Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > নিষিদ্ধ হোক কিলার রোবট
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সম্পাদক
মোট লেখা:৩১৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৭ - সেপ্টেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সম্পাদক
তথ্যসূত্র:
সম্পাদকীয়
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
নিষিদ্ধ হোক কিলার রোবট
নিষিদ্ধ হোক কিলার রোবট
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শতাধিক রোবট বিশেষজ্ঞ জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ‘কিলার রোবট’ উদ্ভাবন করা নিষিদ্ধ করতে। বিশেষজ্ঞেরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, কিলার রোবট তৈরির ‘লেথাল অটোনোমাস টেকনোলজি’ সন্ত্রাসীরা হ্যাক করতে পারে। বিশেষজ্ঞেরা একে যুদ্ধক্ষেত্রে ‘থার্ড রেভ্যুলিউশন’ নামে আখ্যায়িত করে এ সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন।
জাতিসংঘের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নেতারা বলেছেন, কিলার রোবট সম্পর্কিত যুদ্ধক্ষেত্রের এই তৃতীয় বিপ্লব সম্পর্কে আমাদের বিন্দুমাত্র দেরি না করে সতর্ক হতে হবে। এই চিঠিতে তারা বলেন, লেথাল অটোনোমাস টেকনোলজি হচ্ছে একটি প্যান্ডোরার বাক্স। এই ১১৬ জন বিশেষজ্ঞ যুদ্ধাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানান। চিঠিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, একবার যদি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যুদ্ধাস্ত্র তথা কিলার রোবট তৈরি হয়ে যায়, তবে সশস্ত্র সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছবে, যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। আর তা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, যা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। এ ছাড়া এগুলো হয়ে উঠতে পারে সন্ত্রাসীদের ব্যবহারেরও অস্ত্র। অসীম ক্ষমতার অধিকারী শাসকেরা ও সন্ত্রাসীরা তা ব্যবহার করতে পারে নিরপরাধ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধেও। একই সাথে অপ্রত্যাশিতভাবে এই প্রযুক্তি হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
এই চিঠি হচ্ছে প্রযুক্তি জগতের নেতাদের পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীর প্রতি কিলার রোবট উদ্ভাবন নিষিদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ নিয়ে এগিয়ে আসার এক জরুরি বার্তা। তারা চিঠিতে উল্লেখ করেন- ‘we do not have long to act’, অর্থাৎ তাদের সুস্পষ্ট তাগিদ হচ্ছে, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের হাতে আর লম্বা সময় নেই। কারণ তাদের মতে, ‘একবার যদি এই প্যান্ডোরার বাক্সের মুখ খুলে যায়, তবে তা বন্ধ করা হবে কঠিন।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই কিলার রোবট উদ্ভাবন নৈতিকভাবে একটি ভুল প্রযুক্তি। তাদের ভাষায় ‘মরালি রং টেকনোলজি’। আর তারা চান এই টেকনোলজি সংযুক্ত হোক জাতিসংঘের ‘সার্টেইন কনভেনশনাল ওয়েপন্স’ (সিসিইউ) বিষয়ক কনভেনশনের আওতায় নিষিদ্ধের তালিকায়। এসব নেতার মধ্যে তেসলার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এলন মাস্কসহ আরও রয়েছেন গুগলের DeepMind-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা সুলেমান।
অটোনোমাস ওয়েপনরি নিয়ে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘের একটি গ্রম্নপের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল গত ২১ আগস্টে। কিন্তু এই গ্রম্নপের ওয়েবসাইটে উলিস্নখিত তথ্যমতে, শেষ পর্যন্ত এই বৈঠক আগামী নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিটিতে কিলার রোবট নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৫ সালে এক হাজারেরও বেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী ও গবেষক অটোনোমাস ওয়েপনরির বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে একটি চিঠি লেখেন। সে চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াক এবং তেলসার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক।
কিলার রোবট আসলে কী? একটি কিলার রোবট হচ্ছে পুরোপুরি অটোনোমাস ওয়েপন। মানুষের কোনো সহায়তা ছাড়াই এটি শত্রম্নপক্ষ চিহ্নিত করে সেই টার্গেটে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে এ ধরনের অস্ত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির অগ্রগতি এতটাই হয়েছে যে, এ ধরনের অস্ত্র বাস্তবতার একদম দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এ ধরনের ভয়াবহ অস্ত্র তৈরি চায়, এমন মানুষ এই পৃথিবীতে আছে। তাদের যুক্তি হচ্ছে, বর্তমান আইন-কানুন ও ব্যবস্থা সমস্যা সমাধানে পর্যাপ্ত নয়। ফলে এরা চায় কিলার রোবট নামের মারণাস্ত্র। কিন্তু এরা তেমন জোর গলায় এ দাবি তুলতে পারছে না। এরা এখন বলছে, এ ধরনের রোবট উদ্ভাবন বন্ধ না করে তা আপাতত স্থগিত রাখা হোক।
কিন্তু বিশ্বের শামিত্মকামী সব মানুষের সাথে সুর মিলিয়ে আমরা বলতে চাই, এসব কিলার রোবট মানবতার প্রতি বড় ধরনের হুমকি। তাই আমরা চাই জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের সরকার তা উদ্ভাবনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুক। এ ক্ষেত্রে বিকল্প ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৭ - সেপ্টেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস