Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > কী থাকছে নতুন আইফোনে
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মেহেদী হাসান
মোট লেখা:২৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
মোবাইলপ্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
কী থাকছে নতুন আইফোনে
মোবাইল ফোনের আবিষ্কার নতুন নয়। স্মার্টফোনের শুরুটাও প্রায় দুই দশক আগে। তবে স্মার্টফোনকে মানুষের কাছে নতুন করে চিনিয়েছে এবং স্মার্টফোনের নতুন সংজ্ঞা, নতুন স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ ইত্যাদি সবই করেছে অ্যাপল। ২০০৭ সালে বাজারে ছাড়া এদের প্রথম আইফোন জনমনে এতটাই আগ্রহের সৃষ্টি করেছিল যে প্রতিটি নতুন আইফোন বাজারে আসার আগে তা কেমন হবে, কী কী সুবিধা থাকবে, নতুন কী থাকছে- তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়। মানুষ খুব আগ্রহ নিয়ে আইফোনের নতুন সংস্করণ বাজারে আসার দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিল। প্রথম সুযোগেই আইফোনটি হাতে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এবারও কিন্তু এর ব্যতিক্রম হয়নি। গত মাসের ৯ তারিখে অ্যাপল তাদের বহু কাঙিক্ষত আইফোনের নতুন সংস্করণ প্রকাশ করে। এবার দু’টি সংস্করণে আইফোন বাজারে এসেছে- আইফোন ৬ ও আইফোন ৬ পস্নাস। রীতি অনুযায়ী একই দিনে আইফোনের জন্য নতুন অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ৮ প্রকাশ করেছে অ্যাপল। এ লেখায় গত মাসের ৯ তারিখে উন্মোচিত হওয়া অ্যাপলের নতুন দু’টি আইফোন ও নতুন অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

নতুন আইফোনে যা আছে

আইফোনের দুটি নতুন সংস্করণে প্রথমে যা চোখে পড়ে তা এর বড় পর্দা ও বড় আকার। নকশার ধারাতেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। সুবিধাদি অনেকটা আগের মতো থাকলেও পারফরম্যান্সে বেশ উন্নয়ন দেখা যায়। মোটকথা নতুন আইফোনে নতুন অনেক কিছুই আছে। কিন্তু আমাদের দেশের বাজার একরকম অ্যান্ড্রয়িড শাসিত। আর অ্যান্ড্রয়িডে বড় পর্দা, নকশার ভিন্নতা, পারফরম্যান্স- কোনোটাই নতুন নয়। অ্যাপলের নতুন সংস্করণ আমাদের বাজারে কতটা আগ্রহের সৃষ্টি করে, তাই এখন দেখার বিষয়।

নকশা

বছরের পর বছর ধরে আমরা অনেকটা একই ধরনের আইফোন দেখে এসেছি। নকশায় খুব একটা তারতম্য দেখা যায়নি। অনেক সময় তো শুধু আকারের পরিবর্তন হয়েছে, বাকি সব একই ছিল। সেই গ-- পেরিয়ে এবার বেরিয়ে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের নকশা দেখা গেছে। বেশ পাতলা, সহজে ব্যবহার করা যায়, বিশেষ করে আইফোন ৬। মেটাল বডি যদিও নতুন কিছু নয়, তবে বাঁকানো কোণগুলোর জন্য একে আরও বেশি পাতলা মনে হয়। পর্দার ওপরের কাঁচের ধারগুলো বেশ যত্নের সাথে হালকা বাঁকা করে কিছুটা গোলাকার আকৃতি দেয়া হয়েছে। আর পাওয়ার বোতামটি অ্যান্ড্রয়িড ফোনের মতো ডান পাশে রাখা হয়েছে। তবে ওপরে ও নিচের দিকে পর্দার পরে অনেকটা জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে। ৪.৭ ইঞ্চি পর্দার আইফোন ৬ কিংবা বড় পর্দার আইফোন ৬ পস্নাস আরও কিছুটা কমপ্যাক্ট করা সম্ভব ছিল বলে মনে হতেই পারে। অবশ্য নিচের দিকে হোম বাটনে আঙুলের ছাপ নির্ণয়ের সুবিধা ‘টাচ আইডি’ থাকায় সে জায়গাটা কিছুটা ফাঁকা রাখা হয়েছে। সে যাই হোক, এক হাতে ব্যবহারের জন্য আইফোন ৬ আদর্শ একটি ফোন। আইফোন ৬ উচ্চতায় ৫.৪৪ ইঞ্চি, প্রস্থে ২.৬৪ ইঞ্চি ও ০.২৭ ইঞ্চি পুরু। অপরদিকে কিছুটা বড় আকারের আইফোন ৬ পস্নাস উচ্চতায় ৬.২২ ইঞ্চি, প্রস্থে ৩.০৬ ইঞ্চি ও ০.২৮ ইঞ্চি পুরু।

পর্দা

আগেই বলা হয়েছে, নতুন আইফোনে বড় পর্দা একটি নতুন চমক। আইফোন ৬-এর ৪.৭ ইঞ্চি ও আইফোন ৬ পস্নাসের ৫.৫ ইঞ্চি পর্দা মোটামুটি সব কাজের জন্য বেশ উপযুক্ত। যদিও বাজারে বড় পর্দার শত শত স্মার্টফোন পাওয়া যায়। কিন্তু আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটা নতুন চমক। আইফোনের পর্দার মান বরাবরই চমৎকার। নতুন সংস্করণেও সে ধারা বজায় রাখা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে প্রকাশ করা হলেও এ লেখার সময় পর্যন্ত অ্যাপল ছাড়া অন্য কোনো পক্ষের কাছ থেকে পর্দার মানের ওপর বিস্তারিত কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এদিকে বাংলাদেশে নতুন ফোনটি আসতে কিছুটা সময়ও লাগবে। তাই পর্দার মান সম্পর্কে সবিস্তারে জানানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আইফোন ৬-এর ১৩৪৪ বাই ৭৫০ পিক্সেলের ‘রেটিনা এইচডি’ পর্দার ছবির মান ছিল চমৎকার। ১০৮০ বাই ১৯৮০ পিক্সেল পর্দার আইফোন ৬ পস্নাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আইফোনে ৪-এ প্রতি পৃষ্ঠায় ২০টি আইকন দেখা যেত, ৫-এর সংস্করণগুলোতে দেখা গেছে ২৪টি করে, ৬-এর সংস্করণগুলোতে এক সারি বেশি আইকন দেখা যাওয়ায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮-এ। পর্দা বড় হওয়ায় পিক্সেলের পরিমাণ বেড়েছে, তবে ওয়েবপেজ দেখা কিংবা আগের অ্যাপ ব্যবহারে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে অনেকের মতে, বর্তমান সময়ের স্মার্টফোন হিসেবে আইফোন ৬-এর পর্দায় আরও বেশি পিক্সেল থাকা উচিত ছিল। সর্বোপরি, আইফোন ৫এস কিংবা আরও আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় আইফোন ৬-এর পর্দা বেশ উন্নত।

পারফরম্যান্স

যদিও আইফোন ৬ প্রকাশের সময় অ্যাপলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আইফোন ৬ আগের আইফোনের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি দ্রুতগতির এবং ৫০ শতাংশ দ্রুত গ্রাফিক্স রেন্ডার করতে পারে। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। আগের আইফোনের অ্যাপল এ৭ প্রসেসরের তুলনায় নতুন এ৮ প্রসেসর খুব একটা উন্নত কিছু নয়। বরং সেই একই ৬৪ বিট ডুয়াল কোর প্রসেসর। তবে আগের ১.৩ গিগাহার্টজের বদলে কিছুটা উন্নত ১.৪ গিগাহার্টজ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স তুলনা করা

যায় বেঞ্চমার্ক টেস্ট করে। সিনেট ডটকম বিভিন্ন বেঞ্চমার্ক অ্যাপ দিয়ে আইফোন ৬ এবং অন্য সেরা ফোনগুলোর বেঞ্চমার্ক টেস্টের ফলাফলের মাঝে তুলনা করে দেখিয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, কিছু টেস্টে নতুন দু’টি আইফোন অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা এগিয়ে আছে, কোথাও মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে। সোজা কথায়, আমাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স যতটা ভালো হওয়া দরকার, নতুন আইফোনের পারফরম্যান্স তারচেয়েও অনেক বেশি উন্নত। আগের তুলনায় নাটকীয়ভাবে এগিয়ে না থাকলেও উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান বজায় রেখেছে নতুন আইফোনগুলো। মোটামুটি সব অ্যাপ ও গেম বেশ ভালোভাবেই চালানো যাচ্ছে। আগের তুলনায় বেশি গতির ওয়াইফাই সুবিধা যোগ করা হলেও তা আমাদের দেশে তেমন কোনো কাজে লাগবে না। ফোরজি নেটওয়ার্কের উন্নয়ন করা হলেও একই কথা প্রযোজ্য। আমাদের দেশে এখনও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু না হওয়ায় তা কাজে লাগছে না। আগের আইফোনের তুলনায় ফোনকলের গুণগত মান কিছুটা উন্নত করা হয়েছে।

ক্যামেরা

আইফোনের ক্যামেরার কাছে মানুষের অনেক কিছু চাওয়ার থাকে। সবাই আশা করে, প্রতিবছর আরও অনেক বেশি উন্নত ক্যামেরা আইফোনে যুক্ত হবে। তবে বছরের পর বছর ধরে আইফোনে সেই ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দেখা যাচ্ছে। নতুন দু’টি আইফোনেও তাই দেখা গেছে। তবে পিক্সেলের পরিমাণ আর ছবির গুণগত মান কিন্তু ভিন্ন জিনিস। আইফোনের আইসাইট ক্যামেরার ছবির মান বেশ উন্নত। কম আলোয় তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো ছবি তুলতে পারে। আইফোন ৬-এ অটো ফোকাস বেশ উন্নত করা হয়েছে। অর্থাৎ, আপনি খুব দ্রুত পরিষ্কার ছবি তুলতে পারবেন। ব্যাক ক্যামেরার মতো ফ্রন্ট ক্যামেরাও আগের মতো ১.২ মেগাপিক্সেল, যা যথেষ্ট। এলইডি ফ্ল্যাশ এবং সাফায়ার লেন্স চমৎকার কাজ করে, যা আগেও ছিল। নতুন আইফোনের ক্যামেরায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন এর ভিডিওর মান। সহজে ফোকাস করা যায় এবং কম্পমান বস্ত্তর ছবির মান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। একই সাথে ভিডিও এবং স্থিরচিত্র ধারণ করা যায়। ফুল এইচডি ফরম্যাটে প্রতি সেকেন্ডে ৬০ ফ্রেমরেট এবং এইচডি ফরম্যাটে সেকেন্ডে ২৪০ ফ্রেমরেটে ভিডিও ধারণ করা যায়, যা একটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরার জন্য বিস্ময়কর। প্যানোরোমা মোডে ৪৩ মেগাপিক্সেলের স্পষ্ট ছবি তোলা যায় আইফোন ৬ দিয়ে। বার্স্ট মোডে একসাথে অনেক ছবি তোলা যায় এবং সবচেয়ে ভালোটি রেখে বাকিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা যায়। ব্যাক ক্যামেরার জন্য এই সুবিধা আগে থাকলেও এবার নতুন করে ফ্রন্ট ক্যামেরায় যুক্ত করা হয়েছে। সেলফিপ্রেমীদের জন্য নিশ্চয় আনন্দের বিষয়। মোটকথা, আগের তুলনায় ক্যামেরার মান বেশ উন্নত হয়েছে।

অ্যাপল পে

প্রথমবারের মতো আইফোনে নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা এনএফসিভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম অ্যাপল পে চালু হতে যাচ্ছে। চলতি মাসে এই সুবিধা আমেরিকায় চালু হবে বলে জানা গেছে। এটি অনেকটা মোবাইল ওয়ালেটের মতো। ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা অনুরূপ অন্য কোনো মাধ্যম থেকে বিভিন্ন জায়গায় সহজে মূল্য পরিশোধ করা যাবে। নিরাপত্তা হিসেবে টাচ আইডির মাধ্যমে আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে দেখবে আইফোন। তবে অ্যাপল পে ছাড়া অন্য কোনো অ্যাপে এনএফসি ব্যবহার করা যাবে না।

অন্যান্য সুবিধা

১৬ ও ৬৪ গিগাবাইটের পাশাপাশি এবার ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজের আইফোন বাজারে ছেড়েছে অ্যাপল। তবে এতে পকেটের বেশ টাকাও বেরিয়ে যাবে। আর অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য আইক্লাউডে ১০ গিগাবাইট পর্যন্ত ক্লাউড স্টোরেজ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। আইফোন ৬-এর ১৮১০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি আগের আইফোনের চেয়ে খুব একটা ভালো সেবা না দিলেও আইফোন ৬ পস্নাসের ব্যাটারিতে চার্জ বেশি থাকছে। স্মার্টফোনটি বড় হওয়ায় ব্যাটারি বড় করা সম্ভব হয়েছে। আবার পর্দা বড় হওয়ায় চার্জও খরচ হচ্ছে বেশি। র‌্যাম আগের মতো ১ গিগাবাইট থাকছে। সোনালী, রুপালি ও ধূসর- এ তিন রংয়ে আইফোন পাওয়া যাবে।

স্থায়িত্ব

সম্প্রতি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ড্রপ টেস্টের মতো কিছু পরীক্ষা করে দেখানো হচ্ছে। এতে বিভিন্ন উচ্চতা থেকে বিভিন্ন দিক করে আইফোন ফেলে দিয়ে দেখা হয় ভাঙে কি না। এতে দেখা যায় কোমর-উচ্চতা থেকে আইফোনের সামনের দিকে মাটিতে পড়লে কাঁচ ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। তবে অন্যদিকে পড়লে খুব একটা ক্ষতি হচ্ছে না। সম্প্রতি এটাও শোনা যাচ্ছে, পকেটের মাঝে বেশি চাপে অনেক সময় নতুন আইফোন, বিশেষ করে আইফোন ৬ পস্নাস বাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

বাজারে অনেক বেশি সুবিধার অন্যান্য স্মার্টফোন পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোরই মান ভালো। তবে অ্যাপল আইফোনের এমন কিছু স্বতন্ত্র সুবিধা আছে, যা মানুষকে সবসময় আইফোনের প্রতি আকৃষ্ট করে। ব্র্যান্ড ভ্যালু এর মাঝে পড়ে। এ ছাড়া নকশা, সুবিধা, চমৎকার পর্দা বা ক্যামেরা- সব মিলিয়ে অনেকেই তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রাখেন আইফোন

নতুন অপারেটিং সিস্টেম : আইওএস ৮

আইফোনের নতুন অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ৮ দেখতে অনেকটা আইওএস ৭-এর মতো হলেও বেশ কিছু নতুন সুবিধা যোগ করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করা যাবে আইফোন ৪এস ও পরবর্তী সংস্করণগুলোতে, আইপ্যাড ২ ও পরবর্তী সংস্করণগুলোতে, আইপ্যাড এয়ার, আইপ্যাড মিনি, আইপ্যাড মিনি উইথ রেটিনা ডিসপ্লে এবং পঞ্চম প্রজন্মের আইপড টাচে। নিচে নতুন আইওএসের কিছু নতুন সুবিধা দেয়া হলো।

০১. আইফোনে অন্য কোনো অ্যাপ থাকলেও এসএমএস, ই-মেইল, রিমাইন্ডার কিংবা অন্যান্য কিছুর উত্তর দেয়া আগের চেয়ে সহজ। কারণ, পর্দার ওপরের দিকে নোটিফিকেশন দিয়ে জিজ্ঞেস করে আপনি এখন উত্তর দেবেন কি না। অ্যান্ড্রয়িডে ফেসবুকের মতো অ্যাপে থাকা অবস্থায় কল ছাড়া অন্য কিছুর রিপস্নাই দেয়া যায় না।

০২. এখন আপনি দেখতে পারবেন কোন অ্যাপ ব্যাটারি খরচ করছে বেশি। প্রয়োজন অনুযায়ী সে অ্যাপ বন্ধ করে দিতে পারেন। আগে এর জন্য আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করতে হতো।

০৩. আগে সবসময় আইওএসের কিবোর্ড ব্যবহার করতে হতো। নতুন অপারেটিং সিস্টেমে থার্ডপার্টি কিবোর্ড অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।

০৪. ক্যামেরা টাইমার যুক্ত করায় এখন আপনি সেলফি তুলতে পারবেন বেশ সহজে। ৩ বা ১০ সেকেন্ড সময় নির্ধারণ করে দিয়ে সবার ছবি একসাথে তুলতে পারবেন অনায়াসে।

০৫. আগের আইওএসগুলোতে ল্যান্ডস্কেপ মোডে পড়া যেত, ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা যেত, কিন্তু হোম স্ক্রিনে কোনো পরিবর্তন হতো না। আইওএস ৮-এ হোম স্ক্রিন ও ল্যান্ডস্কেপ দেখা যাবে।

০৬. হোম বাটনে দুইবার চাপ দিলে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলো যেমন দেখাবে, ওপরের দিকে সম্প্রতি কল করা নামগুলো যেখান থেকে সহজেই তাদের আবার কল করতে পারবেন। আইফোনে এক হাতে মোটামুটি সব কাজ করা যায়। তবে হোম স্ক্রিনে হোম বাটনে দুইবার চাপ দিলে পর্দার ওপরের দিকের আইকনগুলো অর্ধেক নেমে আসবে।

০৭. কাউকে ই-মেইল করার সময় কিংবা ই-মেইল পেলে তার ই-মেইল ঠিকানা পর্দার ওপরের দিকে দেখায়। চাইলে সেখান থেকে তাদের অ্যাড্রেস বুকে যোগ করতে পারেন, বাদও দিতে পারেন।

০৮. মাল্টি-উইন্ডো ই-মেইল সুবিধা যোগ করা হয়েছে আইওএস ৮-এ। এখন আর আগের মতো একটি ই-মেইল বন্ধ করে আরেকটি চালু করতে হবে না। বরং ইচ্ছেমতো ই-মেইল উইন্ডো পরিবর্তন করে দেখতে পারবেন। আগে ই-মেইল ডিলিট করার জন্য ছোট ডিলিট বোতামে চাপ দিতে হতো। এখন ডান থেকে বামে টেনে ছেড়ে দিলেই তা মুছে যাবে।

০৯. স্পটলাইট সুবিধা আগেও ছিল, যা ওপর থেকে নিচের দিকে টেনে আনলে দেখাত। তবে এখন সেখানে সার্চ অপশন যোগ করা হয়েছে। আপনি চাইলে নিজের ডিভাইসে খুঁজে দেখতে পারেন। পাশাপাশি উইকিপিডিয়া বা ইন্টারনেট থেকে কিংবা আশপাশের হোটেল বা অনুরূপ কিছু দেখাবে সেখানে।

১০. টেক্সট মেসেজের সাথে এখন আপনি ভয়েস মেসেজ পাঠাতে পারবেন। অপরদিকে নিজের অবস্থান জানানো সহজ হয়েছে। মনে করুন, কোনো বন্ধুর সাথে দেখা করবেন। আপনি আপনার লোকেশন পাঠিয়ে দিলে সে ম্যাপে তা দেখে সহজেই আপনাকে খুঁজে বের করতে পারবে।

১১. চুরি, ব্যাটারি ফুরিয়ে যাওয়া কিংবা এ ধরনের আরও অনেক কারণে ফোন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে আইক্লাউড থেকে আপনার আইফোনের সর্বশেষ অবস্থান জানতে পারবেন।

১২. আইটিউনস, আইবুক কিংবা অ্যাপস্টোর থেকে কোনো কিছু কিনলে এখন পূর্বনির্ধারিত ৬ জন পরিবার সদস্যের মাঝে তা বিনামূল্যে শেয়ার করা যাবে।

এ ছাড়া নতুন আইওএসে আরও বেশ কিছু সুবিধা এবং আগে থেকে ইনস্টল করা অ্যাপ রয়েছে, যা বেশ কাজের।

ফিডব্যাক : m_hasan@ovi.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস