Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের বিকল্প ওয়ার্ড প্রসেসর
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: লুৎফুন্নেছা রহমান
মোট লেখা:১৩৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মাইক্রোসফট
তথ্যসূত্র:
সফটওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের বিকল্প ওয়ার্ড প্রসেসর

মাইক্রোসফটের ওয়ার্ড প্রসেসর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জগতে। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় এবং সবাই ব্যবহার করে। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড প্রসেসর সফটওয়্যারটি ফ্রি না হওয়ায়  বৈধ ব্যবহারকারীকে বেশ ব্যয় বহন করতে হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এ ওয়ার্ড প্রসেসরটির পাইরেটেড কপি বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে, যা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

অনেক ব্যবহারকারী আছেন, যারা পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান না, এমনকি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডও নয়। তাদের জন্য বিকল্প এবং ফ্রি কিছু ওয়ার্ড প্রসেসর তুলে ধরার প্রয়াসে এ লেখার অবতারণা। এসব ওয়ার্ড প্রসেসর সর্বব্যাপী এবং জনপ্রিয় .ফড়বী ফরম্যাটে কাজ করতে পারে এবং এগুলো খুব প্রয়োজনীয় কিছু ফিচার সংবলিত। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের অনলাইন ভার্সনটি ফ্রি রেখেছে, তবে এটি কিছুটা সীমিত ফিচার সংবলিত। যদি আপনি নীল বক্সের বাইরে অর্থাৎ মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের বাইরে অন্য কিছু চান, তাহলে বিকল্প হিসেবে নিচে বর্ণিত পাঁচটি অপশনের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

০১. লিব্রে অফিস (উইন্ডোজ, ম্যাক ওএসএক্স, লিনআক্স) : যদি আপনি ওয়ার্ড প্রসেসরের কাঠামোয় পুরোপুরি, নির্ভরশীল ডেস্কটপ টুলের খোঁজ করেন, সে ক্ষেত্রে সেরা অপশন হিসেবে বেছে নিতে পারেন লিব্রে অফিস (Libre Office) নামের টুল। এই টুলের রাইটার কম্পোনেন্টটি মাইক্রোসফট প্রোগ্রামের প্রতিস্থাপনের চেয়ে বেশি কিছু বলা যেতে পারে, যদিও এর বাহ্যিক রূপ পুরনো ধাঁচের। এতে ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় সব ফিচারই যেমন- অটো সেভ, চেঞ্জ ট্র্যাকি এবং কমেন্ট করার ফিচার রয়েছে। বিশেষ করে যদি আপনি মাইক্রোসফট পণ্যের পুরনো ভার্সনের কাজ করে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার কাছে মনে হবে আপনি আগের অবস্থানেই কাজ করছেন।

এই সফটওয়্যার লুকটি পরিষ্কার। এর ক্যুইক অ্যাক্সেস টুলবারে এডিটিং এবং ফরম্যাটিং ফিচার খুব স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড বা সরাসরি। ওয়ার্ড ডকুমেন্ট ইমপোর্ট এবং এক্সপোর্ট করার কাজটি চমৎকারভাবে সম্পন্ন করা যায়, যদিও সবসময় এ কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যায় না। ডকুমেন্টকে পিডিএফ হিসেবে এক্সপোর্ট করার অপশনও রয়েছে। প্রথাগত সব ওয়ার্ড প্রসেসরের প্রধান অবলম্বন স্পেলিং এবং গ্রামার চেক থেকে শুরু করে হেডার অ্যান্ড ফুটার সাপোর্ট ইত্যাদি সবই পাওয়া যায় লিব্রে অফিসে।

লিব্রে অফিসে কিছু বেসিক উইজার্ড রয়েছে, যা দিয়ে তৈরি করতে পারবেন স্ট্যান্ডার্ড চিঠি, এজেন্ডা ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। এর অটো কমপ্লিট ফিচার অনেক ব্যবহারকারীর কাছে খুবই সহায়ক ফিচার হিসেবে বিবেচিত। লিব্রে অফিসে অধিকতর জটিল ডকুমেন্ট হ্যান্ডেল করা যায় আত্মবিশ্বাসের সাথে। এ টুলে শুধু উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ফিচার খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেমন- ফরম্যাট পেইন্টার ফাংশনালিটি, যা মাইক্রোসফট অফিসে বিল্টইন। লিব্রে অফিস চার বছর আগে ওপেন অফিস থেকে আলাদা হয়ে যায়। পরবর্তী পর্যায়ে অ্যাপাচি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন এর দায়িত্ব নেয়।

০২. গুগল ড্রাইভ (ওয়েব) : গুগল ড্রাইভ/ডকস সবসময় উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। ফলে মাইক্রোসফট এক প্রচ- প্রতিযোগিতা অনুভব করছে। এর ফলে মাইক্রোসফট তার নিজস্ব ফ্রি ওয়েবভিত্তিক স্যুট তৈরির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে গুগলের কঠোর প্রচেষ্টা মনে হয় অধিকতর সংজ্ঞামূলক এবং এগুলো মাইক্রোসফটের অ্যাপের চেয়ে ওয়েবেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময়, যেহেতু বিদ্যমান সফটওয়্যার সঙ্গতিপ্রবণতার পরিবর্তে অনলাইন টুল হিসেবে তৈরি করা হয়। বর্তমানে ক্যুইক অফিস (Quick Office) গুগল ডকসের সাথে মার্জ করা হয়েছে। ফলে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে ওয়ার্ড ফাইল ও ওপেন এবং এডিট করা যায় অনেক সহজে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবওয়র সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

ক্লাউড অ্যাপ ব্যবহার করলে সচরাচর সুবিধাই হয়। যেহেতু যেকোনো জায়গা থেকে ফাইলে অ্যাক্সেস করা যায়। ডকুমেন্ট সেভ করা দরকার হয় না এবং অন্যদের সাথে একযোগে কাজ করা যায় রিয়েল টাইমে। ফিচারের বিবেচনা ওয়ার্ডের ডেস্কটপ এডিশনের চেয়ে এটি অনেক বেশি হাল্কা। সুতরাং, অ্যাডভান্স লেআউটের আশা না করাই ভালো অথবা অনলাইন অ্যাপ ব্যবহার করে মেইল মার্জের প্রত্যাশা না করাই ভালো।

লাইটওয়েট অ্যাপ্রোচে রয়েছে নিজস্ব সুবিধা : ড্রাইভের ওয়ার্ড প্রসেসর দ্রুতগতির এবং সহজে ব্যবহার করা যায়। এর কিছু সেরা ফিচার হলো- আলাদা সাইড বার, ওয়েবে রিসার্চ টপিকস, যা মাইক্রোসফটের ওয়ার্ড প্রসেসরের সেকেলের অনুভূতি দেবে। যারা ওয়েবে প্রচুর সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য গুগলের সফটওয়্যার অনেক বেশি প্রাকৃতিক মনে হবে। তবে অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীর কাছে কিছুটা সমস্যাকর মনে হবে।

০৩. অ্যাবিওয়ার্ড (উইন্ডোজ লিনআক্স) : সাধারণত অফিস স্যুট ছাড়া স্বাধীন ওয়ার্ড প্রসেসর খুব কমই খুঁজে পাবেন। অ্যাবিওয়ার্ড (Abiword) ২০০৪ সালে সর্বশেষ যে আপডেট করে, বর্তমানে দেখতে তেমনই মনে হবে। তবে ডেস্কটপ ওয়ার্ড প্রসেসর থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা তার জন্য প্রয়োজনীয় যেসব সুবিধা পেয়ে থাকেন, অ্যাবিওয়ার্ড থেকে তার সবকিছুই পাওয়া যাবে। সম্প্রতি এতে যুক্ত করা হয়েছে একটি অনলাইন কম্পোনেন্ট, যাকে অ্যাবিকোলল্যাব (AbiCollab) বলা হয়। অ্যাবিকোলল্যাব ডকুমেন্টকে সহজেই ওয়েবে স্টোর করার এবং অন্য ব্যবহারকারীদের সহযোগে কাজ করার সুযোগ দেবে।

নির্দিষ্ট ওয়ার্ড্র প্রসেসর প্রোগ্রামের জন্য অ্যাবিওয়ার্ডের লিস্ট পড়া যায় চেকলিস্টের মতো, যেমন- স্পেলিং অ্যান্ড গ্রামার চেকিং, হেডার অ্যান্ড ফুটার, টেবল অ্যান্ড কলাম সাপোর্ট, টেম্পলেট, ফুটনোট ইত্যাদি অনেক ফিচার। এখানে স্ট্যান্ডার্ড ক্যারেক্টার এবং প্যারাগ্রাফ ফরম্যাটিংয়ের সব অপশন পাবেন, যাতে আপনার কাঙিক্ষত উপায়ে ডকুমেন্টকে দেখতে পরাবেন।

এই অ্যাপ্লিকেশনটি বেশ কম্প্যাক্ট এবং পুরনো ধীরগতির সিস্টেমের তুলনায় এটি ভালোই কাজ করবে। সফটওয়্যারকে অ্যানহেন্স করার জন্য ওয়েবে বেশ কিছু প্লাগইন রয়েছে। অ্যাবিওয়ার্ড কোডে যুক্ত হওয়া অন্যতম নতুন ফিচার হলো টিকা যুক্ত করার সক্ষমতা। যদি আপনি ফ্রি ওয়ার্ড প্রসেসর চান অথচ বিরক্তিকর অফিস বান্ডেল স্যুট চান না, সে ক্ষেত্রে সেরা অপশন হতে পারে অ্যাবিওয়ার্ড। এটি তেমন আকর্ষণীয় অন্যান্য লুকবিশিষ্ট আধুনিক অপশনের তুলনায়। তারপর এটি ব্যবহার করা যেতে পারে, কেননা এটি ঝামেলামুক্তভাবে কাজ করতে পারে।

০৪. জোহো ডকস (ওয়েব) : গুগলের অনলাইন অফিস স্যুটের মতো জোহো ডকস তেমন সুপরিচিত নয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কর্মক্ষম। ওয়ার্ড প্রসেসরের মতো আপনি পাবেন ফিন্যান্স এইচআর এবং কাস্টোমার সাপোর্ট টুল, যা একে পরিণত করেছে অল ইন ওয়ান বিজনেস সলিউশন হিসেবে। এটি ব্রাউজার জুড়ে রান করতে পারে। পার্সোনাল ব্যবহারকারীরা ৫ গিগাবাইট ফ্রি স্টোরেজ স্পেস পাবেন। ওয়ার্ড প্রসেসরের ইন্টারফেসটি ক্লিয়ার এবং সহায়ক ইন্টারফেস সংবলিত, যা ম্যানেজ হয় ওয়ার্ড স্টাইল ট্যাবড মেনুর মাধ্যমে। ফলে ব্যবহারকারীর কাছে ডেস্কটপ প্রোগ্রামের মতো মনে হবে। তবে দুঃখজনকভাবে তেমন ব্যাপক বিসত্মৃত গুগল ওয়েবফন্ট পাবেন না, যেমনটি এর প্রতিদ্বন্দ্বীরা অফার করছে। তবে এখানে কিছু সিলেকশন রয়েছে, যা বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

ব্যবহারকারী সেভ করা ডকুমেন্টকে ডকস ফরম্যাটে ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট করতে পারবেন। যেখানে ডকুমেন্ট সহযোগে কাজ করা এবং রিভিউয়িংয়ে পরিবর্তন সংজ্ঞামূলক ও ঝামেলামুক্ত। যদি মেইল মার্জ ফিচার আপনার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হয়ে থাকে, তাহলে জোহো ডকস তা খুব সহজেই হ্যান্ডেল করতে পারবে। ইমেজ, ট্যাবল, সিম্বলস, শেপ, লিঙ্কস ইউটিউব ক্লিপ এবং ডকুমেন্ট মেটাডাটা ইত্যাদি সব কিছু প্রয়োজন মতো ব্যবহারকারীর ডকুমেন্টে ড্রপ করা যাবে।

গুগলের অন্যান্য পণ্য এবং এর মোবাইল অ্যাপ সহযোগে গুগল ড্রাইভ অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জগতে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে জোহো ডকস আরও অনেক কিছু অফার করে। বিশেষ করে যদি আপনি ক্ষুদ্র ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন এবং সৌজন্যমূলক টুল স্যুটে পূর্ণ অ্যাক্সেসের সুবিধা প্রত্যাশ করেন সে ক্ষেত্রে। এখানে ডেস্কটপ সিঙ্ক টুলও পাবেন ম্যাকে বা উইন্ডোজে ইনস্টল করার জন্য, যাতে খুব সহজেই ক্লাউড থেকে ফাইল পেতে পারেন।

০৫. স্ক্রিবাস (উইন্ডোজ ম্যাক ওএস এক্স, লিনআক্স) : অফিসিয়ালি স্ক্রিবাস হলো ডেস্কটপ পাবলিশিং প্যাকেজ। তবে এ লেখায় উপস্থাপন করা হয়েছে একটি ফ্রি অপশন হিসেবে। যারা ওয়ার্ডের প্রতিস্থাপন চান অধিকতর অ্যাডভান্স লেআউটের জন্য, যেমন- পোস্টার, ফ্লায়ার, নিউজলেটার ইত্যাদি। কোনো ঝামেলা ছাড়া প্রচুর, ফিচার প্যাক করার ক্ষেত্রে এটি চমৎকারভাবে কাজ করে, যদি স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কফ্লোতে অভ্যস্ত হতে কিছু বেশ সময় নেয়।

ডিটিপিতে মাইন্ড সেটআপ করার পর আপনাকে একটি টেক্সট বক্স তৈরি করতে হবে কোনো কাজ শুরু করার আগে। এর ফলে খুব শিগগির স্ক্রিবাসের কর্মক্ষমতা বুঝতে পারবেন। এই অ্যাপ্লিকেশনে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয় না , বিশেষ করে টেবলে, বাজে শেপের সিলেকশন বক্সে এবং অবজেক্টের চারদিকে টেক্সট ফ্লো করার ক্ষেত্রে। তবে আপনি স্ক্রিবাসে কিছু কিছু স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্ড প্রসেসর ফিচার খুঁজে পাবেন না, যেমন- আউটলাইন ও টেবল কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে।

ইতোপুর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, এ লেখা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের বিকল্প ওয়ার্ড প্রসেসরকেন্দ্রিক, বিশেষ করে যারা তাদের লেআউটে সৃজনশীল। আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন একটি স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্ড প্রসেসর হিসেবে। তবে এজন্য আপনাকে চালু করতে হবে Story Editor মডিউল, যাতে বেশিরভাগ ফরম্যাটিং এবং প্যারাগ্রাফ স্টাইলে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। যদি এভাবে কাজ করতে না চান, তাহলে স্ক্রিবাসের অন্যান্য অপশন বিবেচনায় নিতে পারেন। স্ক্রিবাস প্রথম অবমুক্ত হয় ১০ বছর আগে। এই টুলকে অ্যাডোবি ইনডিজাইন বা কোয়ার্ক এক্সপ্রেসের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। টেক্সটকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড থেকে ইমপোর্ট করা যায়, তবে অন্য ডিরেকশনে এক্সপোর্ট করা যায় না

ফিডব্যাক : swapan52002@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস