Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বর্তমানে অনলাইনে যেসব কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মোখলেছুর রহমান
মোট লেখা:২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - আগস্ট
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ফ্রিল্যান্স
তথ্যসূত্র:
আউটসোর্সিং
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বর্তমানে অনলাইনে যেসব কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি
আপনি হয়তোপ্রচলিত ৯-৫টার চাকরি করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছেন। তাই এই একঘেয়েমি চাকরি থেকে মুক্তি চাইছেন। অথবা যেকোনো শারীরিক সমস্যার কারণে পূর্ণসময়ের চাকরি করতে অক্ষম। আবার অনেকেই এমন আছেন, যাদেরকে বাড়িতে থেকে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে হয়। অথবা অন্য কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে যারা পূর্ণসময়ের চাকরি করতে পারছেন না, তাদের জন্য অনলাইন হতে পারে পূর্ণসময়ের চাকরির সর্বোত্তম বিকল্প এবং আয়ের বড় একটি মাধ্যম। বর্তমানে অনলাইনে ঘরে বসে কাজ করেপ্রচলিত চাকরির চেয়েও কয়েক গুণ বেশি টাকা উপার্জন করা যায়।
অনলাইনেও প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে, যা আপনি আপনার ঘরে বসেই করতে পারবেন। এ লেখায় বর্তমান সময়ে অনলাইনের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন কিছু কাজের কথা তুলে ধরা হলো।
০১. ভার্চু্যয়াল সহকারী
উদ্যোক্তা, পেশাদার এবং ছোট ছোট ব্যবসায়িক দলগুলোর প্রায়ই বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের জন্য সহকারীর প্রয়োজন হয়। আর এ ক্ষেত্রে তারা অযথা অফিসে কর্মী সংখ্যা না বাড়িয়ে অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে ভার্চু্যয়াল সহকারী (ভিএ) নিয়োগ করে।
একজন ভার্চু্যয়াল সহকারীর সাধারণত নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলা, ক্লায়েন্ট ও বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ করা, অর্ডারগুলো অনুসরণ করে যথাসময়ে ডেলিভারি নিশ্চিত করা, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন এবং এক্সেল শিটসহ প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক কাগজপত্র তৈরি করা, ক্লায়েন্টেরব্লগ ও ওয়েবসাইটগুলো পরিচালনা করা ইত্যাদি কাজ করতে হয়।
একজন ভার্চু্যয়াল সহকারী নিজের বাড়িতে বসেই অনলাইনে ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করে তাদের ব্যবসায়গুলো পরিচালনা করেন।
ভার্চু্যয়াল সহকারী হতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা প্রশিক্ষণ থাকতে হয়। যদি আপনার ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকে এবং এমএস অফিসের মতো অ্যাপিস্নকেশন ব্যবহার করতে সক্ষম হন, তবে আপনি আপওয়ার্ক, ফ্রিলান্সারডটকম বা পিপলপারআওয়ারের মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে সাইনআপ করে ভার্চু্যয়াল সহকারীর কাজ খোঁজা শুরু করতে পারেন।
০২. অনুবাদ
প্রতিদিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা বা লেখালেখি হচ্ছে। এই গবেষণা বা লেখাগুলো পৃথিবীর অন্যান্য ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অনুবাদের কাজ করা হয়। একাধিক ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি ঘরে বসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে এই কাজগুলো করে দেয়ার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে থাকেন। কাজটি করতে ইংরেজিসহ অন্যান্য কিছু ভাষা ও ব্যাকরণ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি। মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্যান্য বিদেশি ভাষায় যাদের ভালো জ্ঞান আছে, এ ক্ষেত্রে তাদের চাহিদা বেশি। বিদেশি ভাষা শেখানো হয় এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। তাই ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভাষাশিক্ষার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আপনিও হয়ে যেতে পারেন একজন দক্ষ অনুবাদক।
অনুবাদের কাজ করে উপার্জন করতে আপওয়ার্ক ও ফাইভারের মতো জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে নিবন্ধন করে আপনি যে ভাষায় দক্ষ হচ্ছেন, তা তালিকাভুক্ত করে কাজ করা শুরু করতে পারেন।
০৩. ব্লগিং
বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় শব্দ ব্লগিং বা ব্লগ থেকে আয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্লগারেরা ব্লগিং করে অনলাইন থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন।আপনিও যদি ভালো মানের ব্লগ পাবলিশার হতে পারেন, তবে অন্যান্য কাজের চেয়ে কম পরিশ্রমে সারাজীবন প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
ব্লগিং হচ্ছে এমন এক ধরনের ব্যবসায়, যেখানে আপনাকে আগে ভালো মানের তথ্যসমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে এবং সেখানে এই তথ্য পড়ার বা জানার জন্য যখন বিভিন্ন লোকজন আপনার ওয়েবসাইটে আসতে থাকবে, তখন সেখানে আপনি বিজ্ঞাপন বসিয়ে ব্লগ থেকে আয় করতে পারবেন।
আপনি যে বিষয় নিয়ে লিখতে পছন্দ করেন বা অন্যকে জানাতে চান, তাই নিয়ে লিখুন। আপনার চিন্তা-ভাবনা,পরামর্শ অন্যের কাছে পৌঁছে দিন অথবা আপনার কোনো ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান থাকলে সেটা নিয়ে ব্লগ করুন।
বর্তমানে ব্লগ থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে বিজ্ঞাপন।তবে মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞাপন থেকে আয় করতে হলে আপনার ব্লগটির জনপ্রিয়তা থাকতে হবে অর্থাৎপ্রচুর ভিজিটর থাকতে হবে।ভালো মানের ব্লগ হলে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স পেতে পারেন। এ ছাড়া আপনি আপনার ব্লগে এফিলিয়েট মার্কেটিং পদ্ধতি প্রয়োগ করার মাধ্যমেও আয় করতে পারেন।
০৪.অনলাইনে পণ্য বিক্রি
অনলাইনে নিজের বা অন্যের পণ্য বিক্রির মাধ্যমেও আপনি ভালো মানের একটি উপার্জন নিশ্চিত করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনার উপার্জন নির্ভর করবে পণ্য ও পণ্যের মূল্য অনুযায়ী। আপনি যে প্লাটফর্মে কাজ করবেন, তাদের অল্প একটুফি কাটার পর বাকি রাজস্ব পুরোটাই আপনি পাবেন।
প্রথমে আপনি কী বিক্রি করতে চান, তা নির্ধারণ করুন। পণ্যগুলো কেনার মাধ্যমে একটি তালিকা তৈরি করুন। তারপর যে দামে পণ্যগুলো বিক্রি করতে চান, তা নির্ধারণ করে বিক্রি করা শুরু করে দেন।
আপনি অ্যামাজন ও ইবের মতো কোনো জনপ্রিয় অনলাইন সেলিং ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেও এ ধরনের পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এই পোর্টালগুলো আপনার পণ্য হোস্টিংয়ের জন্য একটি ছোট ফি কেটে রাখবে। আপনি যখনই কোনো অর্ডার পাবেন, সাথে সাথে আপনার পণ্যটি প্যাকেজ হবে ও সরবরাহ করা হবে।প্রদত্ত অর্ডারসম্পন্ন হওয়ার পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে আপনি আপনার কমিশন পেয়ে যাবেন।
০৫.ইউটিউবের জন্য ভিডিও নির্মাণ
অনলাইনে আয়ের হাজার হাজার পদ্ধতির মধ্যে ইউটিউব থেকে আয় একটি জনপ্রিয় উপায়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব থেকেও আপনি আয় করতে পারেন। ভিডিও তৈরি করে অনেকেই ইউটিউব থেকে আয় করছেন।
প্রথমে ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও তৈরি করুন। আর আপনার যদি কোনো ভিডিও ক্যামেরা না থাকে, তাহলে আপনি এ ক্ষেত্রে আপনার কমপিউটার ব্যবহার করতে পারেন। আপনাকে অবশ্যই মজাদার/শিক্ষণীয় ভালো মানের ভিডিও তৈরি করতে হবে।
আপনি যদি উন্নতমানের জনপ্রিয় ভিডিও তৈরি করতে পারেন বা আপনার চ্যানেল জনপ্রিয় হয়, তাহলে ইউটিউবের অ্যাডসেন্স পার্টনারশিপ থেকেই একটা অফার পেতে পারেন। ওরা আপনাকে পার্টনার করলে প্রতি মাসে একটা ভালো পরিমাণের টাকা আপনি আয় করতে পারবেন।
০৬. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
প্রযুক্তির এই যুগে একটি ভালো ওয়েবসাইট ছাড়া কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তাই করা যায় না। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওয়েবসাইটটি তৈরির দায়িত্বটি দিয়ে থাকে বিভিন্ন পেশাজীবী ওয়েব ডেভেলপারদের। আর তারা এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন একটি ভালো অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ ওয়েব ডেভেলপমেন্টকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ওয়েব ডেভেলাপারেরা সাধারণত বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে আউটসোর্স হয়।
মনে রাখবেন,বর্তমানে প্রচুর ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভেলপার রয়েছেন, যাদের সাথে আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। তাই নিজের একটি ভালো খ্যাতি অর্জন করতে হবে এবং নিজের একটি যুক্তিসঙ্গত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
০৭. কনটেন্ট রাইটিং
ফ্রিল্যান্স কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলোর অন্যতম একটি কাজ হলো কনটেন্ট রাইটিং। আমরা যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকি, তখন অনেক সময় বিভিন্ন সুন্দর কথা, কবিতা বা বিবরণ দেখতে পাই। এই কথাগুলো সাধারণত সেই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ নিজে লেখে না। তারা বিভিন্ন কনটেন্ট রাইটারকে দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে এগুলো লিখিয়ে নেয়। যাদের লেখার হাত ভালো ও ব্যাকরণ সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে, তারা খুব সহজেই কনটেন্ট রাইটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
০৮.ডাটা এন্ট্রি
অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য সবচেয়ে সহজ কাজগুলোর একটি হলোডাটা এন্ট্রি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ইন্টারনেটে আপলোড করার মাধ্যমেডাটা এন্ট্রি করা হয়। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য হতে পারে উপযুক্ত কাজ। এ কাজগুলো করতে কমপিউটার সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা থাকলেই চলে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে বর্তমানে প্রচুর ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়া যায়। তবে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে ডাটা এন্ট্রির কাজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটু বেশি। তবে একটু ধৈর্য ধরলে কাজ পাওয়া যায়।কাজটি সহজ হওয়ায় এতে উপার্জনের পরিমাণ খুব বেশি হয় না। তবে ভালো দিক হচ্ছে, যেকোনো ব্যক্তি কোনো বিশেষ দক্ষতা ছাড়াই এ কাজ করে বেকারত্বের অবসান করতে পারবেন।
০৯. অনলাইনে শিক্ষা দেয়া
আপনার যদি ইতোপূর্বে পড়ানোর কোনো অভিজ্ঞতা থেকে থাকে অথবা আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর পারদর্শী হয়ে থাকেন, তবে অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় পড়ানোর মাধ্যমেও আয় করতে পারেন। প্রথমে বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষাদান বিষয়ক প্লাটফর্মগুলোতে সাইনআপ করুন। এরপর আপনি যে বিষয়গুলোশেখাতে চান, তার একটি তালিকা তৈরি করে সেখানে আপনার একটি প্রোফাইল তৈরি করুন। আপনার কী অভিজ্ঞতা আছে, আপনার যোগ্যতা কী ইত্যাদি এই প্রোফাইলে তুলে ধরুন ।
এ ছাড়া উদ্যোমির মতো পোর্টালগুলোকে বানিয়ে ফেলতে পারেন আপনার নিজস্ব ভার্চু্যয়াল শ্রেণীকক্ষ ।
সূত্র: গেজেটসনাউ

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - আগস্ট সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস