Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > সামাজিক মাধ্যমে অযাচিত যোগাযোগ এড়িয়ে যাওয়ার উপায়
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: আনোয়ার হোসেন
মোট লেখা:৫৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - জুন
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
প্রতিবেদন
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
সামাজিক মাধ্যমে অযাচিত যোগাযোগ এড়িয়ে যাওয়ার উপায়
ইন্টারনেটের জগতে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এখন পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সাথে যোগাযোগ রাখা খুব সহজ। এই মাধ্যমগুলো যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুবিধার সাথে সাথে বেশ কিছু অসুবিধাও নিয়ে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে যে কারোর পক্ষে যে কারোর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব। ফলে ব্যবহারকারী না চাইলেও অনেক সময় অযাচিত যোগাযোগের মুখোমুখি হতে হয়। বিরক্তিকর এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অনুসরণ করে দেখা যেতে পারে নিচের এই উপায়গুলো।
এখানে আমরা কোনো ধরনের লিগ্যাল ইস্যু নিয়ে নয় বরং কিছু প্রাইভেসি টিপস সম্পর্কে জানব। তবে এসবের চেয়ে বেশি কিছু চাইলে একজন ব্যবহারকারী টুল ব্যবহার করে রিপোর্ট করতে পারেন। রিপোর্ট সম্পর্কে ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে নির্দেশনা দেয়া আছে।
কারা যোগাযোগ করতে পারবেন লিমিট করে দিন
বড় বড় সব সোশ্যাল মিডিয়া তাদের ব্যবহারকারীদেরকে কারা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে এটি নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দিয়ে থাকে। কোনো কোনো মিডিয়া আরও বেশি সুবিধা দেয়।
ফেসবুকের ডিফল্ট সেটিংটি এমন যে, এখানে কোনো ব্যবহারকারীর ফ্রেন্ড লিস্টে না থাকলেও যেকেউ মেসেজ পাঠাতে পারবেন, তবে সেসব মেসেজ ‘মেসেজ রিকুয়েস্ট’ ফোল্ডারে থাকবে। এর ফলে যে সুবিধাটি হয় সেটা হচ্ছে ব্যবহারকারী তার কাছে আসা সব রিকুয়েস্ট মেসেজ থেকে যাচাই-বাছাই করে রেসপন্স করতে পারেন বা দরকার মনে না করলে পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেন। যদি কখনও এমন হয় যে, আপনি ফ্রেন্ড লিস্টের কারও কাছ থেকে কোনো মেসেজ আসুক চাচ্ছেন না, তবে ম্যাসেঞ্জারের কনভারসেশনে গিয়ে মিউট অপশন ব্যবহার করতে হবে। সেটা যদি যথেষ্ট মনে না হয়, তবে তাকে ব্লক করে দিতে হবে। আর ব্লক করা মানে হচ্ছে তার সাথে আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ডশিপ বাতিল করা হলো। এরকম ক্ষেত্রে কারও পক্ষেই একে অন্যের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না। ম্যাসেঞ্জার মেনু থেকে বা মেইন ফেসবুক সাইটে গিয়ে মেনু বাটন থেকে পার্সোনাল প্রোফাইলে গিয়েও ব্লক করা যায়।
ডিএমস সবার জন্য, ওপেন করে রাখলে টুইটারে একজন ব্যক্তিকে আপনি ফলো করতে পারবেন একই সাথে। তিনি আপনাকে মেসেজ পাঠাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে সেন্ডারকে আন ফলো করার মাধ্যমে তাকে ব্লক করে মেসেজ আসা বন্ধ করে দিতে পারেন। প্রোফাইল পেজে কোনো আইকনে ক্লিকের মাধ্যমে ইউজার মিউট করা যায় অথবা আপনি চাইলে ফুল ব্লকও করে দিতে পারেন।
ইনস্টাগ্রামেও ইন্ডিভিজুয়্যাল কনভারসেশনে মিউট ও ব্লক করার উপায় আছে (আইকন ট্যাব করে ব্লক সেটিং খুঁজে পাওয়া যাবে)। ইনস্টাগ্রামে যেকেউ যেকাউকে মেসেজ পাঠাতে পারেন, তবে এখানেও ফেসবুকের মতো ভালো প্রসেস আছে। কারও সাথে বন্ধুত্ব না থাকলে বা কাউকে ব্লক করা হলে সেই ব্যক্তি কমেন্টে আপনার নাম দেখতে পাবেন না, আপনার ফিড দেখতে পারবেন না বা মেসেজ পাঠাতে পারবেন না। তাছাড়া ব্যবহারকারী চাইলে তার কোনো স্টোরি সুনির্দিষ্ট লোকের কাছে হাইড করে রাখতে পারেন।
পোস্ট বা শেয়ার লিমিট করে দিন
সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলোতে ব্যবহারকারী তার পোস্টগুলোকে কোনো বিধিনিষেধ দিয়ে না রাখলে সবাই তার পোস্ট বা শেয়ারিং দেখতে পারেন। এটা টুইটার, ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকসহ সব নেটওয়ার্কের জন্যই সত্য। একই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর বন্ধু তালিকায় না থাকলেও অন্যরা সব পোস্ট বা শেয়ার দেখতে পারেন। এর অর্থ ব্যবহারকারীর কোনো পোস্ট বা শেয়ারিং দেখে বা বিশেস্নষণ করে ব্যবহারকারীর পরিচয় বা বসবাসের স্থান জেনে ফেলা সম্ভব, যা আজকের বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। লোকেশন ট্যাগ করার সময় সতর্ক হওয়া উচিত। বলা ভালো, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা, অফিস বা অন্য কোনো জায়গা যেমন- কোথায় জগিং করছেন, এমন কিছুও ট্যাগ করা উচিত নয়, যদি না আপনি চান যে ইন্টারনেটে অযাচিতভাবে কেউ আপনাকে অনুসরণ করুক বা যোগাযোগের চেষ্টা করুক। তবে এমনটা ভাবাও ঠিক হবে না, সোশ্যাল মিডিয়াতে সব সময়ই সবার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটবেই। সতর্ক থাকাই যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এডিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়। দুষ্ট লোকেরা আপনার প্রতিটি মুহূর্ত নজরে রাখছে এমনটা বলে ভয় পাইয়ে দেয়া এ লেখার উদ্দেশ্য নয় বরং কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়, এটিই এ লেখার মূল লক্ষ্য। আপনার লেখা বা পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়াতে কারা দেখছেন আপনি জানবেন না। বাইডিফল্টভাবে পোস্ট সবাই দেখতে পারেন। তাই আপনি আপনার সব পোস্টকে অনলি ফর ফ্রেন্ডস করে দিতে পারেন।
সহজে খুঁজে পাওয়া লিমিট করে দিন
সোশ্যাল মিডিয়াতে যেকাউকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। আপনি নিজের বেলায়ও এই খুঁজে পাওয়াকে কঠিন করে দিতে পারেন। এর অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে আসল নাম ব্যবহার না করা, যাতে খুঁজে পাওয়া শক্ত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে আপনার কাছের বা বন্ধুবান্ধবরাও আপনাকে খুঁজে পাবেন না। তাই আসল নাম ব্যবহার করতে না চাইলে এই দুয়ের মাঝে ব্যালেন্স নিয়ে আসতে হবে।
ফেসবুকের সেটিং থেকে প্রাইভেসিতে গিয়ে কারা আপনাকে খুঁজে নিতে পারবেন এ বিষয়টিকে ঠিক করে দিন। আপনার ফোন নম্বর বা ই-মেইল অ্যাড্রেস দিয়ে আপনাকে খুঁজে পাওয়ার অপশনটি বন্ধ করে দিতে পারেন। তাছাড়া ওয়েব সার্চ রেজাল্টে আপনার প্রোফাইল দেখানোও বন্ধ করে দিতে পারেন। টুইটারের একই ধরনের অপশন আছে। সে ক্ষেত্রে সেটিং পেজের প্রাইভেসি ও সেফটি বাটনে ক্লিক করতে হবে এবং ই-মেইল ও ফোন নম্বর দিয়ে আপনাকে খুঁজে পাওয়ার অপশনের চেক বক্সটি আনচেক করে দিতে হবে। তবে ইনস্টাগ্রাম এরকম কোনো সুবিধা দেয় না
ফিডব্যক : hossain.anower099@gmail.com


পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - জুন সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস