Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ফেসবুকে বিভিন্ন ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মোহাম্মদ জাবেদ মোর্শেদ চৌধুরী
মোট লেখা:৫১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৬ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সিকিউরিটি
তথ্যসূত্র:
সিকিউরিটি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ফেসবুকে বিভিন্ন ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার
বর্তমান সময়ে ফেসবুকে ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে একটি ভাইরাস। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে আসা ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। এই ভাইরাসটিকে বলা হচ্ছে ‘প্লেগ’, যা ফেসবুক বন্ধুদের বার্তার মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের কাছে ছড়াচ্ছে। এই ভাইরাসে ইংরেজিতে একটি বার্তায় ভিডিও দেখার জন্য বলা হয়। এতে যাকে ভিডিও দেখতে বলা হয়, সেই ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবি ও নাম যুক্ত থাকে। ফলে অনেকে সহজেই এই জালে পা দিয়ে ফেলেন।
অনেকেই ভুল করে ক্লিক করে বসেন এই ভিডিওতে। ফলে ভাইরাসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধু তালিকায় থাকা সব বন্ধুর কাছে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসটি আসলে কোনো সফটওয়্যার প্রোগ্রাম নয়। এটি শুধু একটি স্ক্রিপ্ট। অনেকেই এই ভাইরাস দূর করতে পুরো ব্রাউজার ডিলিট করেন। আসলে এই ভাইরাসটি দূর করতে শুধু এক্সটেনশন পরিষ্কার করলেই চলবে। এ ছাড়াও ব্রাউজারে টেম্পরারি ফাইল, কুকিস মুছে দিয়েও এই ভাইরাসটি দূর করা যাবে। যদি এক্সটেনশন মুছতে না পারেন, তবে ব্রাউজার ডিলিট করে আবার রিইনস্টল করতে পারেন। এ ছাড়া ট্রেন্ড মাইক্রো অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে কমপিউটার স্ক্যান করেও এ ভাইরাস দূর করা যাবে।
ফেসবুকে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাসের আক্রমণের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। বছরখানেক আগে ফেসবুকে মারাত্মক এক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এবার আসুন দেখে নেই ফেসবুকে অতীতে ও বর্তমান সময়ে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার এবং সেসব থেকে পরিত্রাণের উপায়।
‘কালার চেঞ্জ’ ভাইরাস
ফেসবুক প্রোফাইলে কালার চেঞ্জ নামের ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কি ফেসবুক প্রোফাইলের রং পরিবর্তন করার কোনো ইনভাইটেশন পেয়েছেন? সাবধান! ‘কালার চেঞ্জ’ বা রং পরিবর্তন অ্যাপটি একটি ভাইরাস। ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ১০ হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীকে বোকা বানিয়ে এই ভাইরাসটি আক্রমণ করেছে।
ফেসবুকে প্রোফাইলের রং পরিবর্তনের এই ম্যালওয়্যারটি এর আগেও ছিল। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এই ম্যালওয়্যারটি সরিয়ে ফেললেও আবারও নতুনরূপে এটি ফিরে এসেছে। এই ম্যালওয়্যারটি একটি বিজ্ঞাপন আকারে ফেসবুক ব্যবহারকারীকে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করে। এতে বলা হয়, এখন থেকে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের প্রোফাইলের রং পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। এই অ্যাপটি ডাউনলোড করতেও বলা হয়। এই অ্যাপটি ডাউনলোড করতে গেলেই ভাইরাসপূর্ণ একটি সাইটে চলে যাবেন ব্যবহারকারী। এরপর থেকেই শুরু হবে বিপদ। রং পরিবর্তনের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা হলে ফেসবুকে লগইন তথ্য চুরি করে নেয় এই ম্যালওয়্যারটি। এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের রং পরিবর্তন করার জন্য একটি টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখতে বলে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বন্ধুদের কাছেও এই ম্যালওয়্যারটি ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর যদি ব্যবহারকারী ভিডিও না দেখেন, তখন ওই ম্যালওয়্যারপূর্ণ সাইটটি জোর করে একটি অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে বাধ্য করে। এ ছাড়া কমপিউটারে একটি পর্নোগ্রাফিক ভিডিও প্লেয়ার ডাউনলোড করানোর চেষ্টা করে। অ্যান্ড্রয়িডচালিত কোনো পণ্য থেকে এই ভাইরাসটিতে ক্লিক করা হলে তা পণ্যটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে দেখায় এবং এই ভাইরাস দূর করতে একটি অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোডের পরামর্শ দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, এ ধরনের স্প্যামে ক্লিক করবেন না। যদি এ ধরনের কোনো অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করা দেখেন তবে তা দ্রুত আনইনস্টল করে ফেসবুকের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলুন।
নতুন এই ভাইরাসটি ছাড়াও ফেসবুকে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় স্ক্যাম সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। এই ধরনের কয়েকটি স্ক্যাম নিয়েই পরবর্তী আলোচনা।
প্রোফাইল দেখার পরিসংখ্যান
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল কে কতবার দেখছেন, তা জানানোর জন্য একটি লিঙ্ক হয়তো আপনার নিউজ ফিডে নিয়মিতই দেখতে পারেন। কারা কতবার আপনার প্রোফাইল দেখছেন, সে তথ্য জানানোর জন্য বিজ্ঞাপন আকারে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। ফেসবুক এ ধরনের কোনো জিনিস অনুমোদন করে না। এ ধরনের কোনো লিঙ্ক দেখলে সতর্ক হতে হবে এবং কখনই ক্লিক করা উচিত নয়।
প্রোফাইল কে দেখেছে
আপনার প্রোফাইল আজ কে কে দেখল, তা জানার আগ্রহ থাকতে পারে। আপনার এই আগ্রহকে কাজে লাগাতে তৎপর সাইবার দুর্বৃত্তরা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আপনার প্রোফাইল কে দেখছে, সে সুবিধা রাখেনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তাই ‘হু ভিউড ইওর প্রোফাইল’ লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
ফেসবুকের থিম পরিবর্তন
‘আমি আমার ফেসবুকের থিম বদলে ফেলেছি। এটা চমৎকার।’ কিছু লিঙ্কে এ আকর্ষণীয় লেখা দেখতে পাবেন। কিন্তু এতে চমকের কিছু নেই। এটাতে ক্লিক করা মানে ভাইরাসের কবলে পড়ার একটি বন্দোবস্ত করা।
কখনও তারকা গুজব পোস্টে ক্লিক নয়
ফেসবুকে তারকাদের নিয়ে বা সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা সংশ্লিষ্ট গুজব নিয়ে চটকদার খবরের পোস্ট পাওয়া যায়। অনেক সময় এ ধরনের খবরকে ‘ব্রেকিং নিউজ’, ‘গোপন খবর’, ‘গোমর ফাঁস’, ‘তথ্য ফাঁস’, ‘আড়ালের খবর’ ইত্যাদি নামে পরিবেশন করা হয়।
ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ হিসেবে ফেসবুকে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া ও ম্যালওয়্যার ভর্তি খবর প্রকাশ করে দুর্বৃত্তরা। ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের পরামর্শ হচ্ছে, কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে গুগলে সার্চ করে দেখা ভালো। ফেসবুকের পোস্ট করা লিঙ্কে ক্লিক করলে তাতে ম্যালওয়্যার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
ভুয়া নিউজ সাইটের লিঙ্ক
ফেসবুকে অজানা-অচেনা উৎস থেকে নানা গুজব, চটকদার খবর প্রকাশ করা হয়। খবরের যে উৎসগুলো আপনার পরিচিত নয়, সে সাইটগুলোর খবরে ক্লিক করলে ম্যালওয়্যার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। আসল খবরের আদলে সাইবার দুর্বৃত্তরা ফেসবুকে ভুয়া নিউজের লিঙ্ক পোস্ট করে তাদের উদ্দেশ্য সফল করে।
ফেসবুকের গিফট কার্ড
আপনি ফেসবুকে লটারি জিতেছেন বা কোনো উপহার জিতেছেন বলে টাইমলাইনে পোস্ট দেখাতে পারেন। বর্তমানে ফেসবুকের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া স্ক্যামগুলোর একটি এই গিফট কার্ড স্ক্যাম। এসব তথ্য দেয়া হলেও কোনো উপহার পাওয়া যায় না বরং কমপিউটারে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পরিশেষে সবাইকে এই ধরনের প্রলুব্ধকারী বা লোভনীয় অ্যাপস বা লিঙ্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে যেকোনো সময় আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যেতে পারে বা আপনার ব্যবহৃত কমপিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে
ফিডব্যাক : jabedmorshed@yahoo.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৬ - নভেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা