Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > আর্মের নতুন প্রসেসর কোর-করটেক্স
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: তাজুল ইসলাম
মোট লেখা:১৯
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - মে
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
প্রসেসর
তথ্যসূত্র:
প্রসেসর
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
আর্মের নতুন প্রসেসর কোর-করটেক্স

স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন অথচ এআরএম তথা আর্ম (ARM) প্রসেসর ব্যবহার করছেন না, এমন ব্যবহারকারীর সংখ্যা তেমন বেশি নয়। আমরা জানি, মূলত স্মার্টফোন হচ্ছে একটি কমপিউটার, যার অভ্যন্তরে রয়েছে প্রসেসর, র্যা ম ও স্টোরেজ। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত এই কোম্পানি আর্ম প্রসেসরের নকশা নির্মাণ করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে। যেমন : কোয়ালকম, স্যামসাং, এনভিডিয়া ইত্যাদি। এ কোম্পানিগুলো আরও কিছু প্রযুক্তি যোগ করে পূর্ণাঙ্গ প্রসেসর তৈরি করে থাকে। ধরা যাক, এনভিডিয়ার টেগরা বা কোয়ালকমের সণ্যাপড্রাগন ইত্যাদি। আপনার স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটটি যত নতুন হবে, তত এর নতুন ভার্সন দেখতে পাবেন। এর ফলে আপনার স্মার্টফোনে নতুন নতুন ফিচার যোগ করা হচ্ছে বা যাচ্ছে। আর্ম প্রসেসরের মূল ভিত্তি হলো করটেক্স (Cortex) নামের এক স্থাপত্য, যা ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন ধাপ তথা প্রজন্ম পেরিয়ে বর্তমানে করটেক্স-১২-এ উন্নীত হয়েছে। এটি করটেক্সের উত্তরসূরি। আর্ম প্রসেসরের বৈশিষ্ট্য হলো, এটি অত্যন্ত তাপসাশ্রয়ী। প্রসেসর সাম্রাজ্যের অধিপতি ইন্টেল আর্ম প্রসেসরের কাছে বেশ ধরাশায়ী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ইন্টেল বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে স্মার্টফোন/ট্যাবলেটের বাজার দখল করতে, কিন্তু অদ্যাবধি তেমন কিছু নজরে পড়ছে না। সম্প্রতি বে-ট্রেইল নামের একটি প্রসেসর বাজারে ছেড়েছে, তবে এখনও তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি।

এদিকে আর্ম এ বছরের শেষার্ধে করটেক্স-১২’র পরবর্তী প্রজন্ম করটেক্স-১৭ বাজারে ছাড়বে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে। মূলত এ প্রসেসরগুলো ৩২ বিটের। এর মধ্যে এরা ৬৪ বিটের করটেক্স-এ৫৩ ও এ৫৭-এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। এগুলোর ইনস্ট্রাকশন সেট হচ্ছে এআর্ক৬৪ । করটেক্স-১৭ স্থাপত্য উপস্থাপনের লক্ষ্য হলো ২০১৫ সাল নাগাদ উচ্চ পারফরম্যান্স বাজারের নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখা এবং বাজারে আধিপত্য বজায় রাখা। যদিও এটি ২৮ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হতে যাচ্ছে। সিস্টেম অন এ চিপ ব্যাপারটি বেশ পুরনো হলেও আর্মের ক্ষেত্রে এটি বেশ সফল হয়েছে। স্মার্টফোনে আজ সিস্টেম অন এ চিপ বেশ ব্যবহার হচ্ছে, এর কারণ আর্ম চিপ। এদিকে ২০ ন্যানোমিটারে তৈরি করলে সাশ্রয় তেমন প্রকট হয় না। ফলে এ ক্ষেত্রে স্থাপত্যকে আরও পরিশীলিত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ, মোবাইল ডিভাইসের দাম একটি প্রভাবশালী ফ্যাক্টর। দুটো উল্লেখযোগ্য ফ্যাব নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএমএমসি এবং গ্লোবাল ফাউন্ড্রি ১৪ ন্যানো- এক্সএম এবং ১৬ ন্যানো-ফিনফেট ট্রানজিস্টর প্রতি সামান্য ব্যয় সুবিধা দিয়ে থাকে। দেখা গেছে, প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ ফলাফল দেয় ২৮ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি। এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এজন্য, প্রসেসরের মূল উপাদান হচ্ছে ট্রানজিস্টর। এসব প্রসেসরে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ট্রানজিস্টর সংখ্যাকে বদ্ধ রেখে বাড়তি পারফরম্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে করটেক্স-১৭তে। মোবাইল জগতে পারফরম্যান্স বাড়ানোই সবার লক্ষ্য একথা সবাই জানেন। করটেক্স-১৭তে বিগ ডট লিটল নামের সমর্থনকে যোগ করা হয়েছে, যা আগের করটেক্স-১২তে ছিল না। ফ্রন্ট- এন্ড এবং এন্ডেকিউশন বা নির্বাহ কোরসমূহে একই সক্ষম থাকছে করটেক্স-১২’র মতো। এছাড়া মেমরি সাব-সিস্টেমে কিছু অগ্রগতি সাধন করা হয়েছে। মিডরেঞ্জ ডিভাইসের ক্ষেত্রে করটেক্স- ১৭ বেশ কার্যকর হবে বলে আর্ম আশা করছে। বর্তমান বাজারে স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স কিছুটা ধীরগতিতে বাড়ছে বলে পণ্যের দীর্ঘস্থায়িত্ব বাড়ছে। বর্তমানে গুগল থেকে নেক্সাস ৪, ৫ এবং মটোরোলা জি নামে যে প্রস্তাবনাগুলো বাজারে ছাড়া হয়েছে, তাতে এইচডি স্ক্রিন এবং আকর্ষণীয় ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়িত্বের লোভনীয় প্রস্তাব রয়েছে, যার রেশ বেশ ক’বছর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মিডরেঞ্জ পণ্য যেমন ট্যাবলেট বা নেটপিসির বাজারে বেশ প্রভাব রাখবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। গত বছর আর্ম যখন করটেক্স-১২ বাজারে ছাড়ে, তখন এটিকে করটেক্স-১৫’র (এ১৫) অন্তর্নিহিত সমস্যার উত্তরণকারী হিসেবে দেখা হয়েছিল। এ১৫ যদিও ক্ষমতাশালী চিপ, তথাপি এর তাপ নিঃসরণের বাহুল্যের ফলে বাজারে তেমন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তবে কোয়ালকমের ক্রেইট সিপিইউ এ১৫ দিয়ে তৈরি হলেও এর বিদ্যুৎ ব্যয় এবং সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যকে আকর্ষণীয় রূপ দেয়া হয়েছিল। এদিকে এ১৫ভিত্তিক এনভিডিয়ার টেগরা ৪ বাজারে তেমন সফলতা পায়নি। অর্থাৎ পারফরম্যান্স নয়, বরং তাপ নিঃসরণ এবং বিদ্যুৎ ব্যয় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছিল।

এ প্রেক্ষিতেই এ১৭ (করটেক্স-১৭) এ১৫’র পারফরম্যান্স পেলেও এর বিদ্যুৎ ব্যয়কে কমানো হয়েছে। যদি আর্ম ২০১৫ সাল নাগাদ প্রস্ত্ততির লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করে, তাহলে ২০১৫ সালের শেষার্ধে বা ২০১৬ সালের প্রথমার্ধে স্মার্টফোন বা মিডরেঞ্জ ডিভাইস (ট্যাবলেট) ও এ১৭-কে দেখতে পাব। এ বিলম্বের কারণ হলো ফাউন্ড্রিতে চিপের বৈধকরণ এবং সমন্বিতকরণ ও কেরিয়ার বৈধকরণের কারণে।

এ১৭’র কিছু বৈশিষ্ট্য : ০১. এ৯-এর তুলনায় ৬০ শতাংশ পারফরম্যান্স বৃদ্ধি। ০২. শক্তি দক্ষতা উন্নতকরণ। ০৩. বিগ লিটন সক্ষমতা সংযোজন। ০৪. ২০১৫ সাল নাগাদ মিডরেঞ্জ পণ্যে বর্তমান উৎকর্ষ প্রদান। সূত্র : ইন্টারনেট

ফিডব্যাক : ttajw@hotmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৪ - মে সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস