Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ফ্রিল্যান্সিং মানেই ওডেস্ক নয় : ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ পাওয়ার ১০ উপায়
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: ইকরাম
মোট লেখা:২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৫ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
আউটসোর্সিং
তথ্যসূত্র:
আউটসোর্সিং
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ফ্রিল্যান্সিং মানেই ওডেস্ক নয় : ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ পাওয়ার ১০ উপায়
আমাদের দেশে ওডেস্ক নিয়ে এত বেশি মাতামাতি হয়েছে যে, সবার মধ্যে ধারণা-ফ্রিল্যান্সিং মানেই ওডেস্কে কাজ করতে হবে। আমরা অনেকে যখন বলি ফ্রিল্যান্সিং করি, তখন অনেকেই জানতে চান ওডেস্কে কত ঘণ্টা কাজ করেছি। যদি বলা হয় ওডেস্কে আমার কোনো প্রোফাইল নেই, তখন সবাই বিস্মিত হন। তাই সবার মধ্যের এ ভুল ধারণাটি (ফ্রিল্যান্সিং মানেই ওডেস্ক) দূর করার জন্যই এ লেখা।
কেন এটি ভুল ধারণা?
সবাই বাংলাদেশের কোনো চাকরি খোঁজার জন্য সাধারণত বিডিজবসে যায়। কিন্তু তাই বলে কি কারও কাছে মনে হয় বাংলাদেশের সব চাকরির সংবাদ বিডিজবসেই থাকে? প্রচুর প্রতিষ্ঠান আছে তাদের লোক নেয়ার জন্য কখনই বিডিজবসে কোনো নিউজ প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশের চাকরির খোঁজার ক্ষেত্রে বিডিজবস যেমন একমাত্র প্লাটফরম নয়, তেমনি সারা বিশ্বের কাজের খোঁজ নেয়ার জন্য কীভাবে ওডেস্ক কিংবা ইল্যান্স একমাত্র জায়গা হতে পারে, সেটি সবাই নিজেকে প্রশ্ন করুন। বাস্তবতা হচ্ছে অনলাইনে সারাবিশ্ব থেকে যত পরিমাণ কাজ পাওয়া যায়, তার কিছু অংশ এ মার্কেটপ্লেসগুলোতে পাওয়া যায়। তাহলে বাকি কাজগুলো কোথায় পাওয়া যায়, সেটিও দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে এ লেখায়।
এ ভুল ধারণাটি কীভাবে ক্ষতি করছে সমাজের?
আমাদের দেশের শুধু নতুনদের নয়, যারা অনেক দিন ধরে কাজ করছেন, কিংবা যারা কাজ শিখাচ্ছেন, তাদের মধ্যেও ধারণার অভাব রয়েছে যে, ওডেস্ক ছাড়াও অনেকভাবে আয় করা যায়। এজন্য সবার মাঝে ছড়িয়ে গেছে, অনলাইনে আয় মানেই ওডেস্কে অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে ওডেস্ককে শুধু চেনার কারণে ক্ষতি হচ্ছে নিচের কয়েকটিভাবে :
* যারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে কাজ শিখে ওডেস্ক থেকে আয়ের চেষ্টা করেন, তারা সেখানে কোনো কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে আউটসোর্সিং সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন।
* কাজ পাওয়ার জন্য অনেক কম রেটে বিড শুরু করেন। কাজের রেট কমালে সবার জন্য ক্ষতির কারণ হয়, যে ক্ষতির সম্মুখীন ইতোমধ্যে সবাই হচ্ছে।
* কাজ পেতে স্প্যামিং করছে, ডুপ্লিকেট কভার লেটার ব্যবহার করছে। কাজ না বুঝেই বিড করছে। আর এর খারাপ ফল ভোগ করছে অন্য দক্ষ দেশী ফ্রিল্যান্সারেরা। ক্লায়েন্টরা এখন বাংলাদেশীদের দিয়ে কাজ করাতে এখন কম আগ্রহী। যারা কাজ পারে, তাদেরকেও এখন সঠিকভাবে ক্লায়েন্টরা চিনতে পারছে না।
* ওডেস্ককে কাজ পাওয়ার কথা বলে এখন আলাদা নতুন নতুন প্রতারণার ব্যবসায়ও শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে অনেকে প্রতারিত হয়ে নিজের অনেক অর্থ নষ্ট করেছে এবং তাদের মনেও অনলাইনে আয় নিয়ে বাজে ধারণা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে।
* শুধু ওডেস্ককেই অনলাইনে আয় মনে করার কারণে যোগ্যতা তৈরির আগেই ওডেস্কে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে বিড করা শুরু করছে। সে কারণে ওডেস্কে দক্ষ বাংলাদেশীর চেয়ে অদক্ষ বাংলাদেশীর সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে গেছে, যা বাংলাদেশীদের দক্ষতার ব্যাপারে অন্য দেশের ক্লায়েন্টদেরকে নেগেটিভ মেসেজ দিচ্ছে।
বিড করা ছাড়াও কীভাবে কাজ পাওয়া যায়?
০১. ক্লায়েন্ট এসে সার্ভিস কিনবে : এখানে দুটি বিখ্যাত মার্কেটপ্লেসের নাম বলা যেতে পারে, যেখানে কাজের জন্য বিড করতে হবে না। এসব মার্কেটপ্লেসে শুধু লিখে রাখতে হয়, কী কাজ করতে চান। বায়ারই খুঁজে বের করে কাজ দেবে। এমন দুটি মার্কেটপ্লেস হচ্ছে :
* Peopleperhour.com
* Fiverr.com
এসব মার্কেটপ্লেসে শুধু গিগ হিসেবে নিজের সার্ভিস লিখে রাখতে হয়। অর্থাৎ এভাবে লিখে রাখবেন-আমি একটি লোগো ডিজাইন করতে চাই, যার জন্য দাম রাখব ৫০ ডলার। যারা এ রেটে আপনাকে কাজ করতে চায়, তারাই খুঁজে বের করবে আপনাকে।
০২. সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো কাজ পাওয়ার অন্যতম ক্ষেত্র : আমাদের মনে রাখত হবে, সাধারণ জনগণ যেমন সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো নিয়মিত ব্যবহার করে, তেমনি দেশের রাষ্ট্রপতি কিংবা অন্য বড় ব্যক্তিরা কিংবা বড় কোম্পানির মালিকেরাও এসব সাইটে নিয়মিত প্রবেশ করেন। এজন্য এসব জায়গা থেকেও প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। বিশেষ করে লিঙ্কডইন (linkdin) থেকে কাজ পাওয়া যায় অনেক বেশি।
সোশ্যাল মিডিয়া কাজ খোঁজার জন্য অনেক শক্তিশালী একটি মাধ্যম। ফেসবুক, লিঙ্কডইন মার্কেটপ্লেস থেকেই পেতে পারেন প্রচুর কাজ। তা ছাড়া গ্রাফিক্সের জন্য কাজ পেতে চাইলে নিচের দুটি মার্কেটপ্লেসে যুক্ত থাকতে পারেন। দেশী প্রচুর ডিজাইনার এখান থেকেই কাজ পাচ্ছেন।
বিহেন্স (https://www.behance.net/)
ড্রিবল (https://dribbble.com/)
ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাকটিভিটি কেমন হওয়া উচিত, সেটি এখানে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়, তবে কিছু লিঙ্ক থেকেই শিখে নিতে পারবেন।
ফেসবুক : genesisblogs.com/ tutorial-2/638
টুইটার : genesisblogs.com/ tips-2/5384, genesisblogs.com/tips-2/7649
লিঙ্কডইন : genesisblogs.com/ tips-2/2667
০৩. ব্লগিংয়ের মাধ্যমে কাজ খোঁজা : যে বিষয়ের ওপর কাজ পেতে চাচ্ছেন, সে বিষয়ের ওপর নিজেকে দক্ষ হিসেবে প্রকাশ করতে কিংবা নিজেকে ব্র্যান্ডিং করতে ব্লগিং অনেক বেশি কার্যকর। যখন নিজেকে দক্ষ হিসেবে সবার কাছে ব্র্যান্ড করতে পারবেন, তখন কাজ খুঁজতে হবে না। বায়ার নিজে এসে আপনাকে কাজ করার জন্য অফার করবে এবং সেটি হবে অবশ্যই যেকোনো মার্কেটপ্লেসের চেয়ে কমপক্ষে দ্বিগুণ রেটে। বিখ্যাত ব্লগিং সাইটগুলোতে গেস্ট হিসেবে ব্লগ করে কিংবা নিজের পার্সোনাল ব্লগ তৈরি করে ব্লগিং শুরু করতে পারেন, যার লক্ষ্য থাকবে আপনার দক্ষতাকে ব্র্যান্ডিং করা।
০৪. ফোরাম পোস্টিংয়ের মাধ্যমে : সোশ্যাল মিডিয়াতে ফোরাম পোস্ট করে নিজের দক্ষতা সবার সামনে প্রকাশ করতে পারেন। ব্লগিংয়ে লেখার জন্য টপিকস খুঁজতে হলেও ফোরামে সেই ঝামেলাতে পড়তে হবে না। কারণ, এখানে বিভিন্নজনের প্রশ্নের উত্তরগুলো ভালোভাবে আকর্ষণ করার মতো করে দিলেই হবে। এ ধরনের নিয়মিত কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর উত্তর দিতে থাকলে, সেই বিষয়ের ওপর আপনার দক্ষতা সবার কাছেই প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ সেই দক্ষতার বিষয়ে নিজের ব্র্যান্ডিংটা হয়ে যায়।
০৫. ই-মেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে : ই-মেইল মার্কেটিং সম্পর্কিত বেসিক জ্ঞান থাকলে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে যোগাযোগের মাধ্যম খুঁজে বের করে তাদেরকে অফার জানিয়ে নিয়মিত মেইল করুন। তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এভাবে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। বড় আকারে কাজ পেতে চাইলে এ পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর। তবে আগে একটি প্রফেশনাল পোর্টফলিও ওয়েবসাইট তৈরি করে নিলে বেশি ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
০৬. পোর্টফলিও সাইট তৈরি করে এসইও করার মাধ্যমে : নিজের একটি পোর্টফলিও সাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইটকে নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড দিয়ে গুগল সার্চের ফলাফলের প্রথমে নিয়ে আসতে পারলে সেখান থেকে কাজ পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটকে আগে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হবে। এ ধরনের ওয়েবসাইটগুলো র্যা ঙ্কিংয়ের পাশাপাশি ট্রাফিক অ্যানগেজমেন্টের ওপরই কাজ পাওয়া বেশি নির্ভর করে। আর এভাবে কাজ জোগাড় করলে সারাজীবনই কাজ পেতে থাকবেন।
০৭. ভিডিও মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে : ইউটিউবে নিজের একটি ভিডিও চ্যানেল খুলে পছন্দের বিষয়ের ওপর ভিডিও তৈরি করে নিয়মিত আপলোড করুন। এমন ভিডিও তৈরি করতে হবে, যাতে সেটা দেখে অন্যদের ভেতর সেই কাজের ব্যাপারে আপনাকে অভিজ্ঞ হিসেবে ধারণা পোষণ করবে। এ ভিডিওকে ইউটিউবের সার্চের প্রথমে নিয়ে আসার কাজটিও করতে না পারলে ভিডিওটি বেশি মানুষের নজরে আসবে না। বেশি মানুষ আপনার ভিডিও না দেখলে উদ্দেশ্য সফল হবে না, অর্থাৎ কাজ পাবেন না।
০৮. ব্লগ কমেন্টিংয়ের মাধ্যমে : ভালো কিছু ব্লগ রয়েছে, যেগুলোতে অনেকেই ভালো কিছু শেখার জন্য যায়। সারা বিশ্বের অনেকেই নিয়মিত এ সাইটগুলোতে ভিজিট করে। আপনি এসব সাইটে ব্লগ লিখতে পারলে টার্গেটেড লোকদের কাছে খুব সহজে নিজের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করতে পারবেন। এসব ব্লগে প্রকাশিত পোস্টগুলোতে সবার নজরে আসার মতো করে কমেন্ট করুন নিয়মিত। এসব কমেন্টের মাধ্যমেও নিজেকে ব্র্যান্ডিং করার সুযোগ আছে। সাধারণত দেখা যায়, ৪-৫টি ভালো কমেন্টের পর সেই কমেন্টকারী ব্যক্তির পরিচয় কিংবা যোগাযোগ করার মাধ্যম অন্যরা খোঁজার চেষ্টা করে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে সেই কমেন্টকারী ব্যক্তির সাথে যুক্ত হয় এবং নজরে পড়ার মতো ৮-১০টি কমেন্ট করতে পারলে কাজ পাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়।
০৯. প্রেজেন্টেশন সস্নাইড আপলোডের মাধ্যমেও কাজ পাবেন : সস্নাইডশেয়ার (slideshare.net) নামে একটি সাইট রয়েছে, যেখানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন আপলোড করা হয়। এ সাইটের লিঙ্কগুলো গুগলে খুব সহজে র্যাছঙ্ক পায়। গুগলের কাছে যেমন জনপ্রিয় এ সাইটটি, তেমনি অনেকের কাছেও জনপ্রিয়। আর সেজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই এ সাইটে এসে নিয়মিত তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিষয় সার্চ করে। সেজন্য নিজে একটি পরিকল্পনা করুন। প্রতি মাসে কমপক্ষে দুটি প্রেজেন্টেশন এ সাইটটিতে পোস্ট করুন। এ প্রেজেন্টেশনটির কনটেন্ট হবে অবশ্যই অন্যদের জন্য উপকারী। তবে প্রেজেন্টেশনটির শেষ সস্নাইডে কাজ চেয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এভাবে অনেকে কাজ পাচ্ছেন।
১০. অন্য একটি এক্সক্লুসিভ টিপ : অনেক সময় ফেসবুকে নিজেদের বন্ধু লিস্টের মধ্য থেকে নিচের মতো পোস্ট দেখা যায়। ‘একজন লোগো ডিজাইনার লাগবে। কেউ থাকলে আওয়াজ দিন।’ তখন কাজ জানা থাকলে সেখানে গিয়ে হয়তো অনুরোধ করা হয় কাজটি পাওয়ার জন্য। বন্ধু লিস্ট থেকে হয়তো মাঝে মাঝে দুয়েক দিন এমন দেখা যায়। এবার এমন একটি টিপ তুলে ধরা হলো, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যত মানুষ এরকম লোক চেয়ে তাদের নিজেদের প্রোফাইলে স্ট্যাটাস দিয়েছে, তা একবারে খুঁজে বের করতে পারবেন। অবশ্য এটি এখনও ফেসবুকে করা সম্ভব নয়। কাজটি করার জন্য টুইটারে যেতে হবে।
যেকোনো মাধ্যমেই কাজ খুঁজতে যান, নিজের কাজের বিষয়ে একটি পোর্টফলিও অবশ্যই তৈরি করে নিতে ভুলবেন না। কারণ, এ পোর্টফলিওতে থাকা কাজগুলো দেখেই বায়ার কাজ দিতে আগ্রহী হবে। বায়ারের সাথে কাজের ব্যাপারে কথা বলার শুরুতে আগের করা কাজ অবশ্যই দেখতে চাইবে। কাজ পাওয়ার অনেক টিপ তুলে ধরা হয়েছে। আশা করা যায়, ব্যর্থ হতে হবে না

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৫ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস