Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > মেধা-মনন প্রকাশের মেলা বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: রাহিতুল ইসলাম
মোট লেখা:৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
প্রতিবেদন
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
মেধা-মনন প্রকাশের মেলা বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭
বাংলাদেশের আইসিটি সেবা খাতের মেধা ও মনন প্রকাশের সবচেয়ে বড় বার্ষিক আয়োজন ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭’ ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলেন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় গত ১ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি। বেসিস তথা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস আয়োজিত এগারতম এ মেলার থিম ছিল ‘গতিময়তায় ভবিষ্যৎ’ বা ‘ফিউচার ইন মোশন’। দেশী সফটওয়্যার শিল্প ও এ শিল্পসংশ্লিষ্ট সেবাকে দেশ-বিদেশের বাজারে পরিচিত করার সাথে সাথে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে গত কয়েক বছর ধরে বেসিস এ ধরনের মেলা আয়োজন করে আসছে।
১ ফেব্রুয়ারি সকালে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ‘সময় এসেছে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সাথে সফটওয়্যার খাতকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার। আইসিটিবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সফটওয়্যার খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।’
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের আয় বাড়াতে স্থানীয় বাজারে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় চাহিদা পূরণে কাজ করার পাশাপাশি রফতানি আয় বাড়াতে হবে।’
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সরকার ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে বেসিসকে সাথে নিয়ে সফটওয়্যার খাতে ২০১৮ সাল নাগাদ ১ বিলিয়ন ডলার রফতানি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই সাথে এ খাতে ১ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে।’
বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জববার বলেন, ‘১৯৯৭ সালে বেসিস যাত্রা শুরু করে। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বেসিস এখন তথ্যপ্রযুক্তিতে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সফটওয়্যার খাতে রফতানি আয় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বেসিস সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুসারে এ খাতে আয় ৫৯৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর রফতানি আয় যোগ করলে ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’
প্রদর্শনীর প্লাটিনাম স্পন্সর মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেসিসের পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, ‘দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে ৫০০ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করে নিয়ে আসবে মাইক্রোসফট। এ লক্ষে্য পুরোদমে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে লোকাল ইকোসিস্টেম তৈরি করারও আশ্বাস দেন তিনি।’
বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭’র আহবায়ক ও বেসিস পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, ‘দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণে এই এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে।’
উদ্বোধনের পরই সফটএক্সপো খুলে দেয়া হয় দর্শকদের জন্য। প্রথম দিন মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেল ৫৭টি স্টল, ৩৬টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ১৬টি প্যাভিলিয়নে চলছে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার প্রদর্শনী।
বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জববার বলেন, আমাদের দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় প্রসারের সবচেয়ে কার্যকর জায়গা বেসিস সফটএক্সপো। বিভিন্ন কারণে ২০১২ সালের পর আলাদাভাবে বেসিস সফটএক্সপো আয়োজন সম্ভব হয়নি। এখন থেকে পুনরায় প্রতিবছর বেসিস সফটএক্সপো আয়োজন করা হবে। এছাড়া বিগত সময়ের চেয়ে এবারের সফটএক্সপো সবচেয়ে সফল হয়েছে।
মেলার আহবায়ক সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, আমরা খুব সফলতা নিয়েই এবারের সফটএক্সপো মেলা শেষ করেছি। আমাদের এই মেলায় প্রায় ৬০ শতাংশ নতুন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যারা প্রত্যেকে নতুন নতুন প্রকল্প তুলে ধরেছে। আমাদের আরও একটি বড় প্রাপ্তি মেলায় বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিংয়ে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৮টি প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশের ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে ৪৫টি বৈঠক হয়েছে। আমরা যা আশা করেছি তারচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি। এবারের মেলায় এ লাখের বেশি তথ্যপ্রযুক্তি দর্শনার্থী অংশ নেয়।
প্রদর্শনীর শেষ দিন বেলা ১১টা থেকে অনুষ্ঠিত হয় এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইসিটি, পাবলিক পলিসি ফর ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর, ডাটা সিকিউরিটি ইন দ্য ইনভলবিং পেমেন্ট সইকো সিস্টেম ও ডিজিটাল মার্কেটিং ফর বুস্টিং বিজনেস শীর্ষক সেমিনার ও টেকনিক্যাল সেশন। বেলা ৩টা থেকে অনুষ্ঠিত হয় ইনফরমেশন সিকিউরিটি কনফারেন্স, প্রোটেক্টিং ইনোভেশন ও অ্যাকাউন্টিং বিপিও শীর্ষক সেমিনার ও টেকনিক্যাল সেশন। এবারের মেলায় ৭টি স্টল, ৩৬টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ১৬টি প্যাভিলিয়নে চলে সফটএক্সপো। প্রদর্শনীতে শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিভিন্ন সেমিনারে দেশ-বিদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞেরা অংশ নেন। দেশের সফটওয়্যারের নিজস্ব চাহিদা পূরণে সক্ষমতা প্রদর্শন ও আস্থা তৈরির জন্যই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
৪ ফেব্রুয়ারি শেষ দিন সন্ধ্যায় লিডারশিপ মিটের মাধ্যমে শেষ হয় বেসিস সফটএক্সপো। এতে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ। এ সময় তারানা হালিম বলেন, ‘সরকারের ভিশন-২০২১ অর্জন করতে আইসিটি এবং টেলিকমিউনিকেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আইসিটি ও টেলিকমিউনিকেশন একে অপরের পরিপূরক। ডিসেম্বরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপিত হবে। স্যাটেলাইটের কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশকে নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটির আওতায় আনা যাবে।’
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি ২০২১ সাল নাগাদ আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন দক্ষ জনবল। সেই জনবল তৈরিতে কাজ করছি আমরা। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।’
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি বেসিস ও পাম নেদারল্যান্ডস সিনিয়র এক্সপার্টসের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে বেসিসের পক্ষে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জববার ও পাম নেদারল্যান্ডস সিনিয়র এক্সপার্টসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার জোহান লুরসিমা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পাম নেদারল্যান্ডস সিনিয়র এক্সপার্টস মূলত বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সংগঠন। সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেসিসের সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে পাঠাবে। ফলে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো সহকর্মীদের মানোন্নয়ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের মেলায় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিপিও, ব্যবসায়িক সফটওয়্যার, মোবাইল উদ্ভাবন এবং ই-কমার্স- এই চারটি ভাগে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মেলায় প্রদর্শনীর পাশাপাশি প্রতিদিনই ছিল আইসিটিবিষয়ক একাধিক সেমিনার ও কর্মশালা।
যা ছিল এবারের আয়োজনে
প্রদর্শনী এলাকাকে বিজনেস সফটওয়্যার জোন, আইটিইএস ও বিপিও জোন, মোবাইল ইনোভেশন জোন এবং ই-কমার্স জোন- এই চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায় প্রসারে ছিল স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিজনেস ম্যাচমেকিং সেশন। বাড়তি সুবিধা হিসেবে ছিল বিজনেস লাউঞ্জ। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য ইভেন্টের মধ্যে ছিল ডারস মিট, ডেভেলপার কনফারেন্স, টেক উইমেন কনফারেন্সসহ নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল কোডিং প্রোগ্রাম।
সেমিনার
সফটএক্সপোতে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে অন্তত ২০টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানস্থলের মিডিয়া বাজার ও উইন্ডিটাউন হলে এসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেমিনারের মধ্যে ছিল- স্থানীয় কোম্পানির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, ডিজিটাল এডুকেশন ও ই-লার্নিং, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারনেট অব থিংস, অ্যাক্সেস টু ফিন্যান্স, ক্লাউড কমপিউটিং, ডাটা নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, রফতানি বাজার উন্নয়ন, ডেভেলপিং ইনোভেশন ইকোসিস্টেম, ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি, আইটি মার্কেট রিসার্চ, কোয়ালিটি সার্টিফিকেশনসহ নানা বিষয়।
টেকনিক্যাল সেশন
এবারের সফটএক্সপোতে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ১০টির বেশি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানস্থলের গ্রিনভিউ হলে এসব সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত টেকনিক্যাল সেশনের মধ্যে ছিল- এপিআই এক্সচেঞ্জ, ক্রস প্লাটফর্ম গেম ডেভেলপমেন্ট, এনক্রিপশন অন ক্লাউড ডাটা, মোবাইল ও গেমিং অ্যাপ্লিকেশনে ইউআই/ইউএক্সের গুরুত্ব, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড সার্ভার ব্যবস্থাপনার সহজ কৌশল, অনলাইন পেমেন্ট সহজীকরণের মাধ্যমে ব্যবসায় উন্নয়ন ও গ্রাহক সেবা বাড়ানো, ব্যবসায় উন্নয়নে ডিজিটাল মার্কেটিং ও অ্যাকাউন্টিং বিপিও : সুপ্ত সম্ভাবনা শীর্ষক বিষয়।
আন্তর্জাতিক বিটুবি
সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার রফতানি বাড়াতে এবারের বেসিস সফটএক্সপোতে আন্তর্জাতিক বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচ মেকিংয়ের আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর প্রথম দিন বেলা ৩টা থেকে এই বিটুবি ম্যাচ মেকিং অনুষ্ঠিত হয়। নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ১০টি কোম্পানি বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির সাথে আলাদা বৈঠকে মিলিত হয়। এর মাধ্যমে তারা একে অন্যের সাথে আগামীতে ব্যবসায় উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে পারবে। বেসিসের আগের বিটুবির অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এবারের বিটুবির মাধ্যমে বাংলাদেশী কোম্পানিগুলো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানির সাথে ব্যবসায়ের সুযোগ পাবে।
এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি
আয়োজনের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের চাকরির সুযোগ দিতে ছিল ‘এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি’ শীর্ষক আয়োজন। বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহযোগিতায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের যথোপযুক্ত জনবল খুঁজে নিতে এতে অংশ নেয়। প্রোগ্রামিং, ডিজাইন, মার্কেটিং, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্টিংসহ বিভিন্ন পদের জন্য আগ্রহীরা সিভি জমা দেন। প্রদর্শনীর প্রথম দিন থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে থাকা নির্ধারিত বক্সে সিভি জমা নেয়া হয়। সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত ‘এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি’ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী ও চাকরিজীবীদের উন্নত ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেয়া হয়। যেখানে অভিজ্ঞ বক্তারা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে করণীয় বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
প্রত্যাশা পূরণ
বিগত যেকোনো সফটএক্সপোর তুলনায় বর্ধিত পরিসরে ও নানা আয়োজনে বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয় এবং তা সফলভাবেও শেষ হয়। এই প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আইটি সংগঠন, স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানিসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে।
বেসিস সফটএক্সপোতে যেসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়
‘মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট : হোয়াট নেক্সট’ শীর্ষক সেমিনারে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘দেশীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও গেম উন্নয়নে সম্প্রতি ২৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চালু করেছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। দেশে আন্তর্জাতিক মানের মোবাইল গেম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বেসিস পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। আলোচক হিসেবে ছিলেন উপ-সচিব আবদুল আওয়াল, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর মোবাইল গেম অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক সেলিম খান, এরিনা ফোন বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রাবিব, বাক্যর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন প্রমুখ।
‘টেক উইমেন কনফারেন্স ২০১৭’ শীর্ষক কনফারেন্সে বক্তারা বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারীদেরকে বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, গ্রামীণ কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা এবং র্যাং কসটেলের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহনাজ কবীরসহ অনেকে। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বেসিস সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান।
‘১ ফেব্রুয়ারি এডুকেশন ফর এভরি সিটিজেন- বিল্ডিং এ ডিজিটাল প্লাটফর্ম ফর এডুকেশন অ্যান্ড লার্নিং’ শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক আরমানিয়ার ডাসারন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কার্যনির্বাহী সুরেন এলোয়েন বলেন, ‘প্রযুক্তির উন্নয়নে বদলে গেছে আরমানিয়ার মতো ছোট একটি দেশ। যে দেশে ৫ শতাংশ শিক্ষক কমপিউটার ব্যবহার করতে জানত না, সে দেশে ৮১ শতাংশ শিক্ষক এখন কমপিউটার ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে।
বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জববারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন এটুআইয়ের ই-লার্নিং বিশেষজ্ঞ ফারুক আহমেদ, প্রথম আলো ইয়ুথ গ্রুপের সমন্বয়ক মুনির হাসান, এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক আনীর চৌধুরী এবং ক্রসওয়ে আইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম তানভীর আহমেদ।
‘বাংলাদেশে ই-কমার্স : স্থানীয় ই-কমার্সের জন্য সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করে একটি দীর্ঘস্থায়ী ভ্যালু চেইন নিশ্চিত করা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশে ই-কমার্স ব্যবসায় যদি টেলিকম অপারেটরদের হাতে চলে যায় তাহলে দেশীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও ই-কমার্সগুলো দাঁড়াতে পারবে না। এজন্য দেশে একটি সমতাভিত্তিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাছাড়া কোনোভাবেই ই-কমার্স দাঁড় করানো যাবে না।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেসিসের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, আমরাও চেষ্টা করছি টেলকো প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটা কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে। আমরা চাই দেশীয় উদ্যোক্তারা দেশে ই-কমার্সের প্রসারে কাজ করুক। এজন্য আমরা যা যা প্রয়োজন সেটা অবশ্যই করব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
‘তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলা ভাষায় ইউনিকোড ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলা ইউনিকোড আইএসও স্ট্যান্ডার্ড ১৫২০:২০১১ স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউটিএফ ৬ থেকে শুরু হওয়ার পর ইউটিএফ ১০ ভার্সন নিয়ে কাজ চলছে। ভাষা গবেষণা এবং প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার প্রমিতরূপ ব্যবহারের জন্য ১৫৯ কোটি ২ লাখ টাকার প্রকল্প পাশ হয়েছে। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একটি সময় সম্মেলন কক্ষে বাংলায় কথা বললে সেই ভাষা অনুবাদ হয়ে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন ভাষায় শোনার প্রযুক্তিও আমরা তৈরি করতে সক্ষম হবো।
বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জববারের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম। বৈঠকে আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল কবির, টিম ইঞ্জিন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরা জুবেরি হিমিকা, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউআইইউ) অধ্যাপক ড. হাসান সরওয়ার, প্রথম আলো ইয়ুথ গ্রুপের সমন্বয়ক মুনির হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ. এফ. এম দানিয়াল হক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনসুর মুসা।
বেসিস সফটএক্সপোর দ্বিতীয় দিনে (বৃহস্পতিবার) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের গ্রিনভিউ হলে ‘এনক্রিপশন অন ক্লাউড ডেটা’ বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা বলেন, ক্লাউড সার্ভিসে নিরাপত্তার জন্য এসএসএল নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে সূচনা বক্তব্যে র্যাং কসটেলের প্রধান কারিগরী কর্মকর্তা তাসফিন আলম বলেন, ইন্টারনেটভিত্তিক ক্লাউড সেবার পরিধি যত বাড়ছে, ব্যবহারকারীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছবি, নথিসহ ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।
২ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার তৈরির টুলস অ্যাপ্লিকেশন লাইফসাইকেল ম্যানেজমেন্ট (এএলএম) নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো একটি সেমিনার বেসিস সফটএক্সপোর দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ডাটাসফটের পরিচালক মো: মনজুর মাহমুদ। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন কোভেয়ার সফটওয়্যারের পরিচালক অমিত দাসগুপ্তা, এটুআইয়ের ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট মানিক মাহমুদ ও এটুআইয়ের আইটি ম্যানেজার মো: ফরহাদ জাহিদ শেখ।
‘মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন : মনিটাইজেশন ইজ দ্য কি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, তরুণ ডেভেলপারদের তৈরি অ্যাপস থেকে আয় করার অন্যতম উপায় অ্যাপস মনিটাইজেশন। আর এজন্য চাই স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ। নানা উপায়ে অ্যাপস মনিটাইজেশন করা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইনারপারচেজ এবং অ্যাপসে অ্যাড প্লেস করা।
বেসিস পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার সাহা। সেমিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন স্কিলড ডেভেলপমেন্ট ফর মোবাইল গেম অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনের প্রকল্প পরামর্শক ড. মোহাম্মদ জানে আলম, ড্রিম ৭১ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশাদ কবীর, অর্ক টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাবিলা রহমান, চলো টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান শুভ, ৮ পিয়ার সলিউশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজালাল প্রমুখ।
‘তথ্যপ্রযুক্তির বাজার গবেষণা : একটি বিবর্তনীয় পদক্ষেপ’ বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় কত এটা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। তবে কারও কাছে সঠিক কোনো হিসাব নেই। সেমিনারে ডাটাবিজ সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ কামাল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বেসিস সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
‘মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশনে ইউআই ইউএ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, ফটোশপ জেনেই গ্রাফিক্স ডিজাইনার বা ইউআই (ইউজার ইন্টারফেস) এক্সপার্ট হওয়া যায়- আমাদের দেশে এরূপ ধারণা রয়েছে। কিন্তু তা ঠিক নয়। ইউএক্স এবং ইউআই ও গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কে আমাদের দেশে এরূপ আরও ভুল ধারণা রয়েছে। ইউজারহাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও হেড অব ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদ বিন আহসান সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, যেকোনো সফটওয়্যার বা গেমের ক্ষেত্রে ডিজাইন অবশ্যই রুচিশীল হতে হবে।
সেমিনার বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রিল্যান্সারের উদ্যোক্তা মো: শফিউল আলম, ইউজারহাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নীলিমা আহসান, ই-ক্যাবের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল হক অনু এবং ম্যাসিভ স্টারের প্রধান নির্বাহী মাহবুব আলমসহ অনেকে।
‘বাংলাদেশ পোস্ট অফিস : নিউ ফ্রন্টিয়ার ফর ই-কমার্স’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: ফজলে রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সামনে ই-কমার্সের প্রচুর সম্ভাবনা। তাই ই-কমার্সের উন্নয়নে পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টর একযোগে কাজ করতে হবে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার অব জেনারেল আবদুল আল মাহাবুব রশীদ বলেন, ২০১৪ সালের পর ই-কমার্সের ব্যবহার বেড়েছে।
সেমিনারটি পরিচালনা করেন ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো: আবদুল ওয়াহেদ তমাল। উপস্থিত ছিলেন বেসিসের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, ই-ক্যাবের সভাপতি রাজিব আহমেদ, পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী হোসেন মোহাম্মদ ইলিয়াস ও চালডাল ডটকমের প্রধান নির্বাহী জিয়া আশরাফ।
‘অ্যাড্রেসিং সাইবার সিকিউরিটি ফ্রম গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল পারস্পেক্টিভ’ শীর্ষক সেমিনারের সঞ্চালনা করেন বেসিসের পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএসএল ওয়্যারলেসের সিটিও শাহজাদা রেদওয়ান। এতে আলোচক হিসেবে ছিলেন সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কামিত্ম সরকার, ইস্টার্ন ব্যাংকের হেড অব আইটি ওমর ফারুক খোন্দকার, বুয়েটের কমপিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. এম পান্না।
‘ই-লার্নিং ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারের বক্তারা বলেন, ই-লার্নিং নিয়ে কাজ করতে গেলে সবার আগে মাথায় রাখতে হবে আমার প্রত্যাশিত শিক্ষার্থী কারা। সেই অনুযায়ী সিলেবাস প্রণয়ন করে তা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া ই-লার্নিং নিয়ে সরকারের তরফ থেকে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারলে একে একটি নির্দিষ্ট গ--র মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব বলেও মতামত দিয়েছেন অনেকেই।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা আজাদ কামাল ই-লার্নিং নিয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জাহিদ হোসাইন পনির, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমান, বাংলালিংকের প্রধান মানবসম্পদ ও প্রশাসক মঞ্জুলা মোরশেদসহ অনেকে।
৩ ফেব্রুয়ারি ‘এক্সপোর্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি টু অবটেইন ৫ বিলিয়ন বাই ২০২১’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মার্টিন ল্যাবিব এ কথা বলেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে ছিলেন বেসিসের সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান ও ফারহানা এ রহমান, এলআইসিটি প্রকল্পের কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ, গ্রাফিক পিপল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমতিয়াজ এলাহী, রাইট ব্রেইন সলিউশনের প্রধান নির্বাহী নূর মোহাম্মদ খান।
‘ক্লাউড সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহজ উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমন তথ্য জানান বাংলাদেশী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেট্রোনেটের ব্যবসায় উন্নয়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হাদি মোহাম্মদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাশিয়ান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্লেক্সের বিক্রয় প্রকৌশলী ভ্লাদিমির স্যামুকভ।
‘ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি : প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, আমাদের দেশেও অ্যাপস স্টোরের একটি ভালো বাজার হবে। এতে সমৃদ্ধ হবে আমাদের অর্থনীতি। সিস্টেম সলিউশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিসের প্রধান কার্যনির্বাহী মাহবুবুল মতিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভিইউ মোবাইলের প্রধান কার্যনির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়মুন আমিন। বৈঠকে আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ এমপি এবং বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জববার।
‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উইথ ক্লাউড কমপিউটিং’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের তথ্যদুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে ক্লাউড কমপিউটিং। ক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণ যেমন সহজ, তেমনিভাবে তথ্য সংরক্ষণের খরচও অনেক কম। সাউথইস্ট এশিয়া নিউ মার্কেটস মাইক্রোসফট এশিয়া প্যাসিফিকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রিনা চাইয়ের সঞ্চালনায় সেমিনারে বেসিসের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, বড় ধরনের ডাটা সেন্টার তৈরি করতে প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।
‘আইটি খাতে কোয়ালিটি সার্টিফিকেশনের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে বলেন, আমরা এখন ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি। এখানে ম্যান টু ম্যান সার্টিফিকেট যাচাই করা বায়ারদের জন্য কষ্টকর। বেসিসের সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন ডাটাসফট বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক এম মনজুর মাহমুদ, ইউনাইটেড সার্টিফিকেশন সার্ভিসেসের (ইউএনআইসিইআরটি) পরিচালক আবদুল কাদের, কোভেয়ার সফটওয়্যার ইনকর্পোরেশনের পরিচালক শিবাজি গুপ্ত ও বেসিসের পরিচালক উত্তম কুমার পাল।
‘তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোগের জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে প্রস্ত্ততকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে সিনিউজের সম্পাদক ও দি ডাটাবিজ সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ কামাল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, আইসিটি উদ্যোক্তা হতে গেলে বড় প্রয়োজন ধৈর্য্য।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সিনিউজের নির্বাহী সম্পাদক কাজী মোস্তাক। আরও উপস্থিত ছিলেন বেটার স্টোরিজের মিনহাজ আনোয়ার, বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, সিনিউজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাওসার উদ্দিন এবং সহযোগি সম্পাদক গোলাম দস্তগীর তৌহিদ


পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস