Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > রোবট অ্যাটলাস: এখন দৌঁড়াতেও পারে
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: সাদা’দ রহমান
মোট লেখা:৯
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৮ - জুন
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
থ্রীডি ম্যাক্স
তথ্যসূত্র:
দশদিগন্ত
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
রোবট অ্যাটলাস: এখন দৌঁড়াতেও পারে
অ্যাটলাস (Atlas) হচ্ছে একটি দ্বিপদী মানবসদৃশ রোবট অর্থাৎ বাইপেডাল হিউমঅ্যনয়েড রোবট। প্রাথমিকভাবে এটি তৈরি করেছিল আমেরিকান রোবট কোম্পানি ‘বোস্টন ডিনামিকস’। এতে অর্থ জোগান দেয় এবং এর সার্বিক তদারকিতে নিয়োজিত ছিল ‘ইউনাইটেড স্টেটস ডিফেন্স অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট অ্যাজেন্সি (ডিএআরপিএ কা দর্প)। ১.৮ মিটার বা ৬ ফুট উঁচু এই রোবটটি ডিজাইন করা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের গবেষণা ও উদ্ধার কাজের জন্য। এটি সর্বপ্রথম জনসমক্ষে আনা হয় ২০১৩ সালের ১১ জুলাই। বোস্টন ডিনামিকসের এই রোবটের তিন বছর সময় লাগে ঘরের বাইরে কারো সাহায্য ছাড়া জগিং করতে সক্ষম হয়ে উঠতে। বর্তমানে এটি অবাধে কোনো পার্কে বা খোলা জয়াগায় ঘাসেরওপর দিয়ে দৌঁড়াতে পারে এবং প্রয়োজনে দু-পায়ে লাফও দিতে পারে। ২০১৮ সালের ১০ মে মাসে এই রোবট এর এই সক্ষমতা জনসমক্ষে প্রদর্শন করে। অত্যাধুনিক সেন্সরসমৃদ্ধ এই রোবট এখন আপনাকে অনুসরণ করে আপনার পিছে পিছে দৌঁড়াতের পারে। তিন বছর আগে বোস্টন ডিনামিকস যখন এর টার্মিনেটর ধরনের এই অ্যাটলাস রোবট প্রদর্শন করে, তখন এটি একটি বনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে তখন এটিকে পরিচালনার জন্য সংযুক্ত রাখা হয়েছিল একটি যন্ত্রের সাথে। এখন এটি অন্য কোনো সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে হাটতে পারে, দৌঁড়াতে পারে। কোনো অসম উঁচু-নিচু জায়গায় পার হতে পারে কারো সহায়তা না নিয়েই। বনের মধ্য দিয়ে চলার সময় তার সামনে কোনো গাছ বা অন্য কোনো কিছূ পড়ে থাকলেও এটি লাফ দিয়ে পার হয়ে যেতে পারে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায়। এটি বাধা ফেলে পেছনে সরে আসতে পারে, আবার সামনেও এগিয়ে যেতে পারে, আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে, তাকের ওপর মালামালও রাখতে পারে। এর চাকাসমৃদ্ধ একটি সংস্করণও আছে, যেটি লাফ দিয়ে টেবিলে উঠে মানুষকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে। অ্যাটলাসের হার্ডওয়্যার অত্যাধুনিক থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের সুযোগ নিয়ে এর ওজন ও জায়গা দখলের মাত্রা কমিয়ে এনেছ। ফলে এটি হয়ে উঠেছে একটি উল্লেখযোগ্য ধরনের কমপ্যাক্ট রোবট। এর ওজনের তুলনায় শক্তিমত্তার হার অনেক বড় মাপের। এটি পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলতে পারে। নতুনতর এই মানবসদৃশ রোবট আগের চেয়ে হালকা-পাতলা ও ছোটতর আকারের। এর বর্তমান ওজন ৩৩০ পাউন্ড বা ১৫০ কেজি এবং সোজা হয়ে হাঁড়ানো অবস্থায় এর উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। এর আগেরটির উচ্চতা ছিল ৬ ফুট।

রোবট অ্যাটলাস দৌঁড়াচ্ছে
এর নির্মতারা বলছেন, আমরা যে ‘অ্যাটলাস’ রোবট তৈরি করছি, সেটি হচ্ছে এ ক্ষেত্রে লেটেস্ট লাাইনের অ্যাডভান্সড হিউম্যানয়েড রোবট। অ্যাটলাসের কনট্রোল সিস্টেম সমন্বয় সাধন করে এর বাহু, দেহ ও পায়ের নাড়াচড়া। ফলে এটি এর পুরো দেহটিকে নিজের প্রয়োজনানুসারে নিজে নিজেই কাজে লাগাতে পারে। এটি ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছে এর কর্মক্ষেত্র ও নাগালের পরিধি। কাজ করার সময় ভারসাম্য রক্ষায় এর সক্ষমতা এটি ব্যাপক ধররের কর্মক্ষম করে তুলেছে।
ডিজাইন ও উন্নয়ন

আগে ইউল্লেখ করা হয়েছে, এর ডিজাইন ও উৎপাদনের কাজটির তদারকিতে ও অর্থসহায়তায় পেছনে রয়েছে ডিএআরপিএ বা দর্প। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি সংস্থা বা এজেন্সি। কিন্তু মূলত এর ডিজাইন ও উৎপাদনের কাজটি করেছে বোস্টন ডিনামিকস। রোবটের দুটি হাতের একটি তৈরি করেছে সান্ডিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ। আর রজড়নড়ঃ তৈরি করেছে অন্য হাতটি। ২০১৩ সালে ডিএআরপিএ-র প্রোগ্রাম ম্যানেজার গিল প্রেট অ্যাটলাসের প্রটোটাইপ সংস্করণটিকে তুলনা করেছিলেন একটি একটি ছোট্ট শিশুর সাথে। তিনি বলেছিলেন:a 1-year-old child can barely walk, a 1-year-old child falls down a lot ... this is where we are right now’

অ্যাটলাসের ভিত্তি হচ্ছে বোস্টন ডিনামিকসের পূর্ববর্তী হিউম্যানয়েড রোবট চঊঞগঅঘ, এর রয়েছে চারটি হাইড্রোলিক্যালি-অ্যাকচুয়েটেড অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। এর দেহটি তৈরি অ্যালুমিনিয়াম ও টাইটেনিয়াম দিয়ে। এটি আলোকিত করা হয়ে বøু এলইডি দিয়ে। অ্যাটলাসে সংযোজন করা হয়েছে দুটি ভিশন সিস্টেমÑ একটি লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার এবং অপরটি স্টেরিও ক্যামেরা। উভয়টিই নিয়ন্ত্রিত হয় একটি অফ-বোর্ড কমপিউটার দিয়ে। এর হাতগুলোর রয়েছে খুব ভালো মানের মোটর-দক্ষতাসম্পন্ন সক্ষমতা। এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর রয়েছে মোট ২৮ ডিগ্রির ফ্রিডম। ফলে এটি এবড়ো-থেবড়ো উঁচু-নিচু জায়গা দিয়ে চলতে পারে। এটি এর হাত-পা ব্যবহার করে স্বাধীনভাবে উপরের দিকেও উঠতে পারে । যদিও শুরুতে ২০১৩ সালের এর সংস্করণে এটি সংযুক্ত থাকতো বাইরের আউটপুট বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি ব্যবস্থার সাথে, এখন আর সেটির প্রয়োজন নেই।

২০১৪ সালে অ্যটলাস রোবটের প্রোগ্রাম করেন ৬টি বিভিন্ন টিম। এসব টিম অংশ নেয় ‘দর্প রোবটিক চ্যালেঞ্জে’। এতে পরীক্ষা করে দেখা হয় রোবটের বিভিন্ন কাজকর্ম। এসব কাজের মধ্যে ছিল একটি গাড়ি থেকে বের হয়ে আসা, গাড়িচালনা, গাড়িরদরজা খোলা এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার। অন্যান্য আরো কিছু রোবট এতে প্রতিযোগী হিসেবে আসে। এই প্রতিযোগিতার পেছনে অনুপ্রেরণা ছিল ২০১১ সালের ‘ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিপর্য়য়ের দুর্ঘটনার বিষয়টি। এই প্রতিযোগিতায় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল বিজয়ী টিমের জন্য ২০ লাখ ইউএস ডলার।
২০১৫ সালে দর্প রোবটিকস চূড়ান্ত করে আইএইচ এমসি রোবটিকস (রানিং ম্যান নামের) অ্যাটলাসকে। দ্বিতীয় হয়েছিল কোরিয়ান টিম কধরংঃ, তাদের রোবট ছিল DRC-Hubo। ডিআরসির চেয়ে অ্যাটলাসের মাথা ছোট।
আ্যাটলাস, পরবর্তী প্রজন্ম

২০১৬ সারের ২৩ ফেব্রুয়ারি অ্যটলাস রোবটের একটি নতুন সংস্করণের ভিডিও ইউটিউবে উন্মোচন করে। নতুন এই সংস্করণ ডিজাইন করে ভবনের বাইর ও ভেতরে কাজ করার উপযোগী করে। এটি বিশেষায়িত মোবাইল কাজে ব্যবহারের জন্য। আর এটি উঁচুনিচু স্থান দিয়ে চলাচল করতে পারে বিশেষ দক্ষতার সাথে। এমনকি চলতে পারে বরফে ঢাকা স্থান দিয়েও। এটি চলে বিদ্যুতে। তা ছাড়া এটি হাইড্রোলিক্যালি-অ্যাকচুয়েটেড। এর বডিতে ব্যবহার করা হয়েছে সেন্সর। ভারসাম্য রক্ষা করে এর দুই পা। এটি খওউঅজও স্টেরিও-সেন্সর ব্যবহার করে এর মাথায় সামনে থাকা কিছুর সাথে ধাক্কা লাগা এড়াতে।
অ্যাটলাসে নতুন কী আছে?

২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর বোস্টন ডিনামিকস ইউটিউবে হালনাগাদ ও উন্মোচন করে একটি ভিডিও। এই ভিডিওতে অ্যাটলাসকে ১৮০ ডিগ্রি ঘোরে কয়েকটি বাক্সের ওপর দিয়ে লাফিয়ে চলতে থাকা অবস্থায় দেখা যায়।
২০১৮ সালের ১০ মে বোস্টন ডিনামিকস ইউটিউবে অ্যাটলাস রোবটের আরেকটি হালনাগাদ ভিডিও উন্মোচন করে। এই ভিডিওতে দেখানো হয়, এটলাস ঘাসের ওপর দিয়ে দৌঁড়ে যাচ্ছে, কোথায় উঁচু স্থান পড়লে, এমনকি কোনো গাছ পড়ে থাকলে তা লাফিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে অন্যের কোনো সাহায্য ছাড়াই।
অ্যাপ্লিকেশন

আশা ছিল, অ্যাটলাস সম্পন্ন করবে জরুরি কাজকর্মও এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধারের কাজ। যেমন বাল্ব বন্ধ করা, দরজা খোলা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা করাÑ যখন এসব কাজ মানুষের পক্ষে করা বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বলেছিল, প্রতিরাক্ষা কিংবা আক্রমণাত্মক যুদ্ধের কাজে এই রোবট ব্যবহারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। ২০১৫ সালে দর্পেও প্রতিযোগিতায় রোবট অ্যাটলাস নিচের এই আটটি কাজের সবকটি করতে পারেনি: ০১. ইউটিলিটি ভেহিকল চালানো, ০২. উঁচুনিচু জায়গায় চলতে পারা, ০৩. প্রবেশপথের আবর্জনা সরানো, ০৪. দরজা খুলে একটি ভবনে প্রবেশ করা, ০৫. ইন্ডাস্ট্রিযাল লেডারে আরোহণ করা, ০৬. কনক্রিটের দেয়াল ভাঙা, ০৭, লিকিং পাইপের ছিদ্র চিহ্নিত করে বাল্ব বন্ধ করে দেয়া এবং ০৮. একটি স্ট্যান্ড পাইপের সাথে একটি হোসপাইপ সংযুক্ত করা।
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৮ - জুন সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস