Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পিসির ঝুটঝামেলা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৩ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সমস্যা ও সমাধান
তথ্যসূত্র:
ট্রাবলশুটার টিম
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পিসির ঝুটঝামেলা
সমস্যা : আমার পিসির গ্রাফিক্স কার্ড বিল্ট-ইন। এটি পিসির র্যােম শেয়ার করে মোট মেমরি দেখায় ১৫৫৪ মেগাবাইট। কমপিউটারের কনফিগারেশন অনুযায়ী থ্রিডি ও গেমিং পারফরম্যান্স দেখায় ৬.৩। এর র্যােম ৪ গিগাবাইট। আগের প্রশ্নের সমাধানে আপনারা আমাকে ৩২ বিট উইন্ডোজের বদলে ৬৪ বিট উইন্ডোজ ব্যবহার করতে বলেছেন, যাতে আমি ৪ গিগাবাইট র্যা মের পুরোটা ব্যবহার করতে পারি। এখন আমার প্রশ্ন, আমি যদি ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমের বদলে ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি, তবে কি গ্রাফিক্স কার্ডের মেমরি ও পারফরম্যান্সের কোনো পরিবর্তন হবে?
-ইমরান হোসেন আতিক
সমাধান : ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত ৪ গিগাবাইট র্যা৪মের পুরোটা ব্যবহার করতে পারে। তাই যারা ৪ গিগাবাইট র্যামম বা তার বেশি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য উপযুক্ত হচ্ছে ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম। একটু ভালোভাবে চিন্তা করে দেখলেই প্রশ্নের সমাধান পেয়ে যাবেন। যখন ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতেন, তখন ৩ গিগাবাইটের কিছু বেশি র্যারম শো করত। তার চেয়ে কিছু অংশ গ্রাফিক্স কার্ড শেয়ার করত। যদি শেয়ার করার সময় তা ১ গিগাবাইট মেগাবাইট করে তবে র্যা ম ফাঁকা থাকে ২ গিগাবাইটের কিছু বেশি। যখন ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করবেন, তখন র্যা মের ৪ গিগাবাইট ব্যবহার করতে পারবেন। তখন ৪ গিগাবাইট থেকে আরও বেশি পরিমাণ মেমরি গ্রাফিক্স কার্ড শেয়ার করার সুযোগ পাবে এবং গেম খেলার সময় লোড পড়লে র্যা ম আরও বেশি ভালো সাপোর্ট দিতে পারবে। এতে গেমের ও অন্যান্য ভারি অ্যাপ্লিকেশনের পারফরম্যান্স বেড়ে যাবে। তাই নিশ্চিন্তে ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে পিসির পারফরম্যান্স বাড়িয়ে নিতে পারেন।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
সমস্যা : আমি মূলত একজন গেমার। আমার পিসির কনফিগারেশন হলো-ইন্টেল কোর আই থ্রি ৩.৩০ গিগাহার্টজ, ৪ গিগাবাইট ডিডিআর৩ র্যা ম, ১ গিগাবাইট ডিডিআর৩ এএমডি রাডেওন ৫৪৫০, এলজি ২১ ইঞ্চি এলইডি এলসিডি মনিটর ও ইন্টেল মাদারবোর্ড। আমি উইন্ডোজ ৭ প্রফেশনাল ব্যবহার করি। আমার দুই বন্ধুর কাছে প্রায় আমার পিসির কনফিগারেশনের পিসি আছে। একজনের এক্সট্রা গ্রাফিক্স কার্ড নেই, মনিটরের ১৯ ইঞ্চি এবং সে উইন্ডোজ ৭ আল্টিমেট ব্যবহার করে। সমস্যা হচ্ছে আমার পিসিতে কিছু গেম চলে, যা ওদের পিসিতে চলে। প্রথমে ভেবেছিলাম গেমের ডিস্কে সমস্যা, তাই এমনটা হচ্ছে। পরে একই ডিস্ক দিয়ে আমার বন্ধুদের পিসিতে ও আমার পিসিতে গেম ইনস্টল করে দেখলাম তাতেও কাজ হয় না। অ্যাসাসিন’স ক্রিড ৩ গেমটি চালু করলে স্টার্ট হয়ে গেম থেকে বের হয়ে আসে এবং পরে আবার পিসি রিস্টার্ট দিয়ে গেম রান করলে তা আর চলে না। এরর দেখায় এবং লেখা থাকে আনঅ্যাবল টু ওপেন ইউবিসফট গেম লাউঞ্চার। ক্রাইসিস ৩ গেমটি চালু করলে একই অবস্থা হয়। চালু হয়েই গেম থেকে বের হয়ে যায় এবং আর গেম রান করা যায় না। কিন্তু এ সমস্যা আমার বন্ধুদের পিসিতে হয় না। টাস্ক ম্যানেজার অন করে রাখলে প্রসেস লিস্ট থেকে তা চলে যায়। এমতাবস্থায় আমি কী করতে পারি?
-রাকিবুল হাসান রবিন
সমাধান : পিসি কনফিগারেশন উল্লেখ করার সময় আপনি মাদারবোর্ডের মডেল উলেস্নখ করেননি। অনেক মাদারবোর্ডে বেশ ভালোমানের বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স কার্ড দেয়া থাকে, যার ক্ষমতা আপনার এএমডি রাডেওন ৫৪৫০ গ্রাফিক্স কার্ডের চেয়েও বেশি। আপনার বন্ধুদের পিসির মাদারবোর্ড ও আপনার পিসির মাদারবোর্ড কী একই নাকি ভিন্ন তাও বোঝা যাচ্ছে না। অ্যাসাসিন’স ক্রিড ৩ ও ক্রাইসিস ৩ গেম দুটির কোনোটিই এএমডি রাডেওন ৫৪৫০ মডেলের গ্রাফিক্স কার্ড সাপোর্ট করে না। গেম দুটি চালানোর জন্য ভালোমানের গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন। প্রসেসর ও র্যাাম ভালো হলে অনেক সময় গেম রান করে, কিন্তু তা দিয়ে ভালোমতো এসব ভারি গেম চালানো যায় না। এতে সিস্টেমের ওপর চাপ পড়ে এবং পিসি বেশ গরম হয়ে যায়। পর্যাপ্ত কুলিং ব্যবস্থা ও পাওয়ার সাপ্লাই না থাকলে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গ্রাফিক্স কার্ডের ড্রাইভার, মাইক্রোসফট ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক ও ডিরেক্টএক্স আপডেটেড না থাকলে অনেক সময় গেম রান করতে সমস্যা হয়। নতুন গেমগুলো ভালোমতো খেলতে চাইলে ভালোমানের গ্রাফিক্স কার্ড কিনলে ভালো হয়। নিম্নমানের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করে হাই-এন্ড গেম খেলার চেষ্টা করে পিসির ওপর চাপ না ফেলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
সমস্যা : আমি গেম খেলতে খুব পছন্দ করি। কিন্তু পাওয়ারফুল পিসি নেই বলে অনেক গেম খেলতে পারি না। তাই আমার কমপিউটার আপগ্রেড করতে চাই। শুনেছি এএমডি এপিইউর দাম অনেক কম, তাই আমি এপিইউ কিনতে আগ্রহী। কিন্তু গেমের জন্য কোনটা ভালো হবে জানি না। এর জন্য কি আলাদা গ্রাফিক্স কার্ড লাগবে? আমি যদি ১২ হাজার টাকা বাজেট করি তাহলে কি গেম খেলার জন্য এপিইউ ও মাদারবোর্ড পাব? যদি না পাই তবে বাজেট কত হলে ভালো গেমিং সিস্টেম পাবো?
-শহীদুল ইসলাম
সমাধান : এএমডি এপিইউ হার্ডকোর গেমিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় না। মাঝারি মানের গেমিং এবং মাল্টিমিডিয়ার কাজে এপিইউ বেশ কার্যকর। এটি দামে সাশ্রয়ী এবং বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স কার্ড থাকায় আলাদা গ্রাফিক্স কার্ডের দরকার হয় না। আলাদা এএমডির গ্রাফিক্স কার্ড যদি লাগানো হয়, তবে তা এপিইউর সাথে থাকা জিপিইউর সাথে মিলে আরও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। বাজারে নতুন যে এপিইউ এসেছে এর মডেল হলো এ১০-৬৮০০কে, যার দাম ১৪৫০০ টাকা। ৪.১ গিগাহার্টজ গতির কোয়াড কোর প্রসেসরের সাথে রয়েছে রাডেওন এইচডি ৮৬৭০ডি মডেলের গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। এপিইউ গেম খেলার জন্য মোটামুটি ভালোই বলা চলে। এর সাথে কম বাজেটের মধ্যে নেয়া যেতে পারে এমএসআই এফএম২ সকেটের এএমডি এ৫৫ চিপসেটের মাদারবোর্ড, যার দাম ৫০০০ টাকা। যদি বাজেট বাড়ানো সম্ভব না হয় তবে এ৮-৬৬০০কে বা এ৪-৪০০০ মডেলের এপিইউ নিতে পারেন। বাজেট ১৯-২০ হাজার হলেই মোটামুটি ভালো একটি গেমিং পিসি বানাতে পারবেন। সাথে ৪ গিগাবাইট ১৬০০ মেগাহার্টজ ডিডিআর৩ র্যা ম ও ভালোমানের ৫০০-৬৫০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট হলে ভালো হয়।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
সমস্যা : আমার নতুন পিসির কনগিফারেশন কোর আই ফাইভ ৩৫৭০কে ৩.৪ গিগাহার্টজ প্রসেসর, আসুস পি৮জেড৭৭-ভি মাদারবোর্ড, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ১ টেরাবাইট ক্যাভিয়ার ব্ল্যাক হার্ডডিস্ক, কোরসায়ার ভেনজেন্স প্রো ১৬ (৮দ্ধ২) গিগাবাইট ১৬০০ মেগাহার্টজ র্যাসম, আসুস এনভিডিয়া জিটিএক্স ৫৬০ ১ গিগাবাইট জিডিডিআর৫ গ্রাফিক্স কার্ড, থার্মালটেক স্পেসক্রাফট ভিএফ ক্যাসিং, থার্মালটেক টাফ পাওয়ার ৬৫০ ওয়াট পাওয়ার সাপস্নাই। আমার পিসির পাওয়ার সাপ্লাইয়ের গায়ে লেখা এটি ৯৩ শতাংশ পর্যমত্ম পাওয়ার সাপস্নাই দিতে সক্ষম। আমার পিসির সাথে রহিম আফরোজের ১০০০ভিএ ইউপিএস আছে। এ ইউপিএসটি কি আমার পিসির ব্যাকআপ দিতে পারবে? যদি পারে তাহলে আনুমানিক কত সময়ের জন্য দিতে পারবে। যদি দিতে না পারে তবে এ পিসির জন্য কোন মানের ইউপিএস ব্যবহার করব? আমার পিসির মাদারবোর্ডে ওয়াই-ফাই গো নামের ফিচার আছে। এ ফিচারের কাজ কী বা এর সুবিধা কী? ৩৫৭০কে প্রসেসরে ৪টি কোর ও ৪টি থ্রেড রয়েছে। কোর ও থ্রেডের
মধ্যে পার্থক্য কী? থ্রেডের বিশেষত্ব কী?
-মুহাম্মদ আবদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা
সমাধান : পিসি ব্যবহারের ধরনের ওপর ব্যাকআপ কতক্ষণ দেবে তা নির্ভর করে। যদি পিসি নরমাল অবস্থায় থাকে তবে ব্যাকআপ বেশিক্ষণ দেবে। যদি গেম, এইচডি মুভি বা ভারি কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালানো থাকে তবে ব্যাকআপ টাইম কমে যাবে। আপনার পিসির কনফিগারেশন অনুযায়ী ১০০০ ভিএ ইউপিএস ৮ থেকে ১২ মিনিট ব্যাকআপ দেবে। ইউপিএস ব্যাকআপে পিসি না চালিয়ে কারেন্ট চলে যাওয়ার সাথে সাথে কমপিউটারের কাজগুলো সেভ করে নিন এবং শাটডাউন করে দিন। যদি আরও বেশি ব্যাকআপ পেতে চান তবে বেশি পাওয়ারের ইউপিএস ব্যবহার করতে হবে। আসুস মাদারবোর্ডের ওয়াইফাই গো ফিচারের সাথে দেয়া থাকে, যা অনেকটা বিল্ট-ইন রাউটারের মতো কাজ করে। স্মার্টফোনের সাহায্যে যেমন ওয়াইফাই হটস্পট করা যায়, তেমনি মাদারবোর্ডে থাকা এ ফিচারের সাহায্যে ডেস্কটপ পিসিকে ওয়াইফাই রাউটার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ওয়াইফাই গোর অনেক সুবিধা রয়েছে। ইউটিউবে আসুস ওয়াইফাই গো লিখে সার্চ করুন। সেখানে ভিডিওতে ওয়াইফাই গো কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, এটি দিয়ে কী কী করা যায় ও কী কী সুবিধা আছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পারবেন। প্রসেসরের কোর হচ্ছে ফিজিক্যাল প্রসেসর। ডুয়াল কোর প্রসেসরে দুটি কোর থাকে, যা দুটি প্রসেসরের মতো কাজ করে। একই সকেটের মধ্যে এবং একটি প্রসেসরের মধ্যে দুটি প্রসেসরের শক্তি দেয়া থাকে ডুয়াল কোর প্রসেসরে। কোয়াড কোর বলতে বোঝায় তাতে কোর আছে চারটি এবং তা চারটি প্রসেসরের সমান কাজ করার ক্ষমতা রাখে। কোরের সংখ্যা বেশি হলে পিসিতে অনেকগুলো প্রোগ্রাম একসাথে চালানো বা মাল্টিটাস্কিং করা যায় খুব সহজেই। থ্রেডের ব্যাখ্যা কিছুটা জটিল। থ্রেড হচ্ছে কোরগুলোর মাঝে যোগাযোগে সাহায্য করে। থ্রেড কাজগুলো কোরের মধ্যে সঠিকভাবে এবং দ্রুততার সাথে বণ্টন করে দেয়। ইন্টেলের হাইপার থ্রেডিং পদ্ধতি কোরের কার্যক্ষমতা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। ইন্টেলের নতুন প্রসেসরগুলোতে প্রতিটি কোরের জন্য দুটি করে থ্রেড রাখার ব্যবস্থা থাকায় প্রসেসরের কাজ সম্পাদন বা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আরও বেড়ে গেছে। কোর থ্রেড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে গুগলে সার্চ করে জেনে নিন।

ফিডব্যাক : jhutjhamela@comjagat.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস