Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বাংলাদেশে চালু হচ্ছে মোবাইল নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: এম. মিজানুর রহমান সোহেল
মোট লেখা:১০
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৩ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
মোবাইলপ্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বাংলাদেশে চালু হচ্ছে মোবাইল নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে মোবাইল নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি তথা এমএনপি সেবা। নাম্বার না বদলেই অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। ফলে মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়ে এ সুবিধা পেতে যাচ্ছেন গ্রাহকেরা। গত ১৩ জুন বিটিআরসি মোবাইল ফোন অপারেটরদের মোবাইল নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি সুবিধা আগামী জানুয়ারি নাগাদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে নির্দেশনা জারি করেছে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে এমএনপির জন্য কাজ করছে বিটিআরসি। এর মধ্যে ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এক বছরের মধ্যে বিটিআরসিকে এমএনপি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। কিন্তু এরপর এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এমএনপি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এমএনপি চালু করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এমএনপি চালুর জন্য সেলফোন অপারেটরদের প্রতি নির্দেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে কনসোর্টিয়াম মডেল চালুর বিপক্ষে ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি।

এমএনপি কী

পোর্ট্যাবল শব্দটির অর্থ হলো সহজে বহনযোগ্য। মোবাইল নাম্বারের ক্ষেত্রে পোর্ট্যাবিলিটির বিষয়টি হলো- একই নাম্বার ব্যবহার করে বিভিন্ন অপারেটরের সার্ভিস নেয়ার সক্ষমতা। আমাদের দেশের ফোন বা মোবাইল নাম্বারগুলো দেখেই চেনা যায় কোনটি কোন অপারেটরের। কারণ, প্রতিটি অপারেটরের নিজস্ব প্রিফিক্স বা শুরুর নাম্বার রয়েছে। যেমন- সিটিসেল ০১১, টেলিটক ০১৫, এয়ারটেল ০১৬, বাংলালিংক ০১৯ ও গ্রামীণফোন ০১৭ ইত্যাদি। ল্যান্ডফোন অপারেটরের ক্ষেত্রেও তাই। কেউ যদি বর্তমানে রবি ব্যবহার করেন তবে তিনি বর্তমান নাম্বারটি ঠিক রেখেই অন্য কোনো অপারেটরের সার্ভিস নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে নাম্বারের প্রিফিক্সের ব্যাপারটি পুরোপুরি গৌণ হয়ে পড়ে। কে কোন অপারেটরের সার্ভিস নিচ্ছেন তার ফোন নাম্বার দেখে সেটি বোঝা যাবে না। গ্রাহকের দৃষ্টিকোণ থেকে এটিই হলো নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি। এ ক্ষেত্রে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় পোর্টিং। এতে সুবিধা হলো মোবাইল অপারেটর পরিবর্তন করলেও তাকে আগের নাম্বারটি পরিবর্তন করতে হবে না।

এমএনপির ইতিবৃত্ত

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ হংকং প্রথম মোবাইল নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি সুবিধা চালু করে। একই বছরের এপ্রিল মাসে নেদারল্যান্ডস এ সেবা চালু করে। গত দেড় দশক ধরে প্রত্যেক বছরেই কোনো না কোনো দেশ নতুন করে এ সেবা চালু করেছে। প্রত্যেক দেশের টেলিকম রেগুলারিটি এটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়ার ১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি চলতি বছরের জুন মাসে এটি বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৭ মাস সময় দিয়েছে। নববইয়ের দশকের শেষভাগে ও একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে টেলিকমিউনিকেশনের দিক থেকে এগিয়ে থাকা দেশগুলো এমএনপি চালু করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে এমএনপি সার্ভিস চালু রয়েছে।

যেভাবে কাজ করে এমএনপি

কয়েকটি উপায়ে মোবাইল নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি চালু করা হয়। তবে যে উপায়ই অবলম্বন করা হোক না কেনো, সব ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের অবকাঠামোগত কিছু প্রযুক্তি সংযোজনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এতে মূল বিষয় হলো একটি নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি ডাটাবেজ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের কল ও মেসেজ রাউটিংয়ের জন্য সুবিধাজনক রাউটিং পদ্ধতি অবলম্বন করা। কল রাউটিংয়ের ক্ষেত্রে চার ধরনের রাউটিং পদ্ধতি রয়েছে। কল রাউটিং প্রধানত দুই ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয়- ডিরেক্ট রাউটিং এবং ইনডিরেক্ট রাউটিং। ডিরেক্ট রাউটিংয়ের অধীনে রয়েছে অল কল কোয়েরি আর ইনডিরেক্ট রাউটিংয়ের অধীনে রয়েছে অনওয়ার্ড রাউটিং, কল ড্রপ ব্যাক ও কোয়েরি অন রিলিজ। এসএমএস ও এমএমএস রাউটিংয়ের জন্য ভিন্ন রাউটিং পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি ডাটাবেজ বা এনপিডিবি পোর্টেড নাম্বারগুলো এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট সার্ভিস প্রোভাইডারকে শনাক্ত করে রাখে। কোনো কল বা মেসেজ কোথায় যাবে, তা নির্ণয় করা হয় এনপিডিবির এ তথ্যগুলো ব্যবহার করে। নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি ডাটাবেজ হতে পারে সেন্ট্রালাইজড কিংবা ডিস্ট্রিবিউটেড। সেন্ট্রালাইজড ডাটাবেজ মডেলে একটি কেন্দ্রীয় রেফারেন্স ডাটাবেজ থাকে। এ ডাটাবেজ থেকে অপারেটরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের অপারেশনাল ডাটাবেজে সমন্বয় ঘটায়। ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটাবেজ মডেলে সম্পূর্ণ ডাটা সাবসেট হিসেবে অপারেটরগুলো নিজেদের মধ্যে শেয়ার করে নিয়ে কাজ করে। তবে বেশিরভাগ দেশেই সেন্ট্রালাইজড ডাটাবেজ মডেল অনুসরণ করা হয়। সাধারণত অপারেটরদের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের তত্ত্বাবধানে এ সিস্টেম পরিচালিত হয়।

বিটিআরসির নির্দেশনায় যা আছে
এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তিন মাসের মধ্যে এমএনপি সেবা চালুর জন্য সব অপারেটরকে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে হবে। কনসোর্টিয়াম পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে মোবাইল নাম্বার পোর্ট্যাবিলিটি সিস্টেম তথা এমএনপিএস গড়ে তুলতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা কাজ করবে। এটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে এক মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এমএনপি সেবা চালু করবে কনসোর্টিয়াম। এ হিসেবে আগামী বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি পরিপূর্ণভাবে এমএনপি সেবা চালু করা সম্ভব হবে। জানা গেছে, এমএনপি বাস্তবায়নে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে কনসোর্টিয়ামের। এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে যেকোনো মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী তার বর্তমান নাম্বারটি অপরিবর্তিত রেখেই অপারেটর বদল করতে পারবেন। মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অ্যাক্ট ২০০১-এর ২৯ (বি) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

যেভাবে এমএনপি সেবা পাওয়া যাবে

এ নির্দেশনা কার্যকর হলে খুব সহজেই অপারেটর বদলাতে পারবেন একজন গ্রাহক। এসএমএস, ই-মেইল ও অথবা মুদ্রিত ফরম পূরণ করে অপারেটর বদলানোর আবেদন করা যাবে। তিন দিনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে। এর জন্য খরচ হবে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। অপারেটর বদলের পর ন্যূনতম ৪৫ দিন তার সাথেই থাকতে হবে। অর্থাৎ ৪৫ দিনের মধ্যে আর অপারেটর বদলানো যাবে না। এমএনপি চালু হলে ফোন ব্যবহার হবে আরও সাশ্রয়ী, স্বাচ্ছন্দ্যময়। ধরা যাক, আপনি এপি টেলিকমের গ্রাহক, আপনার নাম্বার ০১২৩৪৫৬৭৫০০, এদের কলচার্জ প্রতিমিনিট ১ টাকা ৩৫ পয়সা। অন্যদিকে বিপি টেলিকমের কলচার্জ ১ টাকা ১০ পয়সা। নাম্বার বদলের ভয়ে আপনি এপি টেলিকম ছেড়ে বিপি টেলিকমের সেবা নিতে পারছেন না অথবা বিপির সাশ্রয়ী কলরেটের সুবিধা নিতে তাদেরও একটি ফোন নাম্বার নিয়েছেন। বয়ে বেড়াচ্ছেন দু’দুটি ফোনের ঝক্কি। কিন্তু নতুন পদ্ধতি চালু হলে আপনি আপনার আগের নাম্বারটি অর্থাৎ ০১২৩৪৫৬৭৫০০ বহাল রেখেই এপি টেলিকম ছেড়ে বিপি টেলিকমের সেবা নিতে পারবেন।

এমএনপি সেবার লাভ-ক্ষতি

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমএনপি চালু হলে তুলনামূলকভাবে লাভবান হবে গ্রাহকসংখ্যার বিচারে ছোট অপারেটরগুলো। কারণ সেবার মানে সন্তুষ্ট না হলেও অনেক বড় অপারেটরের গ্রাহকই নাম্বার পরিবর্তনের ঝামেলা এড়াতে অপারেটর পরিবর্তন করতে পারেন না। আর গ্রাহকসংখ্যা বেশি হওয়ায় বড় অপারেটরদের এমন গ্রাহকের সংখ্যাও স্বভাবতই বেশি। ফলে এমএনপি চালু হলে এ ধরনের গ্রাহকরা নাম্বার পরিবর্তন না করে অন্য অপারেটরের সেবা নিতে পারবেন। এতে বড় অপারেটরগুলো বেশকিছু গ্রাহক হারাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেলিকম সেবায় গতি আনতে বিশ্বের অনেক দেশে এরই মধ্যে এমএনপি চালু হয়েছে। মূলত সেলফোন অপারেটরের মনোপলির সুযোগ কমিয়ে আনতে ও অপারেটরদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে সেবাটি চালু করা হয়েছে। এমএনপি চালু হয়েছে এমন দেশগুলোয় অপারেটরের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে বেশি। গ্রাহক ধরে রাখার জন্য তাদের প্রত্যেকে সেবার মানের দিকে সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সামগ্রিকভাবে লাভবান হন গ্রাহক। তবে এমএনপি চালু করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব দেশের সেলফোন অপারেটরদেরই অনীহা দেখা গেছে।

এমএনপি সেবায় তৃণমূল গ্রাহক লাভবান হন

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এ সার্ভিস চালু করেছে তাদের টেলিকম সেবায় গতি আনতে। মোবাইল অপারেটরের মনোপলি ভেঙে দেয়া, সেই সাথে আমত্মঃঅপারেটর প্রতিযোগিতা বাড়ানো উল্লেখযোগ্য কারণ। যেসব দেশে এমএনপি চালু হয়েছে, সেখানকার মোবাইল অপারেটরের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে বেশি। গ্রাহক ধরে রাখার জন্য প্রত্যেকে সেবার মানের দিকে সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে। এমন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বেশি লাভবান হন তৃণমূল গ্রাহক। তবে এমএনপি চালু করার ব্যাপারে বাস্তবে প্রায় সব দেশের মোবাইল অপারেটরদের মৃদু প্রতিবাদ ও অনীহা দেখা গেছে। তাই গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য সেসব দেশের সরকার কিংবা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি মোবাইল অপারেটরদের এ সেবা চালু করতে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়ে থাকে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কোনো অপারেটর তুলনামূলক বেশি গ্রাহক ধরে রাখতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় এমএনপি সেবা নিয়ে গবেষণা

শ্রীলঙ্কাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার মতে, এমএনপি সেবা উন্নত বিশ্বে সাড়া ফেললেও দক্ষিণ এশিয়ায় এটি সফল হবে কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ সেবা চালু হলে মোবাইল শিল্পে বৈপস্নবিক পরিবর্তন আসবে বলে যে ধারণা করা হচ্ছে, তেমনটি না-ও হতে পারে। বাংলাদেশেও সাধারণ গ্রাহকদের ৫৫ শতাংশ তাদের অপারেটর পরিবর্তন করতে চান না। লার্ন এশিয়ার এ কথা বছরখানেক আগের। গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছিল, দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ মোবাইল ব্যবহারকারী বিশেষ করে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর মাঝে এমএনপি সেবা গ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, এ শ্রেণীর ব্যবহারকারীরা কোনো একটি নাম্বারের প্রতি অনুগত থাকেন না। এরা মূলত সামাজিক যোগাযোগের জন্যই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের সাধারণ মোবাইল গ্রাহকদের মধ্যে ১০ শতাংশ একাধিক সিম ব্যবহার করেন, যা এমএনপি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা। তাদের এমএনপি সেবা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা খুবই কম। এ গ্রাহকদের বেশিরভাগ প্রিপেইড সংযোগ ব্যবহার করেন। বিভিন্ন অপারেটরের একাধিক সংযোগ এবং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি নাম্বারের সুবিধা নিয়ে তারা খরচ কমিয়ে থাকেন। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের জন্য লার্ন এশিয়ার পরামর্শ- এমএনপি সেবার জন্য একটি সামঞ্জস্যমূলক কলরেট নির্ধারণ করে দিতে হবে, যাতে এ সেবা যারা গ্রহণ করবেন, তারাই এর খরচ বহন করেন। এমএনপি সেবা চালুর ফলে মোবাইল ট্যারিফে যেনো কোনো ধরনের বিরূপ প্রভাব না পড়ে সেটা দেখতে হবে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর ব্যয় বহনের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। এমএনপি সেবা চালুর আগে এর সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। কেননা, এমএনপি সেবা চালুর ফলে মোবাইল বাজারে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।

এমএনপি সেবার প্রভাব

দেশের টেলিকম সেক্টরে সুষম প্রতিযোগিতা বাড়ানো, সেবার পরিধি বাড়ানো ও মানোন্নয়ন, সুবিধাজনক খরচে সেবা জোগান ইত্যাদি নিশ্চিত করার জন্য সরকার এমএনপি-কে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করে। গ্রাহকের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে পছন্দমতো অপারেটর ও সেবা বেছে নেয়ার। এ হিসেবে এমএনপি গ্রাহকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। এমএনপির বাস্তবায়ন ভালো কাজ দেয় যেসব দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক-ঘনত্ব বেশি কিংবা সম্ভাবনা বেশি, যেসব দেশে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র ও অপারেটরদের শক্তিশালী অবকাঠামো রয়েছে। কিন্তু অপারেটরগুলোর মধ্যে প্রায়শই এ শঙ্কা কাজ করে যে, এমএনপি সিস্টেম চালু করলে তারা গ্রাহক হারাবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রভাব ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। যারা ভালো সার্ভিস দেবে, তারা ভালো ব্যবসায় করবে। তবে এটা নিশ্চিত, এমএনপি চালু করার পর অপারেটরগুলো বাধ্য হবে উন্নততর ও অত্যাধুনিক সেবা দেয়ার প্রতি বেশি মনোযোগী হতে। উক্ত রিপোর্ট অনুসারে এমএনপির সবচেয়ে ভালো প্রভাব দেখা গেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ে। কিন্তু তাইওয়ান, জাপান ও সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে ততটা হয়নি। তবে এমএনপি বাস্তবায়নকারী প্রতিটি দেশেই এর সুফল লক্ষণীয়

এমএনপি সেবা চালুর সাল
১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে হংকং
১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে নেদারল্যান্ডস
২০০০ সালের মার্চ মাসে সুইজারল্যান্ড
২০০০ সালের অক্টোবর মাসে স্পেন
২০০১ সালের এপ্রিল মাসে নরওয়ে
২০০১ সালের জুলাই মাসে ডেনমার্ক
২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুইডেন
২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া
২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে পর্তুগাল
২০০২ সালের এপ্রিল মাসে ইতালি
২০০৩ সালের জুন মাসে ফ্রান্স
২০০৩ সালের জুলাই মাসে আয়ারল্যান্ড
২০০৩ সালের জুলাই মাসে ফিনল্যান্ড
২০০৩ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র
২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে লিথুনিয়া
২০০৪ সালের মে মাসে হাঙ্গেরি
২০০৪ সালের মে মাসে সেস্নাভাকিয়া
২০০৪ সালের জুলাই মাসে সাইপ্রাস
২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে আইসল্যান্ড
২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে অস্ট্রিয়া
২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে এসেত্মানিয়া
২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লুক্সেমবার্গ
২০০৫ সালের জুলাই মাসে মাল্টা
২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে তাইওয়ান
২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সেস্নাভেনিয়া
২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে চেক প্রজাতন্ত্র
২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পোল্যান্ড
২০০৬ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরব
২০০৬ সালের আগস্ট মাসে ওমান
২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে ক্রোয়েশিয়া
২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে দক্ষেণ আফ্রিকা
২০০৭ সালের মার্চ মাসে কানাডা
২০০৭ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তান
২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ইসরায়েল
২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে মিসর
২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে বুলগেরিয়া
২০০৮ সালের জুন মাসে সিঙ্গাপুর
২০০৮ সালের জুলাই মাসে মেক্সিকো
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রাজিল
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেসিডোনিয়া
২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে মালয়েশিয়া
২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে রোমানিয়া
২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্ক
২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র
২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে পেরু
২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে থাইল্যান্ড
২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে আলবেনিয়া
২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে কুয়েত
২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে ভারত
২০১১ সালের জুলাই মাসে ঘানা
২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে চিলি
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেলারুশ
২০১২ সালের অক্টোবর মাসে বেলজিয়াম
২০১২ সালের নভেম্বর মাসে জার্মানি
২০১৩ সালের মার্চ মাসে আজারবাইজান
২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে নাইজেরিয়া
২০১৩ সালের জুলাই মাসে সম্ভাব্য গ্রিস



ফিডব্যাক : mmrs helbd@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস