Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > অবৈধ পথে আন্তর্জাতিক কল কি থামবে না?
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সম্পাদক
মোট লেখা:৩১৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সম্পাদক
তথ্যসূত্র:
সম্পাদকীয়
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
অবৈধ পথে আন্তর্জাতিক কল কি থামবে না?
সেই শুরু থেকে শুনে আসছি, অবৈধ পথে ভিওআইপি কল চলছে। আর এর ফলে বৈধ পথে আসা কলের সংখ্যা কমছে। সরকার ভিওআইপি কল থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সরকার আসে সরকার যায়। নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়ে ঘোষণা দিয়ে বলেন, অচিরেই অবৈধ ভিওআইপি কল বন্ধ করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা দায়িত্ব নিয়ে অবৈধ ভিওআইপি কল বন্ধ করার ব্যাপারে জেহাদ ঘোষণার কথা জাতিকে শুনিয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষ মনে করে, এবার বুঝি সত্যিই দেশে অবৈধ ভিওআইপি কলের মালিক-মোক্তারদের পতন ঘটবে। দেশ থেকে বিদায় নেবে অবৈধ ভিওআইপি কল। কিন্তু কয়দিন পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, না এ দেশ থেকে অবৈধ ভিওআইপি কলের রাজত্বের অবসান ঘটার নয়। কারণ, প্রভাবশালী মহল এ ক্ষেত্রে তাদের স্থায়ী আসন গেড়ে বসে আছে। যাদের সামনে সরকারকেও যেন অসহায় মনে হয়। নইলে বছরের পর বছর দেশে অবৈধ ভিওআইপি কল নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনার পরও কী করে তা আজো অবাধে চলতে পারে?
অতিসম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের খবর থেকে জানা যায়- দেশে বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত মুনাফা করছে আইজিডব্লিউর ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তাদের এই একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের ফলে পথে বসছেন স্বল্প আয়ের ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (ভিএসপি) লাইসেন্সধারীরা। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণের ফলে বৈধ পথে ভিওআইপি কল কমে যাচ্ছে। আর এ খাতে সরকারের রাজস্ব হারানোর পরিমাণও বাড়ছে। চলতি বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশনে (বিটিআরসি) জমা দেয়া মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের হিসাবে দেখা যায়, বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ৫৮ কোটি মিনিট কমেছে। এর ফলে সরকার প্রতিমাসে রাজস্ব হারাচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
তবে বরাবরের মতো অবৈধ কল বন্ধের ব্যাপারে সরকারি আশ্বাস প্রক্রিয়া কিন্তু থেমে নেই। বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সম্প্রতি বলেছেন, আন্তর্জাতিক কলের মূল্য নির্ধারণ ও সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে বিটিআরসি একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করেছে। তার মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকার রাজস্ব হারাবে না, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। প্রস্তাবটি কতদিনে বাস্তবায়িত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলেই তা বাস্তবায়ন করা হবে। এখন দেখার বিষয়, তার এই আশ্বাসের বাস্তবায়ন জাতি দেখতে পায় কি না।
এদিকে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র ফেলো ও টেলিযোগাযোগ খাত বিশেষজ্ঞ আবু সাঈদ খান বলেন, দুটি কারণে অবৈধ আন্তর্জাতিক কল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রথমত, সরকারের অতিরিক্ত পরিমাণ রাজস্ব ভাগাভাগির হার নির্ধারণ। দ্বিতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগী সৃষ্টির মাধ্যমে ভয়েস কল অপারেটরদের হাতে ব্যবসায় না রাখা। তার মতে, বাস্তবতা বিবেচনা না করে ভিএসপি লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ভুল। এখন তা-ই প্রমাণিত হয়েছে।
বাস্তবে দেখা গেছে, বঞ্চনার শিকার হয়েছে ভিএসপি লাইসেন্সধারীরা। টেলিযোগাযোগ খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষে্য ২০১৩ সালে ৮৮১টি ভিএসপি লাইসেন্স দেয় সরকার। কথা ছিল- এরা ইন্টারনেট সেবাদাতা আইএসপি প্রতিষ্ঠানের মতো সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বৈধ ভিওআইপি সেবা পৌঁছে দেবে। পরবর্তী সময়ে আইএসপি প্রতিষ্ঠান কীভাবে আইজিডব্লিউগুলোর সাথে কাজ করবে তা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর মূল কারণ ছিল, একই সময়ে দুই ডজনেরও বেশি লাইসেন্স দেয়ায় আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়ে টিকে থাকার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে ভিএসপি লাইসেন্স দেয়ার প্রায় এক বছরের মধ্যেও ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি। পরে আইজিডব্লিউগুলো ভিএসপির সাথে আন্তযোগাযোগ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি। আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তযোগাযোগে না গিয়ে কৌশলে মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে কার্যক্রম চালাতে ভিএসপি লাইসেন্সধারীদের বাধ্য করে। এখন পর্যন্ত মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতেই এরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভিএসপি লাইসেন্সধারীদের অভিযোগ, আইজিডব্লিউ অপারেটরদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তাদের আয় এটুকুই। বর্তমানে তা-ও হারানোর পথে। আবার সব ভিএসপি লাইসেন্সধারী ভাড়ার সুযোগটুকুও পাননি। যারা ভাড়া দিয়ে ব্যবসায় করছেন, তারাও যেকোনো সময় এই আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এমনকি হারাতে পারেন লাইসেন্সও। সরকার ব্যবসায় করার জন্য লাইসেন্স দিয়েছে। এখন সেই ব্যবসায়ের সুযোগটুকু না দেয়া সত্যিই দুঃখজনক।
আসলে ভিওআইপি ব্যবসায়ে জটিলতার শেষ নেই। সময়ের সাথে এসব জটিলতা শুধু বাড়ছেই। তবে সমস্যার মূলে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এদের অবস্থান যতদিন এ খাতে টিকে থাকবে, ততদিন এ খাতে সুষ্ঠু ব্যবসায়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে না। চলবে মধ্যস্বত্বভোগীদের কায়েমি অবৈধ ভিওআইপি কল ব্যবসায়। তাই মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে ভিওআইপি ব্যবসায়কে বের করতেই হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা ও কঠোর অবস্থান। জানি না, সরকার সে পথে এগিয়ে যাবে কি না।

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - জুলাই সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস