Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ফ্রিল্যান্সিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মেহেদী হাসান
মোট লেখা:২৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ফ্রিল্যান্স
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ফ্রিল্যান্সিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
একটি সফল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনাকে সবসময় ডাক্তার হতে হবে না। ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী কিংবা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট না হতে পারলে আপনার জীবনটা নষ্টও হবে না। আপনি যে কাজটা ভালো পারেন সেটাই আপনার দক্ষতা। আর আপনার দক্ষতাই আপনার শক্তি। অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রগুলোর মূল নীতি অনেকটা এরকমই। অনলাইনে জমা দেয়া যায় এমন সব কাজই আজকাল এই জব মার্কেটপেস্নসগুলোতে পাওয়া যায়। কাজের জন্য আপনাকে ৯টা-৫টা অফিসে বসে থাকতে হবে কিংবা ছুটির দিন বা অফিসের সময়টুকু পার হলে কাজ করা যাবে না, এই ধারণাগুলোকে বদলে ফেলতে অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রগুলো তৈরি হয়েছে। এমনকি অন্যতম অনলাইন ওয়ার্কপেস্নস ওডেস্কের কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতি মঙ্গলবার তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে কাজ করেন।
বিদায়ী বছরটা ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য একটি মাইলফলকই বটে। অনেক অর্জনের খবর পেয়েছি আমরা যার কিছুটা এখানে জানানোর চেষ্টা করছি। ২০১৮ সালের মাঝে অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রটি ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বাজারে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট অনলাইন চাকরির বাজার ওডেস্ক প্রকাশ করেছে যে এরা ইতোমধ্যেই ১০০ কোটির মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছে। এদিকে ২০১৩ সালের অক্টোবরে ফ্রিল্যান্সার ডটকম জানায়, এদের ওয়েবসাইটে এ পর্যমত্ম ৫০ লাখ কাজ পোস্ট হয়েছে এবং চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ১ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে। শুধু ২০১৩ সালে ইল্যান্সে ১১ লাখ ৫৩ হাজার নতুন ফ্রিল্যান্সার যোগ দিয়েছে, ১২ লাখ ১৪ হাজার নতুন কাজ পোস্ট করা হয়েছে এবং ২৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে ওয়েবসাইটটির ফ্রিল্যান্সারেরা। ওডেস্ক ও ইল্যান্সের এক হয়ে যাওয়ার খবরটি দীর্ঘদিন আইটি জগতের শিরোনামে থেকেছে।

এ সবকিছুই ফ্রিল্যান্সিং বিশ্বের খবর, যা বাংলাদেশকেও প্রভাবিত করেছে। তবে শুধু আমাদের দেশেও অনলাইন কাজের ক্ষেত্রে ঘটে গেছে বিপস্নব। ক্রমেই ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশে, সব গুরম্নত্বপূর্ণ অনলাইন কাজের ক্ষেত্রগুলো গুরম্নত্ব নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে তাদের কার্যক্রম বজায় রেখেছে, আয়োজন করেছে একাধিক সেমিনারের। সেই সাথে জানা গেছে ২০১৪ সাল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে বাংলাদেশের বাজারের জন্য এদের স্বতন্ত্র পরিকল্পনা।

একটা সময় ছিল যখন অনলাইনে কাজ করে আয় করা যায়, এমন ধারণা অবাসত্মব মনে হয়েছে মানুষের কাছে। সে সময়ে পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোনো স্বীকৃতি ছিল না আমাদের দেশে। সেই শুরম্নর দিনগুলোর সফল মানুষদের একজন হিলেস্নাল হক। তার সফলতার কাহিনী বেশ আগে ফ্রিল্যান্সার ডটকমে প্রকাশিত হয়েছিল। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার শুরম্ন করলেও সফলতা আসে অনলাইন ওয়ার্কপেস্নসগুলো থেকে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরম্নত্বারোপ করে তিনি বলেন, এখন আমার ক্লায়েন্টরা আমাকে আমার নিজ নামে চেনে, যেকোনো প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে যোগাযোগ করে। তবে শুরম্নটা হয়েছে অনলাইন ওয়ার্কপেস্নসগুলোর মাধ্যমে। এভাবে এই কাজগুলো যে অনলাইনে সম্ভব তাও জেনেছি এই কাজের ক্ষেত্রগুলো থেকেই।

আগে বিভিন্ন ধরনের কাজ করলেও বর্তমানে পেশা হিসেবে ইন্টারনেট মার্কেটিং বেছে নিয়েছেন তিনি। সে সম্পর্কে বলেন, সারা পৃথিবীতেই অনলাইন মার্কেটিংয়ের চাহিদা প্রচুর, কিন্তু সে তুলনায় দক্ষ লোকের বেশ অভাব। তাই এ ক্ষেত্রটিতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।
সম্ভাবনা এবং সুযোগের কথা বিবেচনায় রাখলে শীর্ষস্থানে যেতে বাংলাদেশের বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করেন হিলেস্নাল হক। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের পেশাদারিত্ব আরও বাড়াতে হবে। সেই সাথে দরকার বেসিসের সহায়তা। বিশেষ করে সম্ভাবনাময় কাজগুলোতে ফ্রিল্যান্সারদের দিকনির্দেশনা দান এবং আগ্রহী করে তুলতে হবে। সরকারি সহায়তা দরকার উলেস্নখ করে তিনি বলেন, সরকারের উচিত কম খরচে বেশি ব্যান্ডউইডথের নেটওয়ার্ক সরবরাহ করা। সেই সাথে আমত্মর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে অর্থাৎ অর্জিত অর্থ দেশে আনার সর্বজনস্বীকৃত মাধ্যম সংযোজন করতে হবে।
এবার জেনে নেয়া যাক শীর্ষ মার্কেটপেস্নসগুলোতে বাংলাদেশী কর্মীরা কেমন কাজ করছেন।

ওডেস্ক
গত বছর অর্থাৎ ২০১৩ সাল পর্যমত্ম ওডেস্কে সর্বমোট ৩ লাখ ৮ হাজার ২৯৮ জন নিবন্ধিত বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার ছিলেন, যা আগের বছর ২০১২ সাল অপেক্ষা ৪৫ শতাংশ, ২০১১ সাল অপেক্ষা ২৩০ শতাংশ, ২০১০ সাল অপেক্ষা ৭২১ শতাংশ এবং ২০০৯ সাল অপেক্ষা ২৫১২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ ২০০৯ সালে ওডেস্কে নিবন্ধিত যত বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার ছিলেন এদের প্রায় ২৬ গুণ বেশি নিবন্ধিত সদস্য ছিলেন ২০১৩ সালে। এই নিবন্ধিত সদস্যরা ২০১৩ সালে সর্বমোট ৪৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭২২ ঘণ্টা কাজ করে আয় করেছেন ১ কোটি ৭৫ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ মার্কিন ডলার।

ওডেস্কে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের সবচেয়ে বেশি কাজ করা হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে (এসইও)। এখন পর্যমত্ম ২৩,৩৫৬টি এসইও প্রজেক্টে কাজ হয়েছে বাংলাদেশ থেকে, যা বাংলাদেশীদের সম্পন্ন করা সর্বমোট প্রজেক্টের ১৮ শতাংশ। এরপরই আছে ডাটা এন্ট্রি। এখন পর্যমত্ম ১৩,৮৪৮টি প্রজেক্টে কাজ হয়েছে, যা মোট প্রজেক্টের ১০ শতাংশ। ওয়েব ডিজাইনেও বাংলাদেশীরা বেশ পারদর্শী- ১২,৬০৬টি প্রজেক্ট কাজ হয়েছে এই বিভাগে। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে প্রোগ্রামিং এবং বস্নগ ও আর্টিকেল লিখন- কাজ হয়েছে যথাক্রমে ১২,৪২৫ ও ৮,৪৯৩টি প্রজেক্টে। এ ছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং ওয়েব রিসার্চেও বেশ দখল আছে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের।
ইল্যান্স

গত বছর ঢাকায় ৪৩টিসহ সারাদেশে মোট ৯৬টি ওয়ার্কশপ, ১৩টি ওয়েবিনার (অনলাইনে ওয়ার্কশপ) এবং ১২টি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা করার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অন্যতম অনলাইন ওয়ার্কপেস্নস ইল্যান্স। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে ওয়ার্কশপ আয়োজনের ফলে ৮৩ শতাংশ নতুন ব্যবহারকারী পেয়েছে তারা। যার ফলে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা আগের বছরের তুলনায় ১০৮ শতাংশ বেশি কাজ পেয়েছেন এবং তাদের আয় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশে ইল্যান্সের কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর মামুন খান এ ব্যাপারে বলেন, উদীয়মান ফ্রিল্যান্সিং বাজার হিসেবে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের আরও সম্পৃক্ততা চায় ইল্যান্স। ২০১৪ সালে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে দক্ষতা বাড়ানো এবং ইল্যান্সকে বাংলাদেশে সংশিস্নষ্ট ক্ষেত্রে শীর্ষে পৌঁছানো ইল্যান্সের লক্ষ্য।

২০১২ সালে ইল্যান্সে মোট ২৯ হাজার ৯০০ বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার ছিলেন, যা ৮৩ শতাংশ বেড়ে ২০১৩ সালে দাঁড়ায় ৫৪ হাজার ৬০০ জন। অপরদিকে ২০১২ সালে ইল্যান্সে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের মোট আয় ছিল ২০ লাখ ২৩ হাজার ৮২৫ মার্কিন ডলার, যা ২০১৩ সালে ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৭৫ ডলারে উন্নীত হয়।
মোট ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার ভিত্তিতে শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও বগুড়ার নাম রয়েছে। অপরদিকে ইল্যান্স থেকে মোট আয়ের দিকে শীর্ষ পাঁচ শহর ঢাকা, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও জামালপুর। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারেরা যুক্তরাষ্ট্রের এমপস্নয়ারদের প্রকল্পে কাজ করেন সবচেয়ে বেশি। এ তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সিঙ্গাপুর।

ফ্রিল্যান্সার ডটকম

ফ্রিল্যান্সার ডটকম বাংলাদেশকে আলাদা গুরম্নত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। কারণ, প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম!
শেষ খবর পাওয়া পর্যমত্ম ফ্রিল্যান্সার ডটকমে মোট বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ২ লাখ ৮০ হাজার, যা তিন বছর আগেও ছিল মাত্র ৭১ হাজার। এই তিন বছরে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৮৯ শতাংশ। ফ্রিল্যান্সার ডটকমে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের সাম্প্রতিক আয়ের তথ্য দিতে তাদের অপারগতার কথা জানায়। তবে ২০১২ সালের শেষ নাগাদ ওয়েবসাইটটিতে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের সমন্বিত আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে সবচেয়ে বেশি ফ্রিল্যান্সার কাজ করেন ফ্রিল্যান্সার ডটকমের মাধ্যমে। মোটামুটি সব ধরনের কাজ করলেও বাংলাদেশ থেকে ফেসবুক, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, ইন্টারনেট মার্কেটিং এবং পিএইচপিভিত্তিক কাজ বেশি করা হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশী চাকরিদাতাদের মাঝে ফেসবুক, নিবন্ধ লিখন, ডাটা এন্ট্রি এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সংক্রামত্ম কাজ পোস্ট করার প্রবণতা বেশি।

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা যেসব দেশের এমপস্নয়ারদের কাছ থেকে কাজ বেশি পেয়ে থাকেন, এদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সবার শীর্ষে। মজার ব্যাপার, এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশের নাম। অর্থাৎ বাংলাদেশী এমপস্নয়াররা বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের বেশি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারত, যুক্তরাজ্য ও পাকিসত্মান থেকে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা কাজ বেশি পেয়ে থাকেন। অপরদিকে বাংলাদেশী এমপস্নয়াররা যেসব দেশের ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিয়ে থাকেন তাদের মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিসত্মান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইন।
অনলাইন ওয়ার্কপেস্নসগুলোতে আগের তুলনায় বর্তমানে কেন এত বেশি মানুষ যোগদান করছে এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রিল্যান্সার ডটকমের এশিয়া মহাদেশীয় আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, খ-কালীন নয় বরং পূর্ণমেয়াদী চাকরি পাওয়া যায় এই ওয়ার্কপেস্নসগুলোতে। সম্প্রতি কিছু দেশে বেকারত্বের হার বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, ফলে তারা নতুন চাকরির পথ খুঁজছে। আর অনলাইন ওয়ার্কপেস্নসগুলো তাদের সে সুযোগ করে দিচ্ছে। তাছাড়া উন্নত দেশগুলো এখন জানে যে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে প্রোগ্রামার, লেখক কিংবা অন্য ধরনের কাজের জন্য ভালো মানের ফ্রিল্যান্সার পাওয়া যায় যা তাদের নিজ দেশে নিয়োগ দিতে খরচ অনেক বেশি পড়ে যেত।

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে যে প্রথম কাজটি পেতে অনেক অপেক্ষা করতে হয় কেনো এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক কথায় এর উত্তর- অর্থনীতি। বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে পরিণত হচ্ছে। আইটি পণ্য উৎপাদন-সরবরাহ কাজের বেশিরভাগ করছে চীন। ফলে বাংলাদেশীরা উৎপাদনমুখী না হয়ে সেবামূলক কাজ বেছে নিচ্ছে যাদের অনেকেই খোঁজ নিচ্ছে অনলাইনে। বিশাল একটা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের মতো ইন্দোনেশিয়া বা ফিলিপাইনের ফ্রিল্যান্সাররা প্রথম কাজ পেতে অনেক দেরি করছে। তবে অবস্থার পরিবর্তন হবে। কারণ এখন অনেক দেশই কর্মীর জন্য আউটসোর্সিংকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশী বাজারে ফ্রিল্যান্সার ডটকমের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৪ সালে আমরা মোট বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে চাই। এছাড়া ঢাকাসহ গুরম্নত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ফ্রিল্যান্সার ডটকম বিজনেস গ্রম্নপ বা এফবিএস নামে কমিউনিটি গঠন করতে চাই যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা একে অপরকে সাহায্য করবে এবং অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ ১৩০ কোটি মানুষ অনলাইনে কাজ করবে, যা সারাবিশ্বের কর্মীবাহিনীর ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ। অনলাইন জব মার্কেটপেস্নসগুলো যে ভবিষ্যতে আরও বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে আবির্ভূত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের দেশ যে এদিক থেকে পিছিয়ে নেই তা এ লেখার পরিসংখ্যানগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তবে একটি সমস্যার কথা এখানে উলেস্নখ না করলেই নয়।

অনেকেই ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা শুধু খেটেই যাচ্ছেন, কিন্তু সে অনুসারে আয় হচ্ছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মাসের পর মাস চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিন্তু কাজ পাচ্ছেন না। এর পেছনের দুটি কারণের একটি- দক্ষতা অনুযায়ী ঠিক সে ধরনের কাজে আবেদন করতে হবে, সংশিস্নষ্ট বিষয়ে দক্ষতা না থাকলে সে কাজে আবেদন করা যাবে না। আগে তা অর্জন করতে হবে। দ্বিতীয়টি- পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। ফলাফল হিসেবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন অনেক এমপস্নয়ার। অনলাইনে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করাকে পেশা হিসেবে নিতে হবে, সেই মনোভাব তৈরি করে নিতে হবে নিজের মধ্যে। লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে শীর্ষে ওঠার। সারাজীবন অনলাইন মার্কেটপেস্নসগুলোতে পড়ে না থেকে, বরং এটাকে অবলম্বন করে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সেখানে নিজেকে অপরিহার্য অঙ্গে পরিণত করতে হবে। তবেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

ফিডব্যাক : m_hasan@ovi.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা