Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বিশ্ব মোবাইল সম্মেলনে বাংলাদেশ
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: ইমদাদুল হক
মোট লেখা:২০
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - মার্চ
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বিশ্ব মোবাইল সম্মেলনে বাংলাদেশ
‘ক্রিয়েটিং হোয়াট নেক্সট’ শ্লোগানে ফুটবলের শহর বার্সেলোনায় গত ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি হয়ে গেল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল সম্মেলনে সামাজিক উন্নয়নে মোবাইল ফোন সেবা কীভাবে প্রভাব বিসত্মার করেছে, তা নিয়ে আলোচনা যেমন হয়েছে, তেমনি উপস্থাপন করা হয়েছে নতুন নতুন মোবাইল ফোন, ডিভাইস ও প্রযুক্তি। সম্মেলন প্রাঙ্গণের ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ২২০টি দেশ থেকে নিজেদের সেবার পসরা নিয়ে হাজির হয়েছিল প্রায় এক হাজার ৭০০ প্রতিষ্ঠান। উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় ৮৫ হাজার দর্শনার্থী। অনুষ্ঠিত ৪০টির মতো আলোচনা পর্বের মধ্যে সম্মেলনের কীনোট উপস্থাপন করেছেন ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। কীনোটে মোবাইল ফোন প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করা হয়। বক্তব্য রাখেন জিএসএম জেনারেল ডিরেক্টর আন্নে বউভারত, হোয়াটস অ্যাপের সিইও জান কওম, আইবিএম প্রেসিডেন্ট ভার্জিনিয়া এম রমেটি, ফোর্ড মোটর কোম্পানির আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট স্টিফেন টি ওডেল, ভেম্পলকম সিইও জো লুন্ডার, সিংটেলল সিইও চু সক কং প্রমুখ।

চমকিত প্রদর্শনী

নতুন নতুন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি, হাইব্রিড ডিভাইস আর নতুন ধরনের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম ও প্রযুক্তির উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠেছিল বিশ্ব মোবাইল সম্মেলন। প্রাঙ্গণজুড়ে আয়োজিত মেলায় প্রযুক্তিবিশ্বের কাছে নানা চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশাল এলাকাজুড়ে দেড় হাজারের মতো স্টল নিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড স্মার্ট ব্যান্ড উপস্থাপন করেছে চীনের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট হুয়াওয়ে। ট্যাবলেট আকৃতির দুটি স্মার্টফোন ডিভাইস উম্মোচন করেছে কমপিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইচপি। গিয়ার ২ এবং গিয়ার ২ নিও নামে দুটি স্মার্টওয়াচ প্রদর্শন করেছে স্যামসাং। পরিধান করা যায় এমন ট্যাবলেট ও ফোন প্রদর্শন করেছে সনি। স্মার্ট ব্যান্ড অবমুক্ত করেন সনির সিইও কুনি মাসা সুজুকি। লেনোভো ইয়োগা ট্যাবলেট ও হাইব্রিড ল্যাপটপের জন্য জনপ্রিয় লেনোভো উন্মোচন করে ইয়োগা ট্যাবলেট ১০ এইচডি প্লাস। সবাইকে অবাক করে প্রদর্শনীতে ‘এক্স’, ‘এক্স পস্নাস’ ও ‘এক্স এল’ নামে অ্যান্ড্রয়িডের কাস্টমাইজড সংস্করণের তিনটি ফোন উপস্থাপন করে নোকিয়া।

জুকারবার্গের স্বপ্নে রাঙে বার্সেলোনা

বিশ্ববাসীকে নতুন স্বপ্ন দেখালেন মার্ক জুকারবার্গ। জানালেন ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে নতুন যাত্রার কথা। এর মাধ্যমে ফ্রি টেক্সটের পাশাপাশি ভয়েস কল সুবিধা দেয়ার কথাও। বলেছেন, আগামীতে বন্ধ করে দেয়া হবে ফেসবুক ই-মেইল সেবা। কেননা @facebook.com ই-মেইলটি এখন কেউ ব্যবহার করেন না বললেই চলে। আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইন্টারনেট বিস্তারে আরও নতুন নতুন দেশে কাজ করার।

ফুটবলের শহর স্পেনের বার্সেলোনায় চলমান বিশ্ব মোবাইল সম্মেলনে প্রথমবারের মতো বক্তৃতা দিতে গিয়ে এসব কথা জানালেন ফেসবুকের দ্রষ্টা জুকারবার্গ। বললেন, ৫০০ কোটি মানুষকে অতি অল্পসময়ের মধ্যে ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসার স্বপ্নের কথা। আর এই স্বপ্নালোকে উদ্ভাসিত হতে পণ্য বা প্রযুক্তির চেয়ে যেনো সম্মেলনে উপস্থিতিদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা। যখনই তিনি ‘ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা উচিত’ বললেন তখনই তার স্বপ্নালোকে বর্ণিল হয় বার্সেলোনা। সমবেতদের সামনে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ বললেন, সামনের দিনে ইন্টারনেটের দাম হবে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যে করেই হোক আনকানেক্টেড মানুষকে কানেক্ট করতে হবে। বক্তৃতায় জুকারবার্গ বলেন, তিনটি উপায়ে ইন্টারনেটের দাম কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট যন্ত্রপাতির দাম কমানো, ডাটার কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানো। আর তা করতে পারলে অল্পদিনের মধ্যে যেমন বিলিয়ন বিলিয়ন নতুন গ্রাহক যোগ করা সম্ভব হবে, তেমনি ইন্টারনেটের দামও কমে আসবে। তখন বিশ্বে আসবে নাটকীয় পরিবর্তন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু বকর সিদ্দিক, তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি সচিব নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে, বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী জিয়াদ সিতারা, সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী মেহবুব চৌধুরী, মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম কোম্পানি অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির, মোবাইল ভিওআইপি সলিউশন প্রদানকারী বাংলাদেশী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রিভ সিস্টেমস ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।

পুরস্কৃত হয় গ্রামীণফোন

১৯তম এই আসরের শেষ দিনে গেস্নাবাল মোবাইল অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। সম্মেলনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ‘বেইজ স্টেশন’ (বিটিএস) স্থাপন করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করায় মোবাইল অপারেটরদের আন্তর্জাতিক সংগঠন জিএসএম অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানজনক পুরস্কার ‘গ্রিন মোবাইল অ্যাওয়ার্ড’ পায় বাংলাদেশের বেসরকারি সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গ্রামীণ ফোন ২০১০ সালে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম শুরু করে। কার্বন নিঃসরণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বেইজ স্টেশন ও সব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। আর এই অনন্য উদ্যোগের জন্য স্বীকৃতি দেয়া হয় গ্রামীণফোনকে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে¶ গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী বিবেক সুদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ অভিনেতা জেমস কোর্ডেনসহ জিএসএমএ’র মহাসচিব অ্যানি বোভারেট, টেলিনরের প্রধান নির্বাহী জন ফ্রেডরিক বাকসাস। সম্মেলনে প্রধান ছয়টি বিভাগে বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। গ্রিন পুরস্কার জেতার আগের দিন টেলিনরের প্রধান নির্বাহী বাকসাস তাদের প্যাভিলিয়নে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে টেলিযোগাযোগ অগ্রগতির ক্ষেত্রে ‘বাতিঘর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
আর গ্রামীণফোনকে গ্রিন মোবাইল পুরস্কার দেয়ার সময় জিএসএমএ বিচারকেরা বলেন, এই কর্মসূচি পানি সংরক্ষণসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিষ্কার লক্ষ্য স্থির করেছিল এবং তারা দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবদ্ধ ছিল। পদক গ্রহণ করে বিবেক সুদ বলেন, গ্রামীণফোনের সব কর্মীর পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। এটা আমাদের কর্মীদের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফল। এটা আমাদের যাত্রার শেষ নয় বরং চলমান প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। অপরদিকে জিএসএমএ’র সিইও জন হফম্যান বলেন, গ্লোবাল মোবাইল অ্যাওয়ার্ডের ১৯তম বছরে এটা আবারও বোঝা গেল যে এই বহুমুখী ও প্রসারমান শিল্প কত ধরনের উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা তৈরি করছে।

এবারের সম্মেলনে জিএসএমএ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সেরা মোবাইল ও প্রযুক্তি যন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে পাঁচটি। সেরা স্মার্টফোন এইচটিসি ওয়ান, অল্প দামে সেরা মোবাইল নকিয়া লুমিয়া ৫২০ মডেলের ফোন, সবক্ষেত্রে ব্যবহৃত সেরা ফোন নকিয়া ১০৫ মডেল, বছরের সবচেয়ে উদ্ভাবনী ফোন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এলজি এবং সেরা ট্যাবলেট অ্যাপল আইপ্যাড এয়ার।

লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে রিভ সিস্টেমস

প্রতিবারের মতো এবারও মোবাইল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে অংশ নিয়েছিল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ভিওআইপি সলিউশন প্রদানকারী বাংলাদেশী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রিভ সিস্টেমস। স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত বলে ইউরোপ এমনকি আফ্রিকার বাজার লক্ষ করে নিজেদের পণ্য ও সেবা উপস্থাপন করার সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে ৭৫টিরও বেশি দেশে ২২০০’র বেশি সার্ভিস প্রোভাইডারকে সফলতার সাথে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি।

এ বছর রিভ সিস্টেমসের নতুন এক সলিউশন ইউরোপের ল্যান্ডলাইন অপারেটরদের মধ্যে দারুণ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। এই সলিউশনের মাধ্যমে যেকোনো ল্যান্ডলাইন অপারেটরের গ্রাহকেরা মোবাইল ফোনে ডাটা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে কল করতে এবং কল রিসিভ করতে পারবেন। এই সলিউশনের বিস্তারিত নিয়ে কথা বলার জন্য ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের নামীদামী ল্যান্ডলাইন অপারেটররা রিভের প্যাভিলিয়নে এসে ভিড় করে বলে জানালেন রিভ সিস্টেমসের ইউরোপ সেলস ডিরেক্টর রন পাস। তিনি জানান, মোবাইল ফোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে সাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী ল্যান্ডলাইনের ব্যবসায় সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। রিভের এই সলিউশনের মাধ্যমে ল্যান্ডলাইন অপারেটরদের নতুনভাবে মার্কেট শেয়ার অর্জনের দারুণ এক সুযোগ তৈরি হলো। এই সলিউশনটি মূলত একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করবে। এই মোবাইল অ্যাপটি থ্রিজি কিংবা ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে থাকলেই ল্যান্ডফোনের যেকোনো কল মোবাইল ফোনের মধ্যমে যেকোনো জায়গা থেকে রিসিভ করা এবং ইচ্ছেমতো কলও করা যাবে। এতে ল্যান্ডলাইনের কলরেটে কোনো তারতম্য ঘটবে না।
রুমানিয়ার ল্যান্ডলাইন অপারেটর ‘নেট-কানেক্ট ইন্টারনেট এসআরএল’-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আলেক্সান্দ্রা সালকিনু এই সলিউশন নিয়ে কথা বলছিলেন রিভ সিস্টেমসের প্যাভিলিয়নে। তিনি বলেন, রিভ সিস্টেমসের এই সলিউশনটি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমি মনে করি এই সলিউশনের মাধ্যমে আমরা আমাদের মার্কেট শেয়ার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে পারব।

রিভ সিস্টেমসের ইউরোপ সেলস ডিরেক্টর রন পাস এ প্রসঙ্গে বলেন, ইউরোপে মোবাইলে থ্রিজি ইন্টারনেটের ব্যবহার খুবই আশাব্যঞ্জক। আর তাই আমি মনে করি এটি ল্যান্ডলাইন অপারেটরদের জন্য অনেক বড় একটি সুযোগ। শুধু ইউরোপ নয়, আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশেও আমাদের এই সলিউশনটি ল্যান্ডলাইনে অপারেটরদের মার্কেট শেয়ার বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া এবার এমভিএনও মোবাইল অপারেটরদের জন্য রিভের রয়েছে ‘এমভিএনও প্রোডাক্ট স্যুট’। যার মাধ্যমে এমভিএনও অপারেটরেরা নিজেদের ব্র্যান্ডিংয়ে রিভ সিস্টেমের মোবাইল ডায়ালার ব্যবহার করতে পারবেন। এই মোবাইল ডায়ালারের সাথেই থাকছে ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং এবং আইপি কল করার সুবিধা। আর তাই যেসব এমভিএনও ডাটা সিম অফার করছে, তারা এখন রিভের সেবা ব্যবহার করে খুব কম রেটে লং ডিস্টেন্স কলের অফারও দিতে পারবে। এর সাথে ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিংয়ের আদলে থাকছে মোবাইল চ্যাট। এছাড়া রিভ প্রদর্শন করেছে নিজের সুইচ ও বিলিং প্লাটফর্ম।

এ প্রসঙ্গে রিভ সিস্টেমসের গ্লবাল মার্কেটিং ডিরেক্টর সঞ্জিৎ চ্যাটার্জী বলেন, নিশ মার্কেট থেকে বের হয়ে এমভিএনওরা অনেক ডায়নামিক সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। আর আমাদের সলিউশন ব্যবহার করে তারা তাদের সেবার পরিধি অনেক বেশি ছড়িয়ে দেয়ার দারুণ এক সুযোগ পাচ্ছে। আর তাই ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী যেকোনো এমভিএনও আমাদের সেবা নিয়ে তার গ্রাহকদের ভয়েস কল, চ্যাট, ফাইল ট্রান্সফার, মোবাইল টপআপ এবং এসএমএস সুবিধা দিতে পারবে, যা তার ব্যবসায়ের পরিধি বাড়িয়ে দেবে দারুণভাবে।
প্রসঙ্গত, এমভিএনও’র পূর্ণ রূপ মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর। যাদের নিজস্ব কোনো ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাকচার নেই। এমভিএনওরা মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে নিজস্ব ব্র্যান্ডিংয়ে নিজেদের গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকে।

এ বছর মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে প্রায় ৮০ হাজার বিদেশি অতিথির পদচারণায় মুখরিত বার্সেলোনা। শুধু অতিথি নয়, পুরো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বেড়েছে এখানকার অধিবাসীদের। বার্সেলোনার বাসিন্দাদের কাছে ফুটবল হচ্ছে ভালোবাসা আর মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস তাদের জন্য গর্বের একটি বিষয়। ২০০৬ সাল থেকে বার্সেলোনা প্রযুক্তিবিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আয়োজনটি চমৎকারভাবে সম্পন্ন করে আসছে। এজন্য এরই মধ্যে খ্যাতি কুড়িয়েছে সাগর পাড়ের এই ব্যসত্ম নগরী। প্রসঙ্গত, রিভ সিস্টেমসের প্রধান কার্যালয় সিঙ্গাপুরে এবং প্রধান ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বাংলাদেশে। ভারতেও রয়েছে এর ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে রয়েছে এর সেলস অফিস।

আরও যারা যোগ দেন সম্মেলনে

সেলফোন অপারেটরদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সম্মেলনে অংশ নেয় বাংলালিংক, রবি আজিয়াটা ও সিটিসেল। সম্মেলনে বাংলালিংকের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের সিইও জিয়াদ সিতারা, সিসিও শিহাব আহমদ, হেড অব ডাটা অ্যান্ড ভ্যাস ইরাম ইকবাল বাংলালিংকের থ্রিজি সেবা উপস্থাপন করেন। রবি আজিয়াটার প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিইও সুপনু বীরাসিংহে, সিটিও একেএম মোরশেদ এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা সম্মেলনে শুধু নিজেদের পণ্য বা সেবা কার্যক্রমই উপস্থাপন করেননি, অর্জন করেছেন দারুণ সব অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা দিয়েই তারা থ্রিজি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সেবায় বৈচিত্র্য আনবেন। দেশের টেলিকম শিল্পের অগ্রযাত্রায় দ্রুততার সাথে সেবার পরিধি বাড়াবেন। মোবাইল ডাটা সার্ভিস দিয়ে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটাতে ভূমিকা রাখবেন। এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের নেতৃত্বে এবারের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন এবং লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের উপ-পরিচালক মোসাম্মাৎ সাজেদা পারভীন।

অভিজ্ঞতার আলোয়

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম কোম্পানি অফ বাংলাদেশ-অ্যামটবের জেনারেল সেক্রেটারি টিআইএম নুরুল কবির বলেন, মোবাইল কংগ্রেস ছিলো অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের এক অনন্য স্থান। আর এখান থেকে আগামী বছরের টেলিকম দুনিয়ার ঘটতে যাচ্ছে এমন আগাম হাওয়া সম্পর্কে আভাস পাওয়া গেছে।
বিশ্ব মোবাইল সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন বিশেষ প্রতিনিধি সজল জাহিদ বললেন, এবার ছিলো আমার দ্বিতীয়বারের মতো মোবাইল কংগ্রেসে যোগ দেয়া। সম্মেলনে যোগ দিয়ে এবার আমি সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত হয়েছি ফেসবুক সিইও জুকার বার্গের বক্তব্য। এজন্য আমি আড়াই ঘণ্টা দাড়িয়ে ও শুয়ে অপেক্ষা করেছি। মোট ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের এই বক্তব্য আমাকে এতোটাই রোমাঞ্চিত করেছে এক পর্যায়ে আমি শুধু ২৯ বছরের এই তরুণকে মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। কেবল আমি নয়, তার বক্তব্যে নড়ে চড়ে বসেছে টেলিকম দুনিয়া। একারণেই বক্তব্যের দুই-তিন দিন পর্যন্ত তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া করেছেন ডাকসাইটের সকল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তারা।’
তিনি জানান, সম্মেলনে টেলিনর সিইও ফ্রেডরিক বাকসাস এর বক্তব্যের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। মোবাইল মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন ‘হোয়াটস অ্যাপ’ কিনে নেয়ার পর এর মাধ্যমে ফেসবুক-এ ভয়েস সেবা চালুর খবরে সম্মেলন ছিলো সরগরম। কেননা এটা মোবাইল অপারটের সামনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়েই আমূল পাল্টে যাবে আগামী দিনের টেলিকম দুনিয়ার চিত্রপট।
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা