Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ভেস্তে যাওয়া শতকোটি টাকার ডিজিটাল কর্মসূচি
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সম্পাদক
মোট লেখা:৩১৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৬ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সম্পাদক
তথ্যসূত্র:
সম্পাদকীয়
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ভেস্তে যাওয়া শতকোটি টাকার ডিজিটাল কর্মসূচি
সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একটি উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের টাকা কীভাবে যে বিনষ্ট করা হয়, তারই একটি উদাহরণ পাওয়া যায় এই প্রতিবেদন থেকে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়- প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল করার শতকোটি টাকার ডিজিটাল কর্মসূচি ভেস্তে গেছে। কোনো মাস্টার প্লান বা পরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। কিন্তু সীমাহীন অব্যবস্থা ও তদারকির অভাবে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৯টি মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাকে কমপিউটার ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আনা হয়। কিন্তু যন্ত্রাংশের বেশিরভাগ এখন অকেজো ও ব্যবহারের অনুপযোগী। অর্থের অভাবে এসব যন্ত্রাংশ এখন ঠিক করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি কাজ চলার সময় ১০ বছরে এ কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক পদে ৬ বার পরিবর্তন আনা হয়। সব প্রকল্প পরিচালককেই পূর্ণকালীন দায়িত্ব না দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৩ হাজার ৩৪৬টি কমপিউটারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৯২টিই নষ্ট হয়ে আছে। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৬৭টি কমপিউটার ও যন্ত্রপাতির মধ্যে সবগুলোই নষ্ট। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৯২টি যন্ত্রপাতির মধ্যে ৭০টি নষ্ট, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৭টি যন্ত্রপাতির মধ্যে ২৪টিই নষ্ট এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ৪৪টির মধ্যে ৪২টিই নষ্ট। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থাও একই।
প্রতিবেদন সূত্রে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন কারণে আর মেরামত করা হয়নি। মেরামত না করায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই এসব যন্ত্রপাতি আর ব্যবহার করা যায়নি। মূল কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নেই। চুক্তি শেষে যন্ত্রপাতি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি কর্মীরও অভাব ছিল। ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি কোনো মেরামত ব্যবস্থা না থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র মতে, ২০০২ সালে ৮৩ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে। ২০০৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে দুইবার সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ১০১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ও বাস্তবায়ন সময় বাড়িয়ে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ৫৫টি উপ-প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা ৩৯টিতে নামিয়ে আনা হয়। এ প্রকল্পের মূল কার্যক্রম ছিল ওয়েবসাইট ও প্রসেস অটোমেশন সফটওয়্যার নির্মাণে সহায়তা করা, অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা দেয়া, হার্ডওয়্যার সরবরাহ এবং কর্মকর্তা প্রশিক্ষণসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া।
অবাক হওয়ার কথা, শতকোটি টাকার এই কর্মসূচি চালু হয়েছে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- এসআইসিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে কোনো মাস্টার প্লান বা বিস্তারিত সমীক্ষা করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রকৃত প্রয়োজনভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি প্রণয়ন করা যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- এ কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা সফটওয়্যার অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় আপডেট না করায় তা আর ব্যবহার হয়নি। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন লোকবলের অভাব এবং চুক্তি শেষে সফটওয়্যার সরবরাহকারীদের কাছে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পাওয়া যায়নি।
প্রশিক্ষণার্থীদের জরিপ থেকে কিছু ধারাবাহিকতার সমস্যা উপস্থাপন করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এ ব্যাপারে প্রতিবেদনে বলা হয়- ৯১ শতাংশ প্রশিক্ষার্থী মনে করেন ফলোআপ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছিল। ৮১ শতাংশ মনে করেন তথপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণে অধীনস্থ কর্মকর্তা বা সহকর্মীকে বিবেচনায় আনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আমরা মনে করি- বংলাদেশে যেখানে বড় ধরনের তহবিল সঙ্কট রয়েছে, সেখানে সরকারের এত বড় একটি কর্মসূচি এভাবে জগাখিচুড়ির মতো চলতে পারে না। আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে- কার কার স্বার্থে পরিকল্পনাহীনভাবে এ ধরনের একটি কর্মসূচি চালু করা হলো, আর কেনই বা শতকোটি টাকার এই প্রকল্প আজ এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এ প্রকল্পে বিদ্যমান অব্যবস্থা দূর করতে হবে।

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৬ - জুলাই সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস