Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > তথ্যপ্রযুক্তির ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ও আমাদের প্রস্ত্ততি
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মোহাম্মদ জাবেদ মোর্শেদ চৌধুরী
মোট লেখা:৫১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সিকিউরিটি
তথ্যসূত্র:
সিকিউরিটি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
তথ্যপ্রযুক্তির ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ও আমাদের প্রস্ত্ততি
তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ বাড়ানোর সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবেই সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। বিষয়টি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় আইনগত, কারিগরি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে ও হচ্ছে। তবে বিভিন্ন কারিগরি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য। সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে বাবা-মা-অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সম্পৃক্ততায় একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও অপরিহার্য।
বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছে দেশের ব্যাংকিং খাত, সরকারি-বেসরকারি খাত, অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইট ও মেইল অ্যাকাউন্ট। গবেষণা বলছে, সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থার দুর্বলতার জন্য মোবাইল সাইবার ঝুঁকিতে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া একই কারণে দেশের ৫২ শতাংশ ব্যাংকিং তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সাইবার নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে নতুন করে চিস্তায় ফেললেও এ বিষয়ে এখনও কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রতিবাদ করার জন্য বাংলাদেশি বিভিন্ন হ্যাকার গ্রুপ দেশের বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাইট হ্যাক করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশেরও বেশ কয়েকটি সাইট হ্যাক করেছে হ্যাকারেরা। তারা বিভিন্ন সময় অপরাধমূলক কর্মকা-ও চালিয়ে যাচ্ছে। হ্যাকারদের দখলে চলে যাচ্ছে ব্যক্তির ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট। আর প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরি, ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি ও উস্কানি দেয়ার মতো অপরাধও ঘটছে। এর মাধ্যমে একদিকে কমপিউটার নেটওয়ার্ক অবকাঠামোকে যেমন আক্রমণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে বিঘ্ন ঘটছে ব্যক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।
কিন্তু এত কিছুর পরও বাংলাদেশে এখনও সাইবার ফরেনসিক চালু হয়নি। বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ল্যাব স্থাপন করার চিস্তাভাবনা চলছে। আইসিটি বিভাগ সূত্র জানায়, সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার আলাদা সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করতে যাচ্ছে। আর এর আওতায় কাজ করবে একাধিক কমপিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম।
সাধারণত সাইবার সিকিউরিটির দুর্বলতার কারণে অপরাধীরা ভাইরাস আক্রমণ করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোনো ওয়েবসাইট হ্যাক করে অপরাধ করছে। আবার জাঙ্ক মেইলের মাধ্যমেও ভুয়া আইডি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যক্তির নামে অপপ্রচার চালিয়েও সাইবার হয়রানি করা হচ্ছে। আবার লগইন বা অ্যাক্সেস তথ্য চুরি করে ই-কমার্স ও ই-ব্যাংকিং এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে তথ্য চুরি করে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে অর্থ সরানো হচ্ছে। আবার ক্রেডিট কার্ড নম্বর চুরি করেও গোপনে অনলাইন ব্যাংক থেকে হ্যাকারেরা টাকা চুরি করছে। এ ছাড়া গত কয়েক বছর সরকারি-বেসরকারি কাজগুলো ডিজিটালাইজেশন এবং ই-কমার্স ও ই-ব্যাংকিং চালু হওয়ায় সাইবার অপরাধের মাত্রাও বেড়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণে ঝুঁকিতে আছে ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা। যেসব ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল, সেখান থেকে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ও ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে ।
সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি ক্যাসপারস্কির ২০১৬ সালের চূড়ান্ত ল্যাপ রিপোর্ট ‘আইটি থ্রেট ইভ্যুলিউশন ইন কিউ থ্রি টু থাউজেন্ড ফিফটিন’ অনুযায়ী, মোবাইল সাইবার ঝুঁকিতে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। এখানে প্রতি চারটি ডিভাইসের অন্তত একটি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর ২১৩টি দেশের মধ্যে কমপিউটারে ভাইরাসের আক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম। এ ছাড়া ‘আইটি অপারেশনস অব ব্যাংক’ শীর্ষক এক গবেষণার তথ্যে, দেশের ৫২ শতাংশেরও বেশি ব্যাংকিং তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শতাংশ খুবই উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ও ৩৬ শতাংশ উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ।
আরেক গবেষণায় উল্লেখ আছে, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীর ৭৩ শতাংশই সাইবার অপরাধের শিকার। আর শতকরা ৪৯ শতাংশ স্কুলশিক্ষার্থী সাইবার হয়রানির শিকার। এমনকি সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষায় গঠিত হেল্পডেস্কেও অভিযোগকারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ নারী।
আজকের বিশ্বে ইনফরমেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা একটি অধিকার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তার গুরুত্ব অনুধাবন করে সব উন্নত দেশ সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলো এ অধিকার নিশ্চিত করার বিষয় থেকে এখনও অনেক দূরে রয়েছে। কনটেন্ট লেভেলের পাশাপাশি নেটওয়ার্ক ও ফিজিক্যাল লেভেলেও ইনফরমেশন সোসাইটি হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু প্রযুক্তি দিয়ে তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। নেটওয়ার্ক হুমকি মোকাবেলা ও একটি নিরাপদ ইনফরমেশন সোসাইটি তৈরি করার জন্য কম্প্রিহেনসিভ প্রিভেনশন ও অ্যানফোর্সমেন্ট উভয় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি । আইসিটি খাতে যুগান্তকারী উন্নয়ন নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। গ্রামীণ জনপদের গরিব লোকদের মাঝে আইসিটি ব্যবহার করে শিক্ষাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসে সহযোগিতা করার প্রতি মনোযোগ দিয়েছে আইসিটি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি আরও পরিকল্পনা করছে একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও মানের উন্নয়ন ঘটাতে। এ সংস্কৃতি গড়ে তোলা গেলে সাধারণ মানুষের উন্নতি হবে এবং জাতির উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আরও ভালো চাষাবাদ ও নিজেদের পণ্যের আরও ভালো মার্কেটিং করার জন্য একটি পর্যায় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রবেশাধিকার দেয়া হচ্ছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকদের একটি বড় অংশ দক্ষতার সাথে নিজেদের কাজ করতে পারবে।
অর্থনৈতিক শক্তি ও ক্ষমতার উৎস হয়ে উঠেছে শিক্ষা এবং এ জন্য জ্ঞানের বিনিময়ের ওপর ক্রমেই বিধিনিষেধ বাড়ছে, যা মেধা সম্পত্তি অধিকারের নতুন চিত্র হয়ে উঠেছে। চলমান বিশ্বায়ন ও তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পণ্য ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে যদি জনসাধারণের বিশেষ করে গরিব মানুষের কল্যাণ বাড়াতে একটি নির্ণায়ক ও উপকারী ভূমিকা রাখতে চাইলে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সিস্টেমকে নতুন উদ্যমের সাথে চলতে হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ক্রমবর্ধমান সাইবারবিশ্বকে অযাচিত পরিণতির হাত থেকে রক্ষার জন্য কিছু নীতি গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে জাতীয় আইসিটি নীতি, সাইবার আইন, ইলেকট্রনিক ট্রানজেকশন অ্যাক্ট গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থা কমপিউটার অ্যালার্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি রেসপন্সেস সংক্রান্ত সঠিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে।
তারপরও ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনেকগুলো হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে চলছে। অনেক নারী ফেসবুক ও আপত্তিকর ভিডিওর মাধ্যমে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে। ব্যক্তিগতর পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক টেকনিক্যাল ও লিগ্যাল সাপোর্ট দিচ্ছে। এ ছাড়া মানুষজনও দিনকে দিন সচেতন হচ্ছে। তবে এ সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য থাকতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় লেভেলে আরও সক্ষমতা বাড়ানো
ফিডব্যাক : jabedmorshed@yahoo.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - জুলাই সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা