Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > অপারেটিং সিস্টেমের জগতে বিশ্বযুদ্ধ
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মইন উদ্দীন মাহমুদ স্বপন
মোট লেখা:১৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৩ - আগস্ট
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
অপারেটিং সিস্টেম
তথ্যসূত্র:
প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
অপারেটিং সিস্টেমের জগতে বিশ্বযুদ্ধ

প্রযুক্তিবিশ্বে পার্সোনাল কমপিউটিং যুগের শুরুতেই মাইক্রোসফট ও তার বিশ্বস্ত অপারেটিং সিস্টেম ‘উইন্ডোজ’ অপারেটিং সিস্টেমের জগতে সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে এবং পুরো বিশ্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। উইন্ডোজ এক্সপি অবমুক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় দুই যুগের বেশি সময় অব্যাহতভাবে উইন্ডোজ সফলতার স্বাক্ষর রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে অন্য সব অপারেটিং সিস্টেমকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং প্রযুক্তিবিশ্বকে নিজের দখলে নিয়ে নেয়। এভাবে একটি সফটওয়্যার ভেন্ডর গেস্নাবাল ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে মনোপলি ব্যবসায় শুরু করে। মাইক্রোসফটের এ ধারাটি অব্যাহত ছিল ২০০৭ সাল পর্যন্ত।

গত এক যুগ ধরে প্রযুক্তিবিশ্বে বিশেষ করে কমপিউটিং বিশ্বের প্রেক্ষাপট বদলে যেতে থাকে। এ সময় পিসির জায়গা ধীরে ধীরে দখল করে নিতে শুরু করে ল্যাপটপ, নোটবুক, ট্যাবলেট পিসি ও স্মার্টফোন। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপারেটিং সিস্টেমের জগতে দীর্ঘদিন আধিপত্য বিস্তারকারী মাইক্রোসফট এখনও সুপার স্টার হয়ে আছে। অ্যাপল বা গুগল এখনও এ আকর্ষণীয় ধারণার সাথে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হতে না পারলেও এরা চেষ্টার করে যাচ্ছে এ ক্ষেত্রে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে। মাইক্রোসফট যথার্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় যে বিরক্তির একগুঁয়েমি ডেস্কটপে আবদ্ধ থাকার যুগ শেষ হয়ে গেছে। তাই পার্সোনাল কমপিউটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফিচার এবং নতুন সংখ্যা এখন বিপন্ন প্রায়। এগুলো এখন নির্ভর করছে বিশেষ ধরনের অ্যাকশনের সফলতা বা ব্যর্থতার ওপর। এটি একটি ইতিহাসের অতিশক্তিশালী রেডমন্ডের পতন বা সৃষ্টির মুহূর্ত।

এখন যেহেতু পিসির জায়গা দখল করে নিয়েছে ল্যাপটপ, নোটবুক, ট্যাবলেট পিসি ও স্মার্টফোন, তাই এ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপারেটিং সিস্টেমের জগতে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। এ লড়াইয়ের বিজয়ী মুকুট কার মাথায় শোভা পাবে, তাই এখন দেখার বিষয়।

উইন্ডোজ রি-ইমাজিং

উইন্ডোজ ৮ সম্পর্কে মাইক্রোসফটকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কেননা উইন্ডোজ ৮ হলো সবচেয়ে উচ্চাকাঙক্ষী ফেস লিফটিং অপারেটিং সিস্টেম, যা ইতোপূর্বে কখনই দেখা যায়নি উইন্ডোজ ৯৫ অবমুক্ত হওয়ার পর। এতে শুধু যে কসমেটিক পরিবর্তন তথা সৌন্দযবর্ধক রূপ দেয়া হয়েছে তা নয় বরং আনা হয়েছে কিছু প্রোগ্রামিং বৈশিষ্ট্য, যা অবমুক্ত হওয়া উইন্ডোজের আগের ভার্সনগুলো থেকে ভিন্ন। এতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে হাইব্রিড কার্নেল এবং এবারই প্রথম উইন্ডোজ ফ্লেভারে যুক্ত করা হয় এআরএম (ARM) আর্কিটেকচার সাপোর্ট। উইন্ডোজ ৮-এ সমন্বিত করা হয় ইন্টারেক্টিভ টাইলসসহ সম্পূর্ণ নতুন স্টার্ট স্ক্রিন। আগের অফিস স্যুটে চালু করা হয় রিবন ইন্টারফেস, যা চূড়ান্তভাবে উইন্ডোজ এক্সপেস্নারারের প্যানেলে যার পথ খুঁজে পায়। উইন্ডোজ ৮-এ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও দৃঢ়ভাবে ক্লাউড সিঙ্ক অবয়ব সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মূল পণ্যের ওভারহলের কেন্দ্রীয় থিম হলো একটি বিষয়ে প্লাটফরম জুড়ে ডিভাইসের ফ্যামিলিয়ারিটি বজায় রাখা। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ডিভাইসের বেশিরভাগ টাচ ইনপুটসহ ট্যাবলেট স্মার্টফোন অথবা হাইব্রিডে পরিণত হবে। তাই বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, অবশেষে মাইক্রোসফট বাধ্য হবে উইন্ডোজকে টাচ ফ্রেন্ডলি, সহজ অ্যাক্সেসযোগ্য এবং আঙ্গুলের ঈশারা বা অঙ্গসঙ্কেত ভাবগ্রাহী করে তৈরি করতে। তাই বলে যে পুরনো মাউস ও কীবোর্ডের ব্যবহার একেবারেই থাকবে না, তা কিন্তু নয়।

উইন্ডোজ ৮ শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে মডার্ন ইউআই এবং লিগ্যাসি ডেস্কটপ মোডে ভোজভাজির কৌশলে কাজ করে মাল্টিটাচ ইনপুটের ক্ষেত্রে। যখনই মডার্ন ও লিগ্যাসি উইন্ডোজ ইউজার ইন্টারফেস মিলিত হয়, তখন অস্বস্তিকর ও বিরক্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। কেননা এখানে সবকিছু কাভার সম্ভব নয়।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৮-এ সম্পৃক্ত করেছে এক গোপন প্রিভিউ, যা কয়েক বছর আগে উইন্ডোজ ফোন নামের ফোন অপারেটিং সিস্টেমের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। এটি উইন্ডোজ ৮-এর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রিকার্সার তথা অগ্রদূততুল্য ফিচার, যা ধারণ করে ফ্রেশ, বোল্ড, টাইলভিত্তিক ইন্টারফেস। যখন চূড়ান্তভাবে মডার্ন ইউআইয়ের আবির্ভাব হয় উইন্ডোজ ৮-এর ডেভেলপার প্রিভিউতে, তখন থেকে লোকজন মাইক্রোসফটের উইসডমে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পায়। যেমন কেনো স্টার্ট বাটন নেই বা ব্যবহারকারীকে কেনো সম্পূর্ণ নতুন ইউএতে অভ্যস্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছে ইত্যাদি।

ইতিহাসের এই জটিল সন্ধিক্ষণে উইন্ডোজ এর লিগ্যাসি ছাড়া ভবিষ্যৎ পার্সোনাল কমপিউটিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে চেষ্টা করছে। এটি চেষ্টা করছে উইন্ডোজ ৭-এর পুরনো সুপরিচিত উপলব্ধিকে মডার্ন ইউআইয়ের সাথে সমন্বিত করতে এবং পুরনো ও নতুন সবাইকে প্রশমিত করার জন্য লাইভ টাইলসকে অনুকরণ করা হয়েছে উইন্ডোজ ফোন থেকে। এটি একটি সফল কৌশল কিনা, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে এটি একমাত্র অপারেটিং সিস্টেম, যেখান রয়েছে হাইব্রিড ফিল।

টাচ

দীর্ঘ র্ব্যথতার পর মাইক্রোসফট অবশেষে গতানুগতিক ডেস্কটপের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করে উইন্ডোজ ৮-এর বেটা, যা ছিল টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লে ছাড়া। এটি উইন্ডোজের আকর্ষণীয় বাড়তি নতুন ফিচারের সাথে ইন্টারেক্ট করতে পারে। তবে তা পাওয়ার উইন্ডোজ ইউজারের জন্য তেমন আরামদায়ক নয়।

অ্যাপস ও ক্লাউড

উইন্ডোজ ৮-এর সাথে মাইক্রোসফট চালু করে অ্যাপস ধারণা, যেখানে উইন্ডোজ স্টোর থেকে ডাউনলোড ও ইনস্টল করা থাকে নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন। এ ধারণার সূত্রপাত হয় ম্যাক অ্যাপস্টোর, আইটিউন অ্যাপস্টোর এবং গুগল প্লে দৃষ্টিকোণ থেকে। একজন এন্ড ইউজার হিসেবে আপনি অ্যাপস্টোরের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে নাও পারেন। তবে প্রোগ্রামিং লেভেলে মাইক্রোসফট বাস্তবায়ন করে উইনআরটি (WinRT) নামে এক ফিচার। এর ফলে টেকনিক্যাল ডিটেইলসর গভীরে না ঢুকে ডরহজঞ-এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে এক নতুন সুযোগ। ফলে সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি ও বাস্তবায়ন করা যাবে উইন্ডোজ ৮-এ, যা উইন্ডোজ ৭-এর Win32 টুলের চেয়ে অনেক বেশি সিকিউরই নয় বরং ডেভেলপারদের জন্য নতুন অ্যাপসের কোড তৈরি করা খুব সহজ হবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৮-এর অনেক সহজাত অ্যাপের কাজ শেষ করে ফেলেছে। যেমন- মেইল, মেসেজিং, পিপল (উইন্ডোজ ফোন), ক্যালেন্ডার, গেমস ইত্যাদি। বিং শুধু একটি সার্চ অ্যাপ নয় বরং অন্যান্য অ্যাপের শক্তি। যেমন- নিউজ, স্পোর্টস, ওয়েদার, ট্রাভেল, ফিন্যান্স সার্চ ইত্যাদি। এসব অ্যাপের কোনো কোনোটিতে কিছু বাগ থাকতে পারে। তবে এতে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই, কেননা এসব বাগ ফিক্স করার আপডেট ম্যাকানিজমও আছে, যা পাওয়া যাবে উইন্ডোজ স্টোর থেকে। অর্থাৎ উইন্ডোজ স্টোর নিয়মিতভাবে আপডেট হয় সম্ভাব্য নতুন ফিচার দিয়ে এবং বাগ বা সমস্যা ফিক্স করে।

এসব টুলের বেশিরভাগই মাইক্রোসফটকে উদ্বিঘ্ন করেছে উইন্ডোজ ৮-এর সিকিউরিটি প্রশ্নে। যদিও মনে করা হচ্ছে, এগুলো উইন্ডোজ ৭-এর তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। তবে হ্যাকার এবং স্ক্যামারেরা এসব প্লাটফরমের বাগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা থেকে বিরত থাকবে বা ব্যর্থ হবে তেমনটি ভাবা হবে বোকামি। অ্যাপগুলো কিভাবে সুযোগ নেবে, তাই এখন দেখার বিষয়।

ক্লাউড সিঙ্ক ফিচার উইন্ডোজ ৮-এর গভীরে সুদৃঢ়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রথম লগইন থেকেই, যেখান থেকে আপনাকে এন্টার করতে হবে লাইভ আইডি, স্কাই ড্রাইভ এমনকি PC Settings-এর অন্তর্গত Sync অপশন, যার মাধ্যমে ক্লাউডে সেভ করতে পারবেন আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, অ্যাপ ব্রাউজার এবং পাসওয়ার্ড সেটিং ইত্যাদি।

প্রচুর পরিমাণের হার্ডওয়্যার ও ভার্সন

উইন্ডোজের ইতিহাসে এবারই প্রথম উইন্ডোজ ৮-এ ব্যবহারকারীর সব ধরনের চাহিদাকেন্দ্রিক ফ্লেভারের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হতে দেখা যায় তাই নয় বরং মাইক্রোসফটের আকর্ষণের মূল পার্থক্য নির্ভর করছে নির্দিষ্ট ডিভাইসের হার্ডওয়্যার প্লাটফরমের ওপর। এর অর্থ হলো শুধু যে ঢ৮৬ ভিত্তিক পিসির উইন্ডোজ ৮, প্রো বা এন্টারপ্রাইজ ভার্সনের মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে তেমন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি ইচ্ছে করলে অজগভিত্তিক ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন বেছে নিতে পারেন। এজন্য আপনাকে বেছে নিতে হবে উইন্ডোজ আরটি বা উইন্ডোজ ফোন ৮-এর মধ্যে থেকে একটিকে।

উইন্ডোজ ৮-এর বিভিন্ন ফ্লেভারে সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। সুতরাং সেরা অপশন বেছে নেয়া বেশ কঠিন। অবশ্য এজন্য চিন্তা না করে বরং অন্যকিছু বেছে নিন, যতক্ষণ পর্যন্ত না উইন্ডোজ ৮-এর X86 ভার্সনের মধ্যে পার্থক্য গভীরভাবে বিবেচনা করতে সক্ষম হচ্ছেন। কিছু কিছু ডিভাইসের ফিচারগুলো উইন্ডোজ ৮-এর ভিন্ন ফ্লেভারের, তবে বেশ প্রতিশ্রম্নতিশীল। বিশেষজ্ঞেরা এসার, আসুস, ডেল, ফুজিৎসু, এইচপি, লেনোভো এবং স্যামসাং প্রভৃতির মাল্টিটাচ ডিসপ্লে এনাবল নোটবুক, ট্যাবলেট এবং হাইব্রিড ব্যবহার ও ইন্টারেক্ট করে দেখেন যে এগুলো সবই বেশ প্রতিশ্রম্নতিশীল। লক্ষণীয়, মাইক্রোসফটও এর একান্ত নিজস্ব সারফেস আরটি এবং প্রো ট্যাবলেটে ব্যবহার করে এআরএম ও উইন্ডোজ ৮-এর X86 ফ্লেভার। আশা করা যায়, স্মার্টফোন ওইএম (OEM) যেমন- নোকিয়া, এইচটিসি, এলজি, সনি, স্যামসাং এবং অন্যান্য কোম্পানি এ প্রতিযোগিতায় খুব শিগগির যোগ দেবে এবং উইন্ডোজ ৮ ট্যাবলেট এবং হাইব্রিডের সাথে প্রতিযোগিতা করবে।

স্টোর

উইন্ডোজ ভিস্তা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা সহজ ছিল, যদিও এর ইউআই ওভারহল করা এবং ছিল কিছু হতাশজনক সেটিং। যদিও মনে হয় উইন্ডোজ ৮ ভিস্তার মতো সম্পূর্ণ নতুন ইউজার ইন্টারফেস তথা ইউআই নিয়ে এসেছে, আসলে তা নয়। উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেম এখন অনেক পরিপক্ব এবং এর নিরাপত্তার ঝুঁকি সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি। সন্দেহ নেই, মাইক্রোসফট গেমিং জগতে একটু দেরিতে প্রবেশ করেছে। এ ক্ষেত্রে দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ হলো আইওএস (iOs) এবং অ্যান্ড্রয়িড, যেখানে উইন্ডোজকে নতুনভাবে ঢুকতে হচ্ছে। উইন্ডোজ ৮-কে সবার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে হচ্ছে, এমনকি যেসব ব্যবহারকারী জীবনভর উইন্ডোজ ব্যবহার করে আসছেন মাউস ও বড় স্ক্রিনসহ তাদের জন্যও। উইন্ডোজকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিরাট বোঝা ও ঐতিহ্য বহন করতে হচ্ছে ঠিকই, তবে সাইডলাইনে বসে থাকার জন্য নয়। তাই মাইক্রোসফটকে সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে আপ-টু-ডেট থাকতে হচ্ছে। এছাড়া কমপিউটিং ডেস্কটপ এখন শুধু পরিবেশের উপযোগী নয়। তবে মডার্ন এবং ক্লাসিক ডেস্কটপ ইউআই মোডের মধ্যে ওভারল্যাপ করার অনেক উপায় রয়েছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়, তাহলে উইন্ডোজ ৮ ট্যাবল ও হাইব্রিডের বিশ্বে নিজের অবস্থান সুদূঢ় করতে পারবে। কেননা এই উদ্ভূত পণ্যের সেগমেন্টে মাল্টিটাচ আল্ট্রাবুক, হাইব্রিড, সেস্নট এবং ট্যাবলেট উইন্ডোজ ৮ ব্যবহার করা যাবে স্বাচ্ছন্দ্যে ও মাইক্রোসফটের ভাগ্য রক্ষার জন্য কিছু প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দেবে এবং পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে ধারণ করবে মাইক্রোসফটের আবদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করার চাবি।

সবচেয়ে চটপটে ওএস

ইদানীং স্মার্টফোনের রকমফের ও বৈচিত্র্যের আধিক্য এত ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে যে ক্রেতা তার পছন্দের স্মার্টফোনটি কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যান এবং কোনটি কেনা উচিত এ প্রশ্নে দ্বিধান্বিত থাকেন। শুধু তাই নয়, ব্যবহারকারীর কোন প্লাটফরমের স্মার্টফোনটি কিনবেন তাও নির্ধারণ করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সাথে আছে মোবাইল ফোনসেটের ব্যবহার হওয়া ওএস নির্বাচনের বিষয়টি। শত শত ডেমোগ্রাফিক্স অপশন এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রের শত শত অপশন তুলে না ধরে এ লেখায় বর্তমান সময়ের উপযোগী মোবাইল ফোনসেটের কিছু সাধারণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ কাজ তুলে ধরা হয়েছে। কিভাবে মোবাইল ওএস বিভিন্ন বিষয়গুলোকে বিভিন্নভাবে হ্যান্ডেল করে এবং এগুলোর অর্থ কী তাই এখানে আলোচিত হয়েছে।

মোবাইল ফোনসেটের একসময়ের মূল সুযোগ সুবিধাগুলো অর্থাৎ ফোকাস অ্যাপ্রোচগুলো এখন আর জনপ্রিয় নয়। অতীতের দিনগুলোতে মোবাইল ফোনসেটের চাহিদা নির্ভর করত বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। যেমন ব্যবসায়-সংশ্লিষ্ট কাজের উপযোগী একমাত্র মোবাইল সেট ছিল ব্ল্যাকবেরি আর সনি এরিকসনের ফোনসেটগুলো সেই সব ব্যবহারকারীর প্রথম পছন্দ ছিল, যারা ভালো ক্যামেরা এবং চলমান অবস্থায় মিউজিক প্রত্যাশা করেন কিংবা যারা উভয় ধরনের সুযোগ-সুবিধা মোবাইল ফোন থেকে পেতে চান, তাদের কাছে নোকিয়া এন সিরিজের সেটগুলো। ইদানীং প্রায় সব মোবাইল ফোনসেটের নির্মাতাদের লক্ষ্য সবার জন্য মানানসই করা এবং সব ওএস নির্মাতা চেষ্টা করছেন তাদের চাহিদা পূরণ করতে, যা আমাদেরকে করবে এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি: কোনটি সেরা? সুতরাং আর দেরি না করে চলুন দেখা যাক কোনটি সেরা।

লক্ষণীয়

অ্যান্ড্রয়িড, আইওএস, ব্ল্যাকবেরি এবং উইন্ডোজ এই চার প্লাটফরমের মধ্যেই নয় বরং অন্য অনেক প্লাটফরমের মধ্যে অনেকের কাছে অ্যান্ড্রয়িড মেথড অনেক ক্ষেত্রেই সেরা। অ্যান্ড্রয়িড এবং আইওএস মোটামুটি কাছাকাছির। অ্যান্ড্রয়িড ইন্টিগ্রেশন এবং সঠিক সুইচ ওভার কল লগের মধ্যে আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে ডায়াল করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়িডে ম্যানুফেচারারের কাস্টোমাইজেশন অপশন থাকতে পারে। এইচটিসি ও সনি ফোনগুলোয় একই ফাংশনালিটি একই হতে পারে। তাই পরীক্ষা করে দেখা উচিত। আইওএস যতদূর সম্ভব সেরা স্ক্রিন কিপ্যাডে যেখানে ব্ল্যাকবেরি নির্ভর করে ফিজিক্যাল QWFRTY টাচ স্ক্রিন ফোনের ওপর। এটি অফার করে আকর্ষণীয় ইন্টারফেস। উইন্ডোজ ফোন অনেককেই হতাশ করছে। এতে যুক্ত করা হয়েছে বাড়তি ধাপ, যার জন্য দরকার নাম্বার প্যাড।

বাডি যুক্ত করা

ফোনবুকে নতুন কন্টাক্ট যুক্ত করার কাজটি সাধারণত একটু তাড়াহুড়ার মধ্য দিয়ে করা হয় এবং সেসব ব্যবহারকারীর কাছে এটি একটি জটিল দৃষ্টিকোণ, যারা তাদের ফোনকে শুধু ফোন করার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। প্রথমেই অ্যান্ড্রয়িড দিয়ে শুরু করা যাক। বিভিন্ন স্মার্টফোন প্রস্ত্ততকারক বিভিন্ন অবয়বে এবং কাস্টোমাইজেশনে স্মার্টফোন তৈরি করলেও প্রসেসের মূল এবং অপরিহার্য অংশ অ্যান্ড্রয়িড ফোনজুড়ে একই থাকে। ফোনে দু’ভাবে কন্টাক্ট যুক্ত করা যায় Contacts/People এবং ‘+’-এ ক্লিক করুন অথবা ফোন অ্যাপে গিয়ে কন্টাক্ট লিস্ট পূর্ণ করুন। এরপর একটি কন্টাক্ট যুক্ত করুন। যদি আপনার অ্যাকাউন্টে Google Sync সেটআপ করা থাকে, তাহলে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে কন্টাক্ট যুক্ত করতে পারবেন এবং এটি ফোনে সিঙ্ক করতে পারবে। অনেক থার্ডপার্টি উইডগেট (Widget) আছে, যা হোম স্ক্রিনে বসে থাকতে পারে আপনার ফেভারিট কন্টাক্টের সাথে। যাই হোক, আইওএস খুব সহজ করেছে ব্যক্তিগত বিষয় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো। ফোন অ্যাপে ট্যাপ করলে দেখতে পাওয়া যাবে নাম্বার প্যাড পপআপ। এর পাশেই + চিহ্নসহ একটি কী রয়েছে। ব্ল্যাকবেরির এই ফিচারটি ভয়লা (Voila) নামে পরিচিত। এটি মোটামুটিভাবে সহজ ডায়ালিংয়ের সময় নাম্বার পাঞ্চ করার মতো কাজ করে। এরপর অপশন কী-তে চাপলে Add to contacts অপশন দেখা যাবে। বিকল্পভাবে এ কাজটি উইন্ডোজ ফোন ৮-এ করার জন্য ফোনবুকে অ্যাক্সেস করতে হবে। উইন্ডোজ ফোনবুক ৮-এর People app হলো অপরিহার্য ফোনবুক। এটি ওপেন করলে লিস্টের নিচের দিকে + চিত্র দেখা যাবে। এবার ঞধন করলে এখান থেকে কন্টাক্ট যোগ করার সুযোগ পাবেন। সব প্লাটফরমেই এই কাজটি এক্সিকিউটি করার জন্য মনে হয় সহজ করা হয়েছে। আইওএস ও উইন্ডোজ ফোন সবচেয়ে সুবিধাজনক এবং সহজ ব্যবহারযোগ্য, এমনকি যারা প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করেন তাদের জন্যও। ব্ল্যাকবেরি তেমন জটিল ধরনের নয়। এ ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়িড কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে। কেননা বেশিরভাগ ফোন, ফোনবুক সাধারণের অ্যাক্সেসের জন্য উন্মুক্ত নয় এবং কন্টাক্ট যুক্ত করার জন্য প্রসেসকে ডায়ালারের মাধ্যমে যেতে হয়, যা কিছুটা কার্যকর করা জটিল।

স্মার্টফোন ক্যামেরা

স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো ক্যামেরা। ক্যামেরা ফিচারটি ইউনিক নয়। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ স্মার্টফোনের ক্যামেরার ফিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেন কত দ্রম্নত ক্যামেরার অ্যাপ পাওয়া যায় এবং পিকচারে ক্লিক করা যায়। অ্যান্ড্রয়িডকে যেকোনো হোম স্ক্রিনের ওপরে একটি আইকনে পাবেন। এতে ট্যাব করলে সরাসরি ক্যামেরাতে অ্যাক্সেস করা সম্ভব হবে। এ ইন্টারফেসের একটি ট্যাপ অপশন রয়েছে, যার মাধ্যমে ফটো এবং ভিডিও মোডের মধ্যে সুইচ করা সম্ভব হয়। গ্যালারি/অ্যালবাম অ্যাপ্লিকেশনে সণ্যাপ এবং ভিডিও দৃশ্যমান। আইওএসে প্রায় একই ধরনের অনেক হোম স্ক্রিনের মধ্যে একটিতে ক্যামেরা আইকন প্রদর্শিত হয়। সণ্যাপ প্রদর্শিত হয় ফটোজ অ্যাপে। পক্ষান্তরে রেকর্ড করা ভিডিও দৃশ্যমান হয় ভিডিও অপশনে। ব্ল্যাকবেরিতে এখন পর্যন্ত হোম স্ক্রিনের ধারণা প্রবর্তিত হয়নি এবং ব্যবহারকারীকে ক্যামেরা অ্যাপে অ্যাক্সেস করতে হয় অ্যাপ্লিকেশনের লিস্ট থেকে বা মধ্য থেকে। ওএসে সাধারণত মিডিয়া ফোল্ডার থাকে, যা পিকচার এবং ভিডিওর জন্য আলাদা ফোল্ডার হোস্ট করে। উইন্ডোজ ফোন ৮-এ আপনি পিন করার সুযোগ পাবেন ক্যামেরাকে প্রথম স্ক্রিনে টাইল হিসেবে। এটি বেশ সুবিধাজনক, বিশেষ করে আপনি টাইলজুড়ে মুভ করার সুযোগ পাবেন এ ক্ষেত্রে। এটি নির্ভর করছে আপনার ব্যবহারের ওপর। মোটামুটিভাবে এ ধরনের অবয়ব দেখা যায় সব ওএসজুড়ে, যা স্মার্টফোন ক্যামেরার মধ্যে পার্থক সৃষ্টি করে এবং এগুলোর ওপর ভিত্তি করে স্মার্টফোনের ব্যবহার অনেকখানি পরিলক্ষিত হতে দেখা যায়।

শেয়ার

এবার দেখা যাক কিভাবে ছবিকে সহজে শেয়ার করা যায় অথবা কিভাবে মাল্টিপল সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আপনার স্ট্যাটাসকে আপডেট করা যায় ফোন থেকে। এখানে পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে টুইটার, ফেসবুক এবং ইনস্ট্যাগ্রামের বৈশিষ্ট্যের আলোকে। সব অ্যান্ড্রয়িড ফোনে ফেসবুক অ্যাপ প্রিলোড করা থাকে। টুইটারে কিছু কিছু প্রিলোড করা থাকে, যেখানে অন্যদের কাছে এমনভাবে অনুপস্থিত যা সবার নজরে পড়ে। আর ইনস্ট্যাগ্রামকে আলাদাভাবে ডাউনলোড করতে হয়।

আইওএস, ফেসবুক এবং টু্ইটার বক্সের বাইরে ইন্টিগ্রেটেড অবস্থায় থাকে। ইনস্ট্যাগ্রামকে অ্যাপস্টোর থেকে ডাউনলোড করা যায়। তবে ফেসবুক সেরা। ইনস্ট্যাগ্রাম আইওএস ডিভাইসে প্রিলোডেট থাকবে এবং অনুরূপভাবে আশা করা যায় বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়িড ফোনের ক্ষেত্রেও। ব্ল্যাকবেরি ওএস৭, ফেসবুক ও টুইটার প্রিলোডেড থাকে। শুধু ওএস ৬ ডিভাইসে ফেসবুক প্রিলোডেড থাকে। ব্ল্যাকবেরি প্লাটফরমে ইনস্ট্যাগ্রামের জন্য কোনো অ্যাপ দেখা যায়নি। উইন্ডোজ ফোন ডিভাইসে ফেসবুক বা টুইটার বান্ডেল আকারে সমন্বিত করা হয়নি এবং উইন্ডোজ ফোন প্লাটফরমের উপযোগী কোনো ইনস্ট্যাগ্রাম অ্যাপ নেই। সুতরাং বলা যায়, মাইক্রোসফট এখন পর্যন্ত ডিভাইসে তাদের নিজস্ব স্কাইড্রাইভ অ্যাপ লোড করেনি। সম্ভবত এটি আপনি ডাউনলোড করতে পারবেন প্রয়োজন অনুযায়ী।

সার্চ বাটন

অ্যান্ড্রয়িড ফোনের অন্যতম এক ফিচার সার্চ বাটন, যা অন্যদের ক্ষেত্রে নেই। আপনি একই ফলাফলের জন্য সার্চের অপশন পাবেন। বিকল্প হিসেবে বলা যায়, হোম স্ক্রিনে ওয়াইডগেটে পিন করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়িডে জেলি বিনে গুগল নাও সার্ভিস পাওয়া যায় সার্চ অ্যাপের মাধ্যমে। আইওএসে সার্চ স্ক্রিন ওপেন করার জন্য মূল স্ক্রিনে বাম থেকে ডানে iOS Swip রয়েছে। আইওএসে সার্চ ফিচার মোটামুটি সীমিত। এজন্য আপনাকে সম্ভবত গুগল অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিতে হতে পারে। ব্ল্যাকবেরির জন্য স্ক্রিনের ওপরের ডান দিকে সার্চ রয়েছে। টাচ স্ক্রিনের ক্ষেত্রে এতে অ্যাক্সেস করা যায় ট্যাপ করার মাধ্যমে অথবা সিলেক্ট করা যায় ট্র্যাকপ্যাডের মাধ্যমে। বিভিন্ন প্রস্ত্ততকারক কি করছে, সেদিকে সুতীক্ষনভাবে খেয়াল রাখছে মাইক্রোসফট। সার্চ কী অনেকটাই ম্যান্ডেটরি। বিং সার্চের ইউজার ইন্টারফেসটি ভিজ্যুয়ালি বেশ আকর্ষণীয়, তবে ফলাফল গুগলের মতো তত কার্যকর নয়।

ব্রাউজ

অ্যান্ড্রয়িড ও আইওএসের মধ্যে যেকোনো ব্রাউজার বেছে নিতে পারেন। তবে অনেকেই ক্রোম ব্রাউজারের পক্ষে মতামত দেন ব্যবহারের জন্য। এটি উভয় প্লাটফরমের উপযোগী। এতে পাবেন সার্বিকভাবে চমৎকার অভিজ্ঞতা। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এতে পাবেন প্রচুর শেয়ারিং অপশন। ব্ল্যাকবেরি ব্রাউজার মোটামুটি ক্লাঙ্কি এবং তেমন বিরক্তিকর নয়। উইন্ডোজ ফোন ৮-এর ইন্টারনেট এক্সপেস্নারার আগের ভার্সনের চেয়ে অনেক ভালো, তবে একই ওয়েব পেজ অ্যান্ড্রয়িড বা আইওএসের ক্রোমে ওপেন করতে বেশি সময় নেয়।

ভিডিও

অ্যান্ড্রয়িড ডিভাইস হ্যান্ডেল করতে পারে বেশ কিছু ভিডিও ফরম্যাট। এছাড়া আরও থার্ডপার্টি অ্যাপ রয়েছে, যা আরও যুক্ত হচ্ছে। ব্ল্যাকবেরি এবং উইন্ডোজ ফোন ডিভাইস হ্যান্ডেল করতে পারে তাদের নিজের মধ্যে প্রথাগত ভিডিও ফরম্যাট শেয়ার। তবে এ ক্ষেত্রে আইওএস খুবই সীমিত ভিডিও ফরম্যাট সাপোর্ট করে আইটিউন এবং ডিভাইসে। এছাড়া আরও যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার হলো আইওএস প্রতিটি ভিডিওকে রিএনকোডিং করে, যাতে এটি শুধু আইফোন এবং আইপ্যাডে প্লেব্যাক করতে পারে।

অ্যাপ

অ্যাপের ক্ষেত্রে আপনার পছন্দ সীমাবদ্ধ থাকবে অ্যান্ড্রয়িড এবং আইওএসের ওপর। এ দুটির মধ্যে অ্যান্ডয়িড কিছুটা এগিয়ে আছে ফ্রিতে বেশি থেকে বেশি অ্যাপ অফার করার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো WhatsApp অ্যাপ। এ অ্যাপ্লিকেশন স্টোর হয় উভয় প্লাটফরমে। এ ক্ষেত্রে ব্ল্যাকবেরি এবং উইন্ডোজ ফোন অনেক পিছিয়ে আছে। অ্যান্ড্রয়িড ও আইওএসের সাথে প্রতিযোগিতা করতে চাইলে ব্ল্যাকবেরি ও উইন্ডোজ ফোন ৮-কে অনেকদূর যেতে হবে।

ওএস এক্স-আইওএস

প্রযুক্তিবিশ্বে অনেকেই মনে করেন ২০১৩ সাল হবে অ্যাপলের জন্য সুবর্ণ সময়। এখন পর্যন্ত অ্যাপলের পণ্যগুলো যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, কেননা অ্যাপল তার ক্রেতাদেরকে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সম্পূর্ণ প্যাকেজ ব্যান্ডেল আকারে উপহার দিয়ে আসছে, যা অন্য কোনো ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হতে দেখা যায় না। অ্যাপলের ক্লোজড ইকোসিস্টেম নিয়ে বেশ সমালোচনা থাকলেও অ্যাপল তাতে কর্ণপাত করেনি। অ্যাপল চেষ্টা করছে ডেস্কটপ এবং স্মার্টফোনে ওএসকে যতটুকু সম্ভব কাছাকাছি অবস্থানে নিয়ে আসতে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো একযোগে এবং সঙ্গতিপূর্ণভাবে কাজ করা। অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে। লক্ষণীয়, বাজার দখলের লড়াইয়ে অ্যাপলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক কমে গেছে। এ কথা সত্য, অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর এ দূরত্ব কমে গেছে ব্যবহারকারীদের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে না পারার কারণে।

ওএস এক্সের ভবিষ্যৎ কেমন

অনেকেই বলে থাকেন, বিশ্বের সবচেয়ে সেরা জব বা পেশা হলো পোর্চ (Porsche) ডিজাইন করা। এর মধ্যে থ্রিডি মডেল একটি। পোর্চ ডিজাইন করা, থ্রিডি মডেল ডিজাইন করা সবই প্রায় একই ধরনের এবং খুব সামান্যই উল্লেখ করার মতো পরিবর্তন সাধন করা হয়।

২০১২ সালে ম্যাকের ওএস লায়নের পরের ভার্সন মাউনটেন লায়ন ওএস এক্স অবমুক্ত হয়। লায়নকে মনে করা হতো সেণা লিউপার্ডের প্রকৃত উত্তরসূরি, কিন্তু আসলে তা নয়। মাউন্টেন লায়ন হলো প্রকৃত উত্তরসূরি। যেহেতু এটি লায়নের প্রকৃত ধারণা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু লায়নের ধারণাটি কী? লায়নের ধারণার প্রকৃত অর্থ বুঝতে চাইলে ডেস্কটপ এবং স্মার্টফোন ওএস-কে পাশাপাশি আনতে হবে।

প্রথমে দেখা যাক লাঞ্চপ্যাড। লাঞ্চপ্যাড হলো আইওএস স্টাইল অ্যাপ্লিকেশন। মাউনটেন লায়নে একটি নোটিফিকেশন বার রয়েছে, যেমনটি ফোনে দেখা যায়। ফেসবুক এবং টু্ইটার ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ওএস এক্স প্লাটফরমের ভিমিইউ (Vimeo) এবং ফ্লিকারের মতো বিষয় যুক্ত করেছে। যদিও এটি দেখতে তেমন নয়। স্ট্যাটাস আপডেট বা ফোনের মতো করে একটি ফটোগ্রাফ টুইট সেন্ড করার সক্ষমতা অনেকটা ডেস্কটপ ওএস ফিলের কাছাকাছি। গেম সেন্টার হলো আরেকটি অ্যাপ্লিকেশন, যা আইওএস ডিভাইসের চেয়ে ওএস-কে এগিয়ে নিয়ে গেছে পরিপূর্ণ ইকোসিস্টেম গেমিং তৈরির ক্ষেত্রে। ভয়েজ কমান্ড এবং ডিকটেশনের জন্য মাল্টিপল অ্যাপসহ জনপ্রিয় অফিস স্যুট রয়েছে।

সবচেয়ে বড় আপডেট হলো আইক্লাউড (iCloud),, যা আপনার ডিভাইসের যেমন ম্যাক, আইফোন এবং আইপ্যাডের সাথে কন্টাক্ট, ডকুমেন্ট, মেইলের সিঙ্ক করার সুযোগ দেবে। সিঙ্ক করা যায় তাৎক্ষণিকভাবে। আপনি ম্যাকবুকের পেজেস ডকুমেন্ট তৈরি ও এডিট করতে পারবেন। আর আইপ্যাডের পেজেস হোমে ফিরে যায়। যদি কোনো ডিভাইস হারিয়ে ফেলেন তাহলে Find Mac এবং Find My
Phone ফিচার দুটি আপনাকে খুঁজে দেবে আইক্লাউড ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

সবকিছু যথাযথভাবে কাজ করে এমন ভাবা উচিত হবে না। একটি বিষয় সবাইকে কিংকর্ত্যবিমূঢ় করে ফেলবে। এ বিষয়টি হলো একই অপারেটিং সিস্টেম আপডেটের সাথে চমৎকারভাবে কাজ করবে ম্যাকবুকে। যেখানে অন্যটি একই জেনারেশনের মেশিনের ওপর দুর্বল পারফরম্যান্স, দুর্বল ব্যাটারি আয়ু এবং অন্যান্য কম্প্যাটিবল ইস্যুসংশ্লিষ্ট রিপোর্ট দেয়। এ বিষয়টি সর্বশেষ দুটি ওএস লায়ন এবং মাউনটেন লায়নের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এটি যে শুধু পুরনো জেনারেশনের হার্ডওয়্যারের ইস্যু, তা নয়। বরং নতুন ম্যাকবুকের তুচ্ছ খুঁটিনাটি ব্যাপারে একই রিপোর্ট লক্ষণীয়। এমনটি অ্যাপলের কাছ থেকে কেউ আশা করে না, বিশেষ করে যখন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ অ্যাপলের হাতেই থাকে।

ওএস এক্স ও আইওএসের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য

ওএস এক্সের বর্তমান লুক অনেকটা পোর্চের মতো, যা গত কয়েক বছর ধরে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের তেমন কিছু নিশ্চয়তা না দিলেও স্ট্রিমলাইনিং এবং টোয়েকিংয়ের প্রয়োজন পরিলক্ষিত হয়। যেমন লাঞ্চপ্যাড এখন পর্যন্ত ম্যাকবুকের এক্সপেরিয়েন্সে সম্পূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেনি।

সিরি

ওএস এক্স মাউনটেন লায়নে ইতোমধ্যে ডিকটেশন এবং স্পিচ সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে যৌক্তিকভাবে সিরি আবির্ভূত হবে, যেহেতু এটি প্রভাব বিস্তারকারী ফিচারের সম্প্রসারণ। এটি সার্ভারভিত্তিক একটি অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য প্লাটফরমে বিসত্মৃত হতে এটির তেমন কোনো জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। এর ফলে বিশ্বব্যাপী ম্যাক ব্যবহারকারীরা আবেগ আপস্নুত হয়ে ওঠবেন। তবে এ ক্ষেত্রে উচ্চারণগত সমস্যা প্রকট।

ম্যাপস

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ২০১৩ সালের মধ্যে ম্যাপ ডেস্কটপ প্লাটফরমে পৌঁছে যাবে। ওএস এক্সসহ ডেডিকেটেড ম্যাপ অ্যাপ দু’ভাবে কাজ করবে, যা থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশনের অ্যাক্সেসকে যেমন অনুমোদন করবে, তেমনি ব্রাউজারভিত্তিক সার্ভিস যেমন- গুগল ও বিং ম্যাপসের অ্যাক্সেসকে অনুমোদন করে। এ ক্ষেত্রে অ্যাপলকে যা করতে হবে তা হলো ম্যাপের বিভিন্ন উপাদানের শ্রেণীবিন্যাস আলাদা করে তৈরি করতে হবে। ম্যাপের ফাংশনালিটি আরও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য টোয়েকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, ২০১৩ সালের প্রথম কোয়ার্টারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। আর এ ঘোষণাটি হলো অপারেটিং সিস্টেমের সার্বিক লুক ও ফিলে তেমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাবে না। তবে ওএস এক্সের চেয়ে আইওএস আরও বেশি দৃশ্যমান করা হয়েছে, যা পরের আপডেট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

হার্ডওয়্যার

২০১৩ সালে অ্যাপল ওএস সম্পর্কে আলোচনা করা হবে আর হার্ডওয়্যার প্রসঙ্গে আলোচিত হবে না তা তো হয় না। আগামীতে অ্যাপল হার্ডওয়্যারে কী ঘটবে তা দেখা যাক :

ডার্ক হর্স

সামনের বছরগুলোতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হবে প্রযুক্তিবিশ্বে। এগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি প্রযুক্তিবিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে :

ফায়ারফক্স ওএস

২০১১ সালে গুগল ঘোষণা করে অ্যান্ড্রয়িড আর ওপেনসোর্স হিসেবে থাকবে না। যা প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে অনেকটাই এক অপ্রত্যাশিত ধাক্কা হিসেবে বলা যায়। অ্যান্ড্রয়িড ওপেনসোর্স হলেও এর বিকল্প দরকার, যা কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের বাইরে এমন অবস্থায় নঙঙঞ ২ এঊঈক নামের এক ওপোনসোর্সের সূচনা হয়। এটি একটি স্ট্যান্ডার্ডভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম। এর লক্ষ্য শুধু ওয়েবভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমই ছিল না বরং বলা যায় একটি স্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপ করা, যা এ ধরনের ডিভাইসের অস্তিতের জন্য দরকার হবে। এর ফলে মোবাইল ওএস এবং অ্যাপস তৈরি হয় সম্পূর্ণরূপে এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, অ্যান্ড্রয়িড এবং আইওএসের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই ফায়ারফক্সের। মজিলা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় যে সাধারণ জনগণ ফায়ারফক্স ওএসের জন্য আইফোন বা অ্যান্ড্রয়িড ডিভাইস ছেড়ে দেবে না, তারপরও এরা হাল ছেড়ে দেয়নি। এরা চেষ্টা করছে হালকা ধরনের ওএস বানাতে, যেগুলো সস্তা দামের ফোনে রান করতে পারবে, যা অ্যান্ড্রয়িডে রান করতে পারবে না। বেশি দামের কারণে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারছেন না, স্মার্টফোনকে তাদের নাগালে পৌঁছানোর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে একে গণ্য করা যায়।

ফায়ারফক্স সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে, যদিও খুব সহসা আমাদের নাগালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই। এটি ওপেনসোর্স ওএস এবং পুরোপুরি হ্যাক করা যাবে। এটি বেশ কিছুসংখ্যক অ্যান্ড্রয়িড ডিভাইসে বা রাসবারি পাইয়ে রান করা যাবে।

ব্ল্যাকবেরি ১০

অনেকেই জানেন, ব্ল্যাকবেরি তেমন সফলতার মুখ দেখতে পাচ্ছে না বাজারে। এ অবস্থায় আরআইএম (জওগ) কয়েক ভার্সন নাম্বার লাফিয়ে সরাসরি ব্ল্যাকবেরি ১০ বা ব্ল্যাকবেরি এক্সে উপনীত হয়েছে। এরপরও কী কোনো সম্ভাবনা আছে ব্ল্যাকবেরির জন্য- এমন প্রশ্ন অনেকের। ব্ল্যাকবেরি ১০ এখন য়হীভিত্তিক, সম্পূর্ণ নতুন ইউজার ইন্টারফেসবিশিষ্ট, যা ভালোভাবে মাল্টিটাস্কিং এবং টাচ গেস্চার সাপোর্ট বিসত্মৃত করেছে। ওএসে মাল্টিটাস্কিং সাপোর্ট প্রতিযোগিতাকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং ওয়েবওএস (ডবনঙঝ) এবং মেমোকে (গধবসড়) আরও পাশাপাশি লাইনে নিয়ে আসবে। অবশ্য এর সাথে সম্পৃক্ত থাকবে ব্ল্যাকবেরির আকর্ষণীয় ভালো ফিচার, যেমন (ইইগ)। তবে বিবিএমের জন্য অডিও এবং ভিডিও চ্যাট একটি সোশ্যাল মিডিয়া হাব, অন স্ক্রিন কীবোর্ড ইত্যাদি যুক্ত করে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্ল্যাকবেরি ১০ অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য অনেক পথ সাপোর্ট করে। ডিভাইস সাপোর্ট করে কিউটি (ছঃ)-এর স্থানীয় ডেভেলপমেন্ট। তবে প্যাকেজড ওয়েব (যঃসষং) অ্যাপ্লিকেশন, অফড়নব অরৎভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন, এমনকি অ্যান্ড্রয়িড অ্যাপ্লিকেশনকে অনুমোদন করে। ডেভেলপারদের জন্য যত পথ থাকবে তত বেশি অ্যাপস থাকবে ইউজারদের জন্য।

কেডিই প্লাজমা অ্যাকটিভ

যদি আপনি লিনআক্স ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে কেডিইর (কউঊ) কথা শোনার কথা। কেডিই ব্র্যান্ডের ইতিহাস কিছুটা বিভ্রান্ত সৃষ্টি করতে পারে। এটি ক উবংশঃড়ঢ় ঊহারৎড়সবহঃ-এর প্রতিনিধি হওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। এর বর্তমান অ্যাভাটার কেডিই উপস্থাপন করে কমিউনিটি, যা সফটওয়্যার তৈরি। ঞযব কউঊ ঝড়ভঃড়িধৎব ঈড়সঢ়ষঃরড়হ হলো কেডিই কমিউনিটার পণ্য। এটি হলো জিনোম এবং উবুন্টুর ইউনিটির বিকল্প।

কেডিই প্লাজমা অ্যাকটিভ হলো কেডিই কমিউনিটি পরিচালিত এক প্রজেক্ট, যার লক্ষ্য তাদের সফটওয়্যারকে তাদের টেবিলে নিয়ে আসা। এহড়সব এবং টহরঃ একটি একক ইউজার ইন্টারফেস তৈরির সিন্ধান্ত নয়, যা কিছুটা টাচ ফ্রেন্ডলি। পক্ষান্তরে কেডিইর ডেভেলপার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিটি ফ্যাক্টরের জন্য দরকার এর নিজস্ব অপটিমাইজ ইউজার ইন্টারফেস। যেহেতু এদের রয়েছে গতানুগতিক ডেস্কটপসদৃশ ইউজার ইন্টারফেস। নেটবুক ইউজার ইন্টারফেস (টও) ছোট স্ক্রিন ডিভাইসের জন্য এবং প্লাজমা অ্যাকটিভ হলো ট্যাবলেট ডিভাইসের জন্য। এগুলো ভবিষ্যতের জন্য মোবাইল ভার্সন যুক্ত করতে পারবে।

প্লাজমা অ্যাকটিভের এক অনুপম ধারণা রয়েছে যাকে অ্যাকটিভিটিস বলে। এটি ট্যাবলেট পিসিতে আপনার কাজের ধারাকে বদলে দেবে। অ্যাকটিভিটিসের মাধ্যমে আপনি সংশ্লিষ্ট ফাইল/ডাটা এবং অ্যাপ্লিকেশন সেটিংকে একত্রে গ্রম্নপ করতে পারবেন। সুতরাং আপনি যদি ডড়ৎশ-এ সুইচ করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইটেমের বুকমার্ক ও কন্টাক্টসহ সংশ্লিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন ও শর্টকাটের ওপর কাজ করা হবে।

ক্রোম ওএস

ক্রোমের ব্যবহার এখন আর হয় না বা ক্রোমের মৃত্যু ঘটেছে তা ঠিক নয়। বাস্তবতা হলো ক্রোম ওএস গুগলের ক্রোমবুকে বাঁক নিয়েছে। ক্রোম ওএস এবং ক্রোমবুক ঘোষণা করে এক কমন রিয়েকশন অর্থাৎ ওএস/কমপিউটারে ব্যবহার করা যেতে পারে শুধু ওয়েব ব্রাউজ করার জন্য।

গেমিং কন্সোল, যেমন এক্সবক্স৩৬০/ পিএসথ্রি ইত্যাদি কমপিউটার ডিজাইন মূলত গেমের জন্য। খুব কম লোকই আছেন যারা শুধু গেম খেলার জন্য এ ডিভাইসগুলো কিনতে চান। আবার খুব কম লোকই ইন্টারনেট সার্ফ করার জন্য ডিভাইস কিনতে চান। তারপরও কোটি কোটি লোকের মধ্যে শতকরা একভাগও যদি অনলাইনে যুক্ত থাকেন তাহলে এ ধরনের ডিভাইস কিনতে চাইবে এমন সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। যার অর্থ হচ্ছে ন্যূনতম ১৪ কোটি লোক এসব ডিভাইস কিনবে।

যাই হোক, কন্সোল টিকে যাবে। কেননা কন্সোল প্রস্ত্ততকারকেরা ভিডিও গেম থেকে আলাদা করে ফেলেছেন যা ডিভাইসকে কেনার সাধ্যের মধ্যে নিয়ে এসেছে। গুগল ইতোমধ্যে ইন্টারনেট বিজ্ঞাপনে আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছে। কন্সোলের জন্য দরকার স্বতন্ত্র হার্ডওয়্যার। যেখানে ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য ডিভাইস পুরোপুরি কম শক্তিশালী হতে পারে, দীর্ঘ ব্যাটারি আয়ুবিশিষ্ট হতে পারে। ক্রোমবুককে এসব কিছুই করতে হবে, যা বিজ্ঞাপনসহ গুগলকে লাভজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে। ভোক্তাদের কাছে এমন ডিভাইস প্রত্যাশিত, যা দ্রম্নতগতিতে স্টার্ট হবে। বিশাল বিসত্মৃত রেঞ্জের অ্যাপ্লিকেশনসহ নেটিভ ক্লায়েন্ট রান করতে পারবে, এমনকি গেম এবং ভারি ভিডিও/অডিও এডিটিং অ্যাপ রান করতে পারবে।

ডেস্কটপে লিনআক্স

প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর পালন করা হয় ইয়ার অব দ্য লিনআক্স ডেস্কটপ। লিনআক্স ডেস্কটপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনও ৫ শতাংশের নিচে। জনগণ উইন্ডোজের সাথে এখনও যুক্ত হয়ে আছেন শুধু জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশনের পর্যাপ্ততার কারণে, যেগুলো এখনও লিনআক্সে কল্পনা করা যায় না

কজ
ফিডব্যাক : mahmood@comjagat.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৩ - আগস্ট সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস