Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৪ নিয়ে যত কথা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: অঞ্জন চন্দ্র দেব
মোট লেখা:৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্যসূত্র:
ডিজিটাল বাংলাদেশ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৪ নিয়ে যত কথা
প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে গত ৪ জুন শুরু হয় এ বছরের দেশের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪। সফটএক্সপো, ই-গভর্ন্যান্স ও মোবাইল ইনোভেশন এক্সপো এই তিনটির সমন্বয়ে আয়োজিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪ শেষ হয় গত ৭ জুন। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলায় ছিল তথ্যপ্রযুক্তির জমকালো আয়োজন। মেলায় প্রদর্শনীর বাইরে সেমিনার, কর্মশালা, আইটি জব ফেয়ার ও সিইও নাইট অনুষ্ঠিত হয়। মেলা প্রাঙ্গণে দর্শণার্থীদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে ছিল সেলফি বুথ ও বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধার এলইডি স্ক্রিনে মেলার উল্লেখযোগ্য আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার।

উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, একই মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান, আয়োজনের প্রধান প্রকল্প কর্মকর্তা রাসেল টি আহমেদ প্রমুখ।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নে সরকারের নানা উদ্যোগ ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক আইসিটি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করেছে। গুগল, মাইক্রোসফট ও ডেলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে তাদের অফিস স্থাপন করেছে। আমরা তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহবান জানাই। সরকার তাদের সহযোগিতা করবে।

স্মার্টপ্রযুক্তি নিয়ে অ্যাপলম্বটেকের চমক
মেলায় স্মার্টপ্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছিল অ্যাপলম্বটেক বিডি। স্মার্টমিটার, ইনডোর পজিশনিং সিস্টেম, টেলি হেলথ সার্ভিস ও সিভিল ড্রোন প্রযুক্তি এনেও চমকে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় অ্যাপলম্বটেক বিডি নিয়ে এসেছিল অত্যাধুনিক ফিচারের এসব প্রযুক্তি। অ্যাপলম্বটেক মেলায় স্মার্টমিটার নিয়ে আসে, যা ঘরের বিদ্যুৎ ম্যানেজারের কাজ করে। প্রদর্শনীতে টেলি হেলথ সার্ভিস নামে একটি অ্যাপও নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছোট ছোট টেস্ট যেমন ডায়াবেটিস, সুগার, প্রেসার পরীক্ষার পর তার তথ্য স্মার্টফোনে ডাটাবেজ হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারাও আরএফআইডি কার্ড অথবা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য-সেবার মাধ্যমে সেবাটি ব্যবহার করতে পারবে। মেলায় অ্যাপলম্বটেকের আরেকটি বড় আকর্ষণ ‘সিভিল ড্রোন’। এর মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, পোস্টাল সামগ্রী পাঠানো যাবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি বাড়াতে বা বিপদ মোকাবেলা করতে এটি ব্যবহার করতে পারবে।

চাকরি পেলেন ৩০ জন
মেলায় এসে ৩০ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেলেন। মেলার অংশ হিসেবে আয়োজিত আইটি জব ফেয়ারে সিভি জমা দিয়েছিলেন এরা। মেলার প্রথম তিন দিন সিভি জমা নেয়া হয়। এক হাজারের বেশি ব্যক্তি চাকরির জন্য ৯টি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত বাক্সে সিভি জমা দেন। সেখান থেকে ১৫০ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। সাক্ষাৎকার শেষে মোট ৩০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়।

পুলিশের যত সেবা
পুলিশের বিভিন্ন ডিজিটালাইজড প্রযুক্তির সাথে সাধারণ মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিতেই তাদের এ আয়োজন। এর মধ্যে ছিল মোবাইল অ্যাপ, যাতে স্মার্টফোন দিয়ে ডিএমপির সব পুলিশ অফিসারের মোবাইল নাম্বার, সব থানার ঠিকানা ও ম্যাপ, ডিএমপির ফেসবুক পেজ, বস্নাড ব্যাংক, নারী সহায়তা কেন্দ্রসহ আরও অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ছিল পুলিশের মোবাইল কমান্ড সেন্টার, যা থেকে দুর্যোগকালীন করণীয় সব তথ্য জানা যাবে। এছাড়া বোমা নিয়ন্ত্রণে ছিল পুলিশের স্পেশাল রোবট, যা যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করতে পারে। পুলিশের ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন সিস্টেমের সহায়তায় ব্যবহারকারী মোবাইলের মাধ্যমেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নিবন্ধন, গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর, ট্যাক্স টোকেন, রোড পারমিট, ট্রাফিক মামলা, মোবাইলের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধসহ সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে।
এক্সপো-এইড অ্যাপ
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড উপলক্ষে অ্যান্ড্রয়িড ও আইফোনের জন্য মোবাইল অ্যাপ চালু করেছিল ডাটাবিজ সফটওয়্যার লিমিটেড। ‘এক্সপো-এইড’ নামে এই অ্যাপটি মেলা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ও দর্শনার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। অ্যাপটি ব্যবহার করে প্রদর্শনকারীদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট, ভয়েস নোট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি ধারণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ রেফারেন্সের জন্য ব্যবহারকারী ফোনে সংরক্ষণ করে রাখে। ত্রম্নটির লোকেশন ম্যাপ ব্যবহার করে মেলায় সব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

কমজগৎ ডটকমের সেবা
মেলা উপলক্ষে কমজগৎ ডটকম তাদের পোর্টালসহ অন্যান্য সার্ভিস তুলে ধরেছে। দেশের প্রথম আইটি পোর্টাল হিসেবে পরিচিত কমজগৎ ডটকম মেলায় সব ধরনের সেমিনার লাইভ স্ট্রিমিং করে।

সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড
উদ্ভাবনী প্রযুক্তি আবিষ্কারের জন্য সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড পেল ১০টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭ হাজার ১৬ টাকার ফান্ড দেয়া হয়। চারটি সরকারি, দুটি বেসরকারি, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও তিনটি ব্যক্তিপর্যায়ে অনুদান দেয়া হয়। জনগণের সেবা পাওয়া আরও সহজ করতে ও সরকারি সেবার মানোন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে ইনোভেশন প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে এই সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড দেয়া হয়।

মেলায় যত প্রদর্শনী
মোবাইল ইনোভেশন : মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপে বাংলাদেশের জয়যাত্রা তুলে ধরতে ২৫টি স্টলে সেজেছিল ‘মোবাইল ইনোভেশন’ শীর্ষক প্রদর্শনী। বাংলাদেশী ডেভেলপার কোম্পানির জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশনের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান দর্শনার্থীরা। উইন্ডোজ, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়িড প্লাটফর্মের হাজারের বেশি দেশি অ্যাপ্লিকেশন ছিল মোবাইল ইনোভেশন জোনে।
সফটএক্সপো : মেলায় বেসরকারি পর্যায়ে ২৫০টি স্টলে দেশে তৈরি বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রদর্শন করে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
ই-গভর্ন্যান্স : মেলায় ৯৫টি স্টল থেকে বিভিন্ন ই-সেবা প্রদর্শন করে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর। মূলত ই-গভর্ন্যান্স শীর্ষক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।

সেমিনার ও কর্মশালা
প্রদর্শনীর বাইরে সম্মেলনে ছিল প্রায় ৩০টি সেমিনার ও ১৪টি টেকনিক্যাল সেশন, সিইও নাইট এবং অ্যাওয়ার্ড নাইটসহ তিনটি মেগানাইট। সেমিনারের মধ্যে ব্যবসায় বিষয়ে ১৫টি, ই-গভর্ন্যান্স বিষয়ে ১২টি এবং তিনটি স্পেশাল সেশন।

আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মিলনমেলা
বিনিয়োগ আকর্ষণ ও মেধা অন্বেষণসহ তথ্যপ্রযুক্তির প্রচার, প্রকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সফল আইটি ব্যক্তিত্বদের পরিচয় করিয়ে দিতে এ মিলনমেলায় ১৫টিরও বেশি দেশ থেকে যোগ দেন ৩২ জন আইটি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আয়োজিত সেমিনার ও টেকনিক্যাল সেশনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারা। বিদেশী এসব স্পিকার ছাড়াও খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞেরাও বক্তব্য রাখেন এ সম্মেলনে।

আয়োজনে
যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বেসিস। সহযোগী হিসেবে ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প এবং বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), মোবাইল অপারেটর সংগঠন এমটব, প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা সংগঠন বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি (বিসিএস), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য), বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংবাদকর্মীদের সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৪ - জুলাই সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস