Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > গেমের জগৎ
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৬ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
খেলা প্রকল্প
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
গেমের জগৎ
অ্যাবজু
আমাদের এবারের সেগমেন্ট থাকবে এ বছরের নতুন ট্রেন্ড রোমিং অ্যাডভেঞ্চার গেমস নিয়ে। ২০১৬-তে রিলিজ পেয়েছে একের পর এক অনিন্দ্যসুন্দর কিছু গেম, যা গেমারদের সমুদ্রতল থেকে শত আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সি পর্যন্ত ঘুরে আসার ব্যবস্থা করে দেবে। আর আমাদের সেগমেন্টের প্রথম গেম ‘অ্যাবজু’ আমাদের নিয়ে যাবে গভীর সমুদ্রতলে।
অ্যাবজু রেট্রো থ্রিডি গ্রাফিক্যাল এক জগত, যাকে গেমারেরা বর্ণনা করেও পুরোপুরি বুঝাতে ব্যর্থ হবেন। কারণ, গেমটির প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে অসাধারণ ডিটেইল্ড আর্ট, বাস্তবসম্মত ওসিয়ানিক লাইফ সিমুলেটর। গেমার এখানে একজন স্কুবা ডাইভার, যে কি না খুঁজতে বেড়িয়েছে সমুদ্রতলে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন এক শহর। সেই শহর খুঁজতে খুঁজতে গেমার হাজার প্রজাতির সি লাইফের সাথে সময় কাটাতে পারবে। এর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো এরকম একটি রেট্রো ভাইবের গেমটিতে গেমারের এক মুহূর্তের জন্যও গেমপ্লে রিপিটেটিভ কিংবা গা-ছাড়া মনে হবে না। অদ্ভুতভাবে আকস্মিক, যেকোনো ধরনের ধারাবাহিকতাবিহীন। গেমিং সিনারিওতে পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা যোদ্ধাদের বাধ্য করে তাদের বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে, যা তাদেরকে ওই ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে। এর মাঝে থেকেই গেমারকে ঘুরে বেড়াতে হবে শত্রুদের এলাকায়। সাথে সাথে লক্ষ রাখতে হবে যাতে কোনোভাবেই শিকারির হাতে না পড়ে যেতে হয়। বেঁচে থাকার সাথে সাথে মুছে ফেলতে হবে বেঁচে থাকার সবরকম চিহ্ন। আর প্রত্যেক সময় গেমার নিত্যনতুন রোমিং গেমারকে এনে দেবে নতুন লেভেল আর এসব গেমারকে তৈরি করতে হবে সূক্ষ্মতম মস্তিষ্কের সাহায্যে, যার কয়েকটি করতে হবে মুহূর্তের ভেতরে, কোনো কোনোটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘ সময়। প্রত্যেকটি লেভেলের সাথে সাথে আরমরি আর আর্সেনালের আয়তনও বাড়বে। এখানে গেমারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী পরিবেশ, সবচেয়ে বড় বন্ধুও তাই। গেমারকে সমুদ্রের সচরাচর জীবনের পাশাপাশি খুঁজতে হবে লুকানোর জন্য, বেঁচে থাকার জন্য এলাকা। আর মৌলিক লক গেমিংয়ের মতো যেকোনো স্ট্রাকচার ব্যবহারযোগ্য এবং ধ্বংসযোগ্য। গেমারেরা সচরাচর গেরিলা আক্রমণ এবং প্ল্যান করা চোরাগোপ্তা হামলার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আছে সম্পূর্ণ নতুন প্লেস্টাইল, যেগুলো দিয়ে গেমারেরা নিজেদের মতো করে সিগনেচার মুভ তৈরি করতে পারবে। দুর্দান্ত আবহের গ্রাফিক্স আর অনেকটাই বাস্তব শব্দকৌশল গেমারকে বাস্তব আর গেমিংয়ের অপূর্ব সমন্বয়কে জীবন্ত করে তুলবে।
গেম রিকোয়ারমেন্ট
উইন্ডোজ : এক্সপি/ভিসতা/৭, সিপিইউ : কোরআই৩ ২.২ গিগাহার্টজ/এএমডি অ্যাথলন, র্যা ম : ৪ গিগাবাইট উইন্ডোজ এক্সপি/ভিসতা/৭, ভিডিও কার্ড : ১ গিগাবাইট, সাউন্ড কার্ড, কিবোর্ড ও মাউস।
নেক্রোপলিস
নেক্রোপলিস শব্দাড়ম্বরপূর্ণ আর পরিণামে একটি দুঃসাহসিক গেমিং অভিজ্ঞতা। শুরু হবে ভয়ঙ্কর অন্ধকূপ দিয়ে আর এমনই তার ভিজ্যুয়ালাইজেশন যে, যারা ক্লস্ট্রফোবিক তাদের এটা নিয়ে না বসাই ভালো। এরপরের অংশ আবার টানেল থেকে একেবারেই আলাদা। শ্বাসরুদ্ধ করা পরিবেশ, ফেরারি হিসেবে পালানো। সেই পালানোর ওপর একটি ফোকাস আর একটি ফোকাস মেকানিক্স ও এনভায়রনমেন্টাল আর্কিটেক্ট দিয়ে মিশ্রিত করা হয়েছে এমনভাবে যে, দৌড়ানোর সময় রাস্তার নুড়ি থেকে স্কাইলাইন পর্যন্ত কিছুই চোখ এড়াবে না। গেমটিতে আছে কনটেন্ট, আছে সুন্দর স্টোরিলাইন ও হিউমার।
এখন ভেতরের কথাগুলো বলে নেয়া যাক। গেমটি ছোট ছোট গল্পে বিভক্ত। প্রত্যেকটি গল্প একটির চেয়ে আরেকটির সৌন্দর্যের ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। এই প্রচ-তার সবকিছু শেষ করে ফেলা যাবে মাত্র একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যতক্ষণ লাগে, ততক্ষণের মধ্যেই। হয়তো এই দ্রুতলয়ের গেমিং গেমারকে তার সর্বোচ্চ শক্তির শেষটুকু ব্যবহার করতে বাধ্য করবে আর গেমার পাবে ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল দেখার মতোই উত্তেজনা।
গেমারেরা এখন ভাবছে, এত তাড়াহুড়ো আর উত্তেজনার মাঝে হয়তো গেমটার অনেক অংশই ঠিকমতো বুঝে ওঠা যাবে না। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক এর উল্টো। গেমের প্রত্যেকটি চরিত্রের চারিত্রিক গভীরতা গেমের প্রত্যেকটি অংশকে সৌন্দর্যপূর্ণ করে গড়ে তুলেছে। নিখুঁত স্টোরিলাইন, হৃদয় অাঁকড়ানো রোল প্লেয়িং, সব মিলিয়ে গেমটি ‘ওর্থ দ্য টাইম’। এখানে প্রত্যেকটি এপিসোডের মধ্যে ওপরে বলা বিষয়গুলো ছাড়াও আর একটা মজার ব্যাপার আছে। গেমটির প্রত্যেকটি অংশই মৌলিক, রিদমিক এবং নতুনত্বসম্পন্ন। প্রত্যেকটি ব্যাটল ভিন্ন ভিন্ন ট্যাকটিকসকে বের করে নিয়ে আসে। আর প্রত্যেক অনুভূতি তার মানবিক চূড়াকে স্পর্শ করে যায়। গল্পের প্রতিটি বাঁকে গেমারকে হতে হবে হতভম্ব বাস্তবতার নিষ্ঠুরতায়। এক পর্যায়ে গেমার শিখে নেবে শক্তিশালী সব জাদু, দ্রুত জীবন বাঁচানোর দক্ষতা। পাওয়া যাবে ক্রস বো, গ্রেনেড, ধারালো ফাঁদ আরও অনেক কিছু। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে গেমারকে নির্ভর করতে হবে নিজের সিদ্ধান্তগুলোতে, যার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে সবকিছুর ভবিষ্যৎ। সব মিলিয়ে গেমার খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে পুরো গেমিং ম্যাট্রিক্সের সাথে।
গেম রিকোয়ারমেন্ট
উইন্ডোজ : এক্সপি/ভিসতা/৭, সিপিইউ : ইন্টেল কোরআই৩ ১.৫ গিগাহার্টজ/এএমডি সমমানের প্রসেসর, র্যা ম : ৪ গিগাবাইট উইন্ডোজ এক্সপি/ভিসতা/৭, ভিডিও কার্ড : ১ গিগাবাইট উইথ পিক্সেল শেডার, ৪+ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেস, সাউন্ড কার্ড, কিবোর্ড ও মাউস
প্ল্যানেটসাইড ২
থার্ড পারসন ভিউ থেকে শুধু শুটিং নয়, বিভিন্ন যানবাহন কন্ট্রোল, অপারেশনে অন্য কমান্ডোদের নেতৃত্বদান, ইনফ্যান্ট্রি প্লেসমেন্ট সবকিছুই করা যাবে মাল্টিপ্লেয়ার শুটিং সিরিজের এই গেমটিতে। অন্য ট্যাকটিক্যাল বা স্ট্র্যাটেজিক গেমগুলোর সাথে প্ল্যানেটসাইড ২-এর পার্থক্য এখানেই যে, অন্য গেমগুলো যেখানে ভয়াবহতার প্রচ-তা আর সিনেম্যাটিক অ্যাপিয়ারেন্সের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয় সেখানে হেল ডাইভারস গুরুত্ব দিয়েছে লাইভস্টাইল কমব্যাট আর যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার ওপর। আর মৃত্যুর জন্য একটা গুলিই যথেষ্ট। যারা একেবারেই নতুন গেমার, তাদের শুরুর দিকে একটু ঝামেলা হতে পারে গেমিং কন্ট্রোল নিয়ে। কারণ, মাউস হুইল আর স্পেসবার দিয়ে গেমের অনেকখানি চালাতে হবে। আর যদি পুরনো গেমার হয়ে থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে পুরোপুরি বাস্তব মডেলের অস্ত্র ও আর্সেনাল আপনাকে করবে মন্ত্রমুগ্ধ। সুতরাং অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ সব গেমারেরই উচিত হবে দক্ষ হয়ে লড়াই শুরু করা।
গেমের পুরোটাই এমন এক প্রণোদনা, যেখানে গেমার প্রতিমুহূর্তে যুদ্ধক্ষেত্রকে, যুদ্ধকে অনুভব করবে নিজের প্রতিটি রক্তকণিকায়। সামনে থেকে ছুটে আসা গুলিকে মনে হবে যেনো নিজের কানের পাশ দিয়েই শিষ কেটে গেল। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, এনিমি খেলতে সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হচ্ছে ধৈর্য; অপেক্ষা করতে হবে প্রতিটি সতর্ক মুহূর্তের মাঝে প্রতিটি অসতর্কতার। সুযোগ বুঝে আঘাত হানতে হবে সবচেয়ে কঠিন রক্ষাব্যূহের সবচেয়ে দুর্গম, কিন্তু মোলায়েম জায়গায়। বাস্তবের নিউইয়র্ক শহরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা গেমটির আসল আকর্ষণ এর কমব্যাট স্টাইল।
মোটামুটি সাধারণ পাওয়ার নিয়ে গেমটি শুরু করলেও সময়ের সাথে সাথে প্রচুর আপগ্রেড পাবেন। বিভিন্ন অ্যাকশন থেকে আপনার এক্সপেরিয়েন্স পয়েন্ট বাড়বে, যা থেকে আপনি পাবেন বাড়তি সব সুবিধা। অস্ত্র আর পাওয়ার কেনার দোকানটিও কম বড় নয়- ক্ষুরধার বেস্নড থেকে শুরু করে নানা আধুনিক অস্ত্র পাবেন অস্ত্রাগারে। আর পাওয়ারের তো অভাবই নেই। মাটির নিচ থেকে কাঁটা বের করে শত্রুকে গেঁথে ফেলা, ঘূর্ণিঝড়ের সাহায্যে শত্রুকে দিশেহারা করা ইত্যাদি নানা ধরনের পাওয়ার কেনা যাবে। বিভিন্ন লেভেলে বিভিন্ন কিংবা সবগুলো অস্ত্রই গেমার ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু সবকিছুতেই থাকবে এনিমিদের একচ্ছত্র আধিপত্য। গেমটির প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে এমনই একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। এনিমি এমন একটি সংস্থা, যারা অন্য সব কিছুর ওপর সামরিক শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আর কিছুদিনের মধ্যেই এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভীতি উদ্রেককারী একটি সংস্থায় পরিণত হবে। কারণ, তারা এমন এক ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে, যা দিয়ে স্থানকে পরিবর্তিত করে দেয়া যায়। তারা এক সেনাদল গড়ে তুলে এবং তাদের প্রত্যেককে দেয়া হয় নিজস্ব রিজেনারেশন ক্ষমতা। ধীরে ধীরে সংস্থাটির সেনাদলের ভয়ঙ্কর সব এজেন্ট ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীজুড়ে। গেমটির গল্প অসম্ভব সুন্দর না হলেও রোমাঞ্চকর সব বাঁকে ভরা। তাই গেমটিতে এরপর কী হবে সেটা এখানে ফাঁস করব না।
গেমটি অবশ্যই গেমারেরা যাকে বলে কি না ‘ব্লাড বাথ’ ধরনের গেম। বিভিন্ন শক্তিশালী এজেন্ট, সেনাবাহিনী, রোবটদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে গেমারকে। গেমারের আছে ডার্ট চিপ, যা দিয়ে সে সময়কে কিছু ভগ্নাংশের জন্য ধীর করে দিতে পারে। সে মানুষের মনে কিছু জটিল ফাংশনও তৈরি করতে পারে। যার ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সে কোনো মানুষকে আত্মহত্যা, অন্যকে হত্যা করা কিংবা ভুল করে নিজেকে আঘাত করে ফেলা প্রভৃতি কাজ করতে পারে। আছে অনেক ধরনের অস্ত্র ও আপগ্রেড। প্রতিটি অস্ত্রের একাধিক ফায়ারিং মোড গেমটিকে অন্য সব ফার্স্ট পারসন শুটিং গেম থেকে অভিনবত্ব এনে দিয়েছে। সুতরাং গেমারদের উচিত দেরি না করে এখনই এনিমিদের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা।
গেম রিকোয়ারমেন্ট
উইন্ডোজ : এক্সপি/ভিসতা/৭, সিপিইউ : কোরআই৫ ২.৩ গিগাহার্টজ/এএমডি, র্যা ম : ৮ গিগাবাইট ৭/১০, ভিডিও কার্ড : ২ গিগাবাইট, সাউন্ড কার্ড, কিবোর্ড, মাউস ও
২০+ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেস


পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৬ - অক্টোবর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস