Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ভালো গ্রাফিক্স কার্ড চেনার উপায়
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: শাকিল খান
মোট লেখা:১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৬ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গ্রাফিক্স কার্ড
তথ্যসূত্র:
হার্ডওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ভালো গ্রাফিক্স কার্ড চেনার উপায়
আমরা সবাই কমবেশি গ্রাফিক্স কার্ডের নাম শুনেছি। কিন্তু আসলেই গ্রাফিক্স কার্ড কী? কীভাবে কাজ করে? এগুলো অনেকেই জানি না। গ্রাফিক্স কার্ড কমপিউটারের হার্ডওয়্যারের একটি অংশ, যা মনিটরে যে ছবি দেখি তা প্রসেস করে দেয়। সোজা ভাষায় বলা যায় গ্রাফিক্স কার্ড ডাটাগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন করে যেন মনিটর বুঝতে পারে আর মনিটরের মাধ্যেমে আমারা তা দেখতে পারি।
যার কমপিউটারের গ্রাফিক্স কার্ড যত ভালো মানের, তার মনিটরে তত সুন্দর-পরিচ্ছন্ন ছবি আসবে। গেমার এবং ভিডিও এডিটরদের কাছে গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। তবে ইদানিং সবার কাছেই গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হয়েছে। সবাই কমবেশি ভালো গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করার ব্যাপারে এখন সচেতন। আর নতুন কমপিউটার কেনার আগেও এখন সবাই গ্রাফিক্স কার্ডের ব্যাপারে সচেতন থাকেন। আসলে ভালো একটি গ্রাফিক্স কার্ড আপনার কমপিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই পাল্টে দিতে পারে।
সবার আগে গ্রাফিক্স কার্ড সম্পর্কে ১৯৭০-এর দিকে একটি ভিডিও গেম ডেভেলপার কোম্পানি ধারণা দেয়। এরপর থেকেই সবাই এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং আজকের এই গ্রাফিক্স কার্ড অনেক সময়ের মধ্য দিয়ে অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে এত উন্নত হয়েছে।
গ্রাফিক্স কার্ড সাধারণত দুই ধরনের। যেমন- ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স কার্ড ও ডিসক্রেট গ্রাফিক্স কার্ড।
ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স কার্ড : এই ধরনের গ্রাফিক্স কার্ড মাদারবোর্ডের সাথেই সংযুক্ত থাকে। আলাদা করে আর বাইরে থেকে সংযুক্ত করতে হয় না। কম খরচের মধ্যে এই ধরনের গ্রাফিক্স কার্ড ভালো ও কার্যকর। কিন্তু আপগ্রেডের ঝামেলা আছে। নতুন করে আর আপগ্রেড নেবে না। সাধারণত সব ধরনের ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপে এই ধরনের গ্রাফিক্স কার্ড থাকেই।
ডিসকেট গ্রাফিক্স কার্ড : এই ধরনের গ্রাফিক্স কার্ড মাদারবোর্ডের সাথে সরাসরি সংযুক্ত নয়। এর জন্য আলাদা করে স্পেস অথবা সস্নট থাকে। প্রয়োজনে কার্ডটি খোলা যায় এবং চাইলে নতুন করে সংযুক্ত করা যায়। যারা কিছুদিন পরপর সিস্টেম আপগ্রেড করতে চান, তাদের জন্য এই ধরনের গ্রাফিক্স কার্ড উপযুক্ত। বেশিরভাগ কমপিউটার ব্যাবহারকারী ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স কার্ডই ব্যবহার করেন। কেননা ইন্টারনেট ব্যবহার, সাধারণ কাজ অথবা মুভি দেখার জন্য এর বেশি গ্রাফিক্সের দরকার নেই। তাই কম খরচে এটিই যথেষ্ট। কিন্তু যারা গেম খেলতে পছন্দ করেন কিংবা গেম-পাগল, নতুন কোনো গেম রিলিজ হলে মাথা ঠিক থাকে না, তাদের জন্য দরকার ডিসক্রেট গ্রাফিক্স কার্ড। কারণ এই গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার না করলে গেম খেলার মাঝে পিসি হ্যাং হয়ে যায়, কিংবা মনিটরের কালার চলে যাওয়া অথবা অনেক সময় মনিটরের এক পাশের অংশ ঘোলা হয়ে যাওয়া এই ধরনের অনেক সমস্যা হয়। তাই তাদের জন্য অবশ্যই ডিসক্রেট গ্রাফিক্স কার্ড বাধ্যতামূলক। যারা ভিডিও এডিট বা ইমেজ এডিটের কাজ করেন তাদের জন্যও ডিসক্রেট গ্রাফিক্স কার্ড। কেননা ভিডিও এডিটের সময় যত ভালো ছবি পাওয়া যাবে, সেই ভিডিওর মান তত ভালো হবে।
অনেকে ভাবেন- ভালো একটি গ্রাফিক্স কার্ড থাকলেই আর কোনো সমস্যা নেই। আসলে তা নয়। ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ডের পাশাপাশি আরও কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।
গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে তাই কিছু ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। যে ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখলে আপনি খুব সহজেই ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ড কিনে নিতে পারবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই। তার সাথে সাথে জেনে নিতে পারবেন গ্রাফিক্স কার্ড সমন্ধেও।
জিপিইউ
জিপিইউ হলো গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। জিপিইউ-কে গ্রাফিক্স কার্ডের মস্তিষ্ক বলা হয়। কারণ আমরা মনিটরের স্ক্রিনে যে ইমেজ দেখি, তা মূলত জিপিইউ-ই তৈরি করে। জিপিইউ কত শক্তিশালী হবে তা মডেলভেদে নির্ভর করে। সুতরাং গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে এটা মাথায় রাখতে হবে। জিপিইউ মূলত ট্রান্সলেটর হিসেবে কাজ করে। পিসি থেকে ডাটা নিয়ে তা ইমেজ হিসেবে আমাদের দেখায়। অনেক জটিল সব ভিজ্যুয়ালকেও আমাদের সামনে দ্রুত আর সহজভাবে উপস্থাপন করে। আমরা যে হাই-ডেফিনিশনের ছবি দেখি, তা এই জিপিইউ-ই আমাদের সামনে তুলে দেয়। হাই ডেফিনিশনের ভিডিও অথবা ইমেজের ডাটাও অনেক জটিল হয়। কিন্তু জিপিইউ যদি উন্নত মানের হয়, তাহলে উন্নত মানের ভিডিও এবং ইমেজও মনিটরে খুব সহজেই দেখতে পারি।
এক্সপানশন সস্নট
নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এটা মূলত একটি সস্নট, যার মাধ্যমে চাইলেই আলাদা করে নতুন একটি গ্রাফিক্স কার্ড সংযোগ করা যাবে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই পিসির ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে পারবেন। কিছু কিছু মাদারবোর্ডে একটির বেশিও গ্রাফিক্স কার্ড সংযোগের ব্যবস্থা আছে- যাকে বলা হয় এসএলআই, এনভিডিয়া বা ক্রসফায়ার এক্স এএমডি। এদের গ্রাফিক্স কার্ডে এই ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে আগে থেকেই এসএলআই বা ক্রসফায়ার গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে হবে। এসএলআই-কে অনেকে Scalable Link Interface বলে থাকে। এনভিডিয়া তাদের গ্রাফিক্স কার্ডে এই ধরনের সুবিধা দেয়, যার মাধ্যমে একের বেশি গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা যাবে একটিমাত্র সিস্টেম দিয়ে। এসএলআই মূলত প্রসেসিং পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়। ক্রসফায়ার এক্সকে অনেকে ক্রসফায়ার নামে চেনে। এটি এএমডির প্রোডাক্ট।
এফপিএস
ফ্রেমস পার সেকেন্ড বা এফপিএস যত বেশি হবে, গ্রাফিক্স কার্ডের মান তত ভালো হবে। আধুনিক গেমগুলো থ্রিডি আর অনেক দ্রুত। তাই এফপিএস রেট ভালো না হলে গেমের মজাই নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিটা সময় পিসি অনেকগুলো ফ্রেম প্রসেস করে, বিশেষ করে crisp image। যখন হাই রেজ্যুলেশনের কোনো গেম চলে, নির্দিষ্ট সময় পরপর ইমেজ রিফ্রেশ হয় আর এটাই হলো এফপিএস। কম সময়ের মধ্যে যত বেশি ইমেজ রিফ্রেশ হবে তত ভালো মানের ছবি আসবে। আর এ কারণে কারও যদি গ্রাফিক্স কার্ডের ফ্রেম রেট কম হয়, তার জন্য সমবেদনা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তাই এ ব্যাপারটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে তাই দেখে নিতে হবে গ্রাফিক্স কার্ডের এফপিএস রেট কেমন।
প্রস্ত্ততকারক
গ্রাফিক্স কার্ড কোন কোম্পানির সেটাও অনেক বড় একটি ব্যাপার। বাজারে অনেক কোম্পানির গ্রাফিক্স কার্ড পাওয়া যায়। কিন্তু সব কোম্পানির মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি বিক্রি আর ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার আলোকে এএমডি, এনভিডিয়া এখন পর্যন্ত শীর্ষে। তাই কেনার আগে কোম্পানিটাও অনেক বড় ব্যাপার। এএমডি কিছু ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স কার্ডও উৎপন্ন করে। যদিও এই দিক দিয়ে বাজারের একছত্র রাজত্ব ইন্টেলের। আমরা যখন কোনো পণ্য কিনি, চেষ্টা করি ভালো কোনো ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে। তাই ব্র্যান্ড দেখে পণ্য কেনাটা আপনার পক্ষেই যাবে।
র্যা ম কনফিগারেশন
আগের গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর নিজস্ব কোনো র্যাৎম মেমরি ছিল না। পিসির র্যাপম মেমরি ব্যবহার করত। ইদানিং এই ঝামেলাও নেই। এখনকার গ্রাফিক্স কার্ডগুলোতে আলাদা র্যামম মেমরি থাকে, যা শুধু গ্রাফিক্স কার্ডের জন্যই বরাদ্দ থাকে। আগের গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর মতো পিসির র্যাছম মেমরি ব্যবহার করে পিসিকে সেস্না করে দেয় না বরং আরও ভালো পারফরম্যান্স দেয়। আধুনিক গ্রাফিক্স কার্ডগুলোতে ৫১২এমবি থেকে ৮এই পর্যন্ত র্যা ম মেমরি থাকে সবার পরিচিত ফরম্যাট DDR3 and GDDR5 SDRAM। গ্রাফিক্স কার্ডের র্যা ম মেমরি ভালো এবং উঁচু মানের হলে একসাথে অনেক ব্যবহারকারীকে সাপোর্ট করে আর হাই রেজ্যুলেশন ভিডিও এবং ইমেজ ভালোভাবে সাপোর্ট করে। যারা Skyrim-এর মতো গেম খেলেন, তাদের জন্য অবশ্যই এই ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিক্স কার্ড বাধ্যতামূলক।
মনিটর সাপোর্ট
আপনি যখন গ্রাফিক্স কার্ড কিনবেন অবশ্যই দেখে নেবেন গ্রাফিক্স কার্ডটি একসাথে কয়টি মনিটর সাপোর্ট করে। ইদানিং বাজারে যেসব গ্রাফিক্স কার্ড পাওয়া যায়, সেগুলো একসাথে একের বেমি মনিটর সাপোর্ট করে। সুতরাং কেনার আগে প্রয়োজন অনুযায়ী ভালোভাবে চেক করে নিতে হবে। যারা মাল্টি-মনিটরে কাজ করেন অথবা গেম খেলেন, তাদের জন্য এর বিকল্প নেই।
আউটপুট সাপোর্ট
আপনার গ্রাফিক্স কার্ডটি মনিটরের সাথে কানেক্ট থাকে আরেকটি ডিভাইসের মাধ্যেমে। যার নাম ভিডিও কার্ড, যা মনিটরের পোর্টের সাথে মিলতে হবে। অনেক ভিডিও কার্ড আছে যেগুলোতে তিন থেকে চার ধরনের পোর্ট থাকে এবং কোনো না কোনোটির সাথে মিলবেই। VGA (Video Graphics Array)-এর সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত। একসাথে ১৫টি পিন থাকে, যেগুলো ডি-সাব নামে পরিচিত। এগুলো অনেক আগেই থেকে ভালো ভিডিও কানেক্টর হিসেবে পরিচিত। এর সাথে সাথে অন্য যে পোর্টগুলো আছে, সেগুলোও অনেক ভালো ভিডিও কানেক্টর।
ডিভিআই
ডিভিআই (ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল ইন্টারফেস) মূলত ফ্ল্যাট মনিটরে ব্যবহার হয়।
এইচডিএমআই
এইচডিএমআই অনেক বেশি পরিচিত একটি কানেক্টর। কারণ এটি ভালো ভিডিওর সাথে সাথে ভালো মানের অডিও কানেক্টর হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
ডিসপ্লেপোর্ট
নতুন জেনারেশনের মনিটরে এই ধরনের কানেক্টরই বেশি ব্যবহার হচ্ছে। ইদানিং অনেক পরিচিতি ও লাভ করেছে। এটি ভিডিও, অডিও ছাড়াও অন্য ডাটাও ব্যবহার করে।
ফরম ফ্যাক্টর (আকার-আকৃতি)
সবকিছুর পরও আরও একটি ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। সেটা হলো যে গ্রাফিক্স কার্ডটি কিনতে যাচ্ছেন, সেটার আকার-আকৃতি কেমন হবে? যদি আপনার পিসির আকার ছোট হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পাতলা গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে হবে।
আর যদি আপনার পিসি তুলনামূলক বড় আকার হয়, তাহলে পিসির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বড় আকারের গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে পারেন।
এটিএক্স/ফুল হাইট
এই ধরনের কার্ড সাধারণ আকারের। যাদের পিসির আকার স্ট্যান্ডার্ড, তারা কোনো চিমত্মা ছাড়াই এই ধরনের গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে পারেন।
লো প্রোফাইল
এটি এটিএক্স/ফুল হাইটের তুলনায় অনেক পাতলা, যেটি আপনি ছোট আকারের পিসিতে ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে ভালো গ্রাফিক্স কার্ড মানে এসব গুণাবলীর সমষ্টি। সবার পছন্দ একরকম নয়। তাই মতভেদ হবেই। কিন্তু ভালো কোনো গ্রাফিক্স কার্ড চেনার সহজ উপায় হলো এগুলোই


পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৬ - জুলাই সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস