Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পিসির ঝুটঝামেলা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - এপ্রিল
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ট্রাবলশূটিং
তথ্যসূত্র:
সমস্যা ও সমাধান
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পিসির ঝুটঝামেলা

সমস্যা : আমি আমার ল্যাপটপে নতুন করে উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২ ইনস্টল করেছি। আগের উইন্ডোজে ব্লু-টুথ কাজ করত, কিন্তু নতুন ইনস্টল করা উইন্ডোজে কাজ করছে না। ব্লু-টুথ ডিজ্যাবল দেখাচ্ছে এবং তা এনাবল করতে পারছি না। এটা কী জন্য হলো এবং কীভাবে আমি ব্লু-টুথ আবার চালু করতে পারি?
-মোশতাক মেহেদী, কুষ্টিয়া

সমাধান : নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল দেয়ার পর ল্যাপটপের সাথে দেয়া মাদারবোর্ডের ড্রাইভার ডিস্ক থেকে কিছু ড্রাইভার ইনস্টল করে নিতে হয় ল্যাপটপের পুরো কার্যকারিতা পাওয়ার জন্য। ডাইভার ডিস্কটিতে সাধারণত বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স কার্ড, সাউন্ড কার্ড, ল্যান কানেকশন, ব্লু-টুথ, কার্ড রিডার, ওয়েবক্যাম, ইউএসবি ইত্যাদির জন্য ড্রাইভার দেয়া থাকে, যা ডিভাইসটিকে কার্যকর হতে সাহায্য করে। আপনি মাদারবোর্ডের ডিস্কটি খুঁজে বের করে সেটি থেকে ব্লু-টুথ অ্যাক্টিভেট করার জন্য যে ড্রাইভারটি রয়েছে তা ইনস্টল করে নিন। যদি ডিস্ক হারিয়ে ফেলেন, তবে ল্যাপটপের মডেল লিখে ইন্টারনেটে সার্চ করুন- ‘ল্যাপটপের মডেল ড্রাইভার ডাউনলোড’। ল্যাপটপটি যে ব্র্যান্ডের সে ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইটেই সাধারণত মডেল অনুযায়ী সব ড্রাইভার দেয়া থাকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করার জন্য।

সমস্যা : আমি কমপিউটার জগৎ-এর নিয়মিত পাঠক। আমি একটি পিসি কিনতে চাই ৮৫ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে। কিন্তু কোন কোন পার্টস কিনব তা বুঝে উঠতে পারছি না। প্রসেসর হিসেবে আমার পছন্দ ইন্টেল ফোর্থ জেনারেশন কোর আই ফাইভ ৪৫৭০ বা ৪৬৭০ এবং গ্রাফিক্স কার্ড হিসেবে আসুস এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ৭৬০। আমার কি কোর আই সেভেনে যাওয়া দরকার বা গ্রাফিক্স কার্ড আরও ভালো কেনা দরকার? আমার কি ওয়াটার কুলিং কিট ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে?
-অনিমেষ পল

সমাধান : আপনি কী কাজে পিসি ব্যবহার করবেন তা উল্লেখ করেননি। যদি গেম খেলার জন্য হয়ে থাকে, তবে কোর আই ফাইভ ভালো হবে। যদি ভিডিও কনভার্সন, গ্রাফিক্স রেন্ডারিং বা অ্যানিমেশনের কাজ করে থাকেন, তবে কোর আই সেভেন দরকার পড়বে। ওভার ক্লক না করলে ওয়াটার কুলিং কিট কেনার প্রয়োজন নেই। ভালোমানের ক্যাসিং হলেই হলো। বাড়তি কুলিং সংযোজন করার জন্য বাড়তি কুলিং ফ্যান ব্যবহার করুন। মাদারবোর্ড লেটেস্ট চিপিসেটের কিনে নিন। এতে ভালো পারফরম্যান্স, সাপোর্ট ও আপগ্রেড করার ব্যাপারটা নিশ্চিত হবে। র্যাবমের ক্ষেত্রে ১৬০০-১৮৬৬ বাসস্পিডের ৮-১৬ গিগাবাইট ব্যবহার করতে পারেন। সব পার্টস কেনার পর পাওয়ার সাপ্লাই কতটুকু লাগতে পারে তা হিসাব করুন এবং সে অনুযায়ী পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনুন।

সমস্যা : আমি ২০০৩ সাল থেকে উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করে আসছি এবং সে মোতাবেক ১৫-১২-২০০৫ তারিখে কেনা এইচপি লেজারজেট ৩০১৫ অল-ইন-ওয়ান পিসিএল৬ ব্যবহার করেছি। ইতোমধ্যে আমি কমপিউটারটি আপগ্রেড করি। এখন আমি প্রিন্টার সেটআপ দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছি। আমার প্রিন্টারের সাথে যে ডিস্কটি (ড্রাইভার ডিস্ক) দেয়া ছিল তা এক্সপি সাপোর্ট করে, অথচ আমি আমার কমপিউটারে উইন্ডোজ সেভেন ইনস্টল করেছি, যা ডিস্কটিতে নেই। এখন আমি কীভাবে এই প্রিন্টারটি আমার বর্তমান পিসির সাথে ব্যবহার করতে পারব এবং কোন ওয়েবসাইটে (সুনির্দিষ্ট) উইন্ডোজ সেভেন সাপোর্টেড ড্রাইভার পাব? আমার পিসির কনফিগারেশন হলো- আসুস পি৮জেড৭৭- ভি মাদারবোর্ড, ইন্টেল কোর আই ফাইভ ৩৫৭০কে ৩.৪ গিগাহার্টজ প্রসেসর, করসায়ার ভেনজেনস প্রো ১৬ জিবি ১৬০০ বাস ডিডিআর৩ র্যা ম, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ক্যাভিয়ার ব্ল্যাক সাটা-৬ ৭২০০ আরপিএম ৬৪ ক্যাশ ১ টেরাবাইট হার্ডডিস্ক ড্রাইভ। অধীর আগ্রহে সমাধানের আশায় রইলাম।
-মহম্মদ আবদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা

সমাধান : এইচপির ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রিন্টারের মডেল লিখে সার্চ করুন। সেখানে সব ড্রাইভারের লিস্ট পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে আপনার উইন্ডোজ ও তা কত বিটের তার বিবরণ দিয়ে নির্দিষ্ট ড্রাইভার ডাউনলোড করে নিন। সবার উদ্দেশে বলা হচ্ছে, যারা পুরনো ল্যাপটপ, প্রিন্টার বা ডিভাইস অনেক আগে থেকে এক্সপির সাথে ব্যবহার করে আসছেন এবং নতুন করে উইন্ডোজ আপগ্রেড করার পর সমস্যায় পড়েছেন, তারা একটু খেয়াল করুন। আপনার ডিভাইসটির ড্রাইভার সাপোর্ট না করলে সেই ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট সাইটে গিয়ে প্রোডাক্ট মডেলের বর্ণনা দিয়ে চেক করে দেখুন নতুন উইন্ডোজের জন্য কোনো ড্রাইভার দেয়া আছে কি না। যদি থাকে, তাহলে তা ডাউনলোড করে নিন। নতুন ড্রাইভার ইনস্টল করার আগে পুরনো ড্রাইভার আন-ইনস্টল করে নিন। সাইটে যদি খুঁজে না পান, তবে গুগলে সার্চ করে দেখুন ডিভাসের নাম, মডেল, কোনো উইন্ডোজ ভার্সন, কত বিটের ড্রাইভার সব উল্লেখ করে। তাহলে থার্ড পার্টি কিছু সাইট থাকে, যারা অনেক সময় কিছু দুর্লভ ড্রাইভারের আপডেট বের করে থাকে। তবে তা ডাউনলোড করার ব্যাপারে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করুন। কারণ, সেই ড্রাইভার ফাইলে স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যার থাকতে পারে। অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে চেক করে তারপর এসব অপরিচিত সোর্সের ড্রাইভার ইনস্টল করবেন। তা না হলে বিপদে পড়তে হবে।

সমস্যা : আমার পেনড্রাইভ অনেক স্লো কাজ করছে। মাঝে মাঝে ডাটা ট্রান্সফার বেশ দ্রুতগতিতে হয়, আবার মাঝে মাঝে অনেক স্লো হয়ে যায়। এ সমস্যা কি পেনড্রাইভে না পিসিতে? এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাব কীভাবে?
-ফয়সাল, তেজগাঁও

সমাধান : কী ধরনের ফাইল ট্রান্সফার করা হচ্ছে তার ওপরেও পেনড্রাইভের ডাটা ট্রান্সফারের গতি নির্ভর করে। অনেক ছোট ফাইল একসাথে ট্রান্সফার করার সময় তা অনেক সময় স্লো হয়ে যায়, আবার বড় আকারের কম ফাইল ট্রান্সফারের সময় গতি বেশি হয়। পেনড্রাইভ থেকে পিসিতে ডাটা ট্রান্সফার করার জন্য ‘টেরাকপি’ নামে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনি ফাইল ট্রান্সফারের সময় তা পজ করতে পারবেন এবং একসাথে অনেকগুলো আলাদা কপি করার কমান্ড দিতে পারবেন। সেই সাথে প্রতিটি কপি কমান্ডকে কন্ট্রোলও করতে পারবেন। উইন্ডোজ ৮-এ মাল্টিপল ফাইল ট্রান্সফার ও কন্ট্রোলিং সুবিধা দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি পেনড্রাইভ স্লো মনে হয়, তবে খেয়াল করে দেখুন পেনড্রাইভটির ফরম্যাট কী? যদি তা ফ্যাট ফরম্যাটে থাকে তবে তা বদলে এনটিএফএস ফরম্যাটে রূপামত্মর করে নিন। এটি পেনড্রাইভ ফরম্যাট করার সময় ফ্যাটের বদলে এনটিএফএস করে দিলেই হবে।

সমস্যা : ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় কোনো ওয়েবপেজ সেভ করতে দিলে সিপিইউ থেকে শোঁ শোঁ শব্দ করে এবং ভারি কোনো কাজ করার সময় মাঝে মাঝে পিসি হ্যাং করে। ভাইরাসের কারণে কি এ ধরনের সমস্যা হতে পারে? গেম খেলার সময় গেম লোড হতে বেশ সময় লাগে, কিন্তু আগে তা বেশ ভালোভাবেই চলত। আমি উইন্ডোজ সেভেন আল্টিমেট ব্যবহার করি। আমার পিসির কনফিগারেশন হলো- এএমডি এথলন এক্সটু ৩৬০০+, ২ গিগাবাইট ডিডিআর২ র্যা ম, এনভিডিয়া জিফোর্স ৮৫০০ জিটি ১ গিগাবাইট মেমরির গ্রাফিক্স কার্ড ও ৫০০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক।
-রায়হান, মোহাম্মদপুর

সমাধান : আপনার সমস্যার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনার প্রসেসরের ফ্যানের শব্দ হচ্ছে যখন তা বেশ জোরে ঘুরছে। যখন আপনি কোনো ওয়েবপেজ সেভ করছেন তখন তা সেভ করার সময় প্রসেসরের মধ্য দিয়ে বেশ দ্রুতগতিতে ডাটা ট্রান্সফার করে। তখন প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় সাধারণ অবস্থার চেয়ে। সেজন্য প্রসেসর গরম হয়ে ওঠে আর কুলিং ফ্যানের গতি আরও বেড়ে যায় প্রসেসর ঠা-া করার জন্য। ক্যাসিং খুলে আপনার প্রসেসরের ওপরে রাখা হিটসিঙ্কটি চেক করুন। এতে হয়তো বেশ ময়লা জমে রয়েছে, যার কারণে প্রসেসর ঠিকমতো তাপ ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হতে পারছে না এবং কুলিং ফ্যানের ওপরে চাপ বাড়াচ্ছে। প্রসেসর বেশি গরম হয়ে গেলে এবং তা ঠিকমতো ঠান্ডা না হলে হ্যাং হওয়া বা মেশিন স্লো হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। মাসে অন্তত একবার ক্যাসিং খুলে ভেতরের অংশ পরিষ্কার করার অভ্যাস করুন। দুই থেকে তিন মাস অন্তর কুলিং ফ্যান ও হিটসিঙ্ক পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। এতে কমপিউটারকে এ ধরনের সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন। ধুলোবালি কমপিউটারের পার্টসগুলোর জন্য বেশ ক্ষতিকর। তাই পিসি এমন স্থানে রাখা উচিত যেখানে ধুলোবালি কম প্রবেশ করতে পারে। ডাস্ট কভার ব্যবহার করা উচিত। তবে ডাস্ট কভার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে কাজের সময় ডাস্ট কভার খুলে কাজ করতে হবে এবং কাজ শেষে পিসি বন্ধ করার সাথে সাথে কভার দিয়ে না ঢেকে কিছুক্ষণ পরে তা ঢেকে দিতে হবে। কারণ, পিসি ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ না দিলে গরমে পিসির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

সমস্যা : ইন্টেল কোর আই সেভেনের জন্য কোন মাদারবোর্ড ভালো হবে? কোন ব্র্যান্ডের মাদারবোর্ড সবচেয়ে ভালো?
-রিয়াদ, রাজশাহী

সমাধান : ইন্টেলের একেক জেনারেশনের প্রসেসরের জন্য মাদারবোর্ডের সকেট একেক ধরনের হয়ে থাকে। একই সকেটের মধ্যে অনেক ধরনের চিপসেটের মাদারবোর্ড হতে পারে। মাদারবোর্ডের বেশিরভাগই চীনের তৈরি। তাই এদের পারফরম্যান্সের মধ্যে তেমন একটা হেরফের নেই। যে হারে বাজারে কমপিউটার পণ্যের মাঝে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তাতে কেউ খারাপ প্রোডাক্ট বাজারে ছেড়ে কোম্পানির নাম খারাপ করবে না। তাই নিশ্চিন্তে যেকোনো ব্র্যান্ডের ওপর ভরসা করতে পারেন। তবে একেক ব্র্যান্ডের মাদারবোর্ডে একেক ধরনের ফিচার দেয়া থাকে। কেউ গ্রাফিক্স কার্ড ভালো দেয় তো কেউ কিছু স্লট বেশি দেয়। আবার কেউ বেশি চ্যানেলযুক্ত সাউন্ড কার্ড দেয় কেউ স্পেশাল টেকনোলজির সাপোর্ট দেয়। তাই একই চিপসেটের কয়েকটি মডেল দেখেশুনে যেটি আপনার পছন্দ হয় সেটি কিনুন। এখন বাজারে ইন্টেলের ফোর্থ জেনারেশনের প্রসেসর চলছে এবং তার জন্য সকেট হচ্ছে এলজিএ-১১৫০। এ সকেটের লেটেস্ট চিপসেট হচ্ছে জেড৮৭।

সমস্যা : উইন্ডোজ নতুন করে ইনস্টল করার জন্য ডিভিডি ড্রাইভকে ফাস্ট বুট ডিভাইস হিসেবে সেট করার জন্য আমার বায়োসে ঢোকা প্রয়োজন, কিন্তু আমি কমপিউটারের বায়োসে যেতে পারছি না। পিসি স্টার্ট হওয়ার সময় ডেল বা এফ২ কোনোটি চাপলেও বায়োস আসে না। উইন্ডোজ লোড হয়ে যায়। আমার পিসির কনফিগারেশন হলো- ২.৭ গিগাহার্টজের প্রসেসর, বায়োস্টার জি-৪১ মাদারবোর্ড, ১ গিগাবাইট র্যা ম। আমার ল্যাপটপে ডেল চাপলেই বায়োস আসে। কিন্তু ডেস্কটপে কেনো এমন সমস্যা করছে তা বুঝতে পারছি না।
-আনোয়ার

সমাধান : বায়োসে ঢোকার জন্য এফ২ বা ডেল চাপতে হয় কিছু নির্দিষ্ট বায়োসের জন্য। শুধু এ দুটি কী বায়োসে ঢোকার জন্য ব্যবহার করা হয়, তা নয়। আরও কয়েকটি কী ব্যবহার করা হয়। যেমন : এফ১, এস্কেপ ও এফ১০। এফ২ বা ডেল দিয়ে যেহেতু কাজ হচ্ছে না সেহেতু বাকিগুলো দিয়েও বায়োসে ঢোকার চেষ্টা করুন। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে মাদারবোর্ডের সাথে দেয়া ম্যানুয়াল বুক দেখুন। যদি তা না থাকে, তবে মাদারবোর্ডের মডেল লিখে ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখুন আপনার সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন।

সমস্যা : প্রায় ২-৩ মাস হলো আমি নতুন করে এক্সপি থেকে উইন্ডোজ সেভেনে অপারেটিং সিটেম আপগ্রেড করেছি। কিন্তু কিছুদিন ধরে মনিটরের নিচের দিকে ডান পাশে একটি মেসেজ আসে, যাতে লেখা ‘You may be a victim of software counterfeiting, this copy of windows did not pass genuine windows validation.’ তারপর থেকে উইন্ডোজের ওয়ালপেপার কালো হয়ে আছে এবং কিছু সময় শাটডাউন দিলে ঠিকমতো শাটডাউন হয় না। আমি কি আবার উইন্ডোজ এক্সপি সেটআপ দেব না কি অন্য কোনো উপায় আছে?
-রাবিব, নবীনগর

সমাধান : আপনি যে উইন্ডোজ কপিটি ব্যবহার করছেন তা পাইরেটেড। তাই ইন্টারনেট কানেকশন অন করা থাকার সময় তা অনলাইনে চেক করে নিয়েছে তা জেনুইন কি না। যখন মাইক্রোসফট শনাক্ত করতে পেরেছে যে আপনার উইন্ডোজটি জেনুইন নয়, তখনই তারা আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারটি রোধ করার লক্ষ্যে ভালোমানের উইন্ডোজ সিডি ব্যবহার করুন, যা মোডিফাইড ভার্সন নয়। বাজারে আজকাল উইন্ডোজ এক্সপির অনেক ভার্সন পাওয়া যায়। যেমন : গেমিং ভার্সন, ব্ল্যাক ভার্সন, কার্বন ভার্সন ইত্যাদি। এগুলো থেকে দূরে থাকুন। ভালো দেখে একটি উইন্ডোজ ডিস্ক যত্ন সহকারে সংগ্রহ করুন। তাই সে ভার্সন কেনাটাই ভালো হবে। নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করে ইন্টারনেট কানেকশন দেয়ার আগে অটোম্যাটিক আপডেট অপশন বন্ধ করে দিন। আপডেট অপশনটি বন্ধ করে দিলে তা চেক করা হবে না। তাই উইন্ডোজ ঠিকমতো কাজ করবে। কন্ট্রোল প্যানেলে গিয়ে উইন্ডোজ আপডেট নামের অপশন খুঁজলেই তা পেয়ে যাবেন। উইন্ডোজ ফায়ারওয়াল অন করে রাখলে পিসি নিরাপদ থাকবে। ভালোমানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন এবং বেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। উইন্ডোজ নতুন করে না ইনস্টল দিয়ে উইন্ডোজ ৭ অ্যাক্টিভেটর টুলস নামের কিছু থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করেও তা ঠিক করে নেয়া যায়। তবে সেটা না করাই ভালো। কারণ এসব থার্ড পার্টি সফটওয়্যারগুলোর সাহায্যে পিসিতে ভাইরাসের আগমন ঘটতে পারে বা পিসির সিকিউরিটির সমস্যা হতে পারে। অরিজিনাল উইন্ডোজ ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সমস্যা : হঠাৎ করেই আমার মনিটরে কোনো ডিসপ্লে আসছে না। মনিটরের পাওয়ার বাটন জ্বলে, কিন্তু মনিটর কালো হয়ে থাকে। ক্যাসিংয়ের বাতিগুলোও ঠিকমতো জ্বলে। অন্য পিসির সাথে লাগিয়ে দেখেছি তাতে কাজ করে এবং আমার পিসির সাথে অন্য মনিটর লাগালেও একই সমস্যা দেখা দেয়। এটি কি ধরনের সমস্যা?
-মামুন, পটুয়াখালী

সমাধান : মনিটরে কোনো সমস্যা নেই যেহেতু তা অন্য কমপিউটারে চলছে। সমস্যা আপনার পিসিতেই। এ ধরনের সমস্যা অনেক কারণে হয়ে থাকে। পাওয়ার ঠিকমতো অর্থাৎ পর্যাপ্ত পাওয়ার সাপ্লাই না পেলে, গ্রাফিক্স কার্ডের সমস্যার কারণে বা র্যািমের সমস্যার কারণে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রাথমিকভাবে আপনি র্যায়ম খুলে তা টিস্যু দিয়ে আলতো করে মুছে ভালোভাবে র্যা ম স্লটে লাগিয়ে দিন। এতেও যদি ঠিক না হয় তবে র্যা্ম স্লট বদল করে দেখতে পারেন। বিফলে গ্রাফিক্স কার্ড খুলে তাও আবার ভালোভাবে লাগিয়ে দেখুন। মনিটরে পর্যাপ্ত পাওয়ার সাপ্লাই রয়েছে কি না তা খেয়াল করুন। যদি কম ওয়াটের ইউপিএসে একসাথে মনিটর ও সিপিইউ (ক্যাসিং) যুক্ত করা থাকে, তাতে মনিটরের পাওয়ার কম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ক্যাসিংয়ের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট দুর্বল হলে এবং সেখান থেকে মনিটরে পাওয়ার দিলেও এ সমস্যা হতে পারে। যদি উপায়গুলোর কোনোটিই কাজ না করে, তবে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

ফিডব্যাক : jhutjhamela24@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস