করি।

আমার ফ্রিল্যান্সিং জীবন

ফ্রিল্যান্সিং নিয়েই যখন লিখতে বসেছি, তো নিজের ফ্রিল্যান্সিং জীবন দিয়েই শুরম্ন করি। আমার ফ্রিল্যান্সিং জীবনের শুরম্ন ২০০৬ সাল থেকে স্বনামধন্য ফ্রিল্যান্সার জাকারিয়া ভাইয়ের হাত ধরে। ২০০৬ সালের দিকে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি তেমন জনপ্রিয় ছিল না। তবে শখের বসেই আর কিছুটা নিজের পিএইচপি জ্ঞানকে ঝালাই করতে ফ্রিল্যান্সিং সাইটে রেজিস্ট্রেশন করা। আমি কাজ শুরম্ন করি rentacoder.com নামের এক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপেস্নসে। rentacoder.com অবশ্য আমাদের দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন কালচারের মতো নিজের নাম পরিবর্তন করে vworker.com হয়ে যায়। শেষ পর্যমত্ম নাম পরিবর্তনের সাথে মালিকানাও পরিবর্তন হয়ে যায়। এই মার্কেটপেস্নসটি সম্প্রতি freelancer.com নামের আরেক জনপ্রিয় মার্কেটপেস্নস কিনে নিয়েছে। আমি প্রথম দিকে কিছুটা সিরিয়াস থাকলেও পরে সেই সিরিয়াসনেসটা ধরে রাখতে পারিনি। তবে কাজ করে গেছি নিয়মিত বিরতিতে। এ পর্যমত্ম ২শ’র বেশি প্রজেক্ট করেছি বিভিন্ন মার্কেটপেস্নসে। টাকাকড়িও কামিয়েছি বেশ। আমি মূলত কাজ করি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, টেকনিক্যাল রাইটিং ও সিকিউরিটি বিষয়ক প্রজেক্টে।

কেমন ছিল শুরুর দিনগুলো

নিজের কথা অনেক হলো। এবার আসি ২০০৬ সাল থেকে আমার দেখা কেমন ছিল আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার বিষয়ক ধারার পথচলা। যদিও ২০০৬ সালের দিকেই আমি সিলেটে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর নির্ভর করে সফটওয়্যার কোম্পানি চালাতে দেখেছি, তবে তখনও সাধারণ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে তেমন একটা জানত না। অনেকেই শুধু জানত ইন্টারনেটেও টাকা কামানো যায়। অনেকেই গুগল অ্যাডসেন্সের নাম জানত এবং এটাকেই ফ্রিল্যান্সিং মনে করত। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ওপেনসোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) উদ্যোগে আমরা নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিং সেমিনার করতাম। কমপিউটার জগৎ তখন বেশ বড় করে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল। ২০০৭ সালেই বিডিওএসএনের ফ্রিল্যান্স ও আউটসোর্সিংয়ের ওপর একটি গুগল গ্রুপ খোলা হয় এবং এখন পর্যন্ত এটা বেশ সক্রিয় একটা গ্রুপ। সম্ভবত ২০০৭ সালের শেষ দিক থেকেই জাকারিয়া ভাই (জাকারিয়া চৌধুরী, বেসিস বেস্ট ফ্রিল্যান্সার, ২০১১) কমপিউটার জগৎ পত্রিকায় নিয়মিতভাবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর আর্টিকেল লিখতে থাকেন। কমপিউটার জগৎ-এর এই আর্টিকেলগুলো আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিংকে জনপ্রিয় করতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও লেখালেখির ফলে ২০০৮-০৯ সালের দিক থেকে ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়ার কথা চিন্তা করতে শুরু করেন। অনেকে নিজের সাথে আরো ২-৩ জনকে নিয়ে ছোট ছোট কোম্পানি তৈরি করতে শুরু করেন। এর মধ্যেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার গড়ে উঠতে থাকে। যার ধারা এখন পর্যমত্ম অব্যাহত আছে।

বেসিস বেস্ট ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়ার্ড

২০১১ সালে ফ্রিল্যান্সারদের কাজে সম্মান জানাতে সফটওয়্যার নির্মাতাদের প্রতিষ্ঠান বেসিস বেস্ট ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করে। এই অ্যাওয়ার্ড ফিল্যান্সারদের মধ্যে যারা ভালো করছেন তাদেরকে সমাজে রীতিমতো তারকা বানিয়ে দেয়। এর অনেকগুলো ইতিবাচক প্রভাব আমরা পরে দেখতে পেরেছি।

সরকারি উদ্যোগ

সরকারও ধীরে ধীরে এই খাতকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ই-এশিয়া নামে সরকারের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সারাবিশ্ব থেকে বড় বড় মার্কেটপেস্নসের কর্তাব্যক্তি ও নামকরা ফ্রিল্যান্সারদেরকে নিয়ে আসা হয়। বিশেষ করে ওডেস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাট কুপার বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তার মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিক থেকে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে পরিচালিত অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রাম পরিচালিত আর্নিং বাই লার্নিং প্রজেক্টটি সরকারের ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আগ্রহেরই প্রতিফলন।

কাজের মূল্যবৃদ্ধি

আগে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা কম মূল্যের কাজ করলেও ধীরে ধীরে এখন বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা বেশ ভালো মানের মূল্যে কাজ করছেন। কিছুদিন আগের ওডেস্কেরের অফিসিয়াল তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের ঘণ্টায় গড় আয় ছিল ৩.৬৩ ডলার, যা ২০১২ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪.২ ডলারে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে ফ্রডল্যান্সিং

এরই মধ্যে ২০১২ সালে ঘটে যায় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা। ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু লোক ক্লিকের মাধ্যমে মানুষকে রাতারাতি বড়লোক বানানোর স্বপ্ন দেখাতে থাকে। এসব সাইটকে মোটা দাগে ফ্রডল্যান্সিং সাইট নামে অভিহিত করা যায়। প্রচুর মানুষ তাদের প্ররোচনায় পড়ে প্রতারিত হন। ২০১২ সালে প্রায় কয়েক কোটি টাকা নিয়ে স্কাইল্যান্সার ও ডুল্যান্সার নামের ফ্রডল্যান্সিং সাইটের মালিক পালিয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক পুরস্কার

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছি। ২০১২ সালের শুরুতে শীর্ষস্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং সাইট ফ্রিল্যান্সার ডটকম আয়োজিত লোগো এক্সপোজার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন এক বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার। www.freelancer.com গত ১৫ নভেম্বর ২০১১ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত ‘Expose the Freelancer.com’ শীর্ষক এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন দেশের ৪৪০ জন ফ্রিল্যান্সার অংশ নেন। প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ছিল Freelancer.com সাইটের লোগোকে সৃজনশীল উপায়ে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। প্রতিযোগিতার ফল গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয়। এতে ১০ হাজার ডলারের প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার নাজমা রহমান, যিনি সাইটিতে Dataexpert০১ নামে পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশের আরেক ফ্রিল্যান্সার মোনাফ অর্ণবও এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১২ সালে ডেভসটিম নামে বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় একটি ফ্রিল্যান্সিং টিম Freelancer.com আয়োজিত ‘SEO & Writing Contest’ প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান দখল করে তাদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে।

দৈনিক ১ কোটি টাকা আয়ের মাইলফলক

বাংলাদেশের আইসিটি খাতের পরিচিত মুখ ও সরকারের উপদেষ্টা মুনির হাসানের মাধ্যমে জানতে পারি ২০১২ সালে ৩৬৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছেন বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারেরা। সেই হিসেবে দৈনিক আয় ১ কোটি টাকার ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে যায়।

বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ

২০১২ সালের শেষ দিকে এসে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো এই দেশে তাদের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ দেয়া শুরু করে। অনেকে আবার একধাপ এগিয়ে ক্যাম্পাস প্রতিনিধি দেয়াও শুরু করে। বর্তমানে Freelancer.com, ODesk.com, Elance.com ও ৯৯Designs.com-এর মতো বড় বড় জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান তাদের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ দিয়েছে। কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ তাদের কোম্পানির হয়ে প্রচার করার সাথে সাথে সার্বিকভাবে আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সিংয়ের সমস্যা, সমাধান ও সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো Freelancer.com বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধা দিতে তাদের জন্য Freelancer.com.bd নামে একটি ডোমেইন খুলে। এটি আমাদের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে সক্ষমতারই স্বীকৃতি।

মেয়েদের এগিয়ে আসা

যদিও এখন পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে ছেলেরাই এগিয়ে আছে, তবে এই খাতে মেয়েদের কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি। মেয়েরা ইচ্ছে করলে ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে পারেন। সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে বেশ কিছু মেয়ের সাফল্যের খবর শোনা গেছে, যা আমাদের আরো আশান্বিত করছে। ২০১২ সালের সেরা ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে একজন মেয়েও ছিলেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ২ হাজার ঘণ্টার বেশি কাজ করা গৃহিণী এম রাজিনা বলছিলেন তার অভিজ্ঞতার কথা-‘শৈশব থেকেই চোখে হাজার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু মেয়ে হিসেবে নানা বাধায় অনেক স্বপ্ন পূর্ণতা পায়নি। তবে লেখাপড়া চালিয়ে গেছি। অনার্সে পড়া অবস্থায় বাবা মারা গেলেন। মা গয়না বিক্রি করে পড়ার খরচ দিতে লাগলেন। তখন আমার প্রয়োজন ছিল একটা চাকরির। বিক্রয় প্রতিনিধির চাকরি, এমনকি টিউশনি করে লেখাপড়া চালিয়ে গেছি। কাজ করেছি কলসেন্টারেও। কিন্তু নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে পারি এমন কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না। শেষ পর্যমত্ম নিজের দক্ষতা কাজে লাগাতে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করি।’ আমাদের উচিত হবে এই ধারাকে আরো উৎসাহিত করা ও জোরদার করা।

কাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং নয়

নিঃসন্দেহে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আমাদের বিশাল তরম্নণ বেকার যুব সমাজের বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ছাত্র অবস্থায় পুরোদস্ত্তর ফ্রিল্যান্সিং করার চেয়ে বরং নিজের লেখাপড়ায় বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত। ছাত্র অবস্থায় বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রধান কর্তব্য হলো ক্লাসের পড়াগুলো ঠিকমতো পড়া, প্রোগ্রামিংটা ভালো করে শেখা, ডাটা স্ট্রাকচার ও অ্যালগরিদমটা ঠিকমতো শেখা। এই কোর বিষয়গুলো ভালো করে না পড়ে যারা প্রোগ্রামিং নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করেন তারা খুব বেশিদূর যেতে পারবেন না। আর ছাত্র অবস্থায় টাকা কামানোর নেশায় না পড়ে বরং নতুন কিছু শেখাতেই মনোযোগ দেয়া উচিত। তবে একেবারে ফ্রিল্যান্সিং করতে নিষেধ করছি না। বরং মাঝে মাঝে ফ্রিল্যান্সিং করা যেতে পারে আইটি বিশ্বে নতুন কোন কোন ধরনের কাজ বা টেকনোলজি আসছে তা জানতে।

কমবেশি সবাই আসলে ডলার কামানোর আশায়ই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। এর মধ্যে অনেকেই মনে করেন আজকে অ্যাকাউন্ট খুললে কালকে থেকেই ডলার আশা শুরু করবে। এর জন্য অবশ্য সাধারণ মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো হলো আন্তর্জাতিক বাজার। এখানে কাজ করতে হলে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা দরকার। তাই প্রথমেই দক্ষতা বাড়ানোর মনোনিবেশ করতে হবে। দক্ষতার পর দরকার ধৈর্য ধরে লেগে থাকা। এরই মধ্যে নিজের যোগাযোগ দক্ষতাটাও বাড়িয়ে নিতে হবে বায়ারকে কনভিন্স করে তার কাছ থেকে কাজটি বাগিয়ে (!!) নিতে।

দরকার ভালো মানের ট্রেনিং সেন্টার

যদিও আজকাল ইন্টারনেটেই সব রিসোর্স পাওয়া সম্ভব, কিন্তু অনেকেই প্রথম দিকে এসব রিসোর্স ব্যবহার করে নিজের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন, সেই দিকনির্দেশনার অভাবে কাজ শেখার বিষয়টিতে তেমন এগুতে পারেন না। তবে যেহেতু প্রচুর মানুষের ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আগ্রহ আছে, তাই কিছু নিমণমানের প্রতিষ্ঠান আগ্রহীদের কাছ থেকে উচ্চমূল্য নিয়ে নিমণমানের ট্রেনিং দিয়ে থাকে। ফলে সার্বিকভাবে ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটির সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। তাই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মূল জনপ্রিয়তা ও যুব সমাজের বিপুল বেকার সমস্যার কথা চিন্তা করে অনেক ভালোমানের ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা জরুরি।
ফ্রিল্যান্সার থেকে উদ্যোক্তা

অনেকেই শুরুতে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে ব্যক্তিগতভাবে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে নিজেই একটি টিম তৈরি করে নিজের মতো ব্যবসায় শুরু করেছেন। অনেকে ধীরে ধীরে টিম মেম্বারের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন। এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোম্পানিগুলোতে সাধারণত ১০-১৫ জন টিম মেম্বার থাকেন। এর চেয়ে কম বা বেশি মেম্বারও অনেক কোম্পানিতে আছেন।

ফ্রিল্যান্সিং ইন নেক্সট স্টেপ

আমাদের দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বেশ সাফল্য এসেছে। কিছু কিছু কোম্পানি বেশ ভালোও করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পারিনি। এর জন্য প্রয়োজন জেলা পর্যায়ে ফ্রিল্যান্সিং হাব গঠন। যেখান থেকে নিয়মিতভাবে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক প্রচারণা চলবে, সাথেই থাকবে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। সেখানে নতুন ফ্রিল্যান্সারেরা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের তত্ত্বাবধানে থাকতে পারবেন বা কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের সাহায্য নিতে পারবেন। আরেকটি দিক হলো আমাদের বিভিন্ন ইন্টাপ্রেনারশিপের উদ্যোগগুলো আরো বেগবান ও তার আকার বাড়ানো। ১০-১৫ জনের কোম্পানি থেকে ১০০-১৫০ জনের কোম্পানিতে রূপান্তরের জন্য কাজ করা। সেক্ষেত্রে একাধিক কোম্পানি মার্জ করার কথা চিন্তা করা যেতে পারে। যেমন : কেউ ওয়েব ডেভেলপমেন্টে বিশেষজ্ঞ, কেউ ওয়েব মার্কেটিংয়ে এবং কেউ মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্টে। এখন তিনটি ছোট কোম্পানি যদি একই সাথে মার্জ করে তবে তারা মোট সলিউশন দিতে পারবে। বড় বড় ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করার সুযোগ বাড়বে, সেই সাথে বার্ষিক টার্নওভার। এটি তাদেরকে আরো বড় ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সবশেষে বলা যায়, ফ্রিল্যান্সিং আমাদের জন্য এক বিরাট সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আমাদের জন্য উচিত সঠিক দক্ষতা অর্জন করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে ও দেশকে এগিয়ে নেয়া।

ফিডব্যাক : jabedmorshed@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস