Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > এক দশকে জি-মেইল
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কে ডি. শুভ
মোট লেখা:১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - জুন
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ই-মেইল
তথ্যসূত্র:
ইন্টারনেট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
এক দশকে জি-মেইল
বিশ্বের খুব জনপ্রিয় ই-মেইল প্রোভাইডার সার্ভিস জি-মেইল তার সেবার ১০ বছর পূর্ণ করল। ভিডিও গোলযোগ, প্রোফাইল পিকচার, চ্যাটিং সুবিধা, ভিডিও কনফারেন্স ইত্যাদি মানুষের জীবনকে সহজ করে তুলেছে এই জি-মেইল। সেই সাথে জি-মেইলে বেশ কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। কীবোর্ড শর্টকাট, কাস্টমাইজ, অ্যাটাচমেন্ট সার্চ, দ্রুত লোড হওয়া, ইনবক্সের মাধ্যমে ব্রাউজার ট্যাব গণনা, থিম পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তুলে ধরা হলো জি-মেইলের দশকপূর্তি।

এখানে দেখানো হয়েছে এক দশকে কীভাবে জি-মেইল মানুষের মাঝে ই-মেইল সেবাকে সহজভাবে তুলে ধরেছে।

এক নজরে ১০ বছরে জি-মেইল সেবার প্রধান পরিবর্তনগুলো :
২০০৪ : যাত্রা শুরু
প্রথমে গুগলের একজন ব্যবহারকারী তার সম্পূর্ণ সময় ব্যয় করেন একটি মেসেজ লিখতে। তিনি তার ই-মেইল সম্পর্কিত দুর্দশার সমাধান চান গুগলের কাছে। পরবর্তী সময়ে গুগলের একজন ইঞ্জিনিয়ার এই প্রকল্পে হাত দেন। অনেক সময় সাপেক্ষ এই প্রকল্পটির তিনি নাম দেন ‘২০% টাইম’। এর যাত্রা আরম্ভের পাঁচ বছর ধরে ২০০৯ পর্যন্ত জি-মেইলের এই বেটা ভার্সন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করে।

২০০৬ : চ্যাট ও ক্যালেন্ডার
২০০৬ জি-মেইলের জন্য দ্রুত বিস্তারের একটি বছর। এ বছরই ফেব্রম্নয়ারি মাসে গুগল সর্বপ্রথম চ্যাটিংয়ের সুবিধা শুরু করে। তার তিন দিন পরেই এপ্রিলে গুগল ক্যালেন্ডার সুবিধা যুক্ত করা হয়।

২০১০ : ইনবক্সের প্রাধান্যতা
২০১০ সালের আগস্টে ইনবক্সের ওপর জোর দিয়ে মেইলগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে। এগুলো হলো- ইমপরট্যান্ট ও আনরিড, স্টারড এবং এভরিথিং এলস। এই সেবাগুলোর কারণে ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্তিকর ই-মেইলকে নিচে অবস্থান করাতে পারতেন।

২০১১ : ভিজ্যুয়াল উন্নতি
২০১১ সালে জি-মেইলের বিশাল ভিজ্যুয়াল ডিজাইনটি আপডেট করা হয়। মূলত এর মাধ্যমে গুগল জি-মেইলের ভিজ্যুয়াল গোলমাল কমাতে পারে। কনভার্সেশনের জন্য প্রোফাইল পিকচার যুক্ত করা হয়েছে সে সময়ই। এইচডি থিম যুক্ত করা এবং ইনবক্সের ডিসপ্লের অপশনে কমফরটেবল, কজি অথবা কম্প্যাক্ট যুক্ত করাতে ইউজার বিভিন্ন স্ক্রিন সাইজ ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছেন।

২০১৩ : ক্যাটাগরি
সর্বাধুনিক ভিজ্যুয়াল আপডেট এই সময়টাতে আলাদা করা হয়। ইনকামিং ই-মেইলগুলোকে আলাদা ট্যাবে জায়গা দেয়া হয়। ইনবক্স গোলযোগ কমিয়ে ব্যবহারকারীদের এই সুবিধা দেয়া হয়।

২০০৮ : অ্যান্ড্রয়িডের জন্য জি-মেইল
জি-মেইল প্রথম তার অ্যান্ড্রয়িড অ্যাপ আবিষ্কার করে ২০০৮ সালে। এটি তৈরি করা হয়েছিল টি মোবাইলস জি-১ ফোনের জন্য, যা গুগল প্লে থেকে ডাউনলোড হয়েছে প্রায় বিলিয়ন বারের মতো।

২০১১ : আইওএসের জন্য জি-মেইল
অনেক প্রতীক্ষার পর ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে আইওএস ডিভাইসের জন্য অ্যাপ বের করে জি-মেইল। এই অ্যাপটি এখনও প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। এখানে ব্যবহারকারীদের পাঁচটি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতিও দেয়া হয়েছে।

জি-মেইলে যুক্ত হওয়া নতুন কিছু ফিচার
০১. কিবোর্ড শর্টকাট : আপনি চাইলে জি-মেইলের সব কার্যক্রম তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করার জন্য শুধু কিবোর্ড ব্যবহার করেই করতে পারেন। এতে সময় ব্যয় হবে অনেক কম। G-mail লগইন করে Help মেনু থেকে Message Action নির্বাচন করে অথবা https://support.google.com/mail/ answer/6594?hl=en এই সাইট থেকে কিবোর্ড শর্টকাটগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
০২. পাঠানো মেসেজ ফিরিয়ে আনা : মাঝে মাঝে তাড়াতাড়ি কাজ করতে গিয়ে কোনো একটা ভুল করে অথবা কাউকে কোনো মেইল পাঠানোর পর মনে পড়ে মেইলের ভুল অংশের কথা, যা হতে পারে বিভ্রান্তিকর। এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য ডান পাশের Gear আইকনে Settings-এ ক্লিক করে Lab নির্বাচন করুন এবং মাউস নিচের দিকে স্ক্রল করে Undo Send ও enable নির্বাচন করুন। ফলে পরবর্তী সময়ে কাউকে কোনো মেইল পাঠালে জি-মেইলের ওপরের দিকে হলুদ রংয়ের মেসেজ পাঠানো হয়েছে ’এবং ‘undo’ or ‘view message’ দুটি অপশন রয়েছে। আপনি চাইলে এতে ক্লিক করে মেসেজটি ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবে মনে রাখবেন এই অপশনটি আপনাকে দেখাবে খুবই অল্প সময়ের জন্য।
০৩. অ্যাটাচমেন্ট মেইল সার্চ : অ্যাটাচমেন্ট যুক্ত কোনো মেইল খুঁজে না পেলে ওপরের দিকে কিউরি বক্সে ‘has:attachment’ টাইপ করে এন্টার চাপলে শুধু অ্যাটাচমেন্ট যুক্ত মেইলগুলো দেখাবে। ফলে অসংখ্য মেইল থেকে অ্যাটাচমেন্ট ফাইলটি খুঁজে পেতে কষ্ট হবে না।
০৪. স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাড়া দেয়া : আপনি চাইলে স্বয়ংক্রিয় মেসেজ তৈরি করে রাখতে পারেন, যার ফলে আপনাকে বারবার একই মেসেজ তৈরি করে সেন্ড করতে হবে না। এ জন্য ডান পাশ থেকে সিলেক্ট করুন। তারপর থেকে নিচের দিকে নির্বাচন করুন। সেখান থেকে নতুন একটি মেইল লিখে সেভ করুন। নিচের ডান দিকে ট্র্যাশ বক্সের পাশে অ্যারো চিহ্নে ক্লিক করে একটি পপআপ লিস্ট তৈরি করতে পারেন। এরপর সেখান থেকেই আপনি মেইল তৈরি করতে পারবেন।
০৫. দ্রুত লোড হওয়া : জি-মেইল ওপেন হতে অনেক সময় নিলে সে সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওংার জন্য অ্যাড্রেস বারে জি-মেইলের Address / URL টাইপের পর “/?ui=html” url টুকু টাইপ করলে জি-মেইলটির বেসিক ফিচার খুব তাড়াতাড়ি ওপেন হবে, কেননা এতে আধুনিক ফিচারের অনেক কিছুই হয়তো অনুপস্থিত থাকবে। তবে এতে সময় সাশ্রয় হবে যথেষ্ট। http://googlesystem.blogspot.com/2008/10/gmail-modes.html অ্যাড্রেস থেকে জি-মেইল ওপেন হওয়ার বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
০৬. ইনবক্স বাড়ানো বা কমানো : মে ২০১৩ থেকে জি-মেইল তার ইনবক্সকে আপডেট করে। সেখানে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ই- মেইলকে ‘Primary,’ ‘Social’ and ‘Promotions’ এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়। আপনি চাইলে তা বাড়িয়ে অথবা কমিয়ে নিতে পারবেন। এর জন্য ডান পাশের গিয়ার আইকন থেকে নির্বাচন করে পরবর্তী পপআপ উইন্ডো থেকে ‘Social’ and ‘Promotions’ ডিসিলেক্ট করে দিলে তা আর ইনবক্সে প্রদর্শন করবে না। এই কাজটি ‘Promotions” ট্যাবের ঠিক ডান পাশে প্লাস (+) আইকনে ক্লিক করেও করতে পারবেন।

ফিডব্যাক : kdsubho@gmail.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৪ - জুন সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা