Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > টি-শার্ট বিক্রি করে আয় টিস্প্রিং ক্যাম্পেইন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: নাজমুল হক
মোট লেখা:২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
আউটসোর্সিং
তথ্যসূত্র:
ক্যারিয়ার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
টি-শার্ট বিক্রি করে আয় টিস্প্রিং ক্যাম্পেইন
অনলাইনে টি-শার্ট ডিজাইন এবং বিক্রি করে আয় করার খবর নতুন নয়। তবে টিস্প্রিং ই-বাণিজ্যের এ ধারণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। টি-শার্ট ডিজাইন থেকে শুরু করে প্রমোশন (বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মার্কেটিং), অর্ডার নেয়া, পণ্য উৎপাদন এবং ডেলিভারি তথা সরবরাহ করা- সব ক্ষেত্রেই টিস্প্রিং নতুন ধারার প্রবর্তন করেছে। ফলে অন্যান্য টি-শার্ট প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠান থেকে টিস্প্রিং নিজেদের স্বাতন্ত্র্য প্রমাণ করে ডিজাইনারদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
টিস্প্রিং কী?
টিস্প্রিং (www.teespring.com) হলো কাস্টম টি-শার্ট ডিজাইনিং ও বিক্রির জন্য শতভাগ ফ্রি একটি অনলাইন প্লাটফরম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ কোম্পানিটি Walker Williams এবং Evan Stites-Clayton-এর মাধ্যমে ২০১১ সালে রড আইল্যান্ডের রাজধানী প্রভিডেন্সে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে টিস্প্রিং তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও কার্যাবলীর দিক থেকে আগের তুলনায় অনেক ব্যাপকতা লাভ করেছে।
টিস্প্রিং থেকে আয়
টিস্প্রিং কীভাবে কাজ করে?
টিস্প্রিং মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের কাছ থেকে টি-শার্টে প্রিন্ট উপযোগী বিভিন্ন ডিজাইন আহবান করে। ডিজাইনারেরা টিস্প্রিংয়ের নিজস্ব কাস্টম টুল ব্যবহার করে অথবা অন্যান্য ডিজাইনিং টুল দিয়ে করা ডিজাইন নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির (যেমন- বেসিক, লংস্লিভ, ট্যাঙ্ক টপস, হুডিস, ভি-নেক ইত্যাদি) বিভিন্ন শার্টে প্রিন্ট করার জন্য আপলোড করেন। তবে প্রিন্ট করার শর্ত হলো, কাস্টমারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই ডিজাইনের নির্দিষ্টসংখ্যক টি-শার্ট অনলাইনে প্রি-অর্ডার করা লাগবে। আর তা নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইনারেরা বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ডিজাইন করা টি-শার্ট প্রমোট করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক টি-শার্ট অর্ডার হলেই টিস্প্রিং কর্তৃপক্ষ ডিজাইন প্রিন্টের জন্য নির্বাচন করে। এরপর টিস্প্রিং টি-শার্টগুলো তাদের নিজ নিজ কাস্টমারের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিপ করে। আর এই ডিল থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ টিস্প্রিং ও ডিজাইনার একটি নির্ধারিত অনুপাতে ভাগাভাগি করে নেন।
টিস্প্রিং কাদের জন্য উপযোগী?
ডিজাইনিংয়ে যাদের ন্যূনতম ধারণা আছে তারা টিস্প্রিংয়ের কাস্টম টুল ব্যবহার করে টি-শার্ট ডিজাইন করতে পারেন। আর যারা ডিজাইনিংয়ে মোটামুটি অভিজ্ঞ তারা কাস্টম টুলের পাশাপাশি অন্যান্য টুল ব্যবহার করে তৈরি করা ডিজাইন টিস্প্রিং টুলের সাথে সমন্বিত করতে পারেন। তবে শুধু কাস্টম টুলের ফিচারস (টেক্সট/ক্লিপ-আর্ট/কালার) ব্যবহার করেই অনেক ক্যাম্পেইন জনপ্রিয় এবং সফল হয়েছে। এক্ষেত্রে একটি ভালো ইউনিক আইডিয়াই যথেষ্ট।
তবে ক্যাম্পেইনের সর্বোচ্চ সফলতা নির্ভর করে ডিজাইনটির প্রমোশনের ওপর। যাদের অনলাইনে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, মার্কেটিং বিষয়ে যত বেশি ভালো ধারণা আছে তাদের সফলতা তত বেশি। এ ক্ষেত্রে যে সবসময় পেইড মার্কেটিং করতে হবে তা নয়; ফ্রি, অর্গানিক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেও ভালো সফলতা পাওয়া যায়। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি যে কমিউনিটিকে টার্গেট করে আইডিয়া জেনারেট করে প্রোডাক্টটির ডিজাইন  তৈরি করেছেন, সম্ভাব্য সব পদ্ধতি অবলম্বন করে তাদের কাছে উপস্থাপন করা।
টিস্প্রিং ক্যাম্পেইন
টিস্পিংয়ের জন্য ডিজাইন তৈরি, মূল্য নির্ধারণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম সংখ্যক টি-শার্ট বিক্রির জন্য ‘গোল’ নির্ধারণ, ‘গোল’ অর্জনের জন্য বিভিন্ন উপায়ে (সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেসবুকে পেইড/অর্গানিক) প্রমোশন এবং ওই নির্ধারিত সময়ে সর্বাধিক সংখ্যক অর্ডার গ্রহণ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি টিস্প্রিং কমিউনিটিতে ক্যাম্পেইন নামে পরিচিত। ক্যাম্পেইনের এ বিষয়গুলো ডিজাইনার নিজে সম্পাদন করেন, যার পরবর্তী বিষয়গুলো (প্রি-অর্ডার নেয়, প্রিন্টিং, শিপমেন্ট ইত্যাদি) টিস্প্রিং কর্তৃপক্ষ নির্বাহ করে।
একটি টিস্প্রিং ক্যাম্পেইনের আদ্যোপান্ত
এ পর্যায়ে আমরা দেখব একটি টিস্প্রিং ক্যাম্পেইন কীভাবে পরিচালনা করা যায়। এ ক্ষেত্রে করণীয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
ডিজাইন তৈরি
প্রথমে টিস্প্রিং ওয়েবসাইট (https://teespring.com) থেকে Start Designing লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে। ফলে ডিজাইনিংয়ের জন্য টিস্প্রিংয়ের নিজস্ব কাস্টম টুল সংবলিত পেজ আসবে। সেখান থেকে নিম্নোক্ত ফিচারগুলো ব্যবহার করে টি-শার্ট ডিজাইন করা যায়।
ক. টেক্সট : টেক্সট ট্যাব থেকে টেক্সট ইনপুট করা, ফন্ট নির্বাচন, ফন্ট কালার, টেক্সট আউটলাইন, আউটলাইন কালার ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়।
তবে টেক্সট সাইজ নির্ধারণের জন্য ক্যানভাসের টেক্সট বক্স স্কেলিং করে নিতে হবে।
খ. আর্ট : ডিজাইনে ক্লিপ-আর্ট যুক্ত করার জন্য, আর্ট ট্যাবের অধীনে Browse Artwork বাটনে ক্লিক করে বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে মানানসই এক বা একাধিক আর্ট যোগ করা যায়, অথবা Upload Your Own বাটনে ক্লিক করে নিজস্ব ডিজাইন যুক্ত করা যায়।
গ. টি-শার্টের কালার নির্বাচন : ক্যানভাসের ডান পাশে অবস্থিত কালার প্যালেট থেকে টি-শার্টের কালার নির্বাচন করা যায়।
ঘ. টি-শার্টের স্টাইল নির্বাচন : ডিজাইন অ্যান্ড স্টাইল ড্রপডাউন থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে যেকোনো একটি ডিজাইন এবং ওই ক্যাটাগরি থেকে নির্দিষ্ট স্টাইলের টি-শার্ট সিলেক্ট করতে হবে। তবে এ কাজটি ডিজাইন শুররু আগে সেরে নেয়া ভালো।
ডিজাইন সম্পন্ন হওয়ার পরে Sell This বাটনে ক্লিক করতে হবে।
গোল সেট করা
এ ধাপে সর্বনিম্ন কতটি টি-শার্ট অর্ডার হলে তা প্রিন্ট করা হবে সেটি নির্ধারণ করা হয়। এখানে টি-শার্টের বেইজ প্রাইসের সাথে টি-শার্ট সংখ্যার গুণনের ফলে যে সম্ভাব্য মুনাফা আসবে তাও প্রদর্শিত হয়। তবে এখান থেকে অতিরিক্ত ডিজাইন, স্টাইল এবং কালার নির্বাচন করলে এস্টিমেটেড প্রাইসের একটি রেঞ্জ প্রদর্শিত হয়; অর্থাৎ তা সঙ্গত কারণেই অনির্দিষ্ট থাকে (যেহেতু কোনো কোনো কালার ও স্টাইলের সমন্বয়ে আপনার সেলস গোল পূর্ণ হবে তা আগে বলা যায় না, আর এক এক কালার বা ডিজাইনের জন্য প্রাইস অবশ্যই ভিন্ন হয়)।
সেটিং শেষ হলে Next বাটনে ক্লিক করতে হবে।
ডেসক্রিপশন যুক্ত করা
ক. ক্যাম্পেইন টাইটেল : এ অংশে আকর্ষণীয় এবং ডিজাইনের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি ক্যাম্পেইন টাইটেল লিখতে হবে।
খ. ডেসক্রিপশন : ক্যাম্পেইনের জন্য প্রচারণানির্ভর একটি বর্ণনা এ অংশে টাইপ করা হয়। লক্ষণীয়, ডেসক্রিপশন টেক্সটগুলোতে চাইলে টুলবার থেকে বেসিক কিছু ফরম্যাটিং করা যায়।
গ. ক্যাটাগরি এবং সাব-ক্যাটাগরি : এখান থেকে ক্যাম্পেইনের জন্য টার্গেটেড অডিয়েন্সের ক্যাটাগরি ও সাব-ক্যাটাগরি নির্বাচন করা যায়।
ঘ. ক্যাম্পেইন লেংথ : ক্যাম্পেইন কতদিন ধরে পরিচালিত হবে, তা এখান থেকে নির্দিষ্ট করা হয়। সাধারণত সর্বনিম্ন তিন দিন থেকে সর্বোচ্চ ২২ দিনের মধ্যে যেকোনো একটি লেংথ নির্বাচন করা যায়।
ঙ. ইউআরএল : টিস্প্রিং ওয়েবসাইটে টি-শার্টটির জন্য একটি ইউআরএল এখান থেকে সেট করা যায়।
চ. ডিসপ্লে অপশন : টি-শার্টের ফ্রন্ট এবং ব্যাক দুই দিকেই ডিজাইন থাকলে ওয়েবসাইটে কোন দিকটি ডিফল্ট হিসেবে থাকবে, তা ডিসপ্লে অপশনের অধীনে নির্ধারণ করা যায়।
সবশেষে LAUNCH বাটনে ক্লিক করে ক্যাম্পেইনিং শুরু করা যায়।
এ ক্ষেত্রে ফেসবুক, জি-মেইল বা অন্যান্য ই-মেইল সার্ভিস ব্যবহার করে ক্যাম্পেইনটি শুরু করা যায়। সুতরাং টিস্প্রিংয়ের ওয়েবসাইটে প্রোডাক্টটি এখন লাইভ হবে এবং যেকেউ অর্ডার করতে পারবে।
ক্যাম্পেইনটিতে কোনো মডিফিকেশন করতে চাইলে কিংবা অ্যাক্সেস করতে হলে টিস্প্রিং অ্যাকাউন্ট ড্রপডাউন থেকে Campaigns লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে। এখানে তৈরি করা সবগুলো ক্যাম্পেইন সন্নিবিষ্ট থাকে। প্রতিটি ক্যাম্পেইনের জন্য আলাদাভাবে মডিফিকেশন করা যায়। সেজন্য ক্যাম্পেইনগুলোর ডান পাশে অবস্থিত এডিট, সেটিং, অ্যানালাইটিক্স প্রভৃতি আইকনে ক্লিক করে তা সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণভাবে অ্যাকাউন্ট ড্যাশবোর্ডে ক্যাম্পেইনের বর্তমান অবস্থাসহ (অর্ডার, পেমেন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য) সব ধরনের সেটিংই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংগুলো ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই সেসব বিষয়ে ভালো দক্ষতা এবং বিশেস্নষণ ক্ষমতার প্রয়োগ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ধারণা অর্জনের জন্য টিস্প্রিংয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলসহ অন্যান্য ক্যাম্পেইনারকে ফলো করা যেতে পারে।
যাই হোক, টিস্প্রিং ক্যাম্পেইনের কার্যকর অংশটি মূলত প্রোডাক্টটি সম্ভব সব উপায়ে অনলাইনে মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোল অর্জন করা। এ ক্ষেত্রে গুগলসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের জন্য এবং ফেসবুকসহ অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে পেইড/অর্গানিক মার্কেটিং পরিচালনা করতে হবে
ফিডব্যাক : admin@freelancerstory.com


পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস