Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > মোবাইল কোম্পানিগুলো মোবাইল সিকিউরিটির ব্যাপারে সচেতন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: আসিফ আহম্মদ খান
মোট লেখা:১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
মোবাইল কোম্পানিগুলো মোবাইল সিকিউরিটির ব্যাপারে সচেতন
এভিজি অ্যান্টিভাইরাস বাংলাদেশের একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর মাইক্রোটপ টেকনোলজির জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন মো: সোলায়মান আহমেদ জীসান। তিনি বহুদিন ধরেই অ্যান্টিভাইরাস মার্কেট নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি স্মার্টফোন সিকিউরিটি সফটওয়্যার এভিজি অ্যান্টিভাইরাস প্রো (অ্যান্ড্রয়িড) মার্কেটে ছাড়া হয়েছে। তিনি কমপিউটার জগৎ-এর প্রতিবেদক আসিফ আহমেদের সাথে বাংলাদেশে মোবাইল অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের অবস্থান এবং তাদের প্রোডাক্ট নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেছেন।

মোবাইল বা স্মার্টফোন সিকিউরিটির প্রয়োজনীয়তা কী?
বর্তমানে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট পিসিগুলো ডেস্কটপ ও ল্যাপটপের মতোই ব্যবহার হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারগুলো স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট পিসিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতি মুহূর্তে লাখ লাখ মানুষ তার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে সংরক্ষণ করছে, ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজ করছে, মেইল দেয়া-নেয়া করছে, টাকা-পয়সা লেনদেন করছে, ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই সাইবার ক্রিমিনালদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে এসব স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট পিসি। এদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে মোবাইল সিকিউরিটি ব্যবহার করা খুবই জরুরি।
সুস্পষ্টভাবেই অ্যান্ড্রয়িড অপারেটিং সিস্টেমে ওপেন প্ল্যাটফর্ম হওয়ার কারণে বৈশিষ্টগতভাবেই ক্ষতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সাইবার ক্রিমিনালেরা খুব সহজেই তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে। ম্যালওয়্যার ভাইরাস খুব সহজেই ব্যক্তিগত কমপিউটারের মতো মোবাইল ডিভাইসগুলোতেও একই ধরনের অ্যাটাক করছে। মেইলের অ্যাটাচমেন্ট দেখা, ওয়েবসাইটে ক্লিক করা, অথবা একটি ফাইল বা অ্যাপ ডাউনলোড করার মধ্য দিয়েও ভাইরাস তার ক্ষতিকর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। সাইবার ক্রিমিনালেরা সেলুলার নেটওয়ার্কে DDOS (Distributed Denial of Service) আক্রমণ করার জন্য এসব মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে। এরা এদের টার্গেট করা ওয়েবসাইটকে ট্রাফিক ওভারলোড করে ক্র্যাশ করাতে পারে। ভাইরাস আক্রমণ কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে। আক্রমণ হয় জিএসএম, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ ইত্যাদিতে।
ক্রমাগত সাইবার ক্রিমিনালদের দৌরাত্ম্যই মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারারদের মোবাইল সিকিউরিটির সফটওয়্যার নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে। বিগত বছরের হিসাব অনুযায়ী, আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হলেন মোবাইল ব্যবহারকারী। এর একমাত্র কারণ, মোবাইলে কাজ করা অন্যান্য ডিভাইসের চেয়ে খুবই সহজ ও সবার কাছেই তা আছে, সব সময়ই চালু থাকে, একটি মাত্র ডিভাইস, যা একাই অনেকগুলো ডিভাইসের কাজ করে এবং সবসময় হাতে থাকে। তাই মোবাইল কোম্পানিগুলোও মোবাইল সিকিউরিটির ব্যাপারে সচেতন হচ্ছে।
গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি-তে মোবাইল সিকিউরিটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ব্যবহার করা কি লাভজনক?
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ইচ্ছেমতো সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ইনস্টল করেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার কোনো কারণ ছাড়া কোনো কিছুই ফ্রি-তে আসে না। কিন্তু ভাইরাস সবসময় ফ্রি-তেই আসে।
গুগল প্লে স্টোর থেকে দুই ধরনের সফটওয়্যার পাওয়া যায় : ০১. ফ্রি ভার্সন, ০২. পেইড ভার্সন (কিনে নিতে হয়)।
গুগল প্লে স্টোরে সব সফটওয়্যার ফ্রি-তে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও তাতে ফিচার, অপশন কম থাকে। সুতরাং ঝুঁকিও থাকে। ব্যবহারকারীরা সফটওয়্যার হয়তো ডাউনলোড করতে পারেন, কিন্তু সফটওয়্যারের সমস্যা সমাধানের জন্য তার চাই সাপোর্ট। এই সাপোর্টের জন্যই অরিজিনাল লাইসেন্স সফটওয়্যার কিনতে হয়।
এভিজি অ্যান্টিভাইরাস প্রো (অ্যান্ড্রয়িড) কি?
এভিজি অ্যান্টিভাইরাস প্রো (অ্যান্ড্রয়িড) হলো একটি সিকিউরিটি অ্যাপস, যা স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে ব্যবহার করা যায়। এভিজি অ্যান্টিভাইরাস প্রো (অ্যান্ড্রয়িড) গুগল প্লে স্টোরে এক নম্বর র‌্যাঙ্কধারী সিকিউরিটি সফটওয়্যার। এই অ্যাপসের মূল লক্ষ্য কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য থেকে মোবাইলকে সুরক্ষিত রাখা।
এভিজি অ্যান্টিভাইরাস প্রো মোবাইল সিকিউরিটির চেয়েও অনেক বেশি কিছু। কারণ, এতে আছে অ্যাপস লক, টাস্ক কিলার, টিউন আপ এবং অ্যান্টি থেফট সার্ভিস। এভিজি অ্যান্টিভাইরাস প্রো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে, পারফরম্যান্স মনিটর করতে, রিমোটলি লক করতে, লোকেশন খুঁজে বের করতে এবং সব তথ্য মুছে ফেলতে পারে এভিজি অ্যান্টি থেফটের মাধ্যমে।
মোবাইল চোরকে ধরার জন্য এই সফটওয়্যারের কোনো জুড়ি নেই। চোর মোবাইলে ভুল পাসওয়ার্ড দিলেই নিঃশব্দে তার ছবি তুলে নেবে স্মার্টফোনের সামনে বা পেছনের ক্যামেরায়। তারপর ব্যবহারকারীর মেইল অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে সেই ছবি। চোর ভুল সিম প্রবেশ করালেই সিম লক হয়ে যাবে। এছাড়া চুরি করা স্মার্টফোনের লোকেশন জানা যাবে গুগল ম্যাপের মাধ্যমে।
আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের দাম কি একটু বেশি হয়ে যায় না?
যদি কেউ এভিজির সব ফিচারের সুবিধা চায়, তাহলে তাকে পেইড ভার্সন কিনতে হবে। গুগল প্লে স্টোরে যার দাম প্রায় ১৪ ইউএস ডলার । টাকার অঙ্কে ১৪৫৪ টাকা। কিন্তু আমাদের দেশে এই অরিজিনাল সফটওয়্যার পাওয়া যাচ্ছে ১ ইউজারের দাম ৪৯৯ টাকা, যা এক বছরের জন্য প্রযোজ্য। যদি আপনি এই দামকে দৈনিক হিসেবে ভাগ করেন তাহলে দেখবেন একটি চকলেট খাওয়ার দামের চেয়েও কম। কিন্তু এই দামেই আপনি আপনার মূল্যবান স্মার্টফোনের আর তথ্যের সিকিউরিটির জন্য ব্যয় করবেন।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের সাধারণ মানুষকে বোঝানো যে সিকিউরিটি প্রবলেম শুধু কমপিউটার ও ল্যাপটপেই হয় না, মোবাইল ডিভাইসগুলোতেও হয়। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা হলো এ দেশের মানুষকে অ্যান্টিভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা। এ দেশের মানুষ যদি তাদের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন না হয়, তাহলে সে কখনই অ্যান্টিভাইরাস কিনতে চাইবে না। এভিজির লক্ষ্য হচ্ছে সবচেয়ে বেশি মার্কেট শেয়ার দখল করা। আমরা আমাদের প্রোডাক্ট এবং এর প্রতিনিয়ত আপডেট সম্পর্কে নিশ্চিত। আমাদের নিত্য-নতুন মার্কেটিং কনসেপ্ট নিয়ে মানুষকে অ্যান্টিভাইরাসের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন করার পরিকল্পনা আছে

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৪ - নভেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস