Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > মোবাইল গ্রাহকের ওপর পড়ছে ফোরজির প্রভাব
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মিন্টু হোসেন
মোট লেখা:৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৮ - মে
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
মোবাইলপ্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
মোবাইল গ্রাহকের ওপর পড়ছে ফোরজির প্রভাব
দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু হওয়ার পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মানুষের জীবনে। দ্রুত বাড়ছে ফোরজির ব্যবহার। মোবাইল অপারেটর সূত্রগুলো বলছে, এপ্রিল মাসেই ফোরজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫ লাখ পেরিয়ে গেছে। ফোরজি চালু হওয়ার পর মাত্র দুই মাসে এত গ্রাহক বাড়ার ঘটনা নজিরবিহীন অগ্রগতি। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফোরজি চালু হয়। এপ্রিলে মোবাইল অপারেটরগুলোর মধ্য গ্রামীণফোন ও রবি জানায় তাদের ফোরজি গ্রাহক দশ লাখ পেরিয়ে গেছে। বাংলালিংক জানায় পাঁচ লাখ ফোরজি গ্রাহকের কথা।

চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি টেলিটকসহ এই তিন বড় অপারেটর একসাথে ফোরজির লাইসেন্স পায়। ওইদিন সন্ধ্যায় দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করে দেয় গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, দেশে মোট ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ৬৯ হাজার মোবাইল গ্রাহক আছে। তার দেয়া তথ্যমতে, গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৬ হাজার, রবির ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার, বাংলালিংকের ৩ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার এবং টেলিটকের ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার। বিটিআরসি প্রকাশিত সবশেষ ফেব্রæয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী এ গ্রাহক দেখানো হয়।

বিটিআরসি বলছে, দেশে বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট ৮৬ হাজার এবং আইএসপি ও পিএসটিএন মিলিয়ে ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ব্যবহারকারী রয়েছে।

মূলত দেশে ফোরজি চালু হওয়ার কিছু আগে থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়তে থাকে। ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ দেশে ফোরজি চালু হওয়ার পর কয়েক দিনে আরো কিছু ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যোগ হওয়ায় এমন উলম্ফন দেখা গেছে ইন্টারনেট ব্যবহারে। এর বেশিরভাগই যোগ হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে।

উল্লেখ্য, সবশেষ ৯০ দিনের মধ্যে যেসব গ্রাহক তাদের সিমে একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন তাদেরকে বিটিআরসি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসাবে ধরে থাকে।

তবে এখন পর্যন্ত অপারেটরগুলো ইউনিটপ্রতি ডাটার দাম বাড়ায়নি। যে দামে গ্রাহকেরা থ্রিজি ইন্টারনেট পেয়েছেন ফোরজিতেও মূল্যটা তেমন আছে। ফোরজি ইন্টারনেটের দাম বা প্যাকেজ নিয়ে কোনো কিছু এখনও না থাকলেও গ্রাহককে ফোরজির প্রতি আকৃষ্ট করতে অপারেটরগুলো নানা ধরনের অফার দিচ্ছে।

তবে এর বিপরীতে একটি ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে জিএসএমএ’র গবেষণায়। তাতে বলা হয়েছে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে সবচেয়ে নিচের দিকে রয়েছে। বৈশ্বিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে জিএসএমএ এমন তথ্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মাত্র ২১ শতাংশ মানুষের কাছে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ আছে, যা এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বনিম্ন।

২০১৭ সালের তথ্য তুলে ধরে জিএসএমএ বলেন সে সময় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন মোবাইল ইন্টারনেট সাবস্ক্রাইব করেছেন। যদিও সে সময় বাংলাদেশ থ্রিজি নেটওয়ার্কের আওতায় আসে, কিন্তু তারপরও অনুপাত এমনই ছিল। এমনকি নেপাল ও মিয়ানমারের মতো দেশ, যাদের বাংলাদেশের তুলনায় জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন কম, তারাও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে এগিয়ে আছে। সেখানে শতকরা হার ২৮ থেকে ৩৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বেশিরভাগ গ্রাহকই তাদের মোবাইল ফোনে মূলত ফোনকল এবং এসএমএস সার্ভিস ব্যবহার করে থাকেন। দেশটি গ্রাহকপ্রতি গড় রেভিনিউর মাত্রার দিক থেকেও বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।

জিএসএমএ তাদের পর্যবেক্ষণে বলছে, জনগণের সামর্থ্যরে বিষয়টি এখানে একটি বড় অন্তরায়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে তা বহন করা কষ্টকর। তাদের মাসিক আয়ের বড় অংশ সেখানে চলে যায়। মোবাইল সেক্টরে উচ্চহারে করারোপ এবং ফির ফলে মোবাইল অপারেটরদের সার্বিক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সরাসরি রিটেইল মূল্য বেড়ে যায় এবং ব্যবহারকারীদের ওপর চাপ পড়ে। এটিও উল্লেখযোগ্য বাধা তৈরি করছে ডিজিটাল অগ্রগতিতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে মোবাইল সার্ভিসের ক্ষেত্রে কর আরোপের ফলে ট্যারিফ ব্যয় প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি (২২ শতাংশ)।

উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে যার হার ১০ দশমিক ৪ ডলার ও বিশ্বে ১৪ দশমিক ৬ ডলার, সেখানে বাংলাদেশে এই হার ২ দশমিক ৯ ডলার। তরঙ্গ ও কর জটিলতার কারণে অপারেটরেরা নেটওয়ার্ক কভারেজ সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করতে পারছে না।

জিএসএমএ সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাদের সদস্য প্রায় ৮০০ মোবাইল অপারেটর এবং ৩০০-র বেশি প্রতিষ্ঠান। তারা বলছে, বাংলাদেশে থ্রিজি বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় এবং আগের নিলামে এর দামের একটি তাৎপর্যপূর্ণ নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে মোবাইল সেবার গুণগত মানের ক্ষেত্রে, যা গতি বাড়াতে এবং ডিজিটাল সেবার জন্য ব্যবহার হয়েছে। ২০১৭ সালের শেষ দিকে ৭১ শতাংশের বেশি ছিল টুজি সংযোগ। কিন্তু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিলামে উচ্চমূল্য এবং আনুষঙ্গিক লাইসেন্স ফি বহাল ছিল।
রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি গত দশকে দ্রুতগতিতে এগিয়েছে, যা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে পঞ্চম বৃহৎ মোবাইল মার্কেট হিসেবে রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে আট কোটি ইউনিক সাবস্ক্রাইবার হয়েছে ২০১৭ সালে এবং তা মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।

মোবাইল ইকো-সিস্টেম আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে সাড়ে সাত লাখের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এ খাতে মোট চাকরি সংখ্যা সাড়ে আট লাখ ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জিএসএমএ’র হিসাবে বাংলাদেশে প্রকৃত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন সাড়ে তিন কোটি। এ হিসাবে বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনে একজন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যদিও সরকারের হিসাবে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৮ লাখ
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৮ - মে সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস