Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > আইবিসিএস-প্রাইমেক্স হবে ‘ওয়ান স্টপ আইসিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সোহেল রানা
মোট লেখা:৪০
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
শিক্ষা
তথ্যসূত্র:
আলাপচারিতা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
আইবিসিএস-প্রাইমেক্স হবে ‘ওয়ান স্টপ আইসিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’
আইবিসিএস-প্রাইমেক্স সফটওয়্যার (বাংলাদেশ) লিমিটেড দেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ২৫ বছর পূর্ণ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রফেশনালদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি দেশসেরা এবং বিশ্বেও পরিচিত। আইবিসিএস-প্রাইমেক্সের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে কমপিউটার জগৎ-এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (শিক্ষা) কাজী আশিকুর রহমান।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল রানা।

কমপিউটার জগৎ : আইবিসিএস-প্রাইমেক্সের ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেশন কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।

কাজী আশিকুর রহমান : আমরা আইসিটি নিয়ে নানা ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেশন কোর্স করিয়ে থাকি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ওরাকলের অথরাইজড ওরাকল ১০জি/ডিবিএ, ডেভেলপার, জাভা ভেন্ডর সার্টিফিকেশন, ১১ম Performance Tuning, RAC, Data Guard Administration and Oracle Database 12c। এছাড়া ওরাকলের প্রায় ১৩০০+ কোর্স রয়েছে, যা বাংলাদেশে একমাত্র আইবিসিএস করাতে সক্ষম। কমপিউটার সিকিউরিটির অথরাইজড বডি ইসি কাউন্সিলের অধীন Certified Ethical Hacker (CEH), ECSA & CHFI এই ট্রেনিংগুলো নিয়মিত চলছে। Redhat অথরাইজড ট্রেনিংগুলোর মধ্যে Redhat Certified Engineer (RHCE), Enterprise Virtualization, Server Hardening, Open Stack Administration, Enterprise Deployment and Systems Management, Enterprise Clustering and Storage Management, Enterprise Performance Tuning ট্রেনিংগুলো হচ্ছে। ইন্ডিয়ার জিটি এন্টারপ্রাইজ ও আইবিসিএস-প্রাইমেক্সের যৌথ উদ্যোগে অথরাইজড ঠগধিৎব ট্রেনিং পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের একমাত্র তবহফ অথরাইজড পার্টনার এবং তবহফ ৫.৫ সার্টিফিকেশন ট্রেনিং আইবিসিএস-প্রাইমেক্স করাতে সক্ষম। এছাড়া আইবিসিএস-প্রাইমেক্সের নিজস্ব ডেভেলপমেন্টে সি শার্প এবং এসকিউএল সার্ভার, সিআইএসএ, সিসিএনপি, পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল, অ্যান্ড্রয়িড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্রফেশনাল (পিএমপি), এসইও, মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, এসকিউএল সার্ভার এবং আইটি সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং ITIL Foundation।

কমপিউটার জগৎ : আপনাদের ২৫ বছরে আইটি ট্রেনিংয়ের সেরা দিকগুলো সম্পর্কে জানতে চাই?

কাজী আশিকুর রহমান : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইসিটি কোম্পানি হিসেবে সাফল্যের সাথে ২৫ বছর পূর্ণ করে এগিয়ে চলা অনেক বড় ব্যাপার। ওরাকলের পার্টনার হিসেবে আমাদের খ্যাতি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে একমাত্র ওরাকল বিশ্ববিদ্যালয়ের (আমেরিকা) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আইবিসিএস-প্রাইমেক্স। ফলে ওরাকলের সব ধরনের ট্রেনিং কোর্স আমরা করাতে পারি। শুরুর দিকে ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে ওরাকলের সাথে আমাদের প্রাথমিক লেভেলের পার্টনারশিপ ছিল। দীর্ঘদিনের সাফল্যে বর্তমানে দেশে ওরাকলের টপ লেভেলের পার্টনারশিপ একমাত্র আইবিসিএস-প্রাইমেক্সের আছে। এই অবস্থান একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর মানসম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়েছে। ওরাকলের পাশাপাশি রেডহ্যাট লিনআক্সের প্রাথমিক অবস্থান থেকে অ্যাডভান্সড লেভেলের পার্টনারশিপ হয়েছে। যার ফলে গত তিন বছর ধরে রেডহ্যাট কর্তৃক বাংলাদেশে সেরা পার্টনার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ফলে রেডহ্যাট লিনাঅক্সের অ্যাডভান্সড ট্রেনিং আমরা দিতে পারি এবং সার্টিফিকেশন পরীক্ষাও নিতে পারি। আমরা প্রযুক্তি বিশ্বের হালনাগাদ কোর্স-কারিকুলাম এবং ট্রেনিং নিয়ে কাজ করি। এগুলোর মধ্যে জেন্ড টেকনোলজির কথা বলতে চাই। বিশ্বে জেন্ড পিএইচপি সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে মাত্র ১৬-১৭টি। এর মধ্যে বাংলাদেশে একমাত্র অনুমোদিত পার্টনার আইবিসিএস-প্রাইমেক্স। পিএইচপি অনেকেই জানেন, কিন্তু জেন্ড পিএইচপি জানা সার্টিফায়েড হাতেগোনা। ফ্রিল্যান্সিংয়ে জেন্ড পিএইচপি সার্টিফায়েড হলে অনেক চাহিদা থাকে এবং অনেক উচ্চমূল্যের কাজ পাওয়া যায়। আগে ১০-১২ জন জেন্ড সার্টিফায়েড ছিলেন। কিন্তু আমরা এই প্রোগ্রাম চালু করার পর এখন জেন্ড পিএইচপি সার্টিফায়েড হয়েছেন ৭৪ জন। যাদের বেশিরভাগই আমাদের এখানে ট্রেনিং নিয়েছেন। ইসি কাউন্সিলের একমাত্র অনুমোদিত ট্রেনিং পার্টনার হিসেবে সার্টিফায়েড ইথিক্যাল হ্যাকার (সিইএইচ) সার্টিফিকেশন কোর্স আমরা করাই। দেশে আমরাই একমাত্র ভিএমওয়্যার ট্রেনিং দিয়ে থাকি। এই ট্রেনিং নিতে আনেকেই ভারত যেতেন এবং প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হতো। পরে ভিএমওয়্যার ভারতের পার্টনারের সাথে সমঝোতা করে এখন দেশেই আমরা এই ট্রেনিং দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা ৪৫ জনকে এই ট্রেনিং দিয়েছি। এদের মধ্যে বেশিরভাগই সার্টিফায়েড হয়ে গেছেন। এছাড়া ইন্ডিয়ান কোম্পানি আইইভিশনের সাথে সমঝোতা করে আইটিআইএল ফাউন্ডেশন কোর্স করাই। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন প্রফেশনালকে আইটিআইএল ফাউন্ডেশন সার্টিফায়েড করাতে সক্ষম হই। আমাদের নিজস্ব কোর্স-কারিকুলামে পিএইচপি-মাইএসকিউএল ছাড়াও অন্যান্য প্রোগ্রাম আমরা সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছি। আমাদের রেফারেল রেট অনেক ভালো। বর্তমানে আমাদের এখানে আটটি অত্যাধুনিক কমপিউটার ল্যাব আছে। যেখানে একই সাথে ১২০ জন ব্যবহারিক সুবিধা পায়।

কমপিউটার জগৎ : ঢাকার বাইরে কোথায় আপনাদের কার্যক্রম আছে?

কাজী আশিকুর রহমান : ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে দি কমপিউটার লিমিটেডের (টিসিএল) সাথে সমঝোতার মাধ্যমে আমরা ট্রেনিং দিচ্ছি। দিন দিন প্রশিক্ষণার্থী বাড়ছে। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে ট্রেনিংয়ের সংখ্যা আরও বাড়বে। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে তরুণ প্রজন্মসহ সবার চাহিদা বাড়ায় আমাদের কাছে অনেক অনুরোধ আসে অন্যান্য বিভাগে আইবিসিএস-প্রাইমেক্সের শাখা খোলার। পরিকল্পনা আছে সব বিভাগে আমাদের শাখা চালু করার।

কমপিউটার জগৎ : আইবিসিএস-প্রাইমেক্সকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান?

কাজী আশিকুর রহমান : আমাদের ইচ্ছা আছে আইবিসিএস-প্রাইমেক্সকে এমনভাবে গড়ে তুলতে, যেখানে যেকেউ তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে তার চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের ট্রেনিং পান। আমরা সব ধরনের আইসিটি ট্রেনিং এবং কোর্স একই ছাতার নিচে আনতে চাই। এক কথায় ভবিষ্যতে আইবিসিএস-প্রাইমেক্স হবে ওয়ান স্টপ টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। প্রধানত আমাদের লক্ষ্য থাকবে এমন কিছু ট্রেনিংয়ের, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছি। আগামী দিনেও এই খাতে আরও বড় পরিসরে আমরা কাজ করব।

কমপিউটার জগৎ : প্রযুক্তি ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা কীভাবে আইসিটি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন?

কাজী আশিকুর রহমান : আইসিটি সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তি ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে এমন নয়। আমরা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (IDB) স্কলারশিপের Bangladesh Islamic Solidarity Educational Wakf (BISEW) অ্যানলিস্টেড ট্রেনিং সার্ভিস প্রোভাইডার। আমরা দেখেছি প্রযুক্তি ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কোর্স সফলভাবে শেষ করে উন্নত ক্যারিয়ার গড়েছেন। এখন আইসিটি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অন্যান্য দাতা সংস্থার আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমান সরকার অনেক বেশি প্রযুক্তিবান্ধব। দেশের শিক্ষিত বেকারদের আইটি ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ করে তুললে কাজের ক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত হবে। ফলে কর্মসংস্থানের অভাব হবে না। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতি দ্রুত বদলে যাবে


পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৪ - নভেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস