Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > মানব কল্যাণে ইন্টারনেট প্রশাসন ব্যবস্থাপনার দাবি
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: ইমদাদুল হক
মোট লেখা:২৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৮ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ইনটারনেট
তথ্যসূত্র:
ইন্টারনেট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
মানব কল্যাণে ইন্টারনেট প্রশাসন ব্যবস্থাপনার দাবি
মানব কল্যাণে ইন্টারনেট প্রশাসন ব্যবস্থাপনার দাবি
ইমদাদুল হক

প্রায় প্রতিটি কাজেই ইন্টারনেট এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। সখা বা সহচরও বলা যেতে পারে। বিশে^র নানা প্রান্তের মানুষকে বিনে সুতোয় একটি জগতে মিলিত করেছে। শুধু কি মানুষ? না, হালফিল যন্ত্রকেও জুড়ে নিয়েছে। পৃথিবীর ভেতরেই তৈরি করেছে আরেকটি জগৎ। বাতাসের মতো আমাদের পরিবেষ্টন করেছে। আমরা যাকে বলছি ভার্চুয়াল/সাইবার জগৎ। এই জগতে শুধু নানা ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভাষার মানুষই বসবাস করছে না। এখানকার অধিবাসীদের অবস্থান অনুযায়ী নীতি, নৈতিকতা, বিশ^াস, দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার পাশাপাশি তাদের আইন-কানুনে রয়েছে ভিন্নতা। এই ভিন্নতার কারণে এই জগতে সবার সহজ প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অধিকার সংরক্ষণে এখন একটি ডিজিটাল প্রশাসনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কেননা, ডিজিটাল জগতের ব্যাপ্তি ও বৈচিত্র্যতার কারণে ইন্টারনেট নামের অস্পর্শী সাথীর বিশ^স্ততা ও অহিংস অবস্থান নিশ্চিত করা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিমানরা যেমন একদিকে তাদের দাদাগিরি দেখাতে এই ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, অন্যদিকে বেনিয়ারা পুঁজির পাহাড় গড়তে গিয়ে ডিজিটাল সমাজের নীতি-নৈতিকতাকে জলাঞ্জলি দিতে কুণ্ঠাবোধ করছেন না। এমন পরিস্থিতিতে একটি ভারসাম্য অবস্থা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মাধ্যমে একটি টেকসই ডিজিটাল প্রশাসন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিয়েছে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম। বিভিন্ন দেশের অংশীজনের যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে গৃহীত প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই রচিত হচ্ছে এই ব্যবস্থাপনা কৌশল।

ডিজিটাল সমাজের জন্য আবশ্যক প্রশাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ৬ নভেম্বর রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনের চামেরি হলে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের বাংলাদেশবিষয়ক পর্যালোচনার ১৩তম বার্ষিক সভা। এই সভা থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবনা নিয়ে চলতি বছরে ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের মূল আয়োজনে (ইউএনআইজিএফ) অংশ নেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। প্রস্তাবনা প্রণয়নের লক্ষ্যেই ‘বাংলাদেশ কনসালটেশন’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম। আয়োজনে সহযোগী ছিল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয় সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), বাংলাদেশ স্কুল অব ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স (বিডিসিগ), বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এবং মাসিক কমপিউটার জগৎ।
দি ইন্টারনেট অব ট্রাস্ট প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হক অনু। উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী। বিভিন্ন ক্ষেত্রের অংশীজনদের মধ্যে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টিভি, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জাফর মু. সাইফুল আলম ভূইয়া, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মোস্তফা কামাল, সাউথ এশিয়া আর্টিকেল ১৯-এর আঞ্চলিক প্রতিনিধি ফারুক ফয়সাল, আইএসপিএবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল হাকিম। এই পর্বের সঞ্চালনা করেন রেডিও ও টিভি উপস্থাপক জামিল আহমেদ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিতে পারলেই ইন্টারনেটে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত হবে বলে মত দেন। তাদের আলোচনায় মানুষ কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, তার চাহিদা কী তার সুলুক অনুসন্ধানে খাত-সংশ্লিষ্টদের মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারনেটের জন্য একটি বড় বাজার। তাই স্থানীয় উপযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইন্টারনেটের বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) তৈরি করতে হবে। আর এটা করা হলে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার আরও বাড়বে। ব্যবহারেও নান্দনিকতা আসবে। এই বাজারে বিদেশি বিনিয়োগও আসবে। আর সেজন্য নিজেদের ভিতটা মজবুত করে নিতে হবে।

সভার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিভি, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর মো: শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ইন্টারনেটকে ছাড়া যেহেতু আমরা কোনো কিছুই কল্পনা করতে পারছি না, তাই এর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। ইউরোপে ডাটার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর আইন হচ্ছে। দেশেও সেসব নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। তিনি ভাষার বাধা কাটিয়ে উঠে নিজেদের ভাষায় কনটেন্ট তৈরির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন। এক্ষেত্রে আইজেএফ বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেটকে আমরা ব্যবহার করেছি কৃষিতে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে আমরা বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তবে সেগুলোতে চ্যালেঞ্জ ছিল। বাংলা ভাষায় আরও কনটেন্ট তৈরি করতে পারলে সবক্ষেত্রে সাধারণের জন্যও তা ব্যবহার সহজ হবে।

সাউথ এশিয়া আর্টিকেল ১৯-এর আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সাল বলেন, ইন্টারনেটকে কোনোভাবেই শুধু নিয়মনীতির বেড়াজালে বন্দি করে কঠোর করলে হবে না। তাহলে বিশ্বে নিজেদের নামে কিছু করতে গেলে পা পিছলে পড়তে হবে। ইন্টারনেট প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ছে এটা আশার কথা। কিন্তু আমরা এর কতটা প্রোডাক্টিভ কাজে লাগাতে পারছি সেটা দেখতে হবে। ট্রান্সমিশন খরচের জন্য প্রত্যন্ত এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাতে শহরের চেয়ে কয়েকগুণ খরচ হয়। তাই তারাও কম দামে সেটি পায় না। এদিকে সরকারকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক (ইঅ্যান্ডও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা নিয়ে অনেকটাই যুদ্ধ করেছি। সেখানে সফল হয়েছি। এখন অন্য ধরনের যুদ্ধ করতে হবে। সেটা মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির। তিনি বলেন, গ্রামে যেভাবে স্যাটেলাইট টিভির সংযোগ দেয়া হয়, সেই মডেলে আমরা ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিতে পারি। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। তবে তার আগে দরকার নিজেদের কনটেন্ট। তবে একেবারেই ইন্টারনেটকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, এর যেমন ভালো দিক আছে, ঠিক বিপরীতটাও আছে। তাই আমরা ইন্টারনেটকে একেবারেই ছেড়ে দিতে পারি না। তার অর্থ এই নয়, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছি।

চারটি পর্বে বিভক্ত সভায় সাইবার নিরাপত্তা, আস্থা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা; উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক বিষয়;ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও প্রবেশগম্যতা; বিকাশমান প্রযুক্তি; ইন্টারনেট প্রশাসনের বিবর্তন ও মানবাধিকার; লিঙ্গ ও তারুণ্য, মিডিয়া ও বিষয়বস্তু; ইন্টারনেট অব থিংস; বিগ ডাটা অ্যান্ড আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর আলোচনা হয়।

উদ্বোধনী পরবর্তী পর্বে আলোচনায় অংশ নেন ইউএনআইজিএফ ম্যাগ সদস্য সুমন আহমেদ সাবির, কমজগৎ টেকনোলজিসের সিটিও আহমেদ এস সিডার, আইইবির কমপিউটার প্রকৌশল বিভাগের সদস্য খান মোহাম্মদ কায়সার, আইক্যান ফেলো আফিফা আব্বাস, আইইটিএফ ফেলো প্রকৌশলী শাহ জাহিদুর রহমান, প্রফেশনালস গ্রুপ সিইও প্রকৌশলী হাসিব ইশতিয়াকুর রাহমান।

তরুণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নানা সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে সভার দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। এতে অংশ নেন আইক্যান ফেলো মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, এফএনএফ প্রকল্প ব্যবস্থাপক ওমর মোস্তাফিজ, সার্ক ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান অর্ক চৌধুরী, আইক্যান ফেলো শায়লা শারমিন, দৈনিক সমকালের সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান জাকির, এমএন-ল্যাবের এম আব্দুল্লাহ আল নাসের, অ্যাপনিক ফেলো ফারহা দিবা। প্যানেলের বাইরে আলোচনায় অংশ নেন গিগাবাইট টেকনোলজিস বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ খাজা আনাস খান, ই-ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজওয়ানুল হক জামি, রেডিও বড়ালের সিইও প্রমুখ।

আলোচনায় অনলাইন ব্যবহারে শিশু ও তরুণদের সচেতনতা বাড়াতে অভিভাবকদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়। সাইবার জগতের অতলান্তে ডুব দেয়ার আগে ভালো-মন্দ, আসল-নকল চেনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কার্টুন ও গেমের কনটেন্টের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বয়স অনুপযোগী বিষয়বস্তু বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা। ইন্টারনেট আসক্তি, গ্যাম্বলিং ও ফেক নিউজ বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আহ্বান জানান বক্তারা।

আলোচনায় শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবকদের ঔদাসীন্য থেকে বেরিয়ে আসার পাশাপাশি ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক, ইউটিউব এমন ধারণা থেকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বেরিয়ে আসা ও তারুণ্যের আসক্তি থেকে বের করে আনতে অংশীজনদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় একজন বক্তা বাংলাদেশে আমাদানি করা স্মার্টফোনে ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো আসক্তির অ্যাপ প্রি-ইনস্টল না করার পরামর্শ দেন। অপর একজন অংশীজন অভিমত দেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অ্যাপগুলো ব্যবহারে ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে। ইন্টারনেট জোয়ারে পাল তুলে যেন তরুণেরা সামাজিক দায়বদ্ধতা কিংবা মাঠে খেলা ও ক্যাম্পাস আড্ডা থেকে সরে না আসে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলেন। পরামর্শ দেন স্কুল পর্যায়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার।
ডিজিটাল অংশীদারিত্বের ইউএন সেক্রেটারি জেনারেলের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভার তৃতীয় পর্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনসিআর) সিইও এএইচএম বজলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের উদ্যোগে আইটি থেকে অংশীজনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইসিটিতে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি সম্ভব হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে। নব্বই দশক থেকে এই সংগ্রাম শুরু হয়ে এখন আইসিটি ফর ডি (ডেভেলপমেন্ট) বাস্তবায়নে এখন কাজ করছে। ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনার গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে আমরা তাই আজ অংশীজনদের নিয়ে আন্দোলন করছি। বুর্জোয়া অর্থনৈতিক শাসন থেকে ইন্টারনেট সমাজকে রক্ষা করতে সামাজিক সমস্যা সমাধানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেয়ার কাজে ব্রত হয়েছি। অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরিতে তরুণদের সক্রিয় রাখছি। বাংলাদেশের তরুণেরা এখন ইন্টারনেটে দারুণ দাপুটে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখনোই তরুণদের কোনো কাজ করে দেয় না। তাদের নিয়ে কিছু করছে না। আর এই অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় মিছিল-মিটিং করে কিছু হয় না। বৈঠক-আলোচনার মাধ্যমে আইনি কাঠামো তৈরি করেই নিশ্চিত করতে হয়। ফেক নিউজ বা গুজব শব্দটি যৌক্তিক কারণে অনলাইন প্রোপাগান্ডা না বলার পক্ষে মত দিয়ে বজলুর রহমান বলেন, এগুলোকে ভুল বা মিথ্যা (মিস) তথ্য বলা উচিত। ট্রাম্পের ফাঁদে পা না দিয়ে আমাদের তরুণদের ইন্টারনেট ব্যবহারে কৌশলী হতে হবে।

সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মো: হাসান বাবু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চেঞ্জ মেকার সিইও সৈয়দ তামজিদুর রহমান, শার্পনার সিইও নেজার ই জিলানী, আইএসপিএবির জেনারেল সেক্রেটারি ইমদাদুল হক ও ই-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজওয়ানুল হক জামি।

এ সময় জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় প্রো-ভাইস চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মো: হাসান বাবু বলেন, বিশে^ বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার হার ঈর্ষণীয়। ইন্টারনেটকেন্দ্রিক নানা উন্নয়ন দেশে হচ্ছে। তারপরও ইন্টারনেট পরিবহন, পরিচালন ও ব্যবহারের ওপর শুল্ক ও কর রয়েছে। সরকার এ বিষয়ে আগ্রহী হলেও শুধু বাজেটের আগেই এ বিষয়ে আমরা উচ্চবাচ্য করি। এতে করে কাজ হবে না। তাই এই খাতের উন্নয়নে যেসব সংগঠন কাজ করছে তাদের যূথবদ্ধ হয়েই ইন্টারনেট ব্যবহার সবার জন্য ফ্রি করার মিশন বাস্তবায়ন করতে হবে।

বক্তব্যে বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের ভাষা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মামুন অর রশীদ বলেন, বাংলাকে জাতিসংঘের ভাষা করতে হলে ইন্টারনেটে বাংলা ভাষায় প্রয়োজনীয় রিসোর্স থাকতে হবে এবং এদের একটি জাতীয় মান থাকতে হবে। এখন আমাদের ডট বাংলা ডোমেইনে পূর্ণরূপে কাজ করতে হলে আইক্যানের মাধ্যমে নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিগডাটার সাথে বাংলা ভাষার সম্পর্ক গড়তে হবে এখনই। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে তার ভিত্তি এখনই স্থাপন করার প্রতি জোর দেন এই ভাষা বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, মাতৃভাষার উন্নতি হলে আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়ন হবে। তাই এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিয়ে নেজার ই জিলানি বলেন, যুদ্ধ বা সহিংসতায় যতটা না রক্ত ঝরেছে তার চেয়ে বেশি ক্ষরণ হয় বিশ^াসগত দ্ব›েদ্ব। এই দ্ব›দ্ব আলোচনার মাধ্যমে বা সমঝোতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়। তাই ইন্টারনেটে ব্যবহারে আমাদের লিটারেসি বাড়াতে হবে। সচেতনতা ও অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে এটা কঠিন কিছু নয়।

চেঞ্জ মেকার সিইও সৈয়দ তামজিদুর রহমান বলেন, একটা সময় ছিল যখন আমরা ডায়াল আপের মাধ্যমে দিনে দুইবার ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারতাম। আশার কথা, আমাদের দেশে ইন্টারনেট এখন সহজলভ্য। কিন্তু এর ব্যবহার নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না। ইন্টারনেট তাই মাঝেমধ্যে আমাদের কাছে দুর্যোগ বা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিকল্প কৌশল বের করতে হবে।

আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বলেন, গত ১০ বছরে ২০ গুণ ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করেছে সরকার। কিন্তু ইন্টারনেট আমদানি, পরিবহন ও সরবরাহ দেশের দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি হয়ে রয়েছে। ফলে দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায় জড়িতরা ক্ষতির মুখে রয়েছে। তাদের বিষয়টি সরকার দেখলে ইন্টারনেটের প্রসার আরও বাড়বে।
ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও ই-গভর্ন্যান্সের মধ্যে মেলবন্ধনের ওপর জোর দিয়ে ই-ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজওয়ানুল হক জামি বলেন, ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক নয়। ব্যবহারের বহুমাত্রিকতা বাড়ানো এখন জরুরি। আগামীতে আর লিখতে হবে না। মুখে বলব কানে শুনবে। হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে আমাদের অবস্থান ততটা সুসংহত নয়। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের কণ্ঠ আরো জোরালো হতে হবে। বর্তমানে পেরু ও ফিজিতে আমাদের ই-সরকার চালু আছে সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের মাধ্যমে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আইজিএফকে এই জোরালো অবস্থান ও সমন্বয়ে বিষয়টি তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআইজিএফ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, মানব সমাজের উপকারেই ইন্টারনেট ব্যবহার হবে। ক্ষতির জন্য নয়। তাই আগামী দিনের ডিজিটাল সমাজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ‘ইন্টারনেট প্রশাসন’ এখন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা, টেকসই, প্রবেশগম্যতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশ্বসহযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্যই প্রয়োজন ইন্টারনেট প্রশাসনের।

তিনি বলেন, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতাবান্ধব ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতেই সার্বজনীন হতে হবে ইন্টারনেটের শাসন-প্রশাসন। ইন্টারনেটের সাথে প্রত্যেক বয়স, লিঙ্গ ও শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়ার বা এর সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়ার কাজে রাষ্ট্রের মনোযোগী হতে হয়। এক্ষেত্রে মাতৃভাষায় ইন্টারনেট চর্চার আইনগত বাধ্যবাধকতা দরকার। তাহলেই বাংলা বিষয়বস্তুর উন্নয়ন গঠাতে হবে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, প্রসারিত ডিজিটাল সমাজের জন্য ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ নয়; ব্যবস্থাপনায় মনোযোগী হতে হবে। এজন্য বৈষম্য ঘুচে গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ডিজিটাল সমাজকে বাঁচাতে হলে ডিজিটাল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐকমত্য থাকতে হবে। তাই যারা এটা ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা জাতীয় শত্রু।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগ ডাটা না জানলে আমাদের নগর পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে না। তাই এখনই বিশ^বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বিগ ডাটা বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেন তথ্যমন্ত্রী। পরামর্শ দেন, যেহেতু ইন্টারনেট সারা বিশ্বকে সমতল করে দিচ্ছে, সেজন্য এ বিষয়ে গবেষণা জোরদার করতে হবে
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৮ - নভেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস