Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) পর্বঃ ৮ ওয়েবসাইট লিংক বিল্ডিং
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৮ - মার্চ
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সার্চ ইঞ্জিন
তথ্যসূত্র:
প্রোগ্রামার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) পর্বঃ ৮ ওয়েবসাইট লিংক বিল্ডিং
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) পর্বঃ ৮
ওয়েবসাইট লিংক বিল্ডিং
হাসান মজুমদার

ওয়েবসাইট র‌্যাংকিংয়ে কনটেন্ট পাবলিশ করার পরই গুরুত্ব পায় বেশি লিংক বিল্ডিং বিষয়। কিভাবে র‌্যাংক করবেন, কেমন হবে আপনার কনটেন্ট, কিভাবে মানুষের কাছে আপনার আর্টিকেল পৌঁছাবেন। প্রথমে বুঝতে হবে আপনার লেখা যাদের জন্য তারা কি জানতে চায় এবং ওই বিষয়ের প্রয়োজন এ মুহূর্তে আছে কেমন? যখন প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার কাছে থাকবে, তখন বুঝবেন কিভাবে আপনাকে প্রস্তুত করতে হবে আর্টিকেল যা অনেক মানুষের উপকার লাগবে। আপনাকে জানতে হবে মানুষের উপকারে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়। মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং তার ওপর গুরুত্ব দিয়েই কনটেন্ট তৈরি করতে হবে এবং লিংক বিল্ডআপ করতে হবে।

লিঙ্কেবল অ্যাসেট

লিঙ্কেবল অ্যাসেট অফপেজ এসইওতে ওয়েবসাইট র‌্যাংকিংয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। লিঙ্কেবল অ্যাসেট কি ? গুগল কিংবা অন্যান্য সাচর্ ইঞ্জিনগুলোতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দরকারি বিষয়বস্তু জানতে একজন ভিজিটর সার্চ করে। যেই তথ্যগুলো তার দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং অনেক বিষয়বস্তু ব্যাপারে জানতে সাহায্য করে কিংবা ভিজিটরের নিজের ওয়েবসাইটের কোন আর্টিকেলকে তথ্য সমৃদ্ধ করায় ভূমিকা রাখতে পারে। আপনাকে সেই বিষয়বস্তুগুলো খুঁজে বের করতে হবে যে বিষয়গুলোর ব্যাপারে মানুষ জানতে চায় এবং তার প্রয়োজনে ওই তথ্যগুলো ব্যবহার করতে চায়। তাই আপনার ওয়েবসাইটের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল তৈরি করুন যা আসলেই মানুষের উপকারে লাগে এবং সর্বোপরি মানুষ সেই তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটি এবং তার ওয়েবপেজ লিংক তার নিজের ওয়েবসাইটের আর্টিকেলকে সমৃদ্ধ করতে ব্যবহার করে।

এখন এই লিঙ্কেবল অ্যাসেট কেমন হবে? অবশ্যই তথ্যসমৃদ্ধ একটা লেখা। সেই তথ্যে থাকতে পারে কোন বিষয়বস্তুর শুরুর গল্প, সেই বস্তু দিয়ে বর্তমান সময়ে আপনি কিভাবে উপকৃত হতে পারেন এবং এই সময়ে কোন প্রেক্ষাপটে এটি কেমন গুরুত্ব বহন করছে। সারা বিশ্বে এখন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং এর ব্যবহার করে অনেকগুলো সেবা দেয়া হচ্ছে। এখন আপনি ভাবলেন, এই প্রযুক্তি নিয়ে ভবিষ্যতে কেমন উন্নত সেবা আসতে পারে তার তথ্য-উপাত্ত, প্রক্রিয়া, অ্যাপ্লিকেশনের সমস্যা সম্ভাবনা, কিভাবে ব্যবহারকারী এই তথ্য-উপাত্তগুলো ব্যবহার করবে এবং ডেভেলপরেরা কিভাবে প্রোগ্রাম করতে পারে। অ্যাপ্লিকেশনের ওপর, মোটকথা একটি তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল তৈরি করে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করলেন। সময়, তথ্য, সংখ্যা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অভিজ্ঞ বিখ্যাত মানুষের বিশ্লেষণ প্রতিটা বিষয় এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখাতে যে আপনার সেই আর্টিকেল ভিজিটর বা পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্যভান্ডার হিসেবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের বিষয়টি ভালো বিবেচিত ব্যাপার হতে শুরু করলো। এখন যেসব পাঠক বা ভিজিটরেরা আপনার এই বিষয়ে জানতে আগ্রহী, তারা আপনার লেখা পড়বে। আর তাদের যদি নিজেদের কোন ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে আপনার এই তথ্যসমৃদ্ধ লেখার অনেক বিষয়বস্তু তাদের আর্টিকেলে আলোচনা করবে এবং যেসব বিষয় আপনার ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ে আলোচনা করেছেন তার জন্য আপনার আর্টিকেল ওয়েবলিংকটি তার লেখার মাঝে লিংক হিসেবে শেয়ার করবে। এই প্রক্রিয়াটি ‘লিঙ্কেবল অ্যাসেট’ এর কাজ।

ওয়েবসাইট লিংক বিল্ডিং

‘লিঙ্কেবল অ্যাসেট’ এর কল্যাণে একদিকে যেমন আপনার ওয়েবসাইটে
একটা ব্যাকলিংক যুক্ত হলো ঠিক তার পাশাপাশি যেই ওয়েবসাইট থেকে এই লিংক পেলেন, সেই ওয়েবসাইটের পাঠকেরাও আপনার সাইটের নাম জানলো। তারাও আপনার সাইটে ওই লেখার কারণে ভিজিট করবে। এতে কি হবে ? ভিজিটর যেহেতু আসবে সেহেতু আপনার ট্রাফিক আপ হচ্ছে এবং সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েব সাইটের সেই আর্টিকেলের পেজটি র‌্যাংকিং করা শুরু করবে। একদিকে আপনার সাইট জনপ্রিয় হতে শুরু করবে এবং ভিজিটরেরা আরও ভিজিটরকে জানাবে। অরগানিক উপায়ে ট্রাফিক শুরু হবে। যত র‌্যাংক বৃদ্ধি পাবে তত মানুষ জানবে আর এই বিষয় নিয়ে যারা কাজ করতে আগ্রহী তারা আপনার ওয়েবপেজের লিংক তাদের সাইটে রেফারেন্স হিসেবে এই লেখার লিংক দেবে। আদর্শ লিঙ্কেবল অ্যাসেট আপনার ওয়েবসাইটকে মানুষের কাছে সমৃদ্ধ ওয়েবসাইটের স্বীকৃতি প্রদান করবে।

প্রথমেই কি সবাই জানবে আপনার সমৃদ্ধ আর্টিকেলের কথা? তার জন্য কি করতে হবে? আপনি ইচ্ছে করলে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যেসব ফোরামে আলোচনা করা হয় ওখানে আপনার আর্টিকেলের বিষয়বস্তু সাথে যায় এমন প্রশ্ন-উত্তরের লিংকে আপনার আর্টিকেলের লিংক এবং লেখা প্রকাশ করতে পারেন। অবশ্যই কথা হচ্ছে যে বিষয়ের ওই ব্যাপারের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে আপনার লেখা। ‘রেডিট’, ‘ডিজিটাল পয়েন্ট’, V7n Forum এর মতন ফোরাম সাইটগুলোতে আপনি লিংক এবং লেখা দিতে পারেন। এছাড়া আর্টিকেল সাবমিশন সাইট অৎঃরপষবং ঢ়যবৎব, ঊুরহব এর মতন সাইটগুলো আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এইতো বললাম ফোরাম এবং আর্টিকেল সাবমিশনের কথা। ইচ্ছে করলে আপনি Stumble Upon, Delicious, Slashdot এর মতন বিখ্যাত সোশ্যাল বুকমার্কিং সাইটগুলোতে দিতে পারেন।

পেইড ক্যাম্পিং করতে পারেন ওয়েবসাইটের আর্টিকেল। ফেসবুক, পিন্টারেস্ট, টুইটার এর মতন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অনেক বিখ্যাত।

‘লিঙ্কেবল অ্যাসেট’ ধারণা কিভাবে পাবেন

আপনাকে আইডিয়া পেতে হলে প্রতিনিয়ত বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড এবং প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে। যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করছেন তার ব্যাপারে ভালো ধারণা আপনাকে অর্জন করতে হবে। কেমন সম্ভাবনা রয়েছে, কত সময় ধরে প্রয়োজন মানুষের এ তথ্যের এবং কতটা মানুষকে বলবেন সব আপনাকে ধারণা করতে হবে। Quora, Answer.com, Yahoo Answer এর মতন প্রশ্ন-উত্তরের ওয়েবসাইটগুলো ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান সময়ের প্রতিটা বিষয় এখানে বিভিন্ন দেশের মানুষ আলোচনা করে। তাই আপনি নতুন বিষয় জানতে পারবেন। কোন বিষয়ে ভালো ‘লিঙ্কেবল অ্যাসেট’ প্রয়োজন তা ওখান থেকেই ধারণা পাবেন।

গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো বর্তমান সময়ে কনটেন্ট বা আর্টিকেলের বিষয় অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে। আর্টিকেল পাঠকের উপকারে এসেছে এমন হলে ওই আর্টিকেল তাদের কাছে অনেক গ্রহণযোগ্য হয়। অনেক সময় ১০০০ ওয়ার্ডের আর্টিকেলও ভালো র‌্যাংক করে যেখানে ৩০০০ ওয়ার্ডের আর্টিকেল প্রথম পেজেই নেই। এমনটা কেন হয়? এর উত্তর হচ্ছে আর্টিকেল ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ। আর্টিকেল পাঠকের মাঝে তার উপকারে এসেছে এবং ভ্যালু তৈরি করেছে। যখন আর্টিকেল ভালো, মানুষ চাচ্ছে ওই আর্টিকেল থেকে কিছু শিখতে, তাহলে কেন সার্চ ইঞ্জিনগুলো ওই লেখাকে গুরুত্ব দেবেনা? গুগল বর্তমানে আর্টিকেলের ওপর ভিত্তি করে বেশ র‌্যাংকিংয়ের বিষয়ে চিন্তা করছে। লিংক বিল্ডআপ এবং আর্টিকেল যখন ভালো এবং মানুষের প্রয়োজন তখন গুগল তা গুরুত্ব দেয়। বিভিন্ন লিংক রিসার্চ টুল এ কাজগুলো আরও অনেক সহজতর করেছে। একজন ভিজিটর কি চায় তা এ রিসার্চ এর মাধ্যমে বুঝতে পারা এখন সময়ের বিষয়। মানুষের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে খুব অল্প সময়ে এখন কেমন আর্টিকেল দরকার আমরা এখন জানতে পারি। এজন্যে লিংক তৈরি করার মতন আর্টিকেল নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। এ জন্য আর্টিকেলের মান নিয়ে কাজ করতে হবে। ভালো আর্টিকেলের কাজ গুগল গুরুত্ব দেয়।

ওয়েবসাইটের কনটেন্টের কিওয়ার্ড ডেনসিটির, আর্টিকেলের মান, মেটা ট্যাগের ব্যবহার, ডেসক্রিপশন, প্রতিটা বিষয় কনটেন্টের জন্য গুরুত্ব বহন করে। আর্টিকেল যতবেশি সুন্দর, প্রয়োজনীয়, মানুষের যত কাজের তত ওই আর্টিকেল জনপ্রিয়তা পাবে। মনে রাখতে, হবে একজন ভিজিটর বা পাঠক চায় কিছু শিখতে যা আসলে তার উপকারে আসবে। এ জন্য যখন কোন আর্টিকেল পাঠকের দরকার ও উপকারে আসে। তখন সেই লেখার প্রতি পাঠকের ভালোবাসা জন্মে। পাঠক খুশি হয়ে আরও মানুষের কাছে তা প্রকাশ করতে চায় এবং তখন আর্টিকেলের প্রচার হয়। তাই আর্টিকেল সমৃদ্ধশালী এবং উপকারী হওয়া উচিত।
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৮ - মার্চ সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস