Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > সেরা ফ্রি অ্যাড ব্লকার সফটওয়্যার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: লুৎফুন্নেছা রহমান
মোট লেখা:১৩৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সফটওয়্যার
তথ্যসূত্র:
সফটওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
সেরা ফ্রি অ্যাড ব্লকার সফটওয়্যার
সেরা ফ্রি অ্যাড ব্লকার সফটওয়্যার
লুৎফুন্নেছা রহমান
অ্যাডব্লকার হলো এক ধারনে সফটওয়্যার যা ডিজাইন করা হয়েছে ওয়েবপেজে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট আবির্ভূত হওয়াকে প্রতিরোধকরার জন্য।মূলত অ্যাডব্লক হলো গুগল ক্রোম, অ্যাপল সাফারি (ডেস্কটপ এবং মোবাইল) , ফায়ারফক্স, অপেরা এবং মাইক্রোসফট এজ, ওয়েব ব্রাউজারের জন্যএকটি কনটেন্ট ফিল্টারিংএবং অ্যাডব্লকিং এক্সটেনশন। অ্যাডব্লক ব্যবহারকারীদের ওইসব পেজ উপাদানকে ডিসপ্লে করা থেকে প্রতিরোধ করতে সুযোগ দেয় যেমন অ্যাডভার্টাইজমেন্ট। এটি ডাউনলোড এবং ব্যবহার জন্য ফ্রি এবং এটি ডেভেলপারদের জন্য সম্পৃক্ত করে অপশনাল ডোনেশন।
ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে নিচে সেরা কিছু ফ্রি অ্যাডব্লকার সফটওয়্যার নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। এই অ্যাডব্লকার সফটওয়্যার আপনাকে খুব সহজেই অ্যাড ব্লক করার সুযোগ দেবে। এখনে উল্লিখিত অ্যাডব্লকার সফটওয়্যারগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি এবং উইন্ডোজ পিসিতে ডাউনলোড করা যাবে। এসব অ্যাডব্লকার সফটওয়্যার অফার করে বিভিন্ন ধরনের ফিচার যেমন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় অ্যাড ব্লক করে, ইন্টারনেট এক্সপেস্নারার, মজিলা ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, অপেরা, ম্যাক্সথন, স্লিম-ব্রাউজার সহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েব ব্রাউজার সাপোর্ট করে। আরো সাপোর্ট করে পিটুপি (P2P) এবং ইনস্ট্যরন্ট ম্যাসেঞ্জারের জন্য অ্যাড ব্লক করা, অ্যাড ব্লক করার মাধ্যমে ওয়েব ব্রাউজিং স্পিড বাড়ানো, অ্যাড বাদ দেয়া সহ আরো অনেক কিছু। সুতরাং আপনার জন্য সেরা অ্যাড ব্লকারসফটওয়্যার নির্বাচন করার জন্য নিচে বর্ণিত ফ্রি অ্যাড ব্লকার সফটওয়্যারগুলো পরখকরে দেথতে পারেন।
অ্যাডফেন্ডার
আপনি কী অনলাইন বিজ্ঞাপনে বিরক্ত বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরেছেন?অনলাইন প্রাইভেসির ব্যাপারে চিমিত্মত?নিরাপদ এবং ক্লাটার ফ্রি ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স পেতে চান? তাহলে ব্যবহার করতে পারেন অ্যাডফেন্ডার (AdFender) নামে একটি ফ্রি অ্যাড ব্লকিং সফটওয়্যা।
অ্যাডফেন্ডার একটি অ্যাডভ্যান্সড সফটওয়্যার যা ফিল্টর করতে পারে ওয়েব পেজের বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট এবং কিছু তথ্য প্রতিহত করতে পারে যাতে ওয়েব সার্ভারের বাইরে যেতে না পারে। ফিল্টার করা তথ্য সেভ করতে পারে মূল্যবান সময় এবং ব্যান্ডউইডথ এবং অ্যানহ্যান্স করতে পারে অনলাইন প্রাইভেসি।
এটি অনলাইন অ্যাডর্ভাটাইজমেন্ট ব্লক করতে পারে। এটি সাপোর্ট করে ওয়েব ব্রাউজারের জন্য বিজ্ঞাপন, পিটুপি এবং ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেঞ্জার ব্লক করা। অ্যাডফেন্ডার স্ট্যান্ডঅ্যালোন অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে কাজ করে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে। যখনই আপনি অ্যাড সম্বলিত ওয়েবসাইট ব্রাউজ করবেন, তখন এটি সব অ্যাড ব্লক করবে। এটি ইন্টারনেট এক্সপেস্নারার, ফায়ারফক্স, ক্রোম, অপেরা, ম্যাক্সথন, স্লিমব্রাউজার ইত্যাদী সাপোর্ট করে বিভিন্ন ধরনের ওয়েব ব্রাউজার।

চিত্র ১ : অ্যাডফেন্ডার ইন্টারফেস
গুগল অ্যাড ব্লকার
গুগল অ্যাড ব্লকার (Google Ad Blocker) হলো একটি ফ্রি এবং সহজ ব্যবহারযোগ্য অ্যাড ব্লকিং সফটওয়্যার। এটি এক ক্লিকে সব গুগল অ্যাড ব্লক করতে পারে। গুগল অ্যাড ব্লকার নামের সফটওয়্যারটি ইন্টারনেট এক্সপেস্নারার, ফায়ারফক্স, ক্রোম, অপেরা ইত্যাদী সহ সব ওয়েব ব্রাউজারে কাজ করতে পারে। আপনি ইচ্ছে করলে যখন তখন অ্যাড আনব্লক করতে পারবেন unblock বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে।

চিত্র ২ : গুগল অ্যাড ব্লকার ইন্টারফেস
অ্যাডব্লক প্লাস
অ্যাডব্লক প্লাস (Adblock Plus ) হলো উইন্ডোজের জন্য একটি ফ্রি অ্যাড ব্লকিং সফটওয়্যার। এ সফটওয়্যারটি আপনার ব্রাউজ করা যেকোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাভার্টাইজমেন্ট ব্যানার ব্লক করার সুযোগ করে দেয়। আপনি অ্যাডব্লক প্লাস সফটওয়্যারকে বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্রাউজারে যেমন মজিলা ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, ইন্টারনেট এক্সপেস্নারার, অপেরা ইত্যাদী ব্রাউজারে একটি অ্যাড-অনস হিসেবে ইনস্টল করতে পারবেন। এটি ব্লক করে ট্র্যাকিং এবং ম্যালওয়্যার ডোমেইন। এটি ইনস্টল করার পর কোনো অ্যাড আর ডাউনলোড হবে না।ফলে বিরক্তিকর অ্যাড ছাড়াই আপনি ওয়েব সার্ফ করতে পারবেন।আপনি দ্রুতগতিতে এবং খুব সহজেই ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবেন অ্যাড না থাকার কারণে।

চিত্র ৩ : অ্যাডব্লক প্লাস ইন্টারফেস
প্রিভোক্সি
প্রিভোক্সি (Privoxy ) হলো একটি অ্যাড ব্লকিং সফটওয়্যার।এটি অ্যাড ব্লকার এবং প্রোক্সি সফটওয়্যারের কম্বিনেশন। মূলত প্রিভোক্সি হলো একটি নন-ক্যাশিং ওয়েব প্রক্সি প্রাইভেসি অ্যানহ্যান্স করা, ওয়েবপেজ ডাটা মডিফাই করার জন্য অ্যাডভান্সড ফিল্টারিং ক্ষমতার সফটওয়্যার। এটি অ্যাড কোম্পানির বিপরীতে আপনাকে প্রদান করে ছদ্মনাম যাতে আপনি ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারেন বিজ্ঞাপন ছাড়া। প্রিভোক্সি সফটওয়্যার ইনস্টল করে রান করুন।এ সফটওয়্যাটি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে চাইলে আপনার ওয়েব ব্রাউজারকে প্রথমে কনফিগার করতে হবে। নেটওয়ার্ক সেটিংয়ে আপনাকেHTTP proxyএবংSSL proxyএর জন্যম্যানুয়াল প্রক্সি কনফিগারেশন ((IP address 127.0.0.1, port 8118)) সেট করতে হবে অ্যাড ব্লক করার জন্য।।

চিত্র ৪ : প্রিভোক্সি ইন্টারফেস
ইমমা অ্যাড ব্লকার
ইমমা অ্যাড ব্লকার (Emma Ad Blocker ) হলো একটি কম্প্রেহেনসিভ প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীকে সহায়তা করতে পারে অ্যাড ব্লক করতে যা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় দেখা যায়। এটি একটি ফ্রি অ্যাড ব্লকিংসফটওয়্যার। এ সফটওয়্যারটি বিজ্ঞাপন ছাড়া ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সুযোগ দেয়। এটি ব্যবহারের কারণে ওয়েবসাইট লোড হয় গড়ে ৩০ শতাংশ দ্রুততার সাথে যখন অ্যাডগুলো ডিজ্যাবল থাকবে।এটি সাপোর্ট করে বিভিন্ন কমন ওয়েব ব্রাউজার। এটি রান করে সিস্টেম ট্রে থেকে। এটি এর ডাটাবেজ আপডেট করে অ্যাড সিগনেচার সহ যাতে সব অ্যাড সহজেই ব্লক করা যায়।

চিত্র ৫ : ইমমা অ্যাড ব্লকার ইন্টারফেস

জিটি-সফট অ্যাড ব্লকার
জিটি-সফট অ্যাড ব্লকার (GT-Soft Ad Blocker ) সফটওয়্যারটি ফ্রি এবং ডেস্কটপের জন্যউইন্ডোজ ভিত্তিক এক প্রোগ্রাম যা আপনার ব্রাউজ করা ওয়েবসাইটের অ্যাড ব্লক করে। এ সফটওয়্যারটি এক ক্লিকে অ্যাড ব্লক করার জন্যহোস্ট ফাইলের কোড এর কোড দিয়ে প্রতিস্থাপন করে। আপনি ইচ্ছে করলে প্রয়োজনে আগের অবস্থায় এক ক্লিকে ফিরে যেতে পারবেন। জিটি-সফট অ্যাড ব্লকার ব্লক করতে পারে ইউটিউব অ্যাড, গুগল অ্যাড এবং হুলু অ্যাড একটি বাড়তি আপশন হিসেবে।

চিত্র ৬ : জিটি-সফট অ্যাড ব্লকার ইন্টারফেস
অ্যাডগার্ড
অ্যাডগার্ড (Adguard) হলো সবচেয়ে কার্যকর অ্যাড ব্লকার ফ্রি সফটওয়্যার। এ সফটওয়্যাটি আপনার ব্রাউজ করা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাড ফিল্টার এবং অপসরণ করতে পাওে। এটি অপসরণ করতে পারে অ্যাড ট্র্যাকারকেও। এটি ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, অপেরা, সাফারি সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজারে কাজ করতে পারে। আপনি অ্যাড ছাড়াই খুব সহজে এবং দ্রুততার সাথে ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবেন। আপনি ইচ্ছে করলেই এর শো অ্যানাবল অথবা ডিজ্যাবল করতে পারবেন অ্যাড ফিচার। এটি ভাইরাস সম্বলিত ওয়েবসাইটও ব্লক করতে পারে।

চিত্র ৭ : অ্যাডগাড ইন্টারফেস
অ্যাডব্লক এজ
অ্যাডব্লক এজ (Adblock Edge) হলো অ্যাড ব্লক করার জন্য একটি ফায়ারফক্স এক্সটেনশন। আপনি খুব সহজেই এটি ইনস্টল করতে পারবেন এবং ব্লক করতে পারবেন &&ররক্তিকর অ্যাড। অ্যাডব্লক এজ এ Acceptable Ads এর এক ফিচার রয়েছে। এটি ব্যবহার করার জন্য ফায়ারফক্সকে রিস্টার্ট করতে হবে না। আপনি ইচ্ছে করলে সুনির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে এটিকে ডিজ্যাবল করতে পারেন। আপনি কাস্টোম ফিল্টার ডিফাইন এবং অ্যাপ্লাইও করতে পারবেন।

চিত্র ৮ : অ্যাডব্লক এজ ইন্টারফেস

নোঅ্যাডস
নোঅ্যাডস (NoAds ) হলোঅপেরা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বিশেষ অ্যাড-অনস যা অনুমোদন করে বিরক্তিকর অ্যাড এবং অনাকাঙ্খিত কনটেন্ট ব্লক করা যা সিস্টেমকে সেস্না করা ছাড়া তেমন কোনো কাজ করে না। নোঅ্যাডস হলোঅ্যাড ব্লক করার জন্য অপেরা ব্রাউজারের একটি ফ্রি এক্সটেনশন। অ্যাডর্ভাটাইজিংয়ের কারণে এটি অন্যান্য ডোমেইনের স্ক্রিপ্ট ব্লক করে। এটি টেক্সট অ্যাড সহ পেজ উপাদানও ব্লক করে। আপনি “Quick Button”এর সহযোগিতায় যেকোনো সময় এটি অ্যানাবল বা ডিজ্যাবল করতে পারবেন। এটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি দ্রুতগতিতে এবং সহজেই ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবেন।

চিত্র ৯ : নোঅ্যাডস এর ইন্টারফেস
অ্যাডব্লক
জনপ্রিয় বিভিন্ন ওয়েব ব্রাউজারের জন্য অ্যাডব্লক (AdBlock ) হলো একটি ফ্রি কনটেন্ট ফিল্টার এবং অ্যাড ব্লক করার এক্সটেনশন। ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, অপেরা, সাফারি ( ডেস্কটপ এবং মোবাইল) এবং মাইক্রোসফট এজ প্রভৃতি ওয়েব ব্রাউজার অ্যাডব্লক সাপোর্ট করে। এটি ওয়েবপেজে সব অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ব্লক করতে পারে। অ্যাডব্লক সফটওয়্যার কনফিগার করা দরকার হয় না। শুধু ইনস্টল করেই এটি ব্যবহার করা যায় এটি। আপনি ইচ্ছে করলে পছন্দের যেকোনো ওয়েবপেজকে পজ (pause) বা ডিজ্যাবল করতে পারেন।

চিত্র ১০ : অ্যাডব্লক ইন্টারফেস
কিল ইভিল
কিল ইভিল (Kill Evil ) হলো একটি গুগল ক্রোম এক্সটেনশন যা ডিজ্যাবল করতে পারে সব বিরক্তিকর স্ক্রিপ্ট। এটি ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় রিমুভ বা ডিজ্যাবল করতে পারে অ্যাড। এতে সম্পৃক্ত রয়েছে একটি হোয়াইট লিস্ট ফিচার। এটি নিরবে বিজ্ঞাপন ব্লক করতে পারে। আপনি এ প্রোগ্রামকে ব্যবহার করতে পারেন পপআপ ম্যাসেজ, লিঙ্কস, পেজ এবং অ্যাড সমূহ প্রতিরোধ করতে যেগুলো আপনার কমপিউটারের জন্য ক্ষতিকর।

চিত্র ১১ : কিল ইভি ইন্টারফেস
কারমা ব্লকার
কারমা ব্লকার (Karma Blocker ) হলো ফায়ারফক্স ব্রাউজারের জন্য একটি ফ্রি অ্যাড ব্লক করার এবং প্রাইভেসি অ্যানহ্যান্সার সফটওয়্যার।এ সফটওয়্যাটি মনিটর করার জন্য ফিল্টার করে ম্যাসেজ ফিল্ড। ফায়ারফক্স যখন লোড হতে শুরু করে তখন এ সফটওয়্যারটি নিয়মের বাইরে চেক করে সব পেজ, ইমেজ, স্টাইল শিটস, জাভা স্ক্রিপ্ট ইত্যাদী । এটি অস্বীকার করে এবং কখনোই রিকোয়েস্টকে লোড করে না যা নিয়মের সাথে ম্যাচ করে। আপনি এর ডিফল্ট নিয়ম পিড়িয়ডিক্যালি আপডেট করতে পারেন।

চিত্র ১২ : কারমা ব্লকার ইন্টারফেস

থ্রিডি সিজিআই মোশন ক্যাপচারের জগৎ
নাজমুল হাসান মজুমদার
মোশন ক্যাপচার বা ‘মকাপ’ (Mocap) মানুষের বা ক্যারেক্টারের গতিময় অবস্থানের রেকর্ডের এক রকম বিশেস্নষিত রূপ, যাতে ত্রিমাত্রিক ডাটা হিসেবে বস্ত্ত বা প্রাণীর বিভিন্ন অবস্থার পর্যবেক্ষণ, চলমান অবস্থা রেকর্ড বা ক্যাপচার হয়ে থাকে। থ্রিডি সিজিআই বিশেষায়িত চলচ্চিত্রে ও কমপিউটার গেমে ক্যারেক্টারের মুভমেন্টের ক্ষেত্রে ক্যারেক্টারের বিভিন্ন গতিময় অবস্থানের মোশন ক্যাপচার করা হয়। মোশন ক্যাপচারের মাধ্যমে একজন ক্যারেক্টারের বিভিন্ন সময়ের অবস্থানের সঠিক গতিকে ট্র্যাক করা সম্ভব হয়।
মোশন ক্যাপচারের ক্রমবিকাশ
মোশন ক্যাপচারের ক্রমবিকাশকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার অ্যাডউইয়ার্ড মইব্রিজের জন্ম ১৮৩০ সালে। তার বেশিরভাগ কাজই ছিল গতিবিষয়ক বিষয়বস্ত্তর ছবি নিয়ে কাজ করা। তাই তাকে এ ক্ষেত্রের পথপ্রদর্শক বলা যায়। প্রাণীর গতি নিয়ে ১৮৭৭ ও ১৮৭৮ সালে তার কয়েকটি ক্যামেরায় তোলা ছবি তাকে বর্তমান সময়েও এ বিষয়ের অগ্রদূত করে রেখেছে। তার ‘জুপ্রাক্সিস্কোপ’ নামে মোশন ক্যাপচারের একটি প্রজেক্টিং ডিভাইস সিনেমাটোগ্রাফিতে ব্যবহার হয়েছে। ১৮৮০ সালে মইব্রিজ আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় মানুষ ও প্রাণীর গতির ওপর এক লাখের ওপর ছবি তোলেন। তার কাজের মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল আর্টিস্টরা পরবর্তী সময় অনেকে প্রভাবিত হয়েছেন। সায়েন্টিফিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফটোগ্রাফিক জগতে তিনি বিপুল পরিবর্তন আনেন।
এটিনি জুলেস ম্যারি হচ্ছেন ফ্রান্সের বিজ্ঞানী। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যা মানুষ ও প্রাণীর গতি বিশেস্নষণ করেছেন। ম্যারি বিখ্যাত তার ‘ক্রোনোফটোগ্রাফিক গান’ আবিষ্কারের জন্য। ১৮৮২ সালে তিনি তা তৈরি করেন, যা এক সেকেন্ডে পরপর বারোটি ফ্রেম ধারণ করতে সক্ষম। সবগুলো ফ্রেম একই ছবিতে রেকর্ড হয়। এসব ছবি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন প্রাণীর ওপর গবেষণা করেন। ম্যারি মানুষের গতি নিয়ে অনেক গবেষণা করেন। ১৮৯৪ সালে তিনি ‘লো মুভমেন্ট’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। তার গবেষণার বিষয়বস্ত্ত ছিল কীভাবে চলমান ইমেজ ক্যাপচার প্রদর্শন করা যায়।
১৯২২ সালে নিকোলাই বার্নসটেইন তার প্রথম বৈজ্ঞানিক কাজ করেন। তিনি সাইক্লোগ্রাফিক টেকনিক ব্যবহার করেন মানুষের মুভমেন্ট ট্র্যাক করতে এই টেকনিক বিজ্ঞানী নিকোলাই তার বিভিন্ন গবেষণা কাজেও ব্যবহার করেন। তার গবেষণায় দেখানো হয়, বিভিন্ন বস্ত্ততে আঘাতে, যেমন- হাতুড়ির সাথে ছুরির আঘাতে ছোট ছোট মুভমেন্টের আন্দোলিত হয়। ১৯২৬ সালে নিকোলাই অনেকগুলো গবেষণা শুরু করেন। সেখানে তিনি মানুষের মুভমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। মানুষের বয়সের সাথে সাথে বিভিন্ন সময়ের মুভমেন্টের ওপর তিনি গবেষণা করেন। মানুষের বিভিন্ন মুভমেন্ট করার জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় এবং বিভিন্ন মুভমেন্টের সময় মানুষের শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট বা সংযোগস্থল কী ধরনের হয়, কীভাবে সংযোগস্থলগুলোতে ভাঁজ পড়ে, তা নিয়ে নিকোলাই অনেক বছর ধরে কাজ করেন।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক হ্যারল্ড এডগারটন ১৯৩৭ সালে ফটোগ্রাফার জিজন মিলির সাথে মিলে কাজ শুরু করেন। তিনি স্ট্রোবসকনিং উপকরণ ও ফ্ল্যাশ ব্যবহার করতেন সুন্দর আকর্ষণীয় ছবি তোলাতে। স্ট্রোবলাইট এক সেকেন্ডে ১২০-এর ওপর ফ্ল্যাশ দিত। অধ্যাপক এডগারটন ছিলেন ফটোগ্রাফিকে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ইলেকট্রনিক ফ্ল্যাশ দেয়ার পথপ্রদর্শক, যাতে খুব দ্রুত ছবি তোলায় ফ্ল্যাশ দেয়া যেত এবং পরবর্তী সময় এ টেকনিক ব্যবহার করে মাল্টি ফ্ল্যাশ দিয়ে মোশন ট্র্যাকে ব্যবহার হতো। ১৯৮৭ সালে অধ্যাপক এডগারটনের কাজ নিয়ে ন্যাশানাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনে ‘ডক এডগারটন’ নামে ফিচার আর্টিকল হয়।
সুইডিশ বায়োকেমিস্ট গুনার জোহানসন ‘মোশন পারসেপশন’ বিষয়ে বেশ আগ্রহী ছিলেন। তিনি সর্বাধিক পরিচিত ‘বায়োলজিক্যাল মোশন’ নিয়ে কাজ করার জন্য এবং তার উপলব্ধি বস্ত্তর রিগ বা গঠনের ক্ষেত্রে একটা পূর্ণাঙ্গ ধারণার জন্ম দেন। তিনি ছিলেন আপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ১৯৭০ সালে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্সের একজন নির্বাচিত সদস্য হন। জোহানসন ১৯৭৩ সালে বৈদ্যুতিক বাল্বের সাথে বস্ত্ত একত্র করে তা থেকে আলো প্রতিফলিত করে কাজ শুরু করেছিলেন। এতে প্রতিফলিত বস্ত্তটিই শুধু দেখা যেত এবং ভিডিও টেকনোলজির সহজলভ্যতার কারণে পুরো কাজ অনেক সহজ হতো।
আধুনিক ক্রমবিকাশ মোশন ক্যাপচারে
বর্তমান সময়ে থ্রিডি মোশন ক্যাপচার টেকনোলজিতে অনেক প্রতিষ্ঠান স্টিমুলি ব্যবহার করে বায়োলজিক্যাল মোশনে। এ ধরনের পদ্ধতি ডিজিটাল ত্রিমাত্রিক অবস্থায় ক্যারেক্টারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাঁক দেখানো সম্ভব। মোশন ক্যাপচারে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, কিছু পরিবর্তন করে এর ডাটাগুলো পরবর্তী সময় ব্যবহার করা যায়। মার্কার লোকেশনের বিভিন্ন টাইম সিরিজ বায়োলজিক্যাল মডেলের ইনপুট হিসেবে ব্যবহার হয়। সবশেষে এ বায়োলজিক্যাল মোশন ইনপুটটিই কমপিউটার মডেলের মোশন হিসেবে ব্যবহার হয় এবং পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশনে বাস্তবায়িত করে।
লাইফ ডিটেকশন
ট্রজি এবং ওয়েস্টফ ২০০৬ সালের গবেষণায় প্রমাণ করেন, এক সাথে মানুষ ও প্রাণীর বায়োলজিক্যাল মোশন তাদের গতিপথ সম্পর্কে কিছু তথ্য বহন করে, সেটা হচ্ছে তারা এই চলার মুহূর্তে কিরূপ বিষয়ের মুখোমুখি হয়। ট্রজি এবং ওয়েস্টফ উল্লেখ করেন, প্রাণীর গতির সংবেদনশীলতা মূলত কার্যকর ভূমিকা রাখে যে, সেই প্রাণীর চলাচলের অবস্থার ভিজ্যুয়াল পরিবেশটা কেমন হবে। তারা নির্দেশিত করেন স্থির একটি প্রাণীর ব্যালিস্টিক মুভমেন্ট একটা পরিবর্তন আনে, যা ভিজ্যুয়াল সিস্টেমে একটি প্রাণীকে ভিজ্যুয়াল পরিবেশে স্বাধীনভাবে সুনির্দিষ্ট করে।
স্ট্রাকচার ফ্রম মোশন
যখন একটি প্রাণী বা একজন মানুষকে নির্দেশিত করা সম্ভব হয়, তখন সুগঠিত সংঘবদ্ধ তার অবস্থা থেকে তার গতি নির্দেশিত করা হয়, যেটা মূলত প্রাথমিক পর্যায়। এ পর্যায়ে মানুষকে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এ কিছু মুহূর্তের মেকানিজম পুরো ক্যারেক্টার বা মডেল পুরো শরীরের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অ্যাকশন রিকগনেশন
এ স্তরে স্ট্রকচার ও মোশন সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য একীভূত হয় একটি সিস্টেমে, যা শ্রেণীবিভাগ করে থাকে অ্যাকশনের। বিশেষ শ্রেণীভাগ থাকে প্রতিটি পরিবর্তন ও অ্যাকশনের ধরনে। সম্প্রতি ২০০৪ সালে জ্যাকসের গবেষণা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, বিভিন্ন শ্রেণীভাগের তাত্ত্বিক ও গবেষণালব্ধ অ্যাকশনবিষয়ক বিশেষ পরিবর্তন ছিল আশ্চর্যজনক হওয়ার মতো। বস্ত্তত ভালো একটি সম্মিলিত কাজ সামগ্রিকভাবে প্রয়োজন।
স্টাইল রিকগনেশন
যখন মাধ্যম ও অ্যাকশন উভয়ই চিহ্নিত হয়, তখন প্যাটার্ন নিচের স্তর হিসেবে কাজ করে এবং উভয় বিষয়েই আরও তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে। মানুষের মোশন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং বয়স, মনের অবস্থা, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যবলী পারস্পরিক যোগাযোগে ভূমিকা রাখে। প্রাথমিক ডাটা প্রসেসে স্টাইল সম্পর্কে ধারণা নেয়। এই ধরনের বহু স্তরের ওপর নির্ভর করে অনুধাবন করা হয় বায়োলজিক্যাল বিভিন্ন উপলব্ধি।
ইলেকট্রোমেকানিক্যাল স্যুট
এতে কাঠামো সংযোজিত থাকে, পটেনশিয়াল মিটারসমূহ প্রতিটি সংযোজনের আবর্তনের দিক নির্ধারণ করে। কোনো ধরনের ম্যাগনেটিক বা ইলেকট্রিক্যাল প্রতিবন্ধকতা থাকে না। অপরিমেয় ক্যাপচার করার ক্ষমতা ও কম মূল্য। নিয়ন্ত্রিত চলাচল, সেন্সরসমূহের নির্দিষ্ট অবস্থান ও একদম নির্ভুল সংযোগ নয়।
ইনারশিয়াল সিস্টেম
ইনারশিয়াল ট্র্যাকার সংযোগস্থলে থাকে; প্রতিটি অংশে অ্যাকসিলরোমিটার, জাইরোস্কোপ ও ম্যাগনোমিটারসমূহের সাথে অবস্থান ও পরিমাপের ব্যবস্থা থাকে। ইউডব্লিউআরএফ থাকে পজিশন ট্র্যাকিংয়ে এবং অপরিমেয় মোশন ক্যাপচার করার ক্ষমতা রয়েছে। একাধিক বস্ত্তর ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকে না এবং অবস্থানগতভাবে থাকে চলমান। স্থানান্তরিত ডাটাগুলো আলাদাভাবে সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ে, ব্যাটারি প্যাক ও তারগুলো ক্যারেক্টার বা অভিনেতার গায়ের সাথে স্পর্শিত থাকে।
ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিস্টেম
ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বিভিন্ন সংযোগস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সেন্সরগুলো স্থাপিত থাকে। সেন্সরের বিভিন্ন অবস্থা পরিমাপ করা হয়, যা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের সাথে সম্পর্কিত, যা ট্রান্সমিটার থেকে উৎপন্ন হয়। একাধিক বস্ত্তর ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে না। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্রতিবন্ধকতা স্বল্প পরিমাণে, যখন ক্যারেক্টারের স্থানান্তরের ট্র্যাকিং প্রয়োজন পড়ে থাকে

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - জুলাই সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস