Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট : ‘সম্ভব সর্বোত্তম’ সুফল নির্ভর করছে সুব্যবস্থাপনার ওপর
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মনোরঞ্জন দাস
মোট লেখা:২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৮ - মে
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
কমপিউটার->মহাকাশ শিল্প
তথ্যসূত্র:
কমিউনিকেমন সিস্টেম
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট : ‘সম্ভব সর্বোত্তম’ সুফল নির্ভর করছে সুব্যবস্থাপনার ওপর
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট : ‘সম্ভব সর্বোত্তম’ সুফল নির্ভর করছে সুব্যবস্থাপনার ওপর

আকাশ আমায় ভরলো আলোয়, আকাশ আমায় ভরলো গানে। কবির ভাষায় গ্রহ-নক্ষত্র দিয়ে আকাশ আমাদের আলোয় আলোয় ভরে দিয়েছে। আর সেই আলোয় আলোকিত মানুষ তাদের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা দিয়ে মহাকাশকে গানে, ছবিতে ও তথ্যে ভরপুর করছেন। আকাশস্থ যোগাযোগ উপগ্রহ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিভিশনের পর্দায় আমরাও তা উপভোগ করি। কিন্তু বিদেশ থেকে ভাড়া করে তবেই তা সম্প্রচারিত হয়।

তবে আশার কথা বেতার তরঙ্গের মতো এবার মহাকাশে উড়তে যাচ্ছে আমাদের স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এই কৃত্রিম উপগ্রহ স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা দেবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল থাকা, পরিবেশ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

নক্ষত্রের দেশে উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় আমাদের এই জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট বা ভূ-স্থির উপগ্রহ। এই উপগ্রহ স্থাপন রূপকল্পের সাথে শুরু থেকেই অংশীদার ছিলেন বেতার সম্প্রচার বিশেষজ্ঞ মনোরঞ্জন দাস। বর্তমানে তিনি এবিসি রেডিওর উপদেষ্টা। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উদযাপনের আগ মুহূর্তে এই স্যাটেলাইটের সুবিধা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ডিজিটাল ডিভাইড দূর করতে সবচেয়ে অধিকতর কার্যকরী হবে বঙ্গবন্ধু-১। বর্তমানে আমাদের দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অন্য দেশের স্যাটেলাইট থেকে যে কানেক্টিভিটি কিনে ব্যবহার করছে, সেখানে এই স্যাটেলাইটটি সাশ্রয়ী হবে। দুর্গম অঞ্চলে সাশ্রয়ী কানেক্টিভিটি নিশ্চিতসহ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বাধিক ভূমিকা রাখবে। ডিটিএইচ বা বিনোদনের ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হবে। তবে এর সবটাই নির্ভর করবে এর জন্য গঠিত কোম্পানির পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ওপর। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইমদাদুল হক।

প্রশ্ন : একজন সম্প্রচার বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রথমেই জানতে চাই যোগাযোগ উপগ্রহগুলোর অবস্থান ও এগুলো আমাদের কী কাজে লাগে?
উত্তর : বর্তমানে আকাশ সংস্কৃতি শব্দের সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। স্যাটেলাইট টিভি ও রেডিও থেকে সম্প্রচারিত সব অনুষ্ঠানই কিন্তু এই যোগাযোগ উপগ্রহ হয়ে আসে। এ ছাড়া যোগাযোগ উপগ্রহ দিয়ে ইন্টারনেট, টেলিফোনের সব যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের কিছু পর্যবেক্ষণও সেখানে রাখা যায়। কাজের বিবেচনায় যোগাযোগ উপগ্রহ তিন ধরনের হয়ে থাকে। জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট, লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট (লিও) এবং মিডিয়াম আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট (মিও)। মিও স্যাটেলাইট ভূ-স্থির স্যাটেলাইট থেকে পৃথিবীর নিচু কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। এখন টেলিযোগাযোগে মিও স্যাটেলাইট ব্যবহার হয় না। পৃথিবীর ১৮ হাজার কিমি ভ্রমণরত ২৪টি জিপিএস বা গেøাবাল পজিশনিং সিস্টেম মিও স্যাটেলাইটের দৃষ্টান্ত। লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০০০ থেকে ২৫০০ শত কিমি উচ্চতার কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। এদের আবর্তন বেগ বেশি হয়। সাধারণত এদের ঘূর্ণনকাল প্রায় ৯০ মিনিট।

প্র্রশ্ন : ৭ মে থেকে কক্ষপথে বিচরণ করতে যাচ্ছে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’। এটি তো জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট। জিও স্যাটেলাইট কী?
উত্তর : জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইটই মূলত প্রধান যোগাযোগ উপগ্রহ। পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রেক্ষিতে এই উপগ্রহের অবস্থান সব সময় স্থির থাকে। তাই একে বাংলায় ভূ-স্থির উপগ্রহ বলা হয়। তবে এটি কিন্তু বাস্তবে স্থির নয়। এটি পৃথিবীর সাথে সাথে ঘুরে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার ওপর থেকে। যে বিন্দুর ওপর ছিল সেখানেই স্থির থেকে আবর্তন করে।
প্রশ্ন : দীর্ঘদিন ধরেই তো বাংলাদেশে স্যাটেলাইট সম্প্রচার চলছে। কিন্তু কক্ষপথে নিজেদের স্যাটেলাইট স্থাপনে এত সময় লাগল কেন?
উত্তর : এক কথায় বললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ করে উচ্চমহলের দূরদর্শিতার অভাবে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পট পরিবর্তনেও এই বিলম্বের অন্যতম কারণ বলা যেতে পারে।

প্রশ্ন : কখন বা কীভাবে বাংলাদেশের জন্য জিও স্যাটেলাইট স্থাপনের কাজ শুরু হলো?
উত্তর : ১৯৭৫ সালেই কিন্তু জেনেভায় অনুষ্ঠিত আইটিইউ সম্মেলনে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য নিজস্ব স্যাটেলাইটের জন্য ¯øট প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ বেতারের প্রধান প্রকৌশলী বিএম অধিকারী। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক অরবিটাল লোকেশন ৭৪ ইস্টও তখন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তখন আর তা হয়ে ওঠেনি। এরপর ওই সূত্রটির বরাত দিয়ে ১৯৯৭ সালের দিকে বন্ধুত্বের খাতিরেই আমি তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বাংলাদেশের জন্য একটি নিজস্ব স্যাটেলাইটের প্রস্তাব করি। সচিব ফজলুর রহমান তার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুদ্দীন খানের সাথে আলাপ করেন। দুজনের আগ্রহেই এই স্বপ্নটি একটি আকার পেতে থাকে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হন স্পারসো চেয়ারম্যান ড. এএম চৌধুরী। ১৯৯৮ সাল। তখন বাংলাদেশে জাপানের একটি প্রতিনিধিদল আসে। মন্ত্রী মহোদয় তাদের কাছে প্রস্তাব দিলে বিনা পয়সাতেই তারা আমাদের এ কাজে সহায়তার আশ^াস দেন। কিন্তু দেশে ফিরে গিয়ে ওই প্রতিনিধিদল জানায়, আইন ও নীতিগত কারণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় তারা এ প্রকল্পে বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান স্পারসোর সাথে কাজ করতে পারছে না। এই বার্তা পেতেও বেশ কিছু সময় ব্যয় হয়। অবশেষে নিজস্ব উদ্যোগেই এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার। প্রকল্পের নাম দেয়া হয় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’। কিন্তু বিপুল বাজেটের কারণে ২০০১ সালে এসে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। এরই মধ্যে শুরু হয় তত্ত¡াবধায় সরকারের আমল। ওই সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মনোনীত হন আমার পরিচিত মানিক লাল সমাদ্দার। এটা ২০০৮ সালের কথা। তখন আমি রেডিও টুডের উপদেষ্টা। এরই মধ্যে সরকারের আগ্রহে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাস্তবায়ন প্রকল্পে এগিয়ে আসেন বিটিআরসির সাবেক কমিশনার মেজর জেনারেল মঞ্জুরুল আলম। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকায় ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কিনতে থালেসের সাথে চুক্তি করে বিটিআরসি। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে অর্থায়নের জন্য হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) সাথে গত বছর প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করা হয়। এ টাকাতেই রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য কক্ষপথ বা অরবিটাল সøট কেনা হয়।

প্রশ্ন : এতদিন তো আমরা পরের উপগ্রহ ব্যবহার করতাম। এবার নিজেদের উপগ্রহ হচ্ছে। কেমন লাগছে?
উত্তর : মহাবিশ্ব-মহাকাশ অভিযানে শুধু ধনী ও প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর দেশ নয় বরং প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া দেশও অংশ নিচ্ছে এই মহাযজ্ঞে। কারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির তো সীমান্ত নেই। আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতায় পৃথিবীর নানা দেশ যৌথভাবে এখন মহাকাশ অভিযানে অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলগ্রহে প্রেরণ করছে মনুষ্যহীন মহাকাশযান। নিকট ভবিষ্যতে মঙ্গলপৃষ্ঠে পদচিহ্ন রাখবে মানুষ। লাল ওই গ্রহ হতে পারে মানবজাতির দ্বিতীয় আবাসভূমি। শনি গ্রহের উপগ্রহ টাইটানে জীবনের সন্ধান করছেন বিজ্ঞানীরা। বসবাসেরও স্বপ্ন দেখছেন ও দেখাচ্ছেন। মিশন প্রেরণ করা হয়েছে বামনগ্রহ প্লুটোতেÑ এমনকি সৌরজগতের বাইরে মহাবিশ্বের হ্যাবিটেবল জোনে। বাংলাদেশও মহাজাগতিক এই কর্মযজ্ঞে যুক্ত হতে যাচ্ছে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। আর এটি হচ্ছে সৌরজগৎ ও এর বাইরে ছায়াপথ মিল্কিওয়ের অসংখ্য সোলার সিস্টেমের কোনো গ্রহে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানোর প্রথম পদক্ষেপÑ একটি মাইলফলক, স্বপ্নময় অভিযাত্রার সূচনা। এটি আমাদের সবার জন্যই গর্বের। গৌরবের।

প্রশ্ন : আশা করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু-১-এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইডথের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি একদিকে যেমন দেশি টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার খরচ কমে আসবে, অন্যদিকে এ বাবদ বিদেশে মোটা অঙ্কের টাকা চলে যাওয়াটাও বন্ধ হবে। আপনি এই কর্মযজ্ঞকে কীভাবে দেখছেন?
উত্তর : তুমি যে আশা ব্যক্ত করেছ তা আমারও আশা। স্যাটেলাইট টিভিগুলো বিদেশি স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোকে ভাড়া হিসেবে বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ১৪ লাখ ডলার দেয়, যে বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের দেশেই থেকে যাবে। এটি দেশের অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, দেশের মর্যাদা বাড়াবে। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে কৃতার্থ এবং আন্তরিক গৌরব বোধ করব। যদিও স্যাটেলাইট কক্ষপথে আবর্তনশীল থাকবে কিন্তু সেটি পৃথিবীপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের প্রেক্ষিতে স্থিরই থাকবে, যেমনটা ভূ-স্থির উপগ্রহ বা জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট থাকে এবং থাকছে। কারণ পৃথিবী যতক্ষণে নিজ অক্ষে একবার ঘুরবে ঠিক ততক্ষণে সে স্যাটেলাইটও বিষুবরেখা বরাবর বা বিষুবরেখার সমান্তরালে একবার পৃথিবীকেই আবর্তন করবে। তাই স্যাটেলাইটটি ঠিক বিচরণ করছে বা করবে এমনটা বলা যথার্থ হবে না।

প্রশ্ন : স্যাটেলাইটের অরবিটাল লোকেশনের কারণে বঙ্গবন্ধু-১ সৌদি আরব, আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকাসহ আরো অনেক দেশে সরাসরি সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনায় কারিগরি বাধায় পড়বে বলে বলা হচ্ছে। আপনার মত কী?
উত্তর : আমাদের তো এখন স্যাটেলাইট হতে যাচ্ছে প্রাথমিকভাবে একটিÑ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। একটি স্যাটেলাইট দিয়ে তো সব এলাকায় পরিসেবা দেয়া সম্ভব নয়, যেসব অঞ্চল এ উপগ্রহের আওতার বাইরে। তবে অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন কোম্পানি’ সে ব্যবস্থা করতে পারবে বলে আশা করা যায়। আর আরও যে দুটি উপগ্রহের (বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ ও ৩) চিন্তা করা হচ্ছে সেগুলো বাস্তবায়ন হলে তো এ রকম কোনো সমস্যাই থাকবে না ।

প্র্রশ্ন : আমাদের স্যাটেলাইটের কারিগরি সুবিধা ও অসুবিধা বিষয়ে বলবেন কী?
উত্তর : স্যাটেলাইট যোগাযোগ পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, উচু স্থাপনা কোনো কিছুতেই বাধাগ্রস্ত হয় না। এজন্য সারা দেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার নিশ্চয়তা দেবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। এছাড়া এর বিস্তীর্ণ আওতা এলাকায় ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মধ্য এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত এলাকায় পরিসেবা দিতে পারবে। এর ট্রান্সপন্ডার অ্যান্টিনা সর্বাধুনিক মানে নির্মিত। তবে যেমনটা বলেছি, একটি মাত্র উপগ্রহের পরিসেবা-আওতা প্রাথমিকভাবে চাহিদামতো বিস্তৃত থাকবে না। এ জন্য কিছু ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন পড়বে।

প্রশ্ন : কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে?
উত্তর : অন্য স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর সাথে আন্তঃচুক্তি করে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা যেতে পারে।

প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের কক্ষপথের একটি সীমাবদ্ধতার বিষয় আলোচনা হচ্ছে। আসলে আমাদের জন্য কোন অরবিটাল লোকেশনটি ভালো?
উত্তর : কল্পবিজ্ঞানী আর্থার সি ক্লার্কের অরবিট জিও স্টেশনারি অরবিট এ প্লট বা স্থান সীমিত। যে স্থান আমাদের দিক থেকে আদর্শ স্থান হতে পারত সেখানে তো অন্য সংস্থার উপগ্রহ কার্যকর রয়েছে। আর প্লট বরাদ্দ দেয়ার এখতিয়ার তো একমাত্র আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা আইটিইউর। সব সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে ৯০ ডিগ্রি পূর্ব-দ্রাঘিমাংশের যত কাছাকাছি সম্ভব তা পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আইটিইউ আমাদের ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের আরও কাছের স্থান বরাদ্দ করতে পারেনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১৯৯৮-৯৯ সালে যখন প্রথম স্যাটেলাইট প্রকল্প নেয়া হয়েছিল, তাতে যদি ২০০১ সালে বাধা না পড়ত হয়তো বা আমরা আরও অধিকতর সুবিধাজনক স্থান পেতাম। যাই হোক, বর্তমান অবস্থানটি একটু তির্যক হলেও এবং সর্বোত্তম না বলা গেলেও এটিকে বর্তমানে ‘সম্ভব সর্বোত্তম’ বলা হবে অবশ্যই।

প্রশ্ন : আমাদের স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইডথ চাহিদা কতটুকু? বঙ্গবন্ধু-১ এর কতটুকু চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে?
উত্তর : ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সংবলিত ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর ক্যাপাসিটি যথেষ্ট বড়। এগুলোর মধ্যে ২৬টি কেইউ এবং ১৪টি সি ব্যান্ডের। এর ২০টি ট্রান্সপন্ডার আমাদের স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে সক্ষম হবে। আর বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব হবে।

প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধু-১ কি ব্যান্ডইউডথ অর্থের অপচয় কমাতে পারবে? কীভাবে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সুফল নিশ্চিত করা যেতে পারে?
উত্তর : অবশ্যই আশা করা যেতে পারে। বিদেশ থেকে যেন ব্যান্ডউইডথ কিনে দেশের অর্থের অপচয় না হয়, সেটা এই স্যাটেলাইটের অন্যতম লক্ষ্য। এর সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সুফল নিশ্চিত করতে হলে এর পরিচালনা কোম্পানি বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন কোম্পানির পরিচালনা দক্ষ হতে হবে। এর কারিগরি পরিচালনায় যেমন দক্ষতা থাকতে হবে, তেমনি এর ব্যবসায়িক দক্ষতা, এর বাজার সন্ধান, প্রচার ও বিপণনে খুবই গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রশ্ন : কবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে আমরা সুবিধা পেতে শুরু করব?
উত্তর : গত ৩০ মার্চ বঙ্গবন্ধু-১ ফ্লোরিডা লঞ্চিং প্যাডে পৌঁছেছে। প্রাথমিকভাবে এর সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। পরে চলতি বছরের ৩০ মার্চসহ আরও নানা তারিখ বলা হয়। তারপর ৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের সময় বিকাল ৫টায় স্যাটেলাইটটিকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার কথা বলা হলেও এখন তা পরিবর্তন হয়ে ৭ মে সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর প্রায় দু’মাস পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে। এরপর বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। অর্থাৎ সব ঠিকঠাক থাকলেও বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে সুবিধা পেতে আগস্ট মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

প্রশ্ন : আগামীতে আইপিটিভি কী স্যাটেলাইট টিভির বিকল্প হবে বলে মনে করেন?
উত্তর : আইপি টিভি ও আইপি রেডিওর ব্যবহার প্রসারমান। তবে তা স্যাটেলাইট টিভির ঠিক বিকল্প হয়ে স্যাটেলাইট টিভিকে সরিয়ে দেবে না। যেমন ১৯২০-৩০-এর দশকে প্রথম যখন বেতার সম্প্রচার সম্প্রসারিত হতে থাকল কেউ কেউ মনে করলেন এটি পত্র-পত্রিকাকে হটিয়ে দেবে কিংবা পরবর্তী সময় যখন টেলিভিশন সম্প্রচার আরম্ভ হলো, তখন রেডিও সম্প্রচার সম্বন্ধেও একই সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পত্র-পত্রিকা, বেতার, টেলিভিশন সবই সমাজে জনপ্রিয় থাকছে। এক এক প্রযুক্তির এক এক আকর্ষণ। একক সুবিধা। তবে নতুন মাধ্যম এলে দেখা যায়, আগের মাধ্যম নতুন পরিস্থিতিতে কিছু নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযোজন করে। আইপি মাধ্যমে বেশ কিছু সুবিধা থাকলেও এর ব্যান্ডউইডথের সীমাবদ্ধতাজনিত অসুবিধা হয়তো থাকবে। বিলম্বের (delay) বিষয় থাকবে। আমি ধারণা করি, ভবিষ্যতে সব টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচারকারী সংস্থা একই সাথে স্যাটেলাইট টিভি ও রেডিও চালাবে, একই স্টুডিও ব্যবস্থা থাকবে।
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৮ - মে সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস