Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পিপল পার আওয়ারে কাজ করবেন যেভাবে
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: নাজমুল হক
মোট লেখা:১১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৫ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
আউটসোর্সিং
তথ্যসূত্র:
আউটসোর্সিং
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পিপল পার আওয়ারে কাজ করবেন যেভাবে
পিপল পার আওয়ার বা পিপিএইচ (www.peopleperhour.com) একটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। এই মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাবে এই লেখায়। এই মার্কেটপ্লেসে কী কী কাজ পাওয়া যায় এবং নতুন একজন কীভাবে কাজ শুরু করতে পারবেন, এর একটি বিস্তারিত গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ গাইডলাইনটি কয়েকটি পর্বে লেখা হবে।
পিপল পার আওয়ার যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। প্রচলিত অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেসব ভিন্ন ভিন্ন কাজ আউটসোর্স বা ফ্রিল্যান্সিং করার সুযোগ দিয়ে থাকে তাদের মতোই একটি অনবদ্য স্কিল বিক্রি করার মার্কেটপ্লেস হলো এটি। পিপল পার আওয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন http://www.freelancerstory.com/2013/12/blog-post_19.html লিঙ্কে।
জনপ্রিয় এই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রায় সব ক্যাটাগরির কাজই করতে পারবেন। যেমন- ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, রাইটিং অ্যান্ড ট্রান্সলেশন, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, ভিডিও ফটো ও ডিও, সোশ্যাল মিডিয়া, বিজনেস সাপোর্ট এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মোবাইল ক্যাটাগরি।
প্রতিটি ক্যাটাগরিরই রয়েছে অনেক সাব-ক্যাটাগরি। যেমন ডিজাইন ক্যাটাগরির সাব-ক্যাটাগরিতে রয়েছে Logo Design, Wireframes, Web Pages, Icon/Badges, Flayer Designসহ অনেক সাব-ক্যাটাগরি। আর প্রতিটি সাব-ক্যাটাগরিতে প্রতিদিনই পোস্ট হয় শত শত জব এবং এসব মার্কেটপ্লেসে রয়েছে অফুরন্ত কাজের সুযোগ।
পিপল পার আওয়ারে যেসব কাজ বেশি পাওয়া যায়
পিপিএইচে চেনা নানা ধরনের কাজ পাওয়া যায়। যেমন- প্রোগ্রামিং, ডিজাইনিং থেকে শুরু করে আর্টিকল রাইটিং, ডাটাএন্ট্রি- যা পিপিএইচের জব লিস্টে প্রতিদিন পোস্ট হয় না। সবচেয়ে বেশি কাজ পাওয়া যায় ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরিতে। কাজের ক্যাটাগরি অনুযায়ী পিপিএইচে সহজেই পাওয়া যায় এমন কিছু কাজের তালিকা।
ডিজাইন ক্যাটাগরির জব
০১. লোগো ডিজাইন : লোগো ডিজাইনিং গ্রাফিঙ ডিজাইনের একটি অংশ। প্রচুর লোগো ডিজাইনের কাজ পিপিএইচে প্রতিনিয়ত পোস্ট হয়। বেশিরভাগ ইউকে ও ইউএসভিত্তিক বায়ারেরা তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য লোগো তৈরির কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে থাকেন। ভালো ও বিশ্বমানের লোগো তৈরি করতে বায়ারেরা বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখেন। ফলে এই বিষয়ে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারেরা বেশি পরিমাণ অর্থ লাভ করতে পারেন লোগো ডিজাইনিংয়ের মাধ্যমে।
০২. ফ্লায়ারে বিজনেস কার্ড ডিজাইন : অনেক কোম্পানিই তাদের সার্ভিসগুলো ক্রেতাদের সামনে দেখানোর জন্য ফ্লায়ার বা ব্রশিউর ডিজাইন করে থাকে। এ ধরনের অনেক গ্রাফিঙের কাজ এ মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যায়। বায়ারেরা এ মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে প্রচুর বিজনেস কার্ডের কাজ দিয়ে থাকে।
০৩. ওয়েব এলিমেন্টস : ওয়েবসাইটের টেমপ্লেট (পিএসডি) থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রমোশনাল ব্যানার, নিউজলেটার, প্রাইস টেবিল, বাটন ইত্যাদি অনেক কাজ রয়েছে এ মার্কেটপ্লেসে।
০৪. অন্যান্য : এ মার্কেটপ্লেসে গ্রাফিঙের আরও যেসব কাজ পাওয়া যায় সেগুলো হলো- ইলাস্ট্রেশন, লিফলেট ডিজাইন, টিশার্ট ডিজাইন, থ্রিডি ও ক্যাড ডিজাইন, অ্যানিমেশন, ম্যাগাজিন ডিজাইন। আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে এ মার্কেটপ্লেসে প্রায় সব ধরনের কাজই করতে পারবেন।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরির জব
০১. ওয়েব ডিজাইন : প্রতিনিয়ত হাজারো নতুন ওয়েবসাইট উন্মুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ওয়েবের ইন্টারফেস ডিজাইনের চাহিদা বাড়ছে ব্যাপক হারে। পিপিএইচও ফ্রিল্যান্সারদের অফার করছে বায়ারের দেয়া প্রচুর ওয়েব ডিজাইনিংয়ের কাজ। লোগোর পরেই ওয়েব ডিজাইনিংয়ের জনপ্রিয়তা পিপিএইচে সবচেয়ে বেশি।
০২. ওয়েব প্রোগ্রামিং : যারা ওয়েব প্রোগ্রাম ভালো পারেন এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে চান, তাদের জন্য এ মার্কেটপ্লেসে রয়েছে প্রচুর কাজের সুযোগ। এখানে বিভিন্ন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্রেমওয়ার্কের প্লাগ-ইন বা মডিউল তৈরির অনেক কাজ রয়েছে।
০৩. ওয়ার্ডপ্রেস থিম : জনপ্রিয় ও ব্যাপকভাবে ব্যবহার হওয়া ব্লগ-ওয়েবসাইট লেখার খ্যাতনামা টুল ওয়ার্ডপ্রেসের থিম বানানোর কাজের চল আছে পিপিএইচেও। শুধু থিম ডেভেলপমেন্টের কাজ করিয়ে প্রচুর অর্থ দিচ্ছে বায়ারেরা।
০৪. ফ্রেমওয়ার্ক ও ই-কমার্স : এ মার্কেটপ্লেসে রয়েছে বিভিন্ন ওয়েব ফ্রেমওয়ার্ক- ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, দ্রুপালের কাজ। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির কাজ। ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির জন্য এখানে ম্যাজেনটোসহ অনেক কাজ রয়েছে।
রাইটিং অ্যান্ড ট্রান্সলেশন ক্যাটাগরির জব
০১. কপি রাইটিং : কনটেন্ট রাইটিং, আর্টিকল রাইটিং বা সম্মিলিতভাবে গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে নতুন কোনো প্রোডাক্ট, ওয়েবসাইট বা প্রতিষ্ঠান নিয়ে মতামত নিয়ে লেখার দক্ষতাকেই কপি রাইটিং বলা যেতে পারে। এমন কাজের ভালো বাজার আছে পিপিএইচে, অনেক ক্লায়েন্টই লেখালেখিভিত্তিক কাজ উপযুক্ত দরে কিনে নিতে আগ্রহী হয়।
বিজনেস সাপোর্ট ক্যাটাগরির জব
০১. অ্যাকাউন্ট সাপোর্ট : অনলাইনে বাণিজ্য এখন অনেকটাই রোজকার কাজে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মতো ভার্চুয়াল কলসেন্টার গোত্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানে ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে নিয়োগের কাজের চাহিদা পিপিএইচেও আছে।
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মোবাইল ক্যাটাগরির জব
প্রোগ্রামিং : জাভা, পিএইচপি, পার্ল, সি++ থেকে শুরু করে যতগুলো জনপ্রিয় কমপিউটারের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ রয়েছে, সব কটির কদর আছে এই মার্কেটপ্লেসে। তাই প্রোগ্রামারেরা সহজেই তাদের স্কিল বিক্রি করতে পারবেন যেকোনো নামি-দামি ক্লায়েন্টের ভিডিও গেম বা সফটওয়্যার ফার্মের কাছে। আর দামের দিক থেকে কার্পণ্যের শিকার হবেন না মোটেই।
সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ক্যাটাগরির জব
০১. ডাটা এন্ট্রি : অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, পিপিএইচে ডাটা এন্ট্রির বাজার ছোট হলেও সাধারণত এমন ধরনের কাজ উপরে উল্লিখিত কাজের মতো সচরাচর মেলে না।
০২. অন্যান্য : এসব ছাড়া রয়েছে লিগ্যাল সার্ভিসেস, ভয়েজওভার রেকর্ডিং বা ধারাভাষ্য রেকর্ডিং, লিড জেনেরেশন বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশানের ভিডিও এডিটিং, ট্রান্সলেশনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ।
পিপল পার আওয়ারের মূল বৈশিষ্ট্য- আওয়ারলি
পিপল পার আওয়ার অন্যান্য মার্কেটপ্লেস থেকে ভিন্নতর মূল কারণ হচ্ছে আওয়ারলি। আমরা অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে বিড/অ্যাপ্লিকেশন করে কাজ পাই। আর এ মার্কেটপ্লেসে বিড/অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি আওয়ারলি তৈরি করেও কাজ পাওয়া যায়। আওয়ারলি হচ্ছে একটি অফার- যেমন আপনি যদি লোগো ডিজাইনের একটি অফার দিয়ে একটি আওয়ারলি তৈরি করেন, তখন ক্লায়েন্ট/বায়ারেরা সেটি দেখতে পাবে এবং তাদের প্রয়োজন হলে এর অর্ডার করবে। সে ক্ষেত্রে আপনি একটি আওয়ারলি তৈরি করেই অনেকগুলো অর্ডার পেতে পারেন। আপনাকে বারবার বিড করতে হবে না।
পিপল পার আওয়ারে কাজ কীভাবে শুরু করবেন
পিপল পার আওয়ারে কাজ শুরু করতে হলে প্রথমেই আপনাকে যেকোনো একটি কাজে দক্ষ হতে হবে। উপরে উল্লিখিত যেকোনো একটি কাজ জানলেই এখানে কাজ করতে পারবেন। যেমন আপনি যদি ফটোশপ দিয়ে বিজনেস কার্ড তৈরি করতে পারেন, তবে এখানে এ ধরনের কাজ করতে পারবেন। যদি এইচটিএমএল, সিএসএস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন, তবে ওয়েবসাইট ডিজাইনের প্রচুর কাজ এই মার্কেটপ্লেসে রয়েছে, যা করতে পারবেন।
আর যদি কোনো কাজ না জানেন তবে আপনাকে প্রথমে যেকোনো একটি কাজ শিখতে হবে। তারপর এই মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হলে কিছু ধাপ রয়েছে। এই ধাপগুলো অতিক্রম করতে পারলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।
পর্যায়-১ : কোনো একটি কাজে দক্ষ হওয়া। কাজ জানা বা শেখা। কাজ জানা থাকলে সহজেই করতে পারবেন আর না জানা থাকলে কাজটি শিখে নিতে পারেন। কাজ শেখা ছাড়া এখানে ভালো অবস্থানে যেতে পারবেন না বা ভালো আয় করতে পারবেন না। আপনি কীভাবে কাজ শিখবেন তা পরবর্তী পর্বে আলোচনা করা হবে।
পর্যায়-২ : কাজ শেখার পর প্রয়োজন হয় মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রোফাইল তৈরি করা। যেমন- এখানে পিপল পার আওয়ারে প্রোফাইল তৈরি করা, প্রোফাইল সাজানো, পোর্টফলিও রাখা এবং নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করা।
পর্যায়-৩ : সবশেষে প্রয়োজন হয় মার্কেটপ্লেসটি ভালোভাবে বোঝা। যেমন- এই মার্কেটপ্লেসে কীভাবে বিড করতে হয়, কীভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করতে হয়, কীভাবে পেমেন্ট তুলতে হয়, সমস্যায় কীভাবে সাপোর্ট নিতে হয় ইত্যাদি।
পরবর্তী পর্বগুলোতে দেখানো হবে কীভাবে কাজ শিখবেন, কীভাবে প্রোফাইল বিল্ড আপ করবেন, আরও জানতে পারবেন মার্কেটপ্লেসটির ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কীভাবে কাজ শুরু করবেন
ফিডব্যাক : najmul@sylhost.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৫ - অক্টোবর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস