Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > নরেন্দ্র মোদির প্রথম ১০০ দিনের প্রস্তাবিত আইসিটি অ্যাকশন প্ল্যান
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মইন উদ্দীন মাহমুদ
মোট লেখা:২১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - সেপ্টেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
প্রতিবেদন
তথ্যসূত্র:
আইসিটি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
নরেন্দ্র মোদির প্রথম ১০০ দিনের প্রস্তাবিত আইসিটি অ্যাকশন প্ল্যান
যেকোনো দেশে নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে তৈরি করে এক ‘পলিসি উইন্ডো’, যা সরকারের শাসনামল যথাযথভাবে পরিচালিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সংগঠিত হতে সহায়তা করে যাবে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও সমাজের ক্রমোন্নতি হয়। বিশেষ করে যখন কোনো দেশের নতুন সরকার পায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, তখন নতুন সরকার কাঠামোয় থাকে অবারিত সুযোগ, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধনের ক্ষেত্রে। ভারতে প্রায় তিন দশক পর বিজেপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ভারতকে একটি দ্রুত ক্রমোন্নতির দেশে পরিণত করতে বিজেপি দলের প্রধান নরেন্দ্র মোদি ২৬ মে ২০১৪ কেবিনেটসহ প্রাইম মিনিস্টারস অফিস গঠনের দায়িত্ব পায়।
এ বছরের শুরুতেই অর্থাৎ নির্বাচনের আগে দিল্লিতে সাইবারমিডিয়া আইসিটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের সাথে আলাপচারিতায় জেনে নেন এ খাতের জন্য তাদের অভিমত এবং ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে তাদের পরামর্শ। সাইবারমিডিয়ার সম্পাদক অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে একটি ডকুমেন্ট তৈরি করতে সক্ষম হন, যেখানে নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রথম ১০০ দিনের ২০টি আইসিটি অ্যাকশন পয়েন্ট তুলে ধরা হয়, যা বাস্তবায়ন করতে হবে এ সরকারকে। তার ওপর ভিত্তি করে এ লেখা উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভারতের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক রেভিনিউ হবে ১৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলার, যা দেশের মোট জিডিপির ১০ শতাংশ এবং কর্মীসংখ্যা ৩৫ লাখ। উপরন্তু আইসিটি অপ্রত্যক্ষভাবে জেনারেট করে প্রায় ১ কোটি কর্মী। এ ক্ষেত্রে প্রধান কম্পোনেন্ট হলো আইটি/বিপিও এক্সপোর্ট, টেলিকম সার্ভিস, টেলিকম ইক্যুইপমেন্ট এবং ঘরোয়া আইটি সেক্টর।
মোদি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের চিহ্নিত ২০ আইসিটি অ্যাকশন পয়েন্ট
০১. উচ্চপর্যায়ে গভর্নমেন্ট-ইন্ডাস্ট্রি আইসিটি টাস্কফোর্স সেটআপ করা : গভর্নমেন্ট-ইন্ডাস্ট্রি আইসিটি টাস্কফোর্স গঠন করা, যা আইসিটি ক্রমোন্নতির জন্য গঠন করবে এক স্ট্রাকচার এবং এ ক্ষেত্রের প্রতিবন্ধকগুলো শনাক্ত করে অপসারণ করা হবে, যা ইন্ডাস্ট্রিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করবে এবং ফিরিয়ে নিয়ে আসবে এক দ্রুত উৎপাদনশীল ট্র্যাকে।
০২. ‘ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক্স মিশন’-এর জন্য স্বাধীন বাস্তবায়ন এজেন্সি সেটআপ করা : ভারতের কৌশলগত সেক্টর হিসেবে ESDM-কে রিকোগনাইজ করতে হবে; ঊঝউগ প্রায় ২৮ মিলিয়নের কর্মসংস্থান করতে পারে, যদি স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য মনোনিবেশ করা যায়। এরা গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করবে। এ লÿ্য পূরণের জন্য স্বাধীন বাস্তবায়ন এজেন্সি ‘ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক্স মিশন’ অবশ্যই সেটআপ করতে হবে।
০৩. আরঅ্যান্ডডির (R&D) দায়িত্ব নেয়া ও সহায়ক টেকনোলজির জন্য জাতীয় ইনস্টিটিউট সেটআপ করা : এ খাতে মানসম্মত সহায়ক ডিভাইসের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা ও জোগান দেয়া এবং ডিজ্যাবলদের জন্য সহায়তা ও অ্যাপ্লায়েন্স সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দেয়া। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশই ডিজ্যাবল, যারা সব সময় সব ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকা- থেকে বঞ্চিত। তাই অ্যাসিসটিভ টেকনোলজি তথা সহায়ক টেকনোলজির জন্য একটি জাতীয় গবেষণা ইনস্টিটিউট উন্নয়নের দায়িত্ব নেয়া, যা মানসম্মত সহায়ক ডিভাইসের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জোগান দেয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত এবং ডিজ্যাবল লোকদের জন্য সহায়তা ও অ্যাপ্লায়েন্সের সেটআপ নিশ্চিত করা।
০৪. ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফেকচারিং ও আইপি সৃজনশীলতার জন্য এন্টারপ্রেনারশিপ হাব সেট করা : দুঃসাহসিক নতুন কিছু বাস্তবায়ন করার জন্য দরকার বিশ্বব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশকে বোঝা এবং উপলব্ধি করা। এন্টারপ্রেনারশিপ, উদ্ভাবন এবং দ্রুত আনুপাতিক হার বাড়ানোর কার্যক্রম সাপোর্ট করার মাধ্যমে সৃষ্টি করতে হবে স্থানীয় উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ রীতি, তথা কালচার। এ ক্ষেত্রে লক্ষ থাকতে হবে গ্লোবাল ম্যানুফেকচারিং স্কেল উন্নীত করা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনকে প্রমোট করা, তথা এগিয়ে নেয়ার জন্য সৃষ্টি করতে হবে আরঅ্যান্ডডি তথা গবেষণার সংস্কৃতি। এভাবে আইপি সৃজনশীলতার জন্য ইলেকট্রনিক ম্যানুফেকচারিং হাব এবং ইনকিউবেশন সেন্টার সেটআপ করতে হবে।
০৫. আপওয়ার্ড ও ডাউনওয়ার্ড উদ্ভাবনের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক সেমিকন্ডাক্টর প্রজেক্ট : বিভিন্ন সার্ভিসের ক্ষেত্রে ভারত দারুণভাবে এগিয়ে গেলেও উদ্ভাবনের সংখ্যা খুবই কম। এখন আমাদেরকে উদ্ভাবন ও ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি (আইপি) তথা মেধাস্বত্বভিত্তিক ম্যানুফেকচারিংয়ের দিকে নজর দিতে হবে। হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেমিকন্ডাক্টরে সক্ষমতায় বিনিয়োগ করলে আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্ভাবনে আপওয়ার্ড ও ডাউনওয়ার্ডের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এদেরকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহ দিতে হবে। এটি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি তথা আইপি এবং প্যাটেন্ট পরিপূর্ণ করার জন্য প্রণোদনার স্কিমের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে ইন্ডাস্ট্রি আরঅ্যান্ডডিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়। এ ছাড়া একটি ইলেকট্রনিক্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ড সেটআপ করা উচিত।
০৬. টেলিকম শিল্প খাতে দুর্বলদেরকে আর্থিক সহায়তা দেয়া : চালু করা হয় স্পেকট্রাম ইউজেস চার্জ (SUC) ১ শতাংশ। শুধু মোবাইল টেলিকমসংশ্লিষ্ট আয় সম্পৃক্ত করার জন্য অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ (Adjusted Gross Revenue) রিডিফাইন করা এবং সার্ভিস ট্যাক্সের বিপরীতে সেট করতে হয় লাইসেন্স ফি ও এসইউসি। বাণিজ্যিক ঋণের পর্যাপ্ততা বাড়ানোর জন্য একটি টেলিকম ফাইন্যান্স কর্পোরেশন সেট করার দরকার, বিশেষ করে যেখানে ব্যাংকিং সেক্টর উপনীত হয়েছে টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির চূড়ান্ত সীমায়।
০৭. ই-কমার্সের জন্য এফডিআই পলিসি শিথিল করা : বর্তমান এফডিআই (FDI) পলিসি অনলাইন বি২সি (B2C) সেগমেন্টে কোনো বিনিয়োগ অনুমোদন করে না। এর ফলে হয় স্বদেশী কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশী মূলধন এবং বিশেষজ্ঞদের অ্যাক্সেসের সুযোগ ব্যাহত হয় অথবা প্রম্পট করে বৈধ এবং অর্গানাইজেশনাল জটিল স্ট্রাকচার।
এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল সম্ভাবনাময় এক সেক্টর। এটি এসএমই/স্টার্টআপ কোম্পানির জন্য যেমন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রদান করে, তেমনি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্যও। এর ফলে ভারতীয় এসএমইদেরকে বিশ্বব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে এবং এর সাথে সাথে বাড়াতে পারবে রফতানি। সুতরাং ই-কমার্সের জন্য এফডিআই পলিসি অবশ্যই শিথিল করা উচিত, যাতে এফডিআই এনাবল হয় বিটুসি (B2C) ই-কমার্স লাইনের সাথে বিটুবি (B2B) ই-কমার্স পলিসি।
০৮. আইএসপির লাইসেন্স ফি, এন্ট্রি ফি, ব্যাংক গ্যারান্টিসহ অন্যান্য শর্ত প্রত্যাহার করা : দেশের ক্রমোন্নতিতে ব্রডব্যান্ড অ্যাক্সেস সরাসরি দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত থাকে এবং প্রভাবিত করে শিক্ষা, হেলথকেয়ার এন্টারটেইনমেন্ট প্রোডাক্টিভিটি ও গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মকা--। ভারতে ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার ১০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ভারতে জিডিপি ১ শতাংশ বেড়েছে। যদি ভারতে ব্রডব্যান্ডের পেনিট্রেশন ১.৫ শতাংশ কম হয়, তাহলে অন্যান্য অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত পিছিয়ে পড়বে। আরও উন্নততর ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন অর্জন করতে চাইলে ভারতে এর লাইসেন্স ফি, এন্ট্রি ফি, ব্যাংক গ্র্যান্টি এবং পিউর ব্রডব্যান্ডের আইএসপির অন্যান্য শর্ত অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্রডব্যান্ড সংযোগ ৬০ কোটিতে পৌঁছাচ্ছে।
০৯. গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড অ্যাক্সেস- গ্রামে ফাইবার : ন্যাশনাল অপটিক ফাইবার নেটওয়ার্ক প্রজেক্ট মূল্যায়ন করে তা বাস্তবায়নের জন্য টাইমফ্রেম সেট করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশজুড়ে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড অ্যাক্সেসের নিশ্চয়তার মূল উপাদান হলো ফাইবার অপটিক সংযোগ। দেশব্যাপী সর্বত্রই প্রবিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট চার্জ করা।
১০. স্থানীয় প্রস্ত্ততকারকদেরকে প্রমোট করা : গ্লোবাল স্কেল তথা বিশ্বমানের ম্যানুফেকচারিংকে উন্নত করতে অফার করে ‘Throuput based’ প্রণোদনা, যাতে সস্তায় আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে স্থানীয় দুর্বল ম্যানুফেকচারিংকে উৎসাহ দিতে হবে। যেহেতু ‘Capex based’ উৎসাহ বা প্রণোদনা গ্লোবাল প্লেয়ারদেরকে আকৃষ্ট করে না।
১১. ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সের জন্য মাল্টিস্টেকহোল্ডার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা : ইন্টারনেট, সামাজিক মিডিয়া, সাইবার সিকিউরিটিসংশ্লিষ্ট বিষয় ইত্যাদি ক্রমবৃদ্ধির কারণে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ইন্টারনেট পরিচালিত হয় একটি মাল্টিলিটারেল ইন্টার-গভর্নমেন্টাল ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে। অস্পষ্ট বা কঠোর আইনে পরিচালিত হয় অনলাইন কনটেন্টের বিবেচনায়, যা এন্টারপ্রেনারদের জন্য নিরুৎসাহদায়ক। সরকার, ব্যবসায়ী, সিভিল সোসাইটি, অ্যাকাডেমিয়া, মিডিয়া প্রভৃতিসহ একটি মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ফ্রেমওয়ার্ক গঠন করা উচিত ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সের জন্য।
১২. রেট্রোস্পেকটিভ ট্যাক্সেশন রিকল করা : ব্যবসায় পরিবেশে রেট্রোস্পেকটিভ ট্যাক্সেশন সৃষ্টি করে প্রধান অনিশ্চয়তা। এটি কোনো কোম্পানির জন্য উৎসাহদায়ক বা প্রেরণাদায়ক নয়, যারা ভারতে ব্যবসায় করতে চান। এটি অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে।
১৩. জিএসটি বাস্তবায়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাট প্রত্যাহার করা : দীর্ঘদিন ধরে জিএসটির বাস্তবায়ন ঝুলে আছে। যদিও ইন্ডাস্ট্রি এটি গুটিয়ে নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু সামনে তা বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। জিএসটি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট টাইমফ্রেমের ঘোষণা জানিয়ে আসছে।
১৪. স্টার্ট আপস ও ক্ষুদ্র রফতানিকারকদের জন্য এসইজি সুবিধা সম্প্রসারণ করা : ভারতে আইটি/আইটিএস ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে ‘স্টার’ ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে বিবেচিত এবং এখনও যার ক্রমবৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে যাই হোক, এই ইন্ডাস্ট্রি খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। যেহেতু এ ক্ষেত্রে কর্মচারী সৃষ্টি করার সক্ষমতা অনেক বেশি। অন্যান্য অনেক দেশে এমনটি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
১৫. ডিজিটাল অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া : ভারতের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও কম ডিজিটাল বিপস্নবের আওতায় এসেছে। তাই বর্তমানে ভারতে ডিজিটাল বিপস্নব বা আন্দোলনকে আরও সম্প্রসারিত করতে হবে এবং মোট জনসংখ্যার অর্ধেককে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এতে ইন্ডাস্ট্রি এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র ব্যবসায় ও দেশের শহরের কিছু অংশ লাভবান হবে। সরকারচালিত প্রোগ্রাম থেকে জনগণ উপকৃত হবে, যেমন এমপস্নয়মেন্ট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি এবং ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রভৃতি। শিক্ষা এবং দক্ষতা বাড়ানো খুব দরকার, যাতে প্রতিবছর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ১০ থেকে ১২ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়। এ লÿ্য পূরণের জন্য ৮০সি সেকশনের অন্তর্গত প্রতিবছর আরও ৫০ হাজার টাকা কমিয়ে স্থানীয় প্রতিটি আইটি হার্ডওয়্যার পণ্য প্রস্ত্ততকারকদেরকে দেয়া হয়।
১৬. গভর্ন্যান্সে স্বচ্ছতা সৃষ্টি করার জন্য টেকনোলজির ব্যবহার : একটি জাতীয় উন্মুক্ত ডাটা পলিশি তৈরি করা উচিত, যা দিয়ে জনসাধারণের জন্য সরকারি ডিপার্টমেন্টের সংবেদনশীল ডাটাসেট সহজপ্রাপ্ত হবে। এটি সরকারি পাইলট প্রকল্পের সফলতা বহুলাংশে নিশ্চিত করবে।
১৭. এম-গভর্ন্যান্স অ্যাপসে উৎসাহ দেয়া : সরকারের বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা সেবা বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং স্থানীয় ভাষায় পাবলিক সার্ভিস সাধারণ জনগণের মাঝে সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্টে ইনসেনটিভের ঘোষণা দিতে হবে।
১৮. উচ্চতর শিক্ষার উদারনীতি : ২০২০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন কর্মীর অভাব পরিলক্ষিত হবে। লক্ষণীয়, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এদের মধ্যে ৪৭ মিলিয়নের বেশি হলো কর্মী বা ওয়ার্কিং গ্রুপের, যা গ্লোবাল অভাব পূরণে অনেকখানি ভূমিকা রাখতে পারবে। এই সুযোগ ভারতকে পরিণত করতে পারে গ্লোবাল ট্যালেন্ট এবং নলেজ সুপার পাওয়ার হিসেবে যদি আমাদের উচ্চতর শিক্ষা সিস্টেমকে পুনর্গঠন করা যায়।
১৯. স্পেকট্রাম ট্রেডিংয়ে ফাস্ট ট্র্র্যাক পলিসি : স্পেকট্রাম হলো জাতীয় সম্পদ, যার ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে ওঠে। এই রিসোর্সের বেশিরভাগ এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে অথবা সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে যেমন ২১০০ মেগাহার্টজ, ১৯০০ মেগাহার্টজ, ১৮০০ মেগাহার্টজ, ৮০০ মেগাহার্টজ, ৭০০ মেগাহার্টজ ও ৪.৫০ মেগাহার্টজ ব্যবহার হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে স্পেকট্রামের পর্যাপ্ততার ওপর সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং স্পেকট্রাম ট্রেডিং ও শেয়ারিংয়ের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক পলিসি প্রণয়ন করতে হবে।
২০. নেটওয়ার্ক স্টার্টআপের জন্য মূল্য নির্ধারণ সংশোধন করা : জাতীয় উন্নয়নের জন্য এন্টারপ্রেনারশিপ হলো জীবন-রক্ত, যেহেতু এটি উন্মুক্ত করে উদ্ভাবন, ক্রমবৃদ্ধির চালিকাশক্তি এবং সৃষ্টি করে নতুন নতুন কর্ম বা পেশা। প্রযুক্তিখাত দেয় এক চমৎকার সুযোগ এবং যেখানে ভারতের রয়েছে বিশেষ সুযোগ। ভারতের সংবিধানে ফিন্যান্স অ্যাক্ট ২০১৩-এর সেকশন ৫৬ (২) (vii)-এ যখন মূল বিনিয়োগে স্টার্টআপে সম্পৃক্ত করা হয়েছে ট্যাক্স তখন ইকোসিস্টেমে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই আইন খুব শিগগির সংশোধন করা দরকার বিনিয়োগের পরিশেষ সৃষ্টি করার জন্য, যা ভারতে Angel Network হিসেবে পরিচিত।
শেষ কথা
গণতান্ত্রিক বিশ্বে প্রতিটি দেশে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন লাভের আশায় নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে, যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার ছিল The Change..., শ্রীলঙ্কার নির্বাচনের ইশতেহারে ছিল The year of ICT and English learning, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের ইশতেহারে অন্যতম একটি ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ।
সম্প্রতি ভারতে নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি সাইবারমিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ইন্ডাস্ট্রি ও মিডিয়ার সাথে আলাপচারিতায় কিছু সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা ফুটে ওঠে, যেগুলো নরেন্দ্র মোদিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আমরাও চাই আগামীতে বিশেষ করে বাজেট প্রণয়নের আগে বাংলাদেশের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির সাথে যারা সংশ্লিষ্ট, তারা সম্মিলিতভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরবেন, যা ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ার সাথে সাথে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট হবে, যার ফলে উপকৃত হবে দেশের সর্বসাধারণ

ফিডব্যাক : mahmood@comjagat.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৪ - সেপ্টেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস