Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পিসি ও ল্যাপটপ কেনায় সাধারণ ভুল
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: তাসনীম মাহ্‌মুদ
মোট লেখা:১২১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৫ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ট্রিকস ‍এন্ড টিপস
তথ্যসূত্র:
টিপস অ্যাণ্ড ট্রিকস
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পিসি ও ল্যাপটপ কেনায় সাধারণ ভুল
কমপিউটার এখন আমাদের অনেকের কাছেই প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ফলে আমাদের অনেকেরই জীবন কমপিউটার ছাড়া প্রায় অচল। আবার আরেক এরা এখন বাধ্য হয়ে মাঝেমধ্যেই কমপিউটার কিনছেন। কিন্তু সবাই যে জেনে-শুনে নিজের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী কমপিউটার কিনতে পারছেন বা কিনছেন, তা বলা যাবে না কোনো মতেই। কমপিউটার কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা প্রায় সময় কোনো না কোনো ভুল করে থাকেন, যার মাশুল দিতে হয় বাড়তি টাকা খরচ করে। এ ভুলগুলো এড়াতে পারলে ক্রেতারা তার পছন্দের সেরা কমপিউটারটি কিনতে পারবেন।
চাহিদার কমপিউটার না কেনা
না জেনে, না বুঝে প্রচার-প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে কমপিউটার কেনা হবে সবচেয়ে বড় ভুল। কমপিউটারের বিশেষ কোনো দিক বা পাওয়ারের ওপর বা অন্য কোনো ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই ভাবতে হবে কমপিউটারটি দিয়ে কী ধরনের কাজ করবেন, আপনার চাহিদা পূরণ করতে পারবে কি না? যদি আপনি ইন্টারনেটে হালকা ধরনের ব্রাউজ করেন, কিছু ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজসহ প্রায় মুভি দেখেন, এ ধরনের ব্যবহারকারীদের জন্য ৩২ জিবি র্যা ম, অক্টা-কোর প্রসেসর বা ২৫ ইউএসবি ৩.০ পোর্ট না থাকলেও চলে। আপনার কাজের জন্য যা দরকার, তার বেশি অর্থ খরচ করা থেকে বিরত থাকুন।
অপারেটিং সিস্টেমের সাথে কী কী দেয়া হচ্ছে তা না জানা
উইন্ডোজ, ওএস এক্স, লিনআক্স, ক্রোম ওএস প্রভৃতি কয়েকটি কমপিউটার অপারেটিং সিস্টেমের নামসহ আরও বেশ কয়েক ধরনের কমপিউটার অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে, যেখানে প্রথম দেখলে মনে হবে সৌন্দর্যগত পার্থক্য। প্রতিটি ফাংশনই ভিন্নভাবে কাজ করে। অনেক ব্যবহারকারীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অপারেটিং সিস্টেমগুলো সফটওয়্যারকে ভিন্নভাবে হ্যান্ডেল করে। ধরুন, আপনার কমপিউটারটি বেশ পুরনো। এখন আপনি চাচ্ছেন এই পুরনো কমপিউটারে এমন কিছু সফটওয়্যার রান করাতে, যা নতুন কমপিউটারের জন্য প্রযোজ্য। এ ক্ষেত্রে আপনি সফলকাম হতে পারবেন না, যেহেতু অপারেটিং সিস্টেমগুলো সফটওয়্যারকে ভিন্নভাবে হ্যান্ডেল করেন। এমনকি সফটওয়্যারের নতুন ভার্সনও নতুন ওএসে কাজ করবে না। যেমন- স্কাইপের জন্য হয়তো ম্যাক ও উইন্ডোজ এ দুটি ভার্সন কাজ করতে পারে। তবে আপনি ভিডিও চ্যাট করতে পারবেন না যদি ক্রোম ওএসে সুইচ করেন।
সুতরাং, কমপিউটার দিয়ে কী ধরনের কাজ করবেন, তা আগে থেকে ভেবে নিন এবং অপারেটিং সিস্টেম কাজ করবে কি না তা জেনে নিন।
বস্নুটুথ ও ওয়াই-ফাই ফিচার কীভাবে কাজ করে
ধরুন, আপনার নতুন কমপিউটারে বস্নুটুথ ও ওয়াই-ফাই চাচ্ছেন, যা খুব সহজেই আপনি পেতে পারেন। প্রায় সব ল্যাপটপেই এ দুটি ফিচার পাবেন। আধুনিক সব কমপিউটারের ডেস্কটপে এ দুটি ফিচার দেখা যায়। কমপিউটারে যদি এ ফিচার দুটি থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে। একটি কমপিউটারের বস্নুটুথ মডিউল, অপর একটি কমপিউটারের বস্নুটুথ মডিউলের মতো একইভাবে কাজ করতে নাও পারে। কারণ, এগুলো ভিন্ন জেনারেশনের হতে পারে, এদের পাওয়ার রিকোয়ারমেন্ট ভিন্ন হতে পারে, ইফেক্টিভ রেঞ্জ ভিন্ন হতে পারে, ভিন্ন হতে পারে এদের আচরণ। এ ভিন্নতার প্রধান কারণ হলো কমপিউটারের কেস। একইভাবে ওয়াই-ফাইয়ের রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি ও স্পিড। সুতরাং, এসবই যেসব অবস্থায় একইভাবে কাজ করবে তা ভাবা যায় না। অথচ এ বিষয়টি প্রায় সবাই এড়িয়ে যান, যা আরেকটি ভুল।
কম্পোনেন্ট আপগ্রেডের বিষয় মাথায় না রাখা
বেশিরভাগ ডেস্কটপ ও কোনো কোনো ল্যাপটপের ক্ষেত্রে কিছু কম্পোনেন্ট যুক্ত করার জন্য বা আপগ্রেড করার জন্য বেশ কিছু স্পেস থাকে, যাতে পিসির পারফরম্যান্স উন্নত করা যায় বা সফটওয়্যারের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী সিস্টেমকে স্মুথভাবে রান করানো যায়। তবে এখানে কিছু জটিলতা রয়েছে। হার্ডওয়্যার খুব দ্রুতগতিতে পরিবর্তন করলেও কম্প্যাটিবিলিটি ইস্যুটি সমস্যাদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। কেননা, কিছু কিছু কম্পোনেন্ট আপগ্রেডের সাথে সাথে কাজ করতে পারে না। যেমন- আপনি সিপিইউ আপগ্রেড করতে পারলেও আপনাকে মূলত চেক করে দেখতে হবে, আপনার মাদারবোর্ডে কোন ধরনের সিপিইউ সকেট আছে এবং খেয়াল করে দেখতে হবে, নতুন সিপিইউর সাথে ম্যাচ করে কি না। উন্নততর মাল্টিটাস্কিং এক্সপেরিয়েন্সের জন্য যদি আরও বেশি র্যাকম যুক্ত করতে চান, তাহলে আপনাকে চেক করে দেখতে হবে বাড়তি মেমরির জন্য ফ্রি র্যা ম স্লট আছে কি না, সেই সাথে নিশ্চিত হতে হবে যে ওএস বাড়তি র্যােম সাপোর্ট করে কি না।
এখানে বটলনেকের একটি ব্যাপারও আছে। হয়তো কোনো কোনো কম্পোনেন্ট আপগ্রেড করতে চাচ্ছেন। আশা করছেন, এ কম্পোনেন্টগুলো সিস্টেমে যুক্ত হলে সিস্টেম খুব দ্রুত কাজ করতে পারেব। কিন্তু আপনার বর্তমান হার্ডওয়্যার হয়তো সেই স্পিড সাপোর্টই করে না। কমপিউটার কেনার সময়ই যদি র্যা ম বা জিপিইউ আপগ্রেড করতে চান, তখন এ বিষয়টি বিশেষভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এছাড়া আপনার কমপিউটার কোন ক্লকস্পিড ও ব্যান্ডউইডথ সাপোর্ট করবে তা জেনে নিন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনোভাবেই বিবেচনায় না এনে অনেকেই তাদের কমপিউটারকে আপগ্রেড করেন, যা টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
গ্রাফিক্স কার্ড
এমন এক ফিচার অন্তর্ভুক্ত করুন, এমনকি সম্পৃক্ত থাকলেও কমপিউটার সব ধরনের সাইজ, সেপ এবং কনফিগারেশনের পাওয়া যায়। কখনই অন্য কিছু গ্রহণ করা ঠিক হবে না। যদি আপনি সিডি/ডিভিডি ড্রাইভসহ একটি কম দামী কমপিউটার কিনতে চান, তাহলে কমপিউটার চালু করে সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ বাটন চেপে দেখুন ট্রে ওপেন হয় কি না। যদি অডিও চান, তাহলে স্পিকার বুঝে নিয়ে এর কার্যকারিতা চেক করে দেখার জন্য কোনো মিউজিক প্লে করে দেখুন। পরখ করে দেখুন ইউএসবি পোর্টের কার্যকারিতা। কমপিউটার কেনার সময় বেশিরভাগ ক্রেতা এসব বিষয়কে তুচ্ছ করে এড়িয়ে যায়, যা পরবর্তী সময় ভুল বোঝাবুঝির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কেনার আগে পরীক্ষা না করা
কমপিউটার কেনার আগে যদি পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই তা করা উচিত। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারও সহযোগিতা নিতে ভুলবেন না। যদি কমপিউটারটি ইন্টারনেটে অর্ডার দিয়ে কেনেন, তাহলে স্থানীয় কোনো স্টোরে গিয়ে একই কনফিগারেশনের কোনো কমপিউটার চালিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন। এর কিবোর্ড, মাউস, টাচস্ক্রিনসহ অন্য সব কিছু পরখ করে নিশ্চিত হয়ে নিন, এগুলো ভালোভাবে কাজ করে কি না। যদি আপনার প্রত্যাশিত কোনো কম্পোনেন্ট ওই মুহূর্তে স্টোরে না থাকে, তাহলে বিক্রেতাকে তা জোগাড় করে দিতে বলুন।
সবসময় সস্তা পণ্য কেনা
আপনার চাহিদা যদি হয় ন্যূনতম ক্ষমতার কমপিউটার, মাঝে-মধ্যে ইন্টারনেটে ব্রাউজ করা, তাহলে আপনার উচিত হবে কম ক্ষমতার সস্তায় কমপিউটার কেনা। কম দামের ও পুরনো হার্ডওয়্যার খুব দ্রুতগতিতে ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং ক্রমবর্ধমান সফটওয়্যারে চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। কমপিউটার ক্রেতাদের অনেকেই ভবিষ্যতের কথা না ভেবে শুধু তার বর্তমান চাহিদার প্রতি লক্ষ রেখে সস্তায় কমপিউটার কেনেন, যা বড় ধরনের এক ভুল। কারণ কমপিউটার ও সফটওয়্যার খুব দ্রুতগতিতে উন্নত থেকে উন্নততর হতে থাকে। উন্নততর সফটওয়্যার রান করানোর জন্য দরকার উন্নতর কমপিউটার। তাছাড়া কমপিউটার ব্যবহারকরীর চাহিদা দিন দিন বাড়তেই থাকে। এ ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে চাই উচ্চতর ক্ষমতার কমপিউটার ও সফটওয়্যার।
ট্রায়াল সফটওয়্যারের ব্যাপারে সচেতন না হওয়া
কমপিউটারের সাথে অনেক সফটওয়্যার অ্যাডভার্টাইজ প্রি-ইনস্টল অবস্থায় দেয়া হয়। বাস্তবে এসব সফটও্যয়্যারের অসিত্মত্ব থাকতে পারে না। তবে আপনি যা আশা করছেন, সম্ভবত তা নাও হতে পারে। কমপিউটারের জন্য সফটওয়্যারের ট্রায়াল এক কমন ব্যাপার। সফটওয়্যারের ট্রায়াল ফটো এডিটর বা কমপিউটারের ওএসের ভাইরাস স্ক্যানার থেকে শুরু করে যেকোনো কিছুরই হতে পারে। সম্ভবত, একমাত্র অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রেই সফটওয়্যারের ট্রায়াল ভার্সন কমন নয়। যদি আপনার কমপিউটারটি ব্যয়সাশ্রয়ী হয়, তাহলে নিশ্চিত হয়ে নিন কোন কোন সফটওয়্যার ট্রায়াল এবং কোন কোন সফটওয়্যার ফ্রি/লাইসেন্স করা।
সিকিউরিটি ট্রায়াল
মেয়াদোত্তীর্ণ হতে দেয়া
কমপিউটার কেনার সময় সিকিউরিটি ট্রায়াল দেয়া হয়। তবে কেনার সময় আপনার সাথে নিবিড়ভাবে লিঙ্ক করাটা হবে এক ভুল। কিন্তু কেন? কেননা, আপনার ভাইরাস স্ক্যানারের মেয়াদোত্তীর্ণ হতে দেয়া ঠিক হবে না। এটি আপনাকে এক বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। খারাপ ভাইরাস আপনার কমপিউটারকে নিষ্ক্রিয় করে বিশাল এক পেপার ওয়েটে পরিণত করতে পারে। সুতরাং, আপনার মেশিনকে সুরক্ষেত রাখা এক অপরিহার্য কাজ। আপনি ইচ্ছে করলে একটি ট্রায়াল সার্ভিসের সাবস্ক্রিপশন কিনতে পারেন, যা সম্ভবত আপনার কমপিউটারের সাথে দেয়া হয় অথবা ফ্রি সিকিউরিটি সিস্টেম যেমন- এভিজি দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারেন। তবে যাই করেন না কেনো, নিয়মিত সিকিউরিটি সফটওয়্যারের আপডেটের বিয়য়টিকে এড়িয়ে বা ভুলে যাবেন না।
সিস্টেম সিকিউরিটির এক ব্যয়বহুল সার্ভিস সেটআপ ও ওয়ারেন্টির ব্যাপার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সার্ভিস ওয়ারেন্টি পেতে চাইলে আপনাকে বাড়তি খরচ করতে হবে। তবে এই বাড়তি খরচের সাথে সাথে যুক্ত হবে কিছু বাড়তি সিকিউরিটি
ফিডব্যাক : mahmood_sw@yahoo.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৫ - জুলাই সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস