Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > অভিনন্দন তানজিমা হাশেম
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সম্পাদক
মোট লেখা:৩১৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - মার্চ
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সম্পাদক
তথ্যসূত্র:
সম্পাদকীয়
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
অভিনন্দন তানজিমা হাশেম
তানজিমা হাশেম। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কমপিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক। তিনি সম্প্রতি তার নিজের এবং জাতির জন্য উল্লেখযোগ্য এক সম্মান বয়ে এনেছেন। তিনি ২০১৭ সালের ‘অর্গানাইজেশন ফর উইমেন ইন সায়েন্স ফর দ্য ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ড’ (ওডব্লিউএসডি)- এলসিভিয়ার ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। উল্লেখ্য, এলসিভিয়ার ফাউন্ডেশনের এই পুরস্কার দেয়া হয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রাথমিক কর্মজীবনে নিয়োজিত মহিলা বিজ্ঞানীদের। চলতি বছরে বিভিন্ন দেশের পাঁচ মহিলা বিজ্ঞানীকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। তানজিমা হাশেম তাদেরই একজন। পুরস্কার বিজয়ী বাকি চার মহিলা বিজ্ঞানী হচ্ছেন- ইকুয়েডরের ইউনিভার্সিদাদ ন্যাসিওনাল ডি চিম্বারোজোর মারিয়া ফারনান্দাজ রিভারা ভেলাসকুয়েজ, ইন্দোনেশিয়ার মান্দালা ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি সুরাবায়ার ফেলিসিয়া ইদসুয়েতারিদজো, ঘানার ইউনিভার্সিটি অব মাইনস অ্যান্ড টেকনোলজির গ্রেস ওফরি-সারপং এবং সুদান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির রানিয়া মুখতার। গত ১৯ ফেব্রম্নয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভ্যান্সমেন্ট অব সায়েন্স’ (এএএএস)-এর বার্ষিক সভার এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই পুরস্কার দেয়া হয়।
এই পুরস্কার বিজয়ীদের বাছাই করে প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের একটি প্যানেল। প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণা উদ্ভাবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য উন্নয়নশীল দেশের মহিলা বিজ্ঞানীদের এই পুরস্কার দেয়া হয়। এই অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী প্রত্যেকে ৫ হাজার করে ডলার ও এএএএস বার্ষিক সভায় যোগদানের জন্য সম্পূর্ণ যাতায়াত খরচ দেয়। তা ছাড়া এলসিভিয়ার ফাউন্ডেশন বিশ্বব্যাপী জ্ঞানকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মঞ্জুরি দিয়ে থাকে। এ ফাউন্ডেশন জোর দিয়ে থাকে স্বাস্থ্যতথ্যভিত্তিক উদ্ভাবন, উন্নয়নশীল দেশের গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ওপর। ওডব্লিউএসডি উন্নয়নশীল দেশের মহিলা বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ, কর্মজীবনের উন্নয়ন, মহিলা বিজ্ঞানীদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজে সহায়তা দিয়ে থাকে।
তানজিমা হাশেম এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন লোকেশনভিত্তিক সার্ভিসে অ্যাক্সেস করা লোকদের প্রাইভেসি সুরক্ষার ওপর ডেভেলপড কমপিউট্যাশনাল অ্যাপ্রোচে অবদান রাখার জন্য। তার নতুন ও উদ্ভাবনামূলক এই সলিউশনের ফলে নাগরিক সাধারণ সুযোগ পাবে তাদের স্বাস্থ্য, আচরণ, অবস্থান সম্পর্কিত ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর ডাটার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাজায় রাখার।
ওডব্লিউএসডির প্রেসিডেন্ট জেনিফার থমসন বলেন- ‘এই ৫ মহিলা বিজ্ঞানীর দৃঢ়তা, প্রতিশ্রুতিশীলতা ও আগ্রহশীলতা আমাদের সবার জন্য প্রেরণাদায়ক। বিশেষ করে তাদের জন্য প্রেরণাদায়ক, যেসব মহিলা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে ব্যাপৃত রয়েছেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে সেলিব্রেট করা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতা। আর এই পুরস্কার জানিয়ে দিচ্ছে- তাদের কঠোর সাধনা স্থানীয় কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও এর ব্যাপক প্রভাব ছিল এবং আছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে।
ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক এবং ওডব্লিউএসডির বিশেষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ হাসান বলেন- ‘আমরা উদযাপন করছি সত্যিকারের উল্লেখযোগ্য পাঁচ মহিলা বিজ্ঞানীর অবদান। তাদের কর্ম ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। তাদের অবদান উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপকার বয়ে আনবে।’
এই পাঁচ আন্তর্জাতিক মহিলা বিজ্ঞানীর সাথে একযোগে উল্লিখিত সম্মানজনক পুরস্কার লাভের জন্য আমরা তানজিমা হাশেমকে জানাই অভিনন্দন। মেধার সাক্ষ্য বহন করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তার এই অর্জন নিশ্চিতভাবেই একটি বড় ধরনের পাওনা ও গর্বের বিষয়। আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে- মেয়েরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় আসতে আগ্রহী নয়। তানজিমা হাশেমের এই অর্জন মেয়েদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অধিকতর আগ্রহী করে তুলবে। তা ছাড়া মেয়েরাও যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উৎকর্ষে প্রমাণ দিতে পারেন তানজিমা হাশেমের অবদান এ দেশে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
মেয়েরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় আগ্রহী নন, কিংবা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেয়েরা ভালো করতে পারেন না বলে প্রচলিত ধারণার সাথে আমরা একমত নই। আর এই ধারণা যে সর্বাংশে সঠিক নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের বক্তব্যেও এর সমর্থন পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘পিএইচডি ও এমফিল করতে ছাত্রীরাই বেশি অগ্রাধিকার দেয়। এরা ছাত্রদের তুলনায় পড়াশোনাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে নিয়মিতভাবে মেধা তালিকা ছাত্রীরাই দখল করে রাখছে।’
সে যা-ই হোক, তানজিমা হাশেমের এ্ই আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ মহিলা বিজ্ঞানীদের যেমনি গবেষণা ও উন্নয়নকর্মে আগ্রহী করবে, তেমনি ছাত্রীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করবে। তাই তানজিমা হাশেকে আবারও অভিনন্দন।


পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - মার্চ সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস