Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পরিবেশবান্ধব কমপিউটিং
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সুমন ‍ইসলাম
মোট লেখা:৮৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৮ - আগস্ট
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সর্বস্তরে কমপিউটার
তথ্যসূত্র:
প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পরিবেশবান্ধব কমপিউটিং

কৃষিবিপ্লবের পর শিল্পবিপ্লবের শুরু থেকেই পরিবেশের ক্রমাবনতি ঘটতে থাকে৷ এর করুণ পরিণতি আজকের এ অবস্থা৷ আমরা সাধারণত পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্গত ধোঁয়া, বর্জ্য, অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার, গাছপালা নিধন করে নগরায়ন, যানের কালো ধোঁয়া, ভূগর্ভে বা গভীর সমুদ্রে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ইত্যাদিকে দায়ী করে থাকি৷ কিন্তু আইসিটি পণ্যও যে পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য বহুলাংশে দায়ী, তা আমাদের অনেকেরই ধারণার বাইরে৷ তাই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারে সবাইকে আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই
এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন লিখেছেন মইন উদ্দীন মাহ্‌মুদ ও সুমন ইসলাম৷

পরিবেশের বিরূপ প্রভাবে বিশ্ব ক্রমেই বেশি গরম হয়ে উঠছে৷ পরিবেশ বিজ্ঞানীদের অনেকেরই আশঙ্কা, এর ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে পৃথিবীর অনেক দেশের নিচু এলাকা তলিয়ে যাবে৷ বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ও নিচু বিস্তীর্ণ অঞ্চল আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকা ইতোমধ্যে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে৷ জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশের বিস্তৃত ভূ-ভাগ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিসিসি৷ এ সংস্থার গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ ভূমি আর ৩০ শতাংশ ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাবে৷ নাসার বিজ্ঞানী জেমস হ্যানসেন উপগ্রহ-চিত্র দেখে জেনেছেন, এ শতাব্দীতেই সমুদ্রের উচ্চতা আড়াই মিটার বেড়ে যাবে৷ যার অর্থ গোটা বাংলাদেশ ডুবে যাবে৷



সমুদ্রের উপরিতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ ভবিষ্যৎ নিয়ে৷ বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে বিভিন্ন সম্ভাব্য চিত্রের আলোকে বাংলাদেশ বা মালদ্বীপের মতো দেশে এর প্রভাব কী পড়বে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন৷ তাদের মতে, এসব দেশের উল্লেখযোগ্য অংশ সাগরে তলিয়ে যাবে৷ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ওপর একই ধরনের প্রভাব পড়বে বলে অনেকেই মনে করেন৷ যদিও এর জন্য শুধু বাংলাদেশ বা মালদ্বীপের মতো দেশগুলো কোনো মতেই এককভাবে দায়ী নয়৷

কৃষিবিপ্লবের পর শিল্প বিপ্লবের শুরু থেকেই পরিবেশের ক্রমাবনতি ঘটতে থাকে৷ এর করুণ পরিণতি আজকের এ অবস্থা৷ আমরা সাধারণত পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্গত ধোঁয়া, বর্জ্য, অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার, গাছপালা নিধন করে নগরায়ন, যানের কালো ধোঁয়া, ভূগর্ভে বা গভীর সমুদ্রে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ইত্যাদিকে দায়ী করে থাকি৷ কিন্তু আইসিটি পণ্যও যে পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য বহুলাংশে দায়ী, তা আমাদের অনেকেরই ধারণার বাইরে৷ তাই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারে সবাইকে আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন৷

বরফ আচ্ছাদন কমে যাচ্ছে, মেরু অঞ্চলীয় ভালুক বিলুপ্তপ্রায়, হিমবাহ কমে যাচ্ছে, আবহাওয়ার খেয়ালী আচরণ দৃশ্যমান, সবকিছুই বিশ্বপ্রকৃতির উষ্ণতার চিহ্ন বহন করছে৷ অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও শিল্পস্থাপনাগুলোর মালিকরা এ ব্যাপারে নির্বিকার৷

ব্যাপক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, এমন প্রযুক্তিপণ্যের মাধ্যমে বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস৷ এমনকি আমাদের সাধারণ ব্যবহারের আইসিটিপণ্য যেমন ডিভিডি প্লেয়ার, কমপিউটার বা টিভি ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে৷ এগুলো থেকেও নিগর্ত হচ্ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড৷ এসব পণ্য স্লিপ বা স্ট্যান্ডবাই মোডেও বিদ্যুৎ খরচ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ছড়ায়৷ তাই এসব পণ্য ব্যবহারকারীদের জন্য ছাড়পত্রযুক্ত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারে তাগিদটুকু স্বাভাবিকভাবে এসে যায়৷ এজন্য ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন যথার্থ সচেতনতা৷ সেদিকটি বিবেচনা রেখেই এখানে মূলত আলোকপাত করা হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ডিভাইস কিভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ে ভূমিকা রাখছে তার ওপর৷ পাশাপাশি উল্লিখিত হয়েছে এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় অবলম্বনগুলোও৷

কমপিউটারের ব্যবহার প্রতিদিনই অব্যাহতভাবে বাড়ছে৷ এর ফলে ব্যাপকভাবে বাড়ছে বিদ্যুত্তের ব্যবহারও৷ ফলে পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে৷ অবশ্য এজন্য কমপিউটারের ব্যবহার কমাতে হবে, তারও কোনো যুক্তি নেই৷ এক্ষেত্রে আমাদের উচিত বিদ্যুত্সাশ্রয়ী কমপিউটার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা৷

এক গবেষণায় দেখা গেছে, পার্সোনাল কমপিউটার বেশিরভাগ সময়ই ব্যবহার হয় না৷ অথচ অপ্রয়োজনে তা অন করা থাকলেও তা ব্যাপক বিদ্যুৎ খরচ করে৷ অপ্রয়োজনে কমপিউটার বা লাইট জ্বালিয়ে রাখলে বিদ্যুৎ শক্তি শুধু অপচয় হয় তা নয়, সেই সাথে সালফার ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বায়ুদূষণ করছে৷ এর ফলে অম্লবৃষ্টি ও বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে দ্রুতগতিতে৷ পাশাপাশি আমরা আক্রান্ত হচ্ছি শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে৷

কমপিউটার যেভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে

বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত এক বিষয় হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নিরূপণ করা৷ আমরা অনেকেই অসচেতনভাবে যেখানে-সেখানে ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বায়ুতে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের মাত্রা বাড়িয়ে তুলছি৷ পিসি, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে, এমনকি যখন এগুলো স্ট্যান্ডবাই মোডে বা স্লিপ মোডে থাকে৷

জার্মান ফেডারেল এনভায়রনমেন্ট অফিসের গবেষণা রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ইলেকট্রনিক ডিভাইস স্ট্যান্ডবাই মোডে থেকেই প্রতিবছর ১৭০০ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷ এ সময়ে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইডও নির্গত হয়৷ স্লিপিং ডিভাইস থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইরে পরিমাণ হচ্ছে অটোমোবাইল থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইডের প্রায় ৭ ভাগের ১ ভাগ৷

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানাগুলোও তাদের ইলেকট্রনিক পণ্য ডিজাইনের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে তেমন সচেতন নয়৷ ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে তাদের পণ্যের জন্য শাট অফ বাটনটি তৈরি করে না৷ ডিভিডি প্লেয়ার, ডিভিডি রেকর্ডার অথবা মাল্টিফাংশনাল প্রিন্টারগুলো অবিরতভাবে বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে, শুধু অফ বাটন না থাকার কারণে। যদি রিমোটে পাওয়ার অফ চাপা হয়, তাহরে এই যন্ত্রগুলো স্ট্যান্ডবাই মোডে চলে যায়৷

এ অবস্থাটি পিসির ক্ষেত্রে আরো ভয়ঙ্কর৷ উইন্ডোজ ভিসতা কখনই পিসিকে পুরোপুরি শাটডাউন বা পাওয়ার অফ করে না৷ এর ডিফল্ট শাটডাউন মোডটি গভীর স্লিপ মোড, তখনো এর জন্য দরকার হয় বিদ্যুৎ৷ পিসির প্রধান পাওয়ার সুইচ অফ করইে শুধু কমপিউটারের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকে৷ তাছাড়া উইন্ডোজ ভিসতার শাটডাউন অপশন, যেমন স্লিপ মোড অথবা উইন্ডোজ এক্সপির স্ট্যান্ডবাই মোড আমারেকে বিভ্রান্ত করে যে কমপিউটার এ মোডে খুবই সীমিত পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ করে৷ যা-ই হোক, এটি প্রমাণিত বিদ্যুত্সাশ্রয়ী মোডে এ ধরনের ডিভাইস ১২০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে৷

নিম্নমান

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি পণ্য কেনার কথা যারা ভাবছেন, তাদের উদ্দেশে কিছু পরামর্শ তুলে ধরতে চাই৷ প্রযুক্তি পণ্য প্রস্তুতকারক অনেক প্রতিষ্ঠান এখন তাদের পণ্যে লেবেল জুড়ে দেয়, যা দেখে ক্রেতারা তাত্ক্ষণিকভাবে পণ্যটি বিদ্যুত্সাশ্রয়ী কিনা, তা শনাক্ত করতে পারবেন৷ তাই অন্ধের মতো কোনো পণ্য কেনা উচিত হবে না৷ এসব গাইডলাইনের মধ্যে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে৷ ইউএসফেডারেল এনভায়রনমেন্ট অফিস-এ ১৯৯২ সাল থেকে পিসির মান নির্ধাররে কাজটি করে আসছে এনার্জি স্টার৷ ওয়েবসাইট www.energystar.gov.

কোনো কোনো মনোক্রোম লেজার প্রিন্টারের লাগানো লেভেল ঈঙ্গিত দেয়, স্ট্যান্ডবাই মোডে এ ডিভাইসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় ২০ ওয়াটের কম৷ অথচ ৫ ওয়াটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, এমন ধরনের অনেক ডিভাইস বাজারে যথেষ্ট রয়েছে৷ এসব ডিভাইসের ন্যুনতম আদর্শ মানের মাত্রা কেমন হওয়া উচিত, তা সবাই প্রত্যাশা করে৷

ইউরোপের গ্রুপ ফর এনার্জি এফিসিয়েন্ট অ্যাপ্লায়েন্স (GEEA)-এর রয়েছে কঠোর গাইডলাইন৷ ওয়েবসাইট www.efficient-appliances.org৷ এদের মতে, মনোক্রোম লেজার প্রিন্টারকে সার্টিফিকেশনের জন্য অবশ্যই স্ট্যান্ডবাই মোডে বিদ্যুতের ব্যবহার ১০ ওয়াটের কম হতে হবে৷ কিন্তু অনেকেই মনে করেন এটি আরো কম হওয়া উচিত৷ যেসব ডিভাইসে অন/অফ সুইচ রছে, সেখানে No Energy লোগো ব্যবহার করা যেতে পারে৷ এটি প্রকৃত অন/অফ সুইচ হিসেবে ব্যবহার হরে পারে, যা খুব সহজে এক্সেসযোগ্য, দৃশ্যমান এবং স্পষ্টভাবে লেভেল করা থাকতে হবে, এমন ধরনের উদ্যোগের প্রত্যাশা অনেকেরই আছে৷

পিসি সিস্টেম



দ্রুতগতির পিসি ও দ্রুতগতির গাড়ি এই দুইয়ের মধ্যে একটি বিষয় মিল আছে, আর তাহলো দ্রুতগতি৷ দ্রুতগতি মানেই হলো বেশি বিদ্যুত্তের ব্যবহার৷ গাড়ির জ্বলনাঙ্ক যখন বন্ধ থাকে, তখন জ্বালানি ব্যবহার হয় না৷ কিন্তু শাটডাউন করার পরও বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে থাকে৷ তাই পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে হবে৷

পিসির সফট মোডের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের ওপর নির্ভর করে৷ ভালো মানের এসএমপিএস এক ওয়াটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷ পক্ষান্তরে খারাপ মানের এসএমপিএস স্ট্যান্ডবাই মোডে ২০ ওয়াটের মতো ইলেকট্রিসিটি ব্যবহার করে৷ সুতরাং স্বাভাবিকভাবে বুঝা যাচ্ছে, মাল্টিওয়ে কানেক্টর বা মাস্টার সুইচসম্বলিত পাওয়ার স্ট্রিপ ব্যবহার করা উচিত, যাতে করে সুইচ অফ করলে মনিটর, প্রিন্টার এবং অন্যান্য পেরিফেরাল ডিভাইসগুলো একসাথে বন্ধ হয়৷

সবচেয়ে ভালো হয় প্রোগ্রামেবল মাস্টার স্লেভ ধরনের প্লাগ সকেট ব্যবহার করা৷ এক্ষেত্রে অন্যান্য ডিভাইস (স্লেভ) থাকবে সুইচ অন অথবা অফ অবস্থায় মাস্টার ডিভাইসসহ৷ এখানে মাস্টার ডিভাইস ব্যবহার করে ন্যুনতম ইলেকট্রিসিটি৷ এমন ব্যবস্থাপনায় পিসি স্ট্যান্ডবাই মোডে চলে যাবে মধ্যাহ্নভোজ বা বিরতির সময় এবং ব্যবহার করবে ৫ ওয়াট বিদ্যুৎ শক্তি৷ এসময় স্লেভ ডিভাইস যেমন প্রিন্টার বা মনিটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার অফ থাকবে৷

ডিভাইস যখন কাজ করতে থাকে অথবা স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে, তখনও বিদ্যুৎ শক্তি সংরক্ষণ করা যেতে পারে৷ উইন্ডোজের পাওয়ার সেভিং স্কিমের কনফিগার সেটিং করে মনিটর বা হার্ডডিস্কের সুইচ অফ করা যায় এবং পিসির স্ট্যান্ডবাই মোডকে সক্রিয় করা যায় নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য নিষ্ক্রিয় থাকার পর৷ উইন্ডোজ এক্সপির পাওয়ার সেভিং অপশন রয়েছে কন্ট্রোল প্যানেলে৷ আর উইন্ডোজ ভিসতায় এ অপশনটি রয়েছে কন্ট্রোল প্যানেলের Hardware and sound মেনুতে৷

কেউ ইচ্ছে করলে বায়োস সেটিংয়ে পরখ করে দেখতে পারেন৷ বেশিরভাগ পিসিতে বিদ্যুৎ শক্তি সংরক্ষণের জন্য বায়োস অপটিমাইজ করা থাকে না৷ বায়োসে এক্সেস করতে চাইলে পিসি চালু হবার সময় F1 বা Del কী চাপুন৷

যখন বায়োসে S3-mode (Suspend to RAM) সক্রিয় করা হয়, তখন স্ট্যান্ডবাই মোড অপটিমাইজ হয়৷ কনফিগারেশন সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যেমন ওপেন ফাইল এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রধান মেমরিতে স্টোর হয় যখন অন্যান্য কম্পোনেন্টের সুইচ অফ থাকে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য৷ এভাবে কমপিউটার চার থেকে আট সেকেন্ডের মধ্যে সক্রিয় হয় এবং স্লিপ মোডে মাত্র তিন ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে৷



পক্ষান্তরে বায়োসকে S4 মোডে সেট করা হলে কমপিউটারের সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ন্যুনতম ৬৫ ওয়াট বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হবে সর্বাধুনিক মডেলের প্রসেসরের জন্য৷ আর পুরনো পেন্টিয়াম ডি ভার্সনের জন্য প্রয়োজন হবে ন্যুনতম ১২০ ওয়াট, যদি কমপিউটারের অবস্থা সবচেয়ে ভালো হয়৷

এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো ও সাশ্রয়ী মোড হলো S3, যদি কেউ উইন্ডোজ কমপিউটারে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক্সেস করতে চায়৷ কমপিউটার সক্রিয় করলে নেটওয়ার্ক কার্ডের ডিভাইস ম্যানেজারের Energy options-এর স্ট্যান্ডবাই মোডেও এ ডিভাইস সক্রিয় হতে পারে৷ উইন্ডোজের এনার্জি অপশনে স্ট্যান্ডবাই মোড সক্রিয় করলে অন্য আরেকটি ডিভাইসের মাধ্যমে পিসিতে এক্সেস করা যায়৷ যেমন এক্সবক্স ৩৬০-এ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক্সেস করতে পারবেন৷

নোটবুক



বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহারের আলোকে বলা যায়, ডেস্কটপ পিসির চেয়ে নোটবুক বেশি নমনীয় ও পরিশীলিত৷ নোটবুক ব্যাটারির গড় আয়ু দুই ঘণ্টা৷ সুতরাং যারা দীর্ঘক্ষণ প্লাগ থেকে দূরে কাজ করেন, তাদের জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ৷

যদি ব্যাটারির রানটাইম সর্বোচ্চ মাত্রায় পেতে চান, তাহলে আপনাকে এনার্জি এফিসিয়েন্ট কম্পোনেন্ট ব্যবহার করতে হবে৷ যেমন ডেস্কটপ প্রসেসর এএমডির এথলন ৬৪ x ২৫০০০ অথবা ইন্টেলের কোর টু ডুয়ো ই৬৪০০-এর জন্য দরকার সর্বোচ্চ ৬৫ ওয়াট৷ মোবাইল পিএসইউ বা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কাজ করে সর্বোচ্চ ৩৫ ওয়াটে৷ সুতরাং এক্ষেত্রে এনার্জি এফিসিয়েন্সির জন্য পিএসইউ গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর৷ কিছু কিছু পিএসইউ অপ্রয়োজনে ৭ ওয়াট তাপে রূপান্তর হয়৷ বাহ্যিক পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট যত বেশি উত্তপ্ত হবে, তত বেশি বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার হবে৷ এপলের ম্যাকবুক বা এসার মডেলের রয়েছে ইন্টেলিজেন্ট চার্জিং ইলেকট্রনিক, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ ০.১ ওয়াটের নিচে নামিয়ে আনে ব্যাটারি চার্জের পরে৷ স্যামসাংয়ের কিউ ১০-এর ক্ষেত্রে এই ভ্যালু ৩.০ ওয়াটের কম৷

প্রিন্টার ও মাল্টিফাংশনাল ডিভাইস



সাধারণত কালার লেজার প্রিন্টারের চেয়ে মনোক্রোম লেজার প্রিন্টারের জন্য কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়৷ স্ট্যান্ডবাই মোডের জন্যও এ ব্যাপারটি সত্য৷ কালার লেজার প্রিন্টার যখন স্লিপ মোডের পরিবর্তে স্ট্যান্ডবাই মোডে যায়, তখন বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷

স্ট্যান্ডবাই মোডে সব কালার লেজার প্রিন্টারের জন্য দরকার হয় ১০ ওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ৷ বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য প্রিন্টার ড্রাইভার সেটিং চেক করে দেখুন৷ আমাদের অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, প্রিন্টারের অপারেশন আবার শুরু হতে বেশি সময় লাগে৷ প্রায় সব ডিভাইস স্ট্যান্ডবাই মোড থেকে যে গতিতে সক্রিয় হয়, ঠিক একই গতিতে স্লিপ মোড থেকেও সক্রিয় হয়৷

ইঙ্কজেড প্রিন্টার অধিকতর কম বিদ্যুৎ খরচ করে৷ এ ধরনের অনেক মডেল রয়েছে যেগুলো স্ট্যান্ডবাই মোডে তিন ওয়াটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷

কমিউনিকেশন ও নেটওয়ার্ক

W-LAN রাউটার, ডিএসএল মডেম ও ডিইসিটি টেলিফোনের কোনো স্ট্যান্ডবাই মোড নেই, যদিও এগুলো সবসময় অপারেশনের জন্য প্রস্তুত থাকে৷ তবে এসব ডিভাইসে যাতে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় সেদিকে নজর দিতে হবে, কেননা এগুলো সব সময় অন থাকে৷

ব্যয়সাশ্রয়ী তথ্য : W-LAN রাউটার (মডেমসহ/মডেম ছাড়া) যেমন নেটগিয়ার ট্রেন্ডেন্ট, ইউএস রোবটিক্স ও জিজেল-এর জন্য দরকার ন্যুনতম ২ ওয়াট ইলেকিট্রিসিটি যখন এগুলো ডাটা প্রবাহ করে না৷

এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক

ডেস্কটপ ও নোটবুক কমপিউটারের জন্য ব্যাকআপ মিডিয়া হিসেবে ৩.৫ ইঞ্চি এক্সটারনাল হার্ডডিস্কের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ছে৷ এগুলো ব্যবহার হচ্ছে সিস্টেম স্টোরেজ হিসেবে৷ এ ডিভাইসগুলো অবিরতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে থাকে, এমনকি যখন কোনো কিছু রিড বা রাইট করে না, তখনও৷

ব্যবহৃত হার্ডডিস্কের মাত্র কয়েকটি মডেলের কার্যকর পাওয়ার সেভিং মেকানিজম রয়েছে৷ লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, বেশিরভাগ ডিভাইসের পাওয়ার বাটন নেই৷ সাড়ে ৩ ইঞ্চির হার্ডডিস্কের জন্য দরকার ১২ ভোল্ট এবং এগুলোর জন্য এক্সটারনাল পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট থাকে৷ আড়াই ইঞ্চির হার্ডড্রাইভের জন্য দরকার মাত্র ৫ ভোল্ট এবং এগুলো ইউএসবি ক্যাবলের মাধ্যমে পিসি থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করে, যেহেতু এগুলো পিসির পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করে, তাই আড়াই ইঞ্চির ড্রাইভগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুইচ অফ হবে, যখন পিসি শাটডাউন করা হয়৷ হার্ডডিস্ক প্রস্তুতকারকরা ডিভাইসে এমন ফিচার সম্পৃক্ত করছে, যাতে আইডল মোডে আরপিএম কম বিদ্যুৎ খরচ করে৷

ডিভিডি ও ভিডিও

পুরনো ডিভিডি প্লেয়ার ও রেকর্ডার বেশ বিদ্যুৎ খরচ করে৷ কোনো কোনো ডিভাইস স্ট্যান্ডবাই মোডে ২৫ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷ এগুলোর সুইচ অফ বাটনও নেই৷ এ ধররে বেশিরভাগ ডিভাইসের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যেতে পারে কিছু সাধারণ কৌশল অবলম্বন করে৷ ডিভিডি রেকর্ডারের এইচএফ অ্যামপ্লিফায়ার স্ট্যান্ডবাই মোডে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷ অ্যামপ্লিফায়ার টেলিভিশনের জন্য ইনকামিং এন্টেনা সিগন্যালকে রিফ্রেশ করে, যা এন্টেনা ক্যাবলের সাথে সংযুক্ত থাকে৷ যদি টি-কানেক্টরের মাধ্যমে রেকর্ডার ও টেলিভিশনকে এন্টেনার সাথে যুক্ত করা হয়, তাহলে এই অ্যামপ্লিফিকেশন রেন্ডার অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে৷ অনেক ডিভাইসে এমন কিছু অপশন রয়েছে, যা এইচএফ আউটপুটকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে পারে৷

মনিটর ও টেলিভিশন



মনিটরের সাথে একটি সফট-অফ বাটন রয়েছে, যা মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়৷ তারপরও বেশিরভাগ মডেলের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়ে থাকে ০.১ ওয়াটের চেয়ে কম৷ এগুলোর সাথে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট৷ যদি আপনি পুরনো টিএফটি ডিভাইস ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে বেশি বিদ্যুৎ দরকার হবে৷

এলসিডি মনিটরের ডিসপ্লে অফ থাকলেও এক্সটারনাল পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট থেকে যথেষ্ট পরিমাণে তাপ শোষণ করে৷ এলসিডি মনিটর স্ট্যান্ডবাই মোডে ১০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷ একইভাবে এলসিডি টিভিও একই পরিমাণের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷ তবে টিউবভিত্তিক ডিসপ্লের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন৷ এ ধরনের টিভির জন্য দরকার তিনগুণ বিদ্যুৎ৷ অর্থাৎ স্ট্যান্ডবাই মোডের জন্য দরকার ৩০ ওয়াট৷ পক্ষান্তরে মনিটরের জন্য দরকার হয় ১০ ওয়াট৷ প্লাজমা টেলিভিশন প্রোগ্রামে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, তবে যখন অপারেশনে থাকে তখন৷ এগুলো বিস্ময়করভাবে স্ট্যান্ডবাই মোডে মিতব্যয়ী৷ উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৪০ ইঞ্চির ডিভাইস যখন কার্যকর অবস্থায় থাকে, তখন ৩০০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷ পক্ষান্তরে স্ট্যান্ডবাই মোডে মাত্র ২০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে৷

ই-বর্জ্য

ইলেকট্রনিক্স ওয়াস্ট বা ই-ওয়াস্টের বাংলা হচ্ছে ই-বর্জ্য৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে কমপিউটার এবং প্রিন্টারসহ নানা ইলেকট্রনিক পণ্য গ্রাহকরা ঘন ঘন পরিবর্তন করে৷ একটু মডেল পুরনো হলেই সেগুলো এরা আর ব্যবহার না করে ফেলে রাখে গ্যারেজ বা অন্য কোথাও৷ পরিবেশের জন্য এগুলো হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ৷ কখনো কখনো উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে এই বর্জ্য স্তূপ করে ফেলে দেয়া হয় গরিব দেশগুলোতে বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে৷ ধনীদের ফেলে দেয়া এই সব বর্জ্য গরিব দেশে মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে৷ জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ইউএনইপি প্রধান অ্যাকহিম স্টেইনার এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন৷ তাদের হিসাব অনুযায়ী বছরে অন্তত ৫ কোটি টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে৷ এই বর্জ্য যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করা না যায়, তাহলে সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য এবং ভারি ধাতব পদার্থ পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ ঘটাবে৷

ই-বর্জ্যে যেসব মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে সেগুলো হলো : সীসা, আর্সেনিক, অ্যান্টিমনি ট্রাইঅক্সাইড, পলিব্রোমিনেটেড ফ্লেম রিটারডেন্টস, সেলেনিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, কোবল্ট ও মার্কারি৷

অ্যাকহিম স্টেইনার বলেছেন, প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং নিত্যনতুন মডেলের কমপিউটার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বাজারে আসছে, তাতে করে ভবিষ্যতে এই ই-বর্জ্যের পরিমাণ যে বহুগুণ বেড়ে যাবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই৷ এই সব বর্জ্যের একটা বড় অংশ যাচ্ছে ভারত ও চীনসহ এশিয়ার দেশগুলোতে৷ তবে সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে আফ্রিকায়৷ সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, শুধু নাইজিরিয়ার পোর্ট অব লাগোসেই প্রতিমাসে অন্তত ১ লাখ কমপিউটার যায়৷ এগুলোর সবই যদি ভালো হতো, তাহলে দেশের উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতো৷ কিন্তু এর ৭৫ শতাংশই বর্জ্য৷ এগুলো যদি পুড়িয়ে ফেলা হয়, তাহলে মারাত্মক দূষিত গ্যাস তৈরি হয়ে পরিবেশ দূষণ করবে৷ ব্যারিয়াম ও মার্কারি ক্ষতি করবে মাটির৷

ই-বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে পুরনো কমপিউটার, টেলিভিশন, ভিসিআর, স্টেরিও, কপিয়ার এবং ফ্যাক্স মেশিন৷ এগুলোর বেশিরভাগকেই পুনর্ব্যবহার ও সংস্কার করা সম্ভব৷ বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ইলেকট্রনিক ওয়াস্ট রিসাইক্লিং অ্যাক্ট৷ তারপরও কাজ হচ্ছে না৷ কী করা হবে, এ ব্যাপারে অনিশ্চয়তা থাকায় পুরনো অন্তত ৭৫ শতাংশ ইলেকট্রনিক পণ্য গোদামঘরে পড়ে থাকে৷ এর পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে৷

বিভিন্ন দেশের ই-বর্জ্য পরিস্থিতি

ভারত :

২০১২ সাল নাগাদ ভারতে প্রতিদিন ই-বর্জ্য উত্পাদন হবে ৮ হাজার ৮০০ টন৷ টক্সিন লাইনের সহযোগী পরিচালক সতীশ সিনহা বলেছেন, কোনো ইলেকটনিক ডিভাইস যদি আপনি আর ব্যবহার না করেন, তাহলে সেটাই হবে ই-বর্জ্য৷ এই সব বর্জ্যে রয়েছে মারাত্মক ক্ষতিকারক উপাদান৷ তাই এগুলো ফেলে দেয়ার ক্ষেত্রে অবলম্বন করতে হয় অতি সতর্কতা৷ এটি করা না হলে, তা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য বয়ে আনবে মারাত্মক বিপর্যয়৷

চিপে ব্যবহৃত ক্যাডমিয়াম ক্ষতি করে কিডনির৷ মার্কারি মস্তিষ্কের কোষের জন্য ক্ষতিকর৷ কমপিউটারের বডি তৈরিতে ব্যবহৃত ব্রোমিনেটেড ফ্লেম রিটারডেন্ট প্লাস্টিক ধবংস করে মানবদেহের ডিএনএ৷ এছাড়া সীসাসহ অন্যান্য উপাদানের ক্ষতিকরার সীমাও অনেক৷ ভারতে দুইভাবে ই-বর্জ্য আসছে৷ একটি অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে এবং অপরটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে৷ ভারত ব্রাসেল কনভেনশনে স্বাক্ষরদাতা দেশ হওয়া সত্ত্বেও এমনটি হচ্ছে৷ ওই কনভেনশন অনুযায়ী উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতে পুরনো মনিটর, মাদারবোর্ড এবং এমপি থ্রি প্লেয়ার ডাম্পিং হচ্ছে৷ এখন অভ্যন্তরীণ বাজারের ই-বর্জ্যও মারাত্মক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে৷

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের টক্সিক ক্যাম্পেইনের দলনেতা রমাপতি কুমার বলেছেন, জার্মান সরকারের মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ জিটিজেড-এর এক নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে প্রতি বছর ৩ দশমিক ৩ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে৷ এর আগের উপাত্তে বলা হয়, এখানে প্রতিদিন ৮০০ টন ই-বর্জ্য হচ্ছে৷ এসব ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর উপাদান ভূ-পৃষ্ঠের পানি এবং মাটিকে নষ্ট করে দিচ্ছে৷ দেশটিতে মাত্র ৪/৫টি অনুমোদিত ই-ওয়াস্ট ডিলার রয়েছে৷ এরা সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন মাত্র ১০ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম৷ তারপরই শেষ নয়৷ চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য ওই সব বর্জ্যের একটা বড় অংশ তাদের পাঠাতে হয় ব্রাসেলস-এ৷

ভারত অতীতে কম ক্ষতিকর উপাদনসমৃদ্ধ পণ্য আমদানি করতো৷ কিন্তু গত ১০-১৫ বছর ধরে এরা কমপিউটার স্ক্র্যাপ আনছে৷ স্ক্র্যাপ মার্কেটে একটি রঙিন মনিটর পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার রুপিতে, সাদা-কালো মনিটরের দাম তার অর্ধেক৷ যেসব মনিটর এখনো কার্যকর রয়েছে সেগুলো বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে স্থানীয় টেলিভিশন উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে৷ যেগুলো মোটেই কাজ করে না সেগুলো ভেঙ্গে বের করে আনা হয় কপার, সীসা এবং অন্য উপাদান, যা পুনঃ ব্যবহার হতে পারে৷ এই মনিটর ভাঙ্গার সময় যখন স্ক্রিনটি গুঁড়িয়ে যায় তখন সীসাযুক্ত ধুলা প্রবেশ করে শ্রমিক-কর্মীদের ফুসফুসে৷ এটা তাদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে৷

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ ই-বর্জ্য থেকে গ্লাস বের করে আনার জন্য প্রসিদ্ধ৷ মিরাটে সার্কিট থেকে বের করে আনা হয় স্বর্ণ৷ দিল্লি প্রসিদ্ধ সব ধরনের ডিভাইস থেকে কপার বের করার জন্য৷ এই বের করে আনার প্রক্রিয়া শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয়৷

সতীশ সিনহা বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটছে৷ এ ব্যাপারে বহু কাজের পরিপ্রেক্ষিতে এখন দেশের বাজারের অন্তত ৮০ শতাংশ ইলেকট্রনিক পণ্য আরওএইচএস মেনে চলে৷ তবে এ ব্যাপারে আরো সচেতনতা প্রয়োজন৷ রমাপতি কুমার মনে করেন, গ্রাহকদের পরিবেশবান্ধব পণ্য সম্পর্কে আরো জানতে হবে৷ উত্পাদনকারীদের সে ধরনের পণ্য উত্পাদনে বাধ্য করতে হবে৷

ইলেকট্রনিক ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া বলেছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী ২০১২ সাল নাগাদ ভারতে প্রতিদিন ৮ হাজার ৮০০ টন বর্জ্য উত্পাদন হবে৷ এগুলোর যদি যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে পরিবেশ ও মানব বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে পড়বে৷

যুক্তরাষ্ট্র :

মার্কিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির হিসেব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হওয়া কমপিউটারের তিন-চতুর্থাংশ স্তূপ হয়ে আছে গ্যারেজ এবং ঘরের স্টোররুমে৷ এগুলো ফেলে দেয়ার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না৷ সম্প্রতি কিছু পুরনো কমপিউটার যাচ্ছে এশিয়ায়৷ ২০০০ সালে দেশটিতে ই-বর্জ্য উত্পাদন হয় ৪৬ লাখ টন৷ যেসব খালি জায়গায় এগুলো ফেলা হয়েছে সে অঞ্চলের মানুষ এবং পরিবেশ দূষণের কবলে পড়েছে৷ বহু ইউরোপীয় দেশে খালি জায়গায় ই-বর্জ্য ডাম্প করার ওপর কড়াকড়ি রয়েছে৷ কারণ, এসব বর্জ্যে থাকে ক্ষতিকারক উপাদান৷ এর মধ্যে রয়েছে সীসা, ক্যাডমিয়াম ও মার্কারি, যা বাতাসে মিশে যায়৷

পুনর্ব্যবহার, রিসাইক্লিং এবং রফতানির মাধ্যমে ই-বর্জ্যের হাত থেকে রক্ষার পাওয়ার চেষ্টা করছে দেশটি৷ তবে অভিযোগ রয়েছে রিসাইক্লিংয়ের জন্য সংগৃহীত ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ ই-বর্জ্য তারা রফতানি করে দিচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে৷ তাদের কাছে এই ব্যবস্থা বৈধ৷ কারণ, এরা ব্রাসেল কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি৷ ২০০১ সালে তাদের পুরনো বাজেয়াপ্ত কমপিউটারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি৷

যুক্তরাজ্য :

নতুন ই-বর্জ্য আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন৷ সেখানের আরো ৭টি দেশকে এ ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে৷ তাদেরকে ওয়াস্ট ইলেকট্রনিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইক্যুইপমেন্ট (ডব্লিউইইই)নির্দেশনামেনে চলতে বলা হয়েছে৷ ২০০২ সালে ইসি ওই আইন পাস করে৷ ইসি চায় পুরনো টেলিভিশন, পিসি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ, রিসাইকেল এবং পুনর্ব্যবহার করা হোক৷ এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কমপিউটার পুনর্ব্যবহার এবং রিসাইক্লিং বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান আরডিসি বলেছে, এরা কমপিউটার রিসাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে৷ তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে কমপিউটারের কোনো অংশই ফেলে দিতে হবে না, সবই পুনর্ব্যবহার করা যাবে৷

পাকিস্তান :

পাকিস্তানে ই-বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান আমদানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির পরিবেশবাদীরা৷ তারা বলছেন, পুরনো কমপিউটারের নামে যা আমদানি করা হচ্ছে, তা মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং দেশের হার্ডওয়্যার শিল্পকে ধবংস করে ছাড়বে৷ দেশে যেসব কমপিউটার আমদানি হয়, তা মূলত অকার্যকর এবং নষ্ট৷ ফলে এদের স্থান হয় খোলা আকাশের নিচে৷ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)-এর কান্ট্রি প্রতিনিধি সোহেল মালিক বলেছেন, পাকিস্তানে যেসব সেকেন্ডহ্যান্ড কমপিউটার আমদানি হচ্ছে, তা দেশটিতে প্রতিদিন যোগ করছে ৫০ হাজার টন সলিড বর্জ্য৷ ইন্টেল পাকিস্তানের কান্ট্রি ম্যানেজার আজাহার এইচ জাইদি বলেন, নতুন কমপিউটারের দাম কম হওয়া সত্ত্বেও এখানে প্রতিবছর ৫ লাখ সেকেন্ডহ্যান্ড পিসি বিক্রি হয়৷ সচেতনতার অভাবেই এমনটি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন৷ নতুন কমপিউটারের সুবিধা সম্পর্কে তারা জানে না৷ সফটওয়্যার টেকনোলজিসের সিইও খুশনুদ আফতাব বলেছেন, এখানের ক্রেতারা ইচ্ছে হলেই সর্বনিম্ন ১১ হাজার রুপিতে একটি ব্র্যান্ড নতুন কমপিউটার কিনতে পারে, যার মাসিক কিস্তি ৩৫০ রুপি৷ ৩ বছরের ওয়ারেন্টিও পাবে এরা৷ অথচ একটি সেকেন্ডহ্যান্ড পেন্টিয়াম ৪ কমপিউটার এরা কিনছে ১০ হাজার রুপি দিয়ে, যার কোনো ওয়ারেন্টি নেই৷

শ্রীলঙ্কা :

শ্রীলঙ্কার শীর্ষ সেলফোন কোম্পানি ডায়ালগ টেলিকম ১০ লাখ পুরনো ফোন সংগ্রহ এবং তা রিসাইকেল করার উদ্যোগ নিয়েছে৷ তারা বলছে, এর ফলে পরিবেশ দূষণ রোধ হবে৷ ফেনের ব্যাটারিতে রয়েছে সীসা, নিকেল এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারি ধাতু৷ এগুলো পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর৷ দেশটির পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তারা ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে৷ সেন্ট্রাল এনভায়রনমেন্ট অথরিটির (সিইএ)চেয়ারম্যানতিলক রানাভিরাজা বলেছেন, ই-বর্জ্য ডাম্প করার জন্য শ্রীলঙ্কা ক্রমেই হয়ে উঠছে একটি জনপ্রিয় স্থান৷ নিজ দেশে ডাম্প করতে পারছে না এমন নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক্স পণ্য ডাম্প করা হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে৷ কখনো কখনো এই সব নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বা পণ্যের অংশ উত্পাদনকারীরা দিচ্ছে বিনা পয়সায়৷ ফলে এগুলো সংগ্রহ করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে স্থানীয় আমদানিকারকরা৷ এতে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে৷ নতুন আইনের মাধ্যমে এ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে৷

চীন :

২০০০ সালে চীন সরকার ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে৷ এর লক্ষ্য ছিল মানবদেহ এবং পরিবেশের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা৷ কিন্তু এর পরে দেখা গেছে, সেই নিষেধাজ্ঞায় কাজ হয়নি৷ দেশটির গুয়াংডন প্রদেশের গুইয়ায় ক্রমাগত আসছে ই-বর্জ্য৷ এই প্রদেশটিই চীনের ই-বর্জ্য স্ক্র্যাপিংয়ের প্রধান কেন্দ্র৷ দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপ এবং জাপান থেকে প্রচুর ই-বর্জ্য আসছে৷ শিশুসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ ওইসব ই-বর্জ্য থেকে যন্ত্রাংশ আলাদা করার পেশায় জড়িত৷ যথাযথ প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিক জ্ঞান না থাকায় ওই সব বর্জ্য পানি-মাটি দূষিত এবং স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করছে৷

হংকং :

হংকং-এ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পুরনো কমপিউটার ফেলে দেয়া হয় খোলা জায়গায়৷ এটি মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে৷

দক্ষিণ আফ্রিকা :

পরিবেশ দূষণ ও মানব বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে দক্ষিণ আফ্রিকায় গত মাসেই গঠিত হয়েছে ই-ওয়াস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ আফ্রিকা (ইডব্লিউএএসএ)৷ এরা একটি কার্যকর ও যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি তৈরি করবে৷ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশটিতে ই-বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের উদ্যোগও নিয়েছে৷

১৯৯০-এর দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র স্থাপন করে ই-ওয়াস্ট রিসাইক্লিং সিস্টেম৷ কিন্তু বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেরই এই বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য রিসাইকল করার মতো সামর্থ্য নেই৷ ফলে এরা নিজেরা পরিবেশ দূষণ ও মান বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সেই সব ই-বর্জ্য রফতানি করে দিচ্ছে৷ যেহেতু ওই সব দেশে পরিবেশ ও শ্রমিক-কর্মীদের সুরক্ষার জন্য কোনো আইনকানুন নেই বা থাকলেও প্রয়োগ নেই, তাই ই-বর্জ্যের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকছে৷ ওই সব দেশে রিসাইক্লিংও স্বল্প খরচে করা যায়৷ চীনে কমপিউটার মনিটরের গ্লাস রিসাইক্লিং করতে যে অর্থ ব্যয় হয় তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি ব্যয় হয় যুক্তরাষ্ট্রে৷ এশিয়ায় স্ক্র্যাপের ব্যবসায় যারা করে, তারা যখন দেখতে পায় ই-বর্জ্যে মূল্যবান কপার, লোহা, সিলিকন, নিকেল ও স্বর্ণ পাওয়া যায়, তখন এরা সেই সব বর্জ্য আমদানি বাড়িয়ে দেয়৷

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর কোনো নীতি বা আইন রয়েছে কিনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলেও তা নিশ্চিতে হওয়া যায়নি৷ তবে বেশির ভাগ সূত্রই বলেছে, নেই৷ যদি তা না থাকে, তাহলে এখনি আমরা ই-বর্জ্য বিষয়ক নীতি প্রণয়ন দরকার৷

আরওএইচএস

রেসট্রিকশন অন হ্যাজারডাস সাবস্ট্যান্সেস ডিরেক্টিভ (RoHS) হচ্ছে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের একটি আইন৷ এ আইন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশে ছয়টি কম্পোন্টের উত্পাদন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে যেগুলো টক্সিক মেটেরিয়াল ব্যবহার করে৷ আরওএইচএস অনুযায়ী সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, হেক্সাভ্যালেন্ট, ক্রোমিয়াম, পলিব্রোমিনেটেড বাইফিনাইল এবং পলিব্রোমিনেটেড ফিনাইল ইথার ইত্যাদি ক্ষতিকর উপাদানকে আলাদা রাখতে হবে৷ ডিভাইসের কোনো অংশ যদি আরওএইচএস-এর নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়, তাহলে পুরো ডিভাইসটি ব্যর্থ হবে বা বাতিল হবে৷ বর্তমানে আরওএইচএস আট ক্যাটাগরি ডিভাইসে প্রয়োগ হচ্ছে৷ যেমন-বস্তু বা ছোট গৃহস্থালি ডিভাইস, আইটি ইক্যুইপমেন্ট, টেলিকমিউনিকেশন ইক্যুইপমেন্ট, লাইটিং ইক্যুইপমেন্ট, ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক টুল, খেলনা ও স্পার্টস ইক্যুইপমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় ডিসপেনসার৷ চিকিত্সার যন্ত্রপাতি, নজরদারির ও নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহারের যন্ত্রপাতিকে বর্তমানে আরওএইচএস-এর আইন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে৷ তবে ভবিষ্যতে এগুলো মেনে নেয়া হবে৷ বর্তমানে জগৎ খ্যাত অনেক বড় প্রতিষ্ঠান আরওএইচএস কমপ্লায়েন্ট ডিভাইস তৈরি করছে৷ এদের মধ্যে রয়েছে ইন্টেল এএমডি, এপলের আইপড, এইচপির হোম ও সার্ভার কমপিউটার, মটোরোলার ৠাজার ফোন ইত্যাদি।

ক্লাইমেট সেভারস কমপিউটিং ইনিশিয়েটিভ

ক্লাইমেট সেভারস কমপিউটিং ইনিশিয়েটিভ (CSCI) হলো কমপিউটার ও চিপ প্রস্তুতকারক, সরকারি এজেন্সি, কনজারভেশন অর্গানাইজেশন ও ব্যবহারকারীদের সমন্বিত উদ্যোগ৷ এদের লক্ষ্য হলো কমপিউটিং যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইডের নির্গতের মাত্রা কমিয়ে আনা৷

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় কমপিউটিং ইক্যুইপমেন্ট, কমপিউটার এবং সার্ভার পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি গ্রহণ করে তার অর্ধেকের বেশি অপচয় হয়৷ এই পাওয়ার নষ্ট হয় সিস্টেম থেকে বিতরণ হিসেবে৷ উপরন্তু এগুলোর জন্য দরকার হয় বাড়তি কুলিং যন্ত্র, যার জন্য ব্যবহার হয় আরো অনেক বেশি বিদ্যুৎ৷ গতানুগতিক বিদ্যুৎ উত্পাদন প্রক্রিয়ায় কমপিউটারসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি থেকে বর্জ্য হিসেবে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়, যা পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে৷

শুধু তাই নয় এরা কমপিউটার যন্ত্রাংশ উত্পাদন খরচ কমানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়৷ পণ্যের উত্পাদন খরচ কমানোর সাথে সাথে সংস্থাগুলো পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে৷

এ উদ্যোগ অল্প বিদ্যুৎ খরচ করে এমন ডিভাইসের ব্যাপকবিস্তারকে যেমন সমর্থন করছে, তেমনি নতুন এনার্জি এফিসিয়েন্ট প্রযুক্তি উন্নয়নে উত্সাহ দিচ্ছে৷ এর ফলে সিএসসিআই প্রযুক্তি পণ্যে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর জন্য আগামী চার বছরের জন্য এক রোডম্যাপ তৈরি করে৷ যদি এই রোডম্যাপকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়, তাহলে ২০১০ সালের মধ্যে বিদ্যুত্বাবদ খরচ ৫৫০ কোটি ডলার কমবে৷ শুধু তাই নয়, এর ফলে বছরে ৫ কোটি ৪০ লাখ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড কম নির্গত হবে, যা হবে প্রতি বছর রাস্তা থেকে চলমান ১ কোটি ১০ লাখ গাড়ি অপসারণ করার সমতুল্য।

কমপিউটিং ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত৷ যেমন গুগল, ইন্টেল, ডেল, এইচপি, আইবিএম, মাইক্রোসফট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইন্ড লাইফ ফান্ড৷ যেসব যন্ত্রাংশ সিএসসিআই উদ্যোগের চাহিদা মেটাতে পারে, সেসব যন্ত্রাংশ কিনে অথবা আপনার বর্তমান কমপিউটারকে পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে রূপান্তর করেও এই উদ্যোগে অবদান রাখতে পারবেন।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে এখন ভাবছে সবাই৷ এ বিশ্বকে রক্ষা করতে এই ভাবনার প্রয়োজন আছে৷ একই সাথে প্রয়োজন নানা উদ্যোগ৷ বিশ্বের বাঘা বাঘা আইটি কোম্পানি এ কাজে পিছিয়ে নেই৷ ইতোমধ্যেই এরা নিয়েছে পরিবেশবান্ধব নানা উদ্যোগ৷ এখানে কোম্পানির নামের শুরুর বর্ণক্রমানুসারে আলোকপাত করা হয়েছে সেসব উদ্যোগের কথা৷

এসার

পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অন্যান্য উপাদান তাদের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যে ব্যবহার না করার পরিবেশবান্ধব নীতি নিয়েছে এসার৷ কোম্পানিটি বলছে, বিশ্বব্যপী তাদের এই পরিবেশবান্ধব নীতির কারণেই তাদের পণ্য আরওএইচএস তথা রেস্ট্রিকশন অব হ্যাজার্ডাস সাবস্ট্যান্স-সমৃদ্ধ৷ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে এরা৷ তাদের দাবি, তাদের এল ৩১০ স্মল ফর্ম ফ্যাক্টর পিসি ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ কমাতে পারে৷ এছাড়া এসার পণ্যে থাকছে এসার ই-পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট টুল, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচটা আগেই কনফিগার করা যাবে, অথবা তৈরি করা যাবে নিজস্ব কাস্টমাইজড প্রোফাইল৷

এএমডি

আরওএইচএস-সমৃদ্ধ পণ্য তৈরি নিয়ে কাজ করছে এএমডি৷ এরা তাদের পণ্য সীসামুক্ত করার উপায় নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে৷ একই সাথে অন্যান্য কোম্পানি পরিবেশকদের সাথেও যোগাযোগ রাখছে, যারা ইতোমধ্যেই সীসামুক্ত পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে৷ এএমডি প্রথমে চাইছে সীসা ও টিনের বিকল্প চিহ্নিত করতে৷ এরপর এরা তাদের প্রযুক্তিকে সেদিকে নিয়ে যাবে৷ এ কোম্পানির প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যেই মাইক্রোপ্রসেসর ও চিপসেটে সীসার উপাদান কমানোর কারিগরি সমাধান উদ্ভাবন করেছেন৷

আসুস

একবিংশ শতাব্দীতে এসে পরিবেশ সচেতনতা যেভাবে বাড়ছে, তা থেকে দূরে নয় আসুস৷ যে কয়টি কমপিউটার কোম্পানি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে তার মধ্যে আসুস একটি৷ এরা ইতোমধ্যেই আরওএইচএস-সমৃদ্ধ প্রযুক্তি বাস্তবায়ন শুরু করেছে৷ এর ফলে পণ্যে সীসাভিত্তিক উপাদানের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে সম্পূর্ণ সীসামুক্ত উপাদান৷ কমে যাচ্ছে সীসার প্রয়োজনীয়তা৷ আসুস এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি বাস্তবায়নের কথা ভাবছে৷ একই সাথে এরা উদ্যোগ নিয়েছে পিসি রিসাইক্লিং বা পুনঃচক্রায়ন করারও৷ এর ফলে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ হবে৷ এরা এমন সিপিইউ উদ্ভোবন করেছে, যেখানে ব্যবহার হয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মাইক্রোপ্রসেসর৷ তাদের দাবি এই ইপিইউতে ৮০.২৩ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে৷ একটি একক ইপিইউ মাদারবোর্ডে বছরে সাশ্রয় হবে ৩৩ হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ এবং কমবে ২০.৭৪৩ কিলোগ্রাম কার্বন ডাইঅক্সাইড উদ্‌গিরণ৷ যদি এমন ১ কোটি মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হয়, তাহলে বছরে ২০৭ মেট্রিক কিলোটন কার্বন ডাইঅক্সাইট কমবে৷

ক্যানন

ক্যানন ইউএসএ পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদনের কথা ঘোষণা করেছে৷ এরা বলছে, এদের সাম্প্রতিক পরিবেশবান্ধব পিক্সমা, সেলফে এবং ইমেজ ক্লাস প্রিন্টার ও সলিউশনসমূহ জেনারেশনগ্রিন করপোরেট ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হবে৷ এসব পণ্যে থাকবে পেপার সেভিং প্রযুক্তি৷ পণ্যের প্যাকেজিং কম হবে৷ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবস্থা থাকবে এবং অব্যাহত থাকবে টোনার পুনঃব্যবহার কর্মসূচি৷ কালি মোড়কজাত করতে ব্যবহার হবে নেচারস্টোন পণ্য৷ এতে কাগজ ও অন্যান্য কাঁচামাল কম লাগবে৷ ফলে ৪৫ শতাংশ প্রাকৃতিক শক্তি কমবে, পেট্রোলিয়ামভিত্তিক প্লাস্টিক সাশ্রয় হবে ৬৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাসের উদ্‌গিরণ কমবে ৫০ শতাংশ ৷

ক্যাননের কনজ্যুমার ইমেজিং গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মহাব্যবস্থাপক ইউচি ইশিজুকা বলেছেন, পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির জন্য ক্যানন ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ বরাদ্দ ও মানবসম্পদ নিয়োগ করেছে৷

সিসকো

সিসকো বিশ্বাস করে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে টেকসই পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়৷ তাদের লক্ষ্য এমন অবস্থা তৈরি করা, যেখানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার হবে৷ ইতোমধ্যেই কোম্পানিটির নেয়া কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে কার্যকর শক্তিবিষয়ক ধারণার পুর্নমূল্যায়ন, পুনঃব্যবহার কর্মসূচি জোরদার, মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রভৃতি৷

ডি-লিঙ্ক

ডি-লিঙ্ক দাবি করেছে, এরা ২০০৬ সাল থেকেই পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদন করছে৷ তাদের গ্রিন ইথারনেট প্রযুক্তি ডেস্কটপের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে৷ ক্যাবল সংযোগ থাকলে কিংবা ডেস্কটপের সুইচ বন্ধ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যায়৷ কিন্তু গ্রিন ইথারনেট প্রযুক্তি সেই পোর্টকে স্লিপ মোডে রাখে৷ ফলে সেই পোর্টে আর বিদ্যুৎ খরচ কম হয়৷ তাছাড়া গ্রিন ইথারনেট প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ক্যাবলের দৈর্ঘ্য চিহ্নিত করে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এর ব্যবহার সর্বোচ্চ মাত্রায় সাযুজ্য করে৷

এপসন

এ কোম্পানি পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদনের ঘোষণা দিয়েছে৷ কোম্পানিটি বলছে, ২০৫০ সাল নাগাদ এরা কার্বন ডাইঅক্সাইড উদ্‌গিরণ ৯০ শতাংশ কমাবে৷ অন্য প্রিন্টার কোম্পানিগুলোকেও এই লক্ষ্য অর্জনের আহ্বান জানিয়েছে এরা৷ এপসন এর পণ্যের আকার, ওজন এবং যন্ত্রাংশের পরিমাণ কমিয়ে এর লক্ষ্যার্জনের পরিকল্পনা করেছে৷ তাদের পণ্যের বর্তমান কার্বন ডাইঅক্সাইড উদ্‌গিরণের পরিমাণ বছরে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন৷

গিগাবাইট

মাদারবোর্ড ও গ্রাফিক্স কার্ড নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গিগাবাইট পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদনে তাদের অঙ্গীকারের কথা ঘোষণা করেছে৷ এরা তাদের পণ্যে ব্যবহার করছে ডাইনামিক এনার্জি সেভার তথা ডিইএস৷ এর ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত৷ পণ্যের ক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে ২০ শতাংশ৷ প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে ইলেকট্রনিক পণ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমছে৷ গিগাবাইট চেষ্টা করছে বিদ্যুৎ খরচ আরো কমিয়ে আনতে৷ কয়েক বছর আগে থেকেই পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদন নিয়ে কাজ শুরু করে কোম্পানিটি৷ এরই পথ ধরে এরা তৈরি করে উঁচু মানের অল সলিড ক্যাপাসিটর ডিজাইনের মাদারবোর্ড৷ ২০০৫ সালে এটিই প্রথম আরওএইচএস-সমৃদ্ধ মাদারবোর্ড হিসেবে বাজারে আসে৷ এতে ব্যবহার হয় জনপ্রিয় ইন্টেল ৯৪৫পি এক্সপ্রেস চিপসেট৷ ২০০৬ সালে আসে গিগাবাইট আল্ট্রা ডুরেবল মাদারবোর্ড৷ ২০০৭-এ আসে আল্ট্রা ডুরেবল ২ সিরিজের মাদারবোর্ড৷ এতে ব্যবহার হয়েছে জাপানের পরিবেশবান্ধব সলিড ক্যাপাসিটর৷ চলতি বছর এরা পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদনের বেশকিছু কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে চলেছে৷

এইচপি

পরিবেশবান্ধব প্রিন্টার বাজারজাত করা শুরু করেছে হিউলেট প্যাকার্ড তথা এইচপি৷ তাদের গ্রিন এইচপি ডেস্কজেট ডি ২৫৪৫ প্রিন্টার প্রায় পুরোটাই তৈরি পুনঃব্যবহার্য্য প্লাস্টিক দিয়ে৷ প্রিন্টিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা যাতে কোনো ধরনের পরিবেশগত হুমকির মুখে বা প্রতিক্রিয়ায় না পড়ে, সেজন্য কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি৷ এর মধ্যে রয়েছে একটি এন্টারপ্রাইজ প্রিন্টিং অ্যাসেসমেন্ট সার্ভিস এবং একটি কার্বন ক্যালকুলেটর৷ এইচপির ইমেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং গ্রুপের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট উমেশ যোশি একথা বলেছেন৷ প্রিন্টিং অ্যাসেসমেন্ট সার্ভিস ক্রেতাদের বিদ্যুৎ খরচ, কাগজ ব্যবহার এবং কার্বণ উদ্‌গিরণের পরিমাণ নির্ধারণে সহায়তা করবে৷ একই সাথে বিদ্যুৎ ও কাগজ সাশ্রয় এবং পুনঃব্যবহারের বিষয়ে সুপারিশ করবে৷ ক্যালকুলেটর নির্ধারণ করবে প্রিন্টারের ক্ষমতা এবং কাগজের ব্যবহার ও কার্বনের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি৷ কোম্পানিটি ২০১০ সাল নাগাদ তার ইঙ্কজেট প্রিন্টারে পুনঃব্যবহার উপাদান বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে৷ এছাড়া ২০১১ সাল নাগাদ ইঙ্ক এবং লেজার প্রিন্টিং পণ্যের ক্ষমতা ৪০ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে তাদের৷

আইবিএম

আইবিএম বলেছে, এরা গত ৪০ বছর ধরেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্য উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে চলেছে৷ এ কাজে তাদের যুগান্তকারী আবিষ্কার হলো ব্লু জিন কমপিউটার৷ কিলোওয়াট প্রতি এ কমপিউটার সর্বোচ্চ পারফরমেন্স দেয়৷ অর্থাৎ সর্বোচ্চ পারফরমেন্স দিতে বিদ্যুৎ ব্যয় করে সবচেয়ে কম৷ মেইনফ্রেম কুলিং এফিসিয়েন্সি প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে এরা এটি করতে সক্ষম হয়েছে৷ কোম্পানিটি বলছে, এরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ অব্যাহত রাখবে৷ ইতোমধ্যেই এরা কুল ব্লু পোর্টাফোলিওতে যেসব উপাদান, যেমন-ডিভাইস, সার্কিট, চিপ, সিস্টেম আর্কিটেকচার এবং সফটওয়্যার ইত্যাদি ব্যবহার করছে, তা ডাটাসেন্টারের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে৷

ইন্টেল

ইন্টেল বলেছে, তাদের প্রসেসর এবং অন্যান্য উপাদান আরওএইচএস-সমৃদ্ধ৷ অর্থাৎ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু তাতে নেই৷ তারা ডব্লিউইইই নির্দেশনার আওতায় তাদের পণ্য আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে৷ গত বছর কোম্পানিটি ঘোষণা দেয়, তাদের ৪৫ এনএম সিপিইউ এবং ৬৫ এনএম চিপসেট পণ্য সীসামুক্ত৷ এখন ওইসব পণ্য সম্পূর্ণ সীসামুক্ত৷ এরা চলতি বছর ৪৫ এনএম সিপিইউ এবং ৬৫ এনএম চিপসেট পণ্য হ্যালোজিনমুক্ত প্যাকেজিংয়ের ঘোষণাও দিয়েছে৷ এছাড়াও ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ-এর সারে কাজ করছে ইন্টেল৷ যুক্তরাষ্ট্রের ইপিএ-র সাথে যৌথভাবে এরা এনার্জি স্টার স্ট্যান্ডার্ড তৈরিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং আইএপিসি পাওয়ার ম্যানেজমেন্টের উন্নয়ন ঘটিয়েছে৷

মাইক্রোসফট

ইলেকট্রনিক্স পণ্যের পুনঃব্যবহার, পুনরুদ্ধার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সমর্থন করে মাইক্রোসফট৷ এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া পরিবেশবান্ধব নির্দেশনা আরওএইচ এবং ডব্লিউইইই মেনে চলার বিষয়টিও রয়েছে৷ সরকারি সংস্থাসমূহ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করার পরিপ্রেক্ষিতে মাইক্রোসফট সাফল্যজনকভাবে ডব্লিউইইই পণ্য উত্পাদনে সক্ষম হয়েছে৷ এছাড়া এরা নতুন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি উত্পাদনে ডব্লিউইইই নির্দেশনা অনুসরণ করছে৷

ফিলিপস

ফিলিপস তার পণ্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে অনুসরণ করে তাদের টেকসই কার্যক্রম৷ এ ব্যাপারে তাদের কোনো আপোস নেই৷ আর এ কারণেই তাদের পণ্য হয় পরিবেশবান্ধব৷ পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান না থাকায় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এইসব পণ্য থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কম গ্যাসই বের হয়৷ ফিলিপসের পরিবেশবান্ধব সব পণ্যেই এখন থাকছে গ্রিন টিক লোগো৷ কোম্পানিটি টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে এবং পরিবেশবান্ধব বিষয়টি তার অংশীদার এবং সরবরাহকারীদের বুঝাচ্ছে৷

স্যামসাং

গ্রিন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জন্য গ্রিনপিস যে গাইডলাইন দিয়েছে, তা অনুসরণকারীদের শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং৷ এ কোম্পানির স্কোর ১০-এর মধ্যে ৭.৭৷ কোম্পানিটি নিজেদের সীসামুক্ত এবং আরওএইচএস-সমৃদ্ধ পণ্য প্রস্তুতকারী হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছে বলে দাবি করে৷ এরা বলছে, ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টরের তৈরি বর্তমান সব পণ্য আরওএইচএস-সমৃদ্ধ৷ ফলে কোম্পানিটি পরিবেশবান্ধব৷

তোশিবা

স্যামসাংয়ের পাশাপাশি গ্রিনপিসের গাইডলাইন অনুসরণে তোশিবাও শীর্ষে রয়েছে বলে তাদের দাবি৷ কোম্পানিটি বলছে, এরা পরিবেশবান্ধব নীতি অবলম্বন করছে৷ ফলে এখন থেকে তাদের সব পণ্যই হবে পরিবেশবান্ধব৷ পরিবেশের জন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান এরা তাদের পণ্যে ব্যবহার না করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ৷

জেরক্স

জেরক্স উদ্ভাবন করেছে সেলফ ইরেজিং পুনর্ব্যবহার্য কাগজ৷ এই কাগজে প্রিন্ট করলে তা মাত্র ১ দিন থাকে৷ এর পর আবার সেটি ব্যবহার করা যায়৷ তাদের কেমিক্যাল প্রোডাক্ট টোনার ইমালসন এগ্রিগেশন প্রচলিত টোনারের চেয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কম বিদ্যুতে প্রতিপৃষ্ঠা প্রিন্ট দেয়৷ এমব্রাইটলিং এজেন্ট বা ই-এজেন্ট টোনার ব্যবহারে ২২ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে৷ ২০০৭ সালে এরা বাজারে ছেড়েছে হাই ইয়েল্ড বিজনেস পেপার৷ কেমিক্যাল পালপিং দিয়ে এই কাগজ তৈরি৷ এটি উত্পাদনে পানি থেকে তৈরি বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে৷ এটি গ্রিন হাউস গ্যাস উদ্‌গিরণ ৭৫ শতাংশ কমায়।

শেষ কথা

এ লেখায় শুরুতে বলা হয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ে বাংলাদেশের এক বিরাট অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যাবে৷ অবশ্য এ নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে৷ বাংলাদেশ সমুদ্রের তলিয়ে যাবে কি যাবে না তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এ কমপিউটিংয়ে যে পরিবেশ বিপর্যয়ে যে ভূমিকা রাখছে সেব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই৷ কমপিউটার থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড যেমন পরিবেশের ক্ষতি করছে তেমনি কমপিউটারে ব্যবহার হওয়া বিভিন্ন কম্পোনেন্ট ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎও খরচ করছে৷ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কমপিউটারের ব্যবহার কমাতে হবে তারও কোনো যুক্তি নেই৷ আমাদের উচিত সেই সব কমপিউটার ও কমপিউটার সংশ্লিষ্ট যন্ত্র ব্যবহার করা, যেগুলো বিদ্যুত্শক্তি কম খরচ করে এবং পরিবেশ কম দুর্ষণ করে৷ তাই বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যগুলো যাতে আরওএইচএস-সমৃদ্ধ হয় সেদিকে নজর দিতে হবে৷ সেই সাথে অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত কমপিউটারগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানে রাখা উচিত৷ কেননা, এগুলো পরিবেশের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, বাংলাদেশে যত কমই কমপিউটার ব্যবহার হউক না কেনো, আমাদেরকে এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে পরিবেশ বিপর্যয় রোধের জন্য৷


ফিডব্যাক : mahmood_sw@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৮ - আগস্ট সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস