Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > নতুন পিসিতে জরুরি করণীয়
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: তাসনীম মাহ্‌মুদ
মোট লেখা:১২০
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৫ - মার্চ
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
টিপস
তথ্যসূত্র:
টিপস অ্যাণ্ড ট্রিকস
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
নতুন পিসিতে জরুরি করণীয়
প্রযুক্তিবিশ্বে বিশেষ করে কমপিউটিং বিশ্বে সেই নববইয়ের দশকের শুরু থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে ডেস্কটপ পিসি। পিসির বাজার গত ৫-৭ বছর ধরে ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে যখন থেকে ল্যাপটপ, নোটবুক ও স্মার্টফোনের বাজার বিস্তার লাভ করতে শুরু করে, তখন থেকেই। বলা যায়, স্মার্টফোনের ব্যবহার যখন থেকে সর্বব্যাপী হতে শুরু করে, তখন থেকেই। এ কথা সত্য, স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারের সাথে সাথেই পিসির বিক্রি অনেক কমে গেছে। অবশ্য বর্তমানে ডেস্কটপ পিসির সেই মন্দা অবস্থা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। অর্থাৎ ডেস্কটপ পিসির বিক্রি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এ অবস্থা সারাবিশ্বেই পরিলক্ষেত হচ্ছে।
ধরুন, এমন অবস্থায় আপনি একটি নতুন পিসি কিনলেন এবং কমপিউটিং বিশ্বের সম্ভাব্য ব্যাপক-বিস্তৃত পরিসরে নিজেকে আরও সুদৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত করলেন, যা আপনাকে সহায়তা করবে ফিন্যান্স থেকে শুরু করে সবচেয়ে সহায়ক ও কার্যকর উপায় বের করতে। কিন্তু, মনে রাখতে হবে, নতুন পিসি একটি নতুন গাড়ির মতো নয়, যা চাবি দিয়ে সাথে সাথে চালু হয়ে যাবে। হয়তো পিসিকে গাড়ির মতো করে খুব সহজেই চালু করতে পারবেন, তবে তা করা উচিত হবে না।
লক্ষণীয়, যখন পিসি প্রথম চালু করবেন, তখন কিছু সাধারণ অ্যাক্টিভিটি পারফর্ম করতে হয়। সে লক্ষে্য একটি নতুন পিসিকে কীভাবে যথাযথভাবে সেট করা যায়, তা ধাপে ধাপে উপস্থাপন করা হয়েছে কমপিউটার জগৎ-এর নিয়মিত বিভাগ ‘ব্যবহারকারীর পাতা’য়। এ লেখায় মূলত উপস্থাপন করা হয়েছে একটি নতুন পিসির জন্য জটিল যেসব কাজ তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে, সেগুলোকে কেন্দ্র করেই। একজন ব্যবহারকারী তার নতুন পিসিকে যেভাবে সঠিক নিয়মে ধাপে ধাপে সেটআপ করতে পারবেন, তা নিচে তুলে ধরা হয়েছে।
উইন্ডোজ আপডেটের জন্য অপেক্ষা করা
নতুন পিসিতে যে কাজগুলো করতে হবে, তার প্রথম ধাপটি সবচেয়ে বিরক্তিকর ও জটিল। যদি আপনার পিসি বর্তমান সময় পর্যন্ত পুরোপুরি প্যাচ দিয়ে আপডেট না হয়ে থাকে, তাহলে আপনার উচিত হবে ওয়েবে বেশি বিচরণ না করা। কেননা, এ অবস্থায় আপনার পিসি থাকবে সম্পূর্ণরূপে অরক্ষেত এবং যেকোনো মুহূর্তে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার বা হ্যাকারে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই প্রথমেই উচিত আপনার পিসি সর্বশেষ প্যাচ দিয়ে আপডেট কি-না তা যাচাই করা।
এ কাজটি করার জন্য প্রথমে নিশ্চিত করুন পিসি ইন্টারনেটের সাথে কানেকটেড আছে কিনা। এরপর উইন্ডোজ কন্ট্রোল প্যানেল ওপেন করুন। এরপর System and Securtiy®Windoes Update®Check for Updates-এ নেভিগেট করুন। ফলে আপনার সিস্টেম আপডেটের জন্য সার্চ করবে এবং কিছু খুঁজে বের করবে। এগুলো ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন। এরপর আপনার কমপিউটার রিবুট করুন এবং এ কাজটি বারবার করুন, যতক্ষণ না আপডেট চেক ফেল করছে নতুন এন্ট্রি রিটার্ন করার জন্য।
আশা করা যায়, এ কাজটি সম্পন্ন হতে খুব বেশি সময় নেবে না। বাইডিফল্ট উইন্ডোজ নতুন আপডেট ডাউনলোড ও ইনস্টল করবে। যেহেতু এগুলো রোল আউট হচ্ছে।
ফেভারিট ব্রাউজার ইনস্টল করা
অপরিচিত ব্রাউজারে সার্ফ করার অর্থ হচ্ছে অনেকটা অন্য কারও জুতা পরে ট্যাঙ্গো নাচের চেষ্টা করা। এতে হয়তো নাচা যাবে, কিন্তু তা কখনও ভালো বা আকর্ষণীয় হবে না। যদি আপনি ইন্টারনেট এক্সপেস্নারার ব্যবহারকারী না হয়ে থাকেন, তাহলে ক্রোম, ফায়ারফক্স ও অপেরা প্রভৃতি ব্রাউজারের লিঙ্ক সরাসরি পেয়ে যাবেন।
হ্যাচকে সুরক্ষেত করা
ধরুন, খুব স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন- এমন অবস্থায় আপনার কাজের স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত রাখতে দরকার ডাটার নিরাপত্তার বেষ্টনী সুদৃঢ় করা। এজন্য মাইক্রোসফট তার অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ৮-এর সাথে চালু করে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার নামের এক নতুন টুল, যা বাইডিফল্ট এনাবল। নিঃসন্দেহে এটি একটি চমৎকার ব্যবস্থা। যদিও এটি সিকিউরিটির জন্য যথেষ্ট মাত্রায় ডিটেইল সমাধান নয়। তবে পিসি প্রস্ত্ততকারকেরা ইচ্ছে করলে ডিফেন্ডারকে ডিজ্যাবল রাখতে পারেন, যদি তারা আপনার পিসিতে প্রিমিয়াম সিকিউরিটি সলিশনের জন্য উইন্ডোজ ডিফেন্ডারের পরিবর্তে অন্য কোনো প্রিইনস্টল করা ট্রায়ালওয়্যার রাখতে চান, যেমন নর্টন বা ম্যাকাফির মতো অ্যান্টিভাইরাস। যদি আপনি ওই প্রিমিয়াম পণ্যের জন্য টাকা খরচ করতে চান, অর্থাৎ কিনতে চান, তাহলে ভালো কথা। যদি না চান, তাহলে তা ডিজ্যাবল করে ওই ব্লটওয়্যার স্যুটকে ডিলিট করুন। এরপর উইন্ডোজ ডিফেন্ডারকে রিঅ্যাক্টিভেট করুন।
উইন্ডোজের আগের ভার্সনগুলোতে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার সম্পৃক্ত ছিল না। যদিও এটি সবচেয়ে পরিপূর্ণ অ্যান্টিম্যালওয়্যার ফিচারসমৃদ্ধ সমাধান নয়। তবে এটি মন্দের ভালো। এ টুলের অন্যতম দুর্বলতা হলো, এতে সিডিউল স্ক্যানার সুবিধা নেই।
অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল পরিষ্কার করা
সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ ডাটার সুরক্ষার জন্য দরকার পিসি থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদান দূর করা, তথা সিস্টেমকে পরিষ্কার-পরিপাটি রাখা। আপনি ইচ্ছে করলে এই ধাপকে এড়িয়ে যেতে পারেন, যদি আপনি নিজেই নিজের মতো করে উইন্ডোজ পিসিটি তৈরি করেন এবং অপারেটিং সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সফটওয়্যার, ইউটিলিটি ইনস্টল করে থাকেন কিংবা মাইক্রোসফট স্টোর থেকে ‘সিগনেচার এডিশন’ কমপিউটার কিনে থাকেন। লক্ষণীয়, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টলেশনের সময় অতিরিক্ত কোনো জাঙ্ক থাকে না, যা হার্ডড্রাইভকে বিশৃঙ্খল করে অপ্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে। তবে ছোট-বড় যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই বক্স পিসি বা রেডিমেড পিসি কিনে থাকেন না কেন, এর সাথে অবশ্যই অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা ব্লটওয়্যারপূর্ণ থাকবে।
পিসি ডিক্রাপিফায়ার হলো হালকা ধরনের সহজ ব্যবহারযোগ্য এক টুল। এই টুলটি সরাসরি পিসি স্ক্যান করে সুপরিচিত ব্লটওয়্যারের জন্য এবং ব্যবহারকারীকে সুযোগ দেয় সব মুছে ফেলার জন্য। কন্ট্রোল প্যানেলের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ফাইলকে এক এক করে মোছার প্রক্রিয়ার চেয়ে এটি অনেক দ্রুততর এবং সহজ উপায়। আসল কথা, এটি একটি ফ্রি টুল।
যদি সিস্টেমে উইন্ডোজ ৮ ইনস্টল করা থাকে, তাহলে পিসি ডিক্রাপিফায়ার কোনো ব্লটওয়্যার ধরতে পারবে না, যা মেট্রো অ্যাপস ফর্মের সাথে সময়োপযোগী। উইন্ডোজ ৮-এ নতুন স্টাইলের স্টার্ট স্ক্রিনে মেট্রো অ্যাপস আবির্ভূত হয় কালারফুল টাইলসে। কমপিউটার স্টার্টের সময় তথা বুটের সময় যেগুলো চালু হবে না, সেগুলো স্টোরেজ স্পেস থেকে রিসোর্স ব্যবহার করবে না। এরপরও যদি আপনার মেশিন থেকে এগুলো বন্ধ রাখতে চান, তাহলে আপনার কাছে অনাকাঙিক্ষত এমন একটি অ্যাপে ডান ক্লিক করে ইনস্টল আনইনস্টল সিলেক্ট করুন।
নিজস্ব ইমেজে তৈরি
উপরোল্লিখিত কাজগুলো সম্পন্ন করার পর খুব স্বাভাবিক কারণেই ধরে নিতে পারেন পিসি এখন নিরাপদ, জাঙ্কমুক্ত, আপটুডেট ও প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর জন্য চমৎকারভাবে সফটওয়্যার সমৃদ্ধ। এরপরও কিন্তু নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কিছু কাজ হাতে থেকেই যায়, যা অনাকাঙিক্ষত কোনো কারণে সিস্টেমের বিপর্যয় ঘটলে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
এবার পিসির জন্য একটি ক্লোন তৈরি করা বা আপনার প্রাইমারি হার্ডড্রাইভের একটি ইমেজ তৈরি করার আদর্শ সময়। পিসির ক্লোন বা প্রাইমারি হার্ডড্রাইভের একটি ইমেজ তৈরি করে অন্য হার্ডড্রাইভে সেভ করুন। একটি ক্লোন বা ইমেজ তৈরি করে আপনার হার্ডড্রাইভের স্ন্যাপশট রেপ্লিকা, যা ব্যবহার করা যেতে পারে উইন্ডোজ বুট আপের জন্য যদি প্রাইমারির ড্রাইভ কাজ করতে ব্যর্থ হয় অর্থাৎ প্রাইমারি ড্রাইভ উইন্ডোজ বুট করতে ব্যর্থ হলে। আপনার সিস্টেমের বর্তমান আপডেটের একটি ইমেজ হবে ব্লটওয়্যারমুক্ত, কাস্টোমাইজ অবস্থায় সময়-সাপেক্ষ বিরক্তিকর কাজ বারবার করা থেকে আপনাকে রক্ষা করবে, যাতে কোনো কারণে উইন্ডোজ ইনস্টলের মতো কাজ করতে না হয়।
এখন সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে ক্লোন ও ইমেজের মধ্যে পার্থক্য কী- এমন প্রশ্ন আসতে পারে। সিস্টেমের একটি ক্লোন হলো অন্য আরেকটি ড্রাইভে আপনার হার্ডড্রাইভের হুবহু কপি তৈরি করা, যেখানে থাকতে পারে ফাইল, মাস্টার বুট রেকর্ডসহ সবকিছুই। ক্লোন কনজিউম করে সম্পূর্ণ হার্ডড্রাইভ, তবে এটি প্লাগ অ্যান্ড প্লে যদি আপনি কখনও ব্যবহার করতে চান। পক্ষান্তরে, ইমেজ তৈরি করে একটি সিঙ্গেল বিশাল আকারের ফাইল, যা ধারণ করে ব্যবহারকারীর পিসির সব উপাদান। কোনো বিপর্যয়ের পর পিসি আগের অবস্থায় আনতে বেশ কিছু সময় নেয় ইমেজ ব্যাকআপের জন্য। তবে এ কাজটি আরও বেশি ফ্লেক্সিবল হতে পারে। অবশ্য তা নির্ভর করে আপনার স্টোর করার ধরনের ওপর। কেননা, এটি আসলেই একটি অনেক বড় ফাইল।
এছাড়া আরও কিছু চমৎকার ব্যাকআপ টুল আছে, যা ব্যবহারকারীকে সুযোগ দেয় ক্লোন ও ইমেজ তৈরি করার ক্ষেত্রে। এসব চমৎকার ব্যাকআপ টুলের তালিকায় আছে ম্যাকরিয়াম রিফ্লেক্ট ফ্রি (Macrium Reflect Free) ও ইউএসসি টুডো ব্যাকআপ (EascUS Todo Backup)।
অপশনাল : আপডেট করুন আপনার ড্রাইভার
এ ধাপটি সব ব্যবহারকারীর জন্য নয়। আপনার মেশিনে ড্রাইভারের চেয়ে দ্রুতগতির অল্প কিছু ভুতুড়ে ব্যাপার ঘটতে পারে, যা যেকোনো কারণে স্বাভাবিক কাজ করতে রিফিউজ করতে পারে। যদি আপনার পিসি চমৎকারভাবে কাজ করে এবং আপনার পরিকল্পনায় আছে বেসিক কিছু কাজ করা- যেমন ওয়েব সার্ফিং, অফিস স্যুট নিয়ে কাজ করা- তাহলে খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই স্বাভাবিকভাবে এসব কাজ করতে পারবেন, এমনকি ড্রাইভার ছাড়াও। উইন্ডোজ আপডেটে সঙ্গত কারণে আপনার হার্ডওয়্যারের নতুন ড্রাইভারের জন্য জটিলতা থাকবে।
যদি আপনি নিজেই নিজের পিসি তৈরি করে থাকেন এবং ড্রাইভারগুলোকে ম্যানুয়ালি আপডেট করতে চান শুরু থেকে, তাহলে আপনাকে কিছু সময় দিতে হবে এ কাজে। তাড়াহুড়ো না করে খেয়াল করে দেখুন আর নতুন কোনো আপডেট আছে কি না। কেননা, উইন্ডোজ আপডেট সবসময় ড্রাইভার আপডেটের বিস্নডিং এজে থাকে না। নতুন ড্রাইভার যেমন মাদারবোর্ড অথবা নেটওয়ার্ক কার্ড দিতে পারে সুবিধাজনক ফিচার, পারফরম্যান্স আপডেট, যা পুরনো ড্রাইভার থেকে পাওয়া যায় না। আবার গেমারদেরকে কখনও কখনও তাদের গ্রাফিক্স কার্ড আপডেট করতে হতে পারে তাদের নতুন গেমের অপটিমাল পারফরম্যান্সের জন্য
ফিডব্যাক : mahmood_sw@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৫ - মার্চ সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা