Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ অ্যাপ থেকে যেভাবে পরিত্রাণ পাবেন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: তাসনুভা মাহমুদ
মোট লেখা:১০০
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
আইসিটি
তথ্যসূত্র:
পাঠশালা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ অ্যাপ থেকে যেভাবে পরিত্রাণ পাবেন
আজকাল প্রায় সময় কমপিউটার বিশ্বের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে এক কমন বা সাধারণ অভিযোগ শোনা যায়, তাহলো কমপিউটার বুট হতে অর্থাৎ চালু হতে দীর্ঘ সময় নেয়। এ ধরনের অভিযোগ যেমন উইন্ডোজ ঘরানার প্রতিটি ভার্সন অর্থাৎ উইন্ডোজ ১০, ৮ ও ৭ থেকে আসে, তেমনি আসে ম্যাক ওএস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে।
আপনার কমপিউটার যেভাবে স্বাভাবিক গতিতে স্টার্ট হওয়ার কথা, সেভাবে কি হচ্ছে? আপনার প্রয়োজনীয় অ্যাপ লোড হওয়ার জন্য কি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়? এ ধরনের অপেক্ষা বিরক্তির কারণ হওয়া ছাড়া কখনই সুখকর হতে পারে না। এ অবস্থার উত্তরণ কীভাবে সম্ভব, তা আমাদের সবার জানা। যখন কমপিউটার অন করা হয়, তখন স্টার্টআপ অ্যাপের কারণে লগইন সময় দীর্ঘ হতে পারে। মূলত যেসব অ্যাপ ম্যানুয়ালি অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপেন হওয়ার জন্য সেট করা থাকে, সেগুলোর জন্য লগইন সময় দীর্ঘ হয়।
কিছু লগইন অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় এবং কিছু অ্যাপ হলো আগের অ্যাপের আইটেমবিশেষ, যা যেকোনো উপায়ে অবশ্যই রিমুভ করা দরকার। আরেকভাবে বলা যায়, আপনি সেগুলো থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন এবং স্টার্টআপ সময় উন্নত হয় কোনো কিছু ত্যাগ না করে। চলুন দেখা যাক, উইন্ডোজ এবং ম্যাক ওএসে এ কাজটি কীভাবে করা যায়।
উইন্ডোজ ১০-এ স্টার্টআপ অ্যাপ ম্যানেজ করা
উইন্ডোজ ১০-এ সফটওয়্যারের ওপর কন্ট্রোল প্রচুর, যেগুলো চালু হয় যখন কমপিউটার স্টার্টআপ করা হয় এবং কোন অ্যাপ আপনার কমপিউটারকে সেস্না করে দিতে পারে, তাও শনাক্ত করতে সহায়তা করে। এসব স্টার্টআপ অ্যাপ কীভাবে বাদ দিয়ে ভিন্নতা সৃষ্টি করা যায় তা নিমণরূপ-
ধাপ-১ : task manager চালু করুন। আপনি টাস্ক ম্যানেজারকে খুঁজে পেতে পারেন Windows বাটনে ক্লিক করে এবং লিস্টে এটি খোঁজ করে অথবা সার্চ বারের পাশে এটি সার্চ করুন।
ধাপ-২ : Task manager বর্তমানে ওপেন করা প্রোগ্রাম শুধু প্রদর্শন করবে। উইন্ডোর নিচের দিকে More details সিলেক্ট করার মাধ্যমে আপনি আরও অধিকতর তথ্য উন্মোচন করতে পারবেন। এটি ওপেন করবে একটি অধিকতর বড় উইন্ডো, যেখানে থাকবে অ্যাপের অনেক বড় লিস্ট এবং বিভিন্ন ধরনের ট্যাব। এবার ট্যাব অপশনের দিকে খেয়াল করুন এবং ‘Start up’-এ যান।
ধাপ-৩ : যখন লগইন করবেন, তখন Start up ট্যাব সব অ্যাপ প্রদর্শন করবে, যেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার জন্য এনাবল করা আছে। আপনি বুঝতে পারবেন, স্ট্যাটাস সেকশনের সব অ্যাক্টিভ অ্যাপ ‘Enabled’ করা আছে। এ অংশটুকু আপনি পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। এবার লিস্টের দিকে খেয়াল করুন এবং অ্যাপগুলো খুঁজে বের করুন, যেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার দরকার নেই আপনার জন্য। অবশ্য এ ক্ষেত্রে তারতম্য হতে পারে অপরিহার্যতা এবং আপনার টাস্ক বিবেচনা করা উচিত। সম্ভবত কাজের সময় ওয়ানড্রাইভ চালু হতে পারে, এনভিডিয়া গ্রাফিক্স কার্ড গেমিং রিগে চালু করাসহ এরকম আরও কিছু জিনিস চালু হতে পারে। যদি বুঝতে পারেন এমন কোনো অ্যাপ আপনার দরকার নেই, তাহলে তাতে ডান ক্লিক করলে একটি মেনু আবির্ভূত হবে। এ মেনুর প্রথম অপশনটি হলো অ্যাপ ডিজ্যাবল করার জন্য Disable। যদি আপনি ডান ক্লিক করতে না চান, তাহলে এই উইন্ডোর নিচের দিকে Disable বাটন ব্যবহার করতে পারেন।
ধাপ-৪ : টাস্ক ম্যানেজারের শেষ কলামটিকে বলা হয় ‘Start up impact’ যা ডিজাইন করা হয়েছে জানার জন্য কতটুকু সময় এটি নিতে পারে। যদি এখানে বলা হয় None, তাহলে একে ডিজ্যাবল করার জন্য উদ্বিগ্ন থাকতে হবে না। যদি উল্লেখ করা থাকে Not measured, তাহলে ধরে নিতে পারেন এটি সম্ভবত এক নতুন অ্যাপ অথবা এটি নতুন উইন্ডোজ ১০ ওএস হওয়ার কারণে উইন্ডোজের ইম্প্যাক্ট এখনও বুঝতে পারছে না। তবে কোন অ্যাপ ডিজ্যাবল করা সবচেয়ে ভালো হবে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য এক সময় Startup impact প্রদান করতে পারবে। এবার ওইসব অ্যাপ খোঁজ করে দেখুন, যেগুলো High ইম্প্যাক্টের। বাজে নামের অ্যাপগুলো পাবলিশারের অন্তর্গত লিস্টেড হয় না।
ধাপ-৫ : যদি আপনি নিশ্চিত হতে না পারেন কোন অ্যাপ সমস্যা সৃষ্টি করছে, তাহলে স্মার্ট আইডিয়া হবে সবকিছু এড়িয়ে যাওয়া। যদি আপনি লগইন স্পিড উন্নত করার জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও উৎফুলস্ন চিত্তে কিছু অ্যাপ ডিজ্যাবল করতে পারেন, যেগুলো আপনি সত্যি সত্যিই শনাক্ত করতে পারেন না। এরপর আপনার পরবর্তী ধাপ হবে কমপিউটারকে শাটডাউন করে তা রিস্টার্ট করা। এবার লগইন করুন এবং বেসিক কিছু টাস্ক, কিছু স্ট্রিম ভিডিও সম্পন্ন করুন। আপনার স্টার্টআপ স্পিড উন্নত হয়েছে কিনা এবং আপনি দুর্ঘটনাক্রমে কোনো অ্যাপ ডিজ্যাবল করেছেন কিনা, উভয়ই নির্দিষ্ট করতে এটি সহায়তা প্রদান করে। এমনকি যদি কোনো অ্যাপ ডিজ্যাবল করা থাকে, তাহলেও তা টাস্ক ম্যানেজারের লিস্টে থাকবে, যাতে আপনি প্রয়োজনে তা আবার এনাবল করে নিতে পারবেন।
উইন্ডোজ ৮-এ স্টার্টআপ অ্যাপ ম্যানেজ করা
যুগপৎভাবে Windows + R কী চাপুন রান ডায়ালগ বক্স চালু করার জন্য। এরপর ডায়ালগ বক্সে msconfig.exe এন্টার করুন এবং স্টার্টআপ অ্যাপ চালু করার জন্য বেছে নিন। এরপর নিচে বর্ণিত ধাপগুলো সম্পন্ন করুন-
ধাপ-১ : আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে উইন্ডোজ ৮ বা উইন্ডোজ ৮.১-এ লগ অন করুন।
ধাপ-২ : এবার আপনার মাউসকে স্ক্রিনের ডান দিকে মুভ করুন সার্চ মেনুকে বিজারিত করার জন্য। এবার সার্চ ফিল্ডে Task Manager টাইপ করুন। এবার Startup লেবেল করা ট্যাব বেছে নিন। স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বেছে নিন, যা ডিজ্যাবল করতে চান।
উইন্ডোজ ৮ স্টার্টআপে আইটেম যুক্ত করা
উইন্ডোজ ৮ স্টার্টআপে আইটেম যুক্ত করতে চাইলে নিচে বর্ণিত ধাপগুলো সম্পন্ন করুন-
ধাপ-১ : আপনার কাঙিক্ষত আইটেমে ডান ক্লিক করুন, যা স্টার্টআপে স্বয়ংক্রিভাবে ওপেন হবে। এ জন্য Copy সিলেক্ট করুন।
ধাপ-২ : রান ডায়ালগ বক্স ওপেন করার জন্য যুগপৎভাবে Windows + R চাপুন। এরপর %appdata%. করুন।
ধাপ-৩ : এবার আবির্ভূত হওয়া মেনু থেকে বেছে নিন Microsoft > Windows > Start Menu > Programs > Startup.
ধাপ-৪ : মেনুর যেকোনো জায়গায় ডান ক্লিক করুন এবং Paste সিলেক্ট করুন।
ধাপ-৫ : আপনার স্টার্টআপ কনফিগারেশন সেভ করার জন্য কমপিউটার রিস্টার্ট করুন।
উইন্ডোজ ৭-এর স্টার্টআপ অ্যাপ ম্যানেজ করা
উইন্ডোজ ৭-এর স্টার্টআপ অ্যাপ ম্যানেজ করার জন্য নিচে বর্ণিত ধাপগুলো সম্পন্ন করুন :
ধাপ-১ : উইন্ডোজ Start বাটনে গিয়ে Search Programs টেক্সট বক্সে msconfig টাইপ করুন সিস্টেম কনফিগারেশন কন্সোল ওপেন করার জন্য।
ধাপ-২ : আপনার কমপিউটারে স্টার্টআপ অপশন হিসেবে ইনস্টল হওয়া সব প্রোগ্রাম ভিউ করার জন্য Startup ট্যাবে ক্লিক করুন।
ধাপ-৩ : কমপিউটার বুটআপের সময় যেসব অ্যাপ্লিকেশন চালু করতে চান, সেসব অ্যাপ্লিকেশনের চেক বক্স সিলেক্ট করুন এবং যেগুলো আপনার দরকার নেই, সেগুলো আনচেক করুন।
ধাপ-৪ : Apply-এ ক্লিক করুন এবং কনফিগারেশন উইন্ডো বন্ধ করুন। এরপর Restart-এ ক্লিক করুন যখন রিবুট পপআপ আবির্ভূত হবে। আপনার কমপিউটারকে রিবুট করার জন্য অবশ্যই রিস্টার্ট করতে হবে এবং পরিবর্তনসমূহ সেভ করতে হবে।
উইন্ডোজ ৭ স্টার্টআপে আইটেম যুক্ত করা
উইন্ডোজ ৭ স্টার্টআপে আইটেম যুক্ত করার জন্য নিচে বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন-
ধাপ-১ : আইটেমে ডান ক্লিক করুন, যা আপনি স্টার্টআপে যুক্ত করতে চান। এরপর আবির্ভূত হওয়া মেনু থেকে Create Shortcut বেছে নিন। শর্টকাটটি একই ফোল্ডারে আবির্ভূত হবে অরিজিনাল আইটেম হিসেবে।
ধাপ-২ : start button > All Programs > Startup সিলেক্ট করুন।
ধাপ-৩ : শর্টকাটকে ড্র্যাগ করে Startup ফোল্ডারে আনুন। এরপর কমপিউটারকে রিবুট করলে স্টার্টআপ কনফিগারেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেভ হবে।
ম্যাক ওএসে স্টার্টআপ অ্যাপ ম্যানেজ করা
ম্যাকের স্টার্টআপ অ্যাপ ম্যানেজমেন্ট একটু ভিন্নরকম। তবে অনুমোদন করে যেকোনো স্টার্টআপ অ্যাপ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া, যা আপনি চান না। এজন্য নিচে বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন-
ধাপ-১ : System preferences-এ অ্যাক্সেস করুন। এটি খুঁজে পাবেন আপনার dock-এ গিয়ার আইকন হিসেবে। এরপর Users & Groups খোঁজ করে সেখানে মনোনিবেশ করুন।
ধাপ-২ : যদি আপনার কমপিউটারে মাল্টিপল ইউজার থাকে, তাহলে সেটি উইন্ডোর ডান দিক দেখা যাবে। যথাযথ ইউজারকে বেছে নিন যদি প্রয়োজন হয়। লক্ষণীয়, এখানে কিছু অপশন রেস্ট্রিকটেড থাকতে পারে অ্যামিনিস্ট্রেটরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। তারপর আপনি স্টার্টআপ অ্যাপ পরিবর্তন করতে পারবেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। যথাযথ ইউজার বেছে নেয়ার পর Login Items সিলেক্ট করুন।
ধাপ-৩ : Login Items আইটেমে আপনি সব অ্যাপের একটি লিস্ট দেখতে পারবেন, যা স্টার্টআপে ওপেন হয়। অ্যাপসমূহ চেক করে দেখুন যেগুলো আপনি ওপেন করতে চান না। তবে স্টার্টআপ সময়ে কোনো অ্যাপের ইমপ্যাক্ট সবচেয়ে বেশি জানার সহজ কোনো উপায় নেই উইন্ডোজের মতো। তবে লিস্টটি আপনাকে জানাতে পারে এটি কোন ধরনের সফটওয়্যার, যা আপনাকে সহায়তা করবে সিদ্ধান্ত নিতে।
ধাপ ৪ : অ্যাপস এর লিস্টেও নিচে আপনি দেখতে পাবেন প্লাস এবং মাইনাস চিহ্ন। মাইনাস চিহ্ন বেছে নিয়ে অ্যাপ রিমুভ হবে যেটি আপনি লিস্ট থেকে সিলেক্ট করেছেন। আপনি প্লাস চিহ্ন দিয়ে নতুন অ্যাপও যুক্ত করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে এটি মূল লক্ষ নয়। আপনি ইচ্ছে করলে সিলেক্ট করা সব অ্যাপ এক সাথে রিমুভও করতে পারেন যদি আপনি সত্যি সত্যি সব কিছু পরিস্কার করতে চান। লক্ষণীয়, এ প্রক্রিয়া ম্যাক ওএস এর সব নতুন ভার্সনের জন্য কাজ করবে
ফিডব্যাক : mahmood_sw@yahoo.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস