Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > আইটিইউ প্রকাশ করল আইসিটি তথ্য-পরিসংখ্যান ২০১৪
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মুনীর তৌসিফ
মোট লেখা:২৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - জুন
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
আইটি
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
আইটিইউ প্রকাশ করল আইসিটি তথ্য-পরিসংখ্যান ২০১৪
গত ৫ মে আইটিইউ তথা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন প্রকাশ করেছে চলতি ২০১৪ সালের জন্য আইসিটি-বিষয়ক তথ্য-পরিসংখ্যান। এতে বলা হয়, ২০১৪ সাল শেষে বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৩০০ কোটিতে। আর মধ্যে ২০০ কোটি ব্যবহারকারীই হবেন উন্নয়নশীল বিশ্বের। প্রকাশিত এই তথ্য-পরিসংখ্যান মতে, বিশ্বে মোবাইল ব্রডব্যান্ড গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়াবে ২৩০ কোটিতে। এসব গ্রাহকের ৫৫ শতাংশই আসবে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে।

উল্লেখ্য, আইটিইউ হচ্ছে জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। এক সময় এর নাম ছিল ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ ইউনিয়ন। এটি কাজ করে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি সম্পর্কিত বিবেচ্য বিষয় নিয়ে। আইটিইউ সমন্বয় করে রেডিও স্পেকট্রামের শেয়ারড গ্লোবাল ইউজের বিষয়টি। স্যাটেলাইট অরবিট অ্যাসাইন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর দায়িত্বও এ সংস্থার। উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নেও এ সংস্থা কাজ করে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও আইটিইউ সক্রিয়। সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রদর্শনী এবং ফোরামও এ সংস্থা আয়োজন করে থাকে। জেনেভা-ভিত্তিক এই সংস্থা ইউএন ডেভেলপমেন্ট গ্রুপেরও সদস্য। এর সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত জাতিসংঘের ১৯৭টি সদস্য দেশ। এ ছাড়া আছে ৭০০ সেক্টর মেম্বার ও সহযোগী।

আইটিইউ সেক্রেটারি জেনারেল হামাদুর আই. তুরে উল্লিখিত তথ্য-পরিসংখ্যান সম্পর্কে বলেন- ‘প্রকাশিত এই নতুন তথ্য-পরিসংখ্যান আবার নিশ্চিত করল যে, আইসিটি অব্যাহতভাবে তথ্য-সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে মুখ্য নিয়ামক হবে।’
অপরদিকে আইটিইউ’র টেলিকমিউনিকেশন ডেভেলপমেন্ট ব্যুরোর ডিরেক্টর ব্রাহিমা সানৌ বলেন, ‘আমরা যদি তথ্য-সমাজকে বুঝতে চাই, তবে আমাদেরকে তা পরিমাপ করতে হবে। পরিমাপ ছাড়া আমরা অগ্রগতি চিহ্নিত করতে পারব না কিংবা ঘাটতি চিহ্নিত করতে পারব না, যার ওপর আমাদের মনোযোগী হওয়া দরকার।’

আইটিইউ’র এই তথ্য-পরিসংখ্যান মতে, সেলুলার মোবাইল ফোনের গ্রাহকসংখ্যা চলতি বছর শেষে পৌঁছবে ৭০০ কোটিতে। এদের মধ্যে ৩৬০ কোটি গ্রাহক থাকবেন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। এ বছর আগের বছরের তুলনায় এ অঞ্চলে মোবাইল-সেলুলার গ্রাহক বাড়বে ৭৮ শতাংশ। এই গ্রাহক বাড়ার পেছনে মুখ্য ভূমিকা রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর গ্রাহক প্রবৃদ্ধি। তবে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী মোবাইল-সেলুলারের প্রবৃদ্ধি সর্বাধিক নিচু হারে অর্থাৎ ২.৬ শতাংশে নেমেছে। এর অর্থ এর বাজার স্যাচুরেটিং তথা সম্পৃক্ত অবস্থার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। আফ্রিকা এবং এশিয়া-প্যাসিফিকে মোবাইল-সেলুলারের পেনিট্রেশন এবার যথাক্রমে ৬৯ শতাংশ ও ৮৯ শতাংশে উঠবে। এই দু’টি অঞ্চল হচ্ছে মোবাইল গ্রোথের সবচেয়ে শক্তিশালী অঞ্চল এবং মোবাইল পেনিট্রেশনের সবচেয়ে নিচু হারের অঞ্চল। কমনওয়েলথ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস, আরব দেশগুলো, আমেরিকা ও ইউরোপ অঞ্চলে মোবাইল পেনিট্রেশন ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৪ সালে এসব অঞ্চলে এই হার ২ শতাংশ বাড়বে। কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস অঞ্চল হচ্ছে সবচেয়ে বেশি মোবাইল পেনিট্রেশন হারের অঞ্চল। কিন্তু মোবাইল ফোনের গ্রাহকসংখ্যা বাড়লেও ফিক্সড টেলিফোন গ্রাহকসংখ্যা কমে যাওয়া ২০১৪ সালে অব্যাহত থাকবে। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছর ধরে ফিক্সড ফোন পেনিট্রেশন ক্রমেই কমে আসছে। ২০১৪ সাল শেষে দেখা যাবে ২০০৯ সালের তুলনায় বিশ্বে ফিক্স টেলিফোনের সংখ্যা ১০ কোটি কমে গেছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন ধীর হয়ে আসছে। ২০১৪ সালের শেষ পাদে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন বৈশ্বিকভাবে ১০ শতাংশে পৌঁছবে। ৪৫ শতাংশ ফিক্সড ব্রডব্যান্ড গ্রাহক এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের, ২৫ শতাংশ ইউরোপের। অপরদিকে আফ্রিকায় এই গ্রাহকসংখ্যা মাত্র ০.৫ শতাংশ। আর গত চার বছর ধরে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ঘটা সত্ত্বেও আফ্রিকা অঞ্চলে এই হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে নিচেই থেকে গেছে। আফ্রিকা ও আরব অঞ্চল, সিআইএস অঞ্চলেই শুধু এ ক্ষেত্রে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। ফিক্সড ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন হারে সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে আওেমরিকা অঞ্চল। অনুমিত এ হার ২.৫ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা ১৭ শতাংশে পৌঁছতে পারে। ইউরোপের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ বড়। এর হার বিশ্বের গড় হারের চেয়ে প্রায় তিনগুণ।

২০১৪ সাল শেষে বিশ্বের মোবাইল ব্রডব্যান্ড গ্রাহকসংখ্যা ২৩০ কোটিতে পৌঁছবে। বিশ্বে ২০১৪ সালের শেষ দিকে মোবাইল ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন ৩২ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। উন্নত দেশগুলোতে এ হার পৌঁছবে ৪৮ শতাংশে। আর উন্নয়নশীল দেশে এ হার হবে ২১ শতাংশ। ২০১৪ সালের শেষ দিকে বিশ্বে যে ২৩০ কোটি মোবাইল ব্রডব্রান্ড গ্রাহক হবে, তার মধ্যে ৫৫ শতাংশ গ্রাহকই হবে উন্নয়শীল দুনিয়ার বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মোবাইল পেনিট্রেশনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ইউরোপে (৬৪ শতাংশ)। এর পরে আছে যথাক্রমে আমেরিকা (৫৯ শতাংশ), সিআইএস (৪৯ শতাংশ), আরব (২৫ শতাংশ), এশিয়া-প্যাসিফিক (২৩ শতাংশ) ও সবশেষে আফ্রিকা (১৯ শতাংশ)।

আইটিইউ’র উল্লিখিত তথ্য-পরিসংখ্যান মতে, ২০১৪ সালের মধ্যে বিশ্বের ৪৪ শতাংশ বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট সুবিধা থাকবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি বাড়িতে অর্থাৎ ৩১ শতাংশ বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে। এর বিপরীতে উন্নত দেশগুলোর ৭৮ শতাংশ বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে। বিশেস্নষণে দেখা গেছে, উন্নত দেশগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ স্যাচুরেশন লেভেল তথা সম্পৃক্ত পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি যেসব লোক এখনও ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন না, এরা উন্নয়নীশল দেশের মানুষ। সিআইএস অঞ্চলে প্রতি দু’টি বাড়ির একটিতে ২০১৪ সালের মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে। কিন্তু আফ্রিকায় এই হার হবে প্রতি দশটি বাড়ির একটিতে। তা সত্ত্বেও আফ্রিকায় ইন্টারনেটে অ্যাক্সেসের প্রবৃদ্ধি ঘটছে দুই অঙ্কের হারে।

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটিতে পৌঁছে গেছে। এদের দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহারকারীই উন্নয়নশীল বিশ্বের। বিশ্বে ইন্টারনেট ইউজার পেনিট্রেশন ঘটছে ৪০ শতাংশ হারে- ৭৮ শতাংশ উন্নত বিশ্বে আর ৩২ শতাংশ উন্নয়নশীল বিশ্বে। ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৪ সাল শেষে আফ্রিকার দেশগুলোতে ১০ শতাংশ বেশি মানুষ অনলাইন সুবিধা পাবে। তখন আফ্রিকার মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ অনলাইন ব্যবহার করবে। আমেরিকা অঞ্চলে প্রতি তিনজনে দুইজন ২০১৪ সালের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হবে। এ অঞ্চল হবে ইউরোপ অঞ্চলের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ইন্টারনেট পেনিট্রেশন হারের অধিকারী। ইউরোপে ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের হার বছর শেষে হবে ৭৫ শতাংশ- প্রতি চারজনে তিনজন। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট পেনিট্রেশন হার। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ২০১৪ সালের মধ্যে অনলাইন সুবিধা পাবে। বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৪৫ শতাংশই হবে এ অঞ্চলের।

উল্লেখ্য, আইটিইউ’র তথ্য-পরিসংখ্যান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য ও পক্ষপাতহীন গ্লোবাল ডাটা হিসেবে আইসিটি শিল্পে বিবেচিত হয়। এসব তথ্য-পরিসংখ্যান ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয় আমত্মঃসরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের নানা ধরনের বিশেস্নষণে।

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৪ - জুন সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস