Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > প্রযুক্তি দুর্নীতিরোধী এক মোক্ষম হাতিয়ার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: গোলাপ মুনীর
মোট লেখা:২০৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৯ - ডিসেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
প্রযুক্তি
তথ্যসূত্র:
প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
প্রযুক্তি দুর্নীতিরোধী এক মোক্ষম হাতিয়ার
প্রযুক্তি দুর্নীতিরোধী এক মোক্ষম হাতিয়ার
গোলাপ মুনীর

ইন্টিগ্রিটি টেক : দুর্নীতিরোধী ৩ উপায়
আমলাতন্ত্রে কাগজই হচ্ছে ক্ষমতা। আমলাতন্ত্রের আংশিক ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার চাইছে তাদের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলতে। আর এই কাজটি করছে ডিজিটাল সেবা ও অনলাইন প্ল্যাটফরম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা উভয়েরই উন্নয়ন ঘটিয়ে। ডিজিটাল সরকারের উচ্চাকাক্সক্ষা হচ্ছে অ্যানালগ ও কাগজভিত্তিক প্রচলিত ব্যবহারের লেগাসি সিস্টেমকে পাল্টে নাগরিকসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ গড় তোলা এবং সেবাকে আরো কার্যকর, দ্রæততর, চটজলদি করা। সেই সাথে সেবাকে নাগরিকসাধারণের চাহিদায় কেন্দ্রীভ‚ত করা।
উদাহরণত, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আর্জেন্টিনা হয়ে ওঠে একটি পেপারলেস গভর্নমেন্ট। এ কাজটি করতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ডিজিটালায়ন করা হয়, সূচনা করা হয় ডিজিটাল পরিচয়পত্রের এবং সর্বোপরি সম্প্রসারণ করা হয় ডিজিটাল সেবার। যেখানে পেপার-বেইজড কালচারের শেকড় গভীরে প্রোথিত ছিল, সেখানে আর্জেন্টিনার এই অর্জন ক্ষুদ্র কোনো অর্জন নয়। চিলিতে সেবাস্টিয়ান পিনেরার নয়া সরকার এ বছরের শেষ দিকেই হবে একটি পেপারলেস সরকার।

কাগজবিহীন সরকারে উত্তরণ ঘটিয়ে প্রগতিশীল সরকারগুলো মোকাবেলা করতে পারে দুর্নীতির। অবসান ঘটাতে পারে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও বিগ ডাটা এখন সরকারগুলোর সংস্কারক ও দুর্নীতি উদঘাটনকারীদের সামনে সুযোগ এনে দিয়েছে দুর্নীতির ঘটনা উদঘাটন, দুর্নীতিরোধ ও দুর্নীতিসম্পর্কিত আগাম আভাস-ইঙ্গিত দেয়ার। এর আগে কাগজভিত্তিক সরকারগুলোর পক্ষে তা সম্ভব ছিল না। এটি রাজনৈতিকভাবে জটিল কাজ। কারণ, এতে সংশ্লিষ্ট রয়েছে ডাটা প্রশাসনের অধিকার অর্জনের বিষয়টি। এবং এই অধিকার কার মালিকনায় রয়েছে, কে তা নিয়ন্ত্রণ করে, কে সরকারি খাতের ডাটা শেয়ার ও নিরাপত্তা বিধান করে, তা চিহ্নিত করাও একটি মুশকিলে ব্যাপার। ডিজিটাল বিপ্লব ক্রমেই করাপশন গেমের রীতিনীতি পাল্টে দিচ্ছে।

ইন্টিগ্রিটি টেকে রয়েছে দুর্নীতি ঠেকানোর তিন উপায়। আর এগুলো হচ্ছে : এক. ডাটাকে কার্যকর করে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, দুই. লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটিয়ে কমাতে হবে যা-ইচ্ছা-তা করা এবং তিন. সরকারে রূপান্তর ঘটাতে হবে ও জোর দিতে হবে উদ্ভাবনে।

এক : কার্যকর ডাটা ও জবাবদিহি

প্রথমত, সরকারের সংস্কারকেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন সরকারের কার্যকর তথ্যে নাগরিকদের প্রবেশ উন্মুক্ত করে দিয়েছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সরকারি ডাটা উন্মুক্ত করতে শুরু করেছে। এসব ডাটার মান ক্রমেই উন্নত হচ্ছে। এবং ডাটাও পাওয়া যাচ্ছে সময়মতো। এসব ডাটা কাজে লাগানো হচ্ছে নীতি-নির্ধারণের কাজেও। অপরদিকে, নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রাখতে পারছেন। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। মেক্সিকো, সাও পাওলো ও বুয়েনস আয়ার্সের মতো নগরীগুলো এ ক্ষেত্রে অন্যদের পথ দেখাচ্ছে। তা সত্তে¡ও অধিকতর চ্যালেঞ্জের ব্যাপার ছিল, দুর্নীতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ডাটাবেজ উন্মুক্ত করা। যেমন : ‘ওপেন ডাটা চার্টার’-এর দেয়া তথ্যমতেÑ সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, ক্রয় ও কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত ডাটার বিষয়গুলো ছিল সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।
মেক্সিকো হচ্ছে প্রথম নগরী, যেটি এর পারস্পরিক যোগাযোগ প্রকাশ করে ওপেন ফরম্যাটে। মেক্সিকো এর স্টেট-অব-দ্য আর্ট ‘ফিসক্যাল ট্র্যান্সপারিন্সে পোর্টাল’-এর মাধ্যমে বাজেট ডাটা সার্বিকভাবে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এই পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পাবলিক কন্ট্রাক্টস, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্টও ট্র্রান্সফারটু দ্য সাবন্যাশনাল গভর্নমেন্টস। মেক্সিকোই প্রথম নগরী, যেটি সর্বপ্রথম কন্ট্রাক্টগুলো উন্মুক্ত করল ওপেন ফরম্যাটে। জনবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারকারী মেক্সিকানেরা এসব তথ্য ব্যবহার করছে সরকারের কাজের তদারকি করতে।

বেশ কিছু দেশ অবলম্বন করছে জিও-রেফারেন্সিং ও বিভিন্ন ধরনের ডাটা ভিজ্যুয়েলাইজেশন টেকনোলজি। তা ব্যবহার করা হয়েছে মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও প্রাগের অবকাঠামো বিনিয়োগে সম্ভাব্য দুর্নীতি ঠেকাতে। ব্রাজিলিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এগুলো ব্যবহার করছে অ্যামাজন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি জানার কাজে। অডিট এজেন্সিগুলো কাজে লাগাচ্ছে গণপূর্তের কাজকর্ম পর্যালোচনায়। যেমন বুয়েনস আয়ার্স নগরী এর ‘পাবলিক ওয়ার্কস’ পোর্টালের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ডাটা উন্মুক্ত করে দিয়েছে লোকাল ফিন্যান্সের কাছে।
ডিজিটালায়নের মাধ্যমে সরকারগুলো সৃষ্টি করছে বিপুল পরিমাণ আমলাতান্ত্রিক নতুন ডাটা। ক্রস-রেফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব ডাটা মাইন করা যাবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টিতে। যেমন ব্রাজিলের ট্র্যান্সপারেন্সি মিনিস্ট্রির ‘পাবলিক স্পেন্ডিং অবজারভেটরি’ নিয়মিত চিহ্নিত করছে দেশটির সরকারি চাকুরেদের ক্রেডিট কার্ডসম্পর্কিত নানা অনিয়ম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রিডিকটিভ অ্যানালাইটিকস ও কর কর্তৃপক্ষ ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এর মাধ্যমে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে করফাঁকি। যুক্তরাজ্য এর ‘কানেক্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে কর প্রশাসন সম্পন্ন করছে সামাজিক নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ।

দুই : লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের অবসান

দ্বিতীয়ত, সরকারের সংস্কারকেরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমলাদের ‘যাচ্ছেতাই’ করা ঠেকাতে পারেন। যেমন, লাইসেন্স ও পারিমট দিতে আমলাদের ঘুষ নেয়া ঠেকাতে প্রযুক্তি-সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করে এ কাজটি করা সম্ভব। মেক্সিকো, পেরু, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ‘ইন্টিগ্রেটেড হোল-অব-গভর্নমেন্ট পোর্টালে’র মাধ্যমে সম্প্রসারণ করে চলেছে তাদের ডিজিটাল সার্ভিস। তা সত্তে¡ও সাম্প্রতিক তথ্যমতেÑ পাবলিক সার্ভিস এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজ করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক কিছুই করার বাকি। চাকরি হারানোর ভয়ে কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল ডিজিটাল সার্ভিস চালু করায় এসব দেশে বাধা সৃষ্টি করছে।
বাইজেন্টানিয়ান আমলাতন্ত্রে ডিজিটালাইজ করাই যথেষ্ট নয়। সরকারগুলোকে ভাবতে হবে কী করে সার্ভিসগুলোর সরলায়নের মাধ্যমে নাগরিক সাধারণের জন্য আরো বেশি উপকারী ও ছটজলদি করে তোলা যায়। পর্তুগালে ‘সিমপ্লেক্স প্রোগ্রাম’ সিভিল সোসাইটি ও সরকারি চাকুরেদের সাথে মিলে আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে। এর সাফল্য উৎসাহব্যঞ্জক। অনেক নতুন নির্বাচিত সরকার বিধিবিধানের সংস্কার ও প্রশাসনিক সরলীকরণকে তাদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে এসব দেশ প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে শুধু ২০১৮ সালেই ব্রজিলের Simplifique!, কলম্বিয়ার Estado Simple এবং আর্জেন্টিনারProductive Simplification উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিন : সরকারের রূপান্তর ও উদ্ভাবন

প্রযুক্তিভিত্তিক ও ডাটাতাড়িত গভটেক স্টার্টআপগুলো সহায়তা করছে সরকারের রূপান্তর ঘটাতে। এগুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সেবা সরবরাহে রাষ্ট্রীয় মনোপলির ওপর। গভটেক স্টার্টআপগুলোর আবির্ভাব সরকারি সেবায় নতুন ধরনের সহায়তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত নগর পর্যায়ে। এসব ক্ষুদ্র গতিশীল কোম্পানিগুলো প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে পুরনো সমস্যাগুলো নতুন উপায়ে সমাধানে। যেমন, এগুলো বিভিন্ন সরকারকে দিচ্ছে কার্যকর-ব্যয়ের সমাধান (কস্ট-ইফেকটিভ সলিউশন) হিসেবে ডাটা অ্যানালাইটিকস সার্ভিস। এর আগে এসব সরকারের জন্য ডাটা সায়েন্স টিম নিয়োগ দেয়া ছিল একটি বড় সমস্যা।
গত নভেম্বরে প্যারিসে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় বৈশ্বিক ‘গভটেক সামিট’। এতে প্রতিফলন ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও ইসরাইলের মতো প্রযুক্তিতে অগ্রসর দেশগুলোর সরকারি উদ্যাক্তা ও সরকারি স্টার্টআপের ওপর। সরকারগুলোর নতুন নতুন প্রাযুক্তিক সেবা সরবরাহে গভটেক স্টার্টআপগুলোই শুধু নতুন কোনো উপায় নয়। এসব প্রযুক্তিভিত্তিক ডাটাতাড়িত স্টার্টআপ ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে নীতি-নির্ধারণ ও সেবা সরবরাহের দিকে।
আসলে প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে সরকারি খাতে প্রযুক্তির ইন্টিগ্রিটি তৈরির মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়সহযোগী

দুর্নীতিবিরোধী প্রধান ৪ প্রযুক্তি
প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে আমরা সমাজ, অর্থনীতি, পরিবেশ ও আরো নানা বিষয়ের ওপর বিপুল পরিমাণ ডাটায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছি। এই সুযোগে বিভিন্ন সরকার, সংগঠন ও নাগরিক উপনীত হয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনের স্তরে। আর তাই এখন প্রযুক্তি হাতিয়ার হয়ে উঠেছে সমাজ ও সরকারি পর্যায়ের দুর্নীতিরোধে। গণতন্ত্রের জন্য অন্যতম শর্ত হচ্ছে তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা বিধানের অপরিহার্যতা। গণতন্ত্রে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই জারি রেখে প্রয়োজন সরকার ও বাজারের মধ্যে উন্মুক্ত সমতল ক্ষেত্র তথা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। দুর্নীতি চিহ্নিতকরণ, বন্ধকরণ ও বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিপ্লব আনায় আমাদের সুযোগে করে দিয়েছে প্রযুক্তি। আমরা এ ক্ষেত্রে চারটি বিশেষ প্রযুক্তির নাম বিশেষত উল্লেখ করতে পারি : বিগ ডাটা, ডাটা মাইনিং, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং ফরেনসিক টুলস।
বিগ ডাটা : অটোমেশন বাড়িয়ে তুলে বিভিন্ন সংগঠন যথার্থ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করছে প্রযুক্তি। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো প্রতারণা ও দুর্নীতিরোধী ইনোভেটিভ সফটওয়্যার তৈরির বিপ্লবে একদম সামনের সারিতে। জাতিসঙ্ঘ বলছে, অধিকতর প্রবেশযোগ্য ও উন্নতমানের ডাটা সুযোগ করে দেয় উন্নততর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বৃহত্তর জবাবদিহির। জাতিসঙ্ঘের সাম্প্রতিক বেশ কিছু প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, কী করে ডাটা বিপ্লবকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় টেকসই উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিতে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিগ ডাটা, উন্নত নেটওয়ার্ক ও ডাটাসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে একসাথে জোড়া, সক্ষমতা সমস্যা দূর করা, গুরুত্বপূর্ণ ফাঁকগুলো চিহ্নিত করা, সহযোগিতা বাড়ানো ও সবার কল্যাণের স্বার্থে উদ্ভাবনে প্রণোদনা দেয়া। বিগ ডাটা প্রাথমিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে জনস্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও করারোপের ক্ষেত্রে, যেখানে প্রিডিকটিভ অ্যানালাইসিস ও ভিজ্যুয়েলাইজেশন নির্ধারণ করে প্রবণতা, ধরন ও সম্পর্ক। একটি বিষয়কে গভীরভাবে জানতে বিপুল পরিমাণ ডাটা ব্যবহার হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ ডাটা বিশ্লেষণ করে দুর্নীতি উদঘাটন করা কঠিন ছিল। কিন্তু এখন ডিজিটাইজেশন ও বিগ ডাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠায় আমরা পেয়েছি ডাটা ব্যবস্থাপনার এক নয়া কৌশল, যা সরকারি খাতে প্রতারণা রোধ সহজতর করেছে। ফ্রড অ্যানালাইটিকস এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিহ্নিত করতে পারে সন্দেহজনক লেনদেন।

ডাটা মাইনিং : মাল্টিলেটারেল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকগুলো বিভিন্ন টুল ব্যবহার করছে বিভিন্ন প্রক্রিয়া তদারকির কাজে। সরকারি ক্রয়ে ডাটা মাইনিং ব্যবহার হচ্ছে অডিটিংয়ের কাজে। এটি ব্যবহার হচ্ছে লেনদেনে ডাটা ভিজ্যুয়েলাইজেশনের মাধ্যমে ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ চিহ্নিত করার কাজেও। বুদাপেস্টের করাপশন রিসার্চ সেন্টার বিপুল পরিমাণ ডাটাগুচ্ছ পরীক্ষা করে দেখেছে। এগুলো ইইউ দেশগুলোর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ডাটা। তারা অস্বাভাবিক ধরনের ডাটা খুঁজে পেয়েছেন। শর্ট বিডিংয়ের সময় এসব অস্বাভাবিক লেনদেন ঘটেছিল। দেখা গেছে, এসব দরপত্রে কোনো প্রতিযোগী ছিল না। তা ছাড়া একই পক্ষের দরপত্র বারবার অনুমোদিত হয়েছে। অ্যান্টি-করাপশন সফটওয়্যার বিশেষ করে ডিজাইন করা হচ্ছে প্রতারণা চিহ্নিত ও বন্ধ করার উপযোগী করে। এর মধ্যে আছে ডাটা সেটের ‘ইন্টেলিজেন্ট মাইনিং’ ও ‘অ্যাডমিনিস্ট্র্যাটিভ প্রসিজিউর’। ইউরোপীয় কমিশন ও ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল উভয়ে তৈরি করেছে ডাটা আ্যানালাইটিকস সফটওয়্যার, যা বিভিন্নি ধরনের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডাটা ক্রস-চেক করে।

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন : নানা ধরনের মোবাইল টেকনোলজি ও অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার হচ্ছে দ্রুত ডাটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভেতরের সত্যিকারের চিত্রটা জানার জন্য। উন্নয়নশীল দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাগরিকদের ক্ষমতায়নের কাজে। তাদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে তথ্যে অধিকতর প্রবেশের। ফলে এরা দুর্নীতিরোধে আগের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারছে। এর একটি উদাহরণ হচ্ছে, এমন কিছু অ্যাপ্লিকেশন ও ওয়েবসাইট, যেগুলো দুর্নীতি চিহ্নিত ও বন্ধ করায় সহায়ক। যেমন, এই বিষয়টি বিশ্বব্যাংককে উদ্বুদ্ধ করেছে এর নিজস্ব সংস্করণ ‘ও ঢ়ধরফ ধ নৎরনব’ সৃষ্টি করতে। এই ‘ইন্টিগ্রিটি’ অ্যাপটির লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিক সাধারণকে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পগুলোর তথ্যে সহজ-প্রবেশের সুযোগ করে দেয়া। এর মাধ্যমে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতারণা ও দুর্নীতিসম্পর্কিত তথ্য বিশ্বব্যাংককে জনাতে পারে। যেমন মানুষ এর মাধ্যমে অর্ধনির্মিত কোনো স্কুলের ছবি পাঠাতে পারে কিংবা জানাতে পারে কোনো ঘুষের খবর।

ফরেনসিক টুল : জাতিসঙ্ঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে উন্নততর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সবার স্বার্থে জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাব করেছে ‘নেটওয়ার্ক অব ডাটা ইনোভেশন নেটওয়ার্কস’ নামের একটি নেটওয়ার্ক সৃষ্টির। এই নেটওয়ার্ক সংগঠনগুলো ও বিশেষজ্ঞবর্গকে একসাথে নিয়ে আসবে তদারকি ও দক্ষতা উন্নয়নের সর্বোচ্চ অনুশীলন নিশ্চিত করতে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে ‘সেলফ মনিটরিং, অ্যানালাইসিস অ্যান্ড রিপোর্টিং টেকনোলজি’ (SMART)-এর মতো অডিটরদের বিভিন্ন ফরেনসিক টুল ব্যবহার হচ্ছে দুর্নীতির ঝুঁকি এড়ানোর কাজে। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে এসব টুল ডাটার গতি মোকাবেলায় যথেষ্ট উপযোগী। এগুলো সক্ষম লেনদেনের রিয়েলটাইম বিশ্লেষণ, প্রিডিকটিভ মডেলিং, অ্যানামলি ডিটেকশন ও রিস্ক স্কোরিং অ্যালগরিদম করতে।
অন্যান্য ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দুর্নীতিবেরোধী নানা ধরনের অভিজাত টুল উদ্ভাবন করছে, যা প্রমাণ করে দুর্নীতির অবসানে প্রযুক্তি হতে পারে বড় ধরনের হাতিয়ার। দুর্নীতিতে আকণ্ঠ জর্জরিত বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারকদের এ নিয়ে ভাবতে হবে বৈ কি!

হাইপার-ট্র্যান্সপারেন্সি
হাইপার-ট্র্যান্সপারেন্সি তথা অতিমাত্রিক স্বচ্ছতা বিধান দুর্নীতিকে করে তুলছে অতীতের এক বিষয়ে।

২০৩০ সালে ব্যবসায়ের একটি প্রাথমিক লক্ষ্য হবে আয় করা এবং একই সাথে জনগণের আস্থা ধরে রাখা। শেয়ার মালিকদের ভ্যালু ও বিধিবিধান মেনে চলার ওপর কম আলোকপাত করা হবে আশাহত এক পশ্চাৎগামিতা। কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বোঝেন তাদের কোম্পানি চালাতে হবে হাইপার-ট্র্যান্সপারেন্ট পরিবেশে। কারণ, তারা যা বলেন ও যা করেন তা তাৎক্ষণিকভাবে চলে যায় পাবলিক নলেজে। কর্পোরেশনগুলোর উদ্দেশ্যসাধনের প্রশ্নে এখন আর বিপণন অনুশীলনকে হিসাবে নেয়া হয় না। অতএব কারণে কোম্পানিগুলো এখন আর ব্যাখ্যা দিতে পারে না কীভাবে সমাজর মূল্যের পতন ঘটছে।

বিধিবিধানিক চাপ এড়াতে কর্পোরেশনগুলোর দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপগুলো এখন আর সূত্রায়িত পদক্ষেপ নয়। এখন ব্যক্তিগত লাভালাভের জন্য করা যাবতীয় দুর্নীতি সমস্যার সমাধান করতে হয়। দুর্নীতি সম্পর্কে জনক্ষোভের কারণে বিশ্বে সরকার ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিবিরোধী পরিবেশে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে। সরকার ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখন অতিমাত্রিক স্বচ্ছতা তথা হাইপার-ট্র্যান্সপারেন্সি নিশ্চিত করা ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে দুর্নীতিতে সহায়তা দেয়ায় অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইনজীবী ও অন্যান্য গেটকিপারদের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন নৈতিক আদর্শ মান সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন কর ফাঁকি দেয়া, পেছন দরজা দিয়ে লবিং করা এবং গোপন মালিকানা-কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করাকে বিবেচনা করা হয় অগ্রহণযোগ্য হিসেবে। তা ছাড়া এখন দুর্নীতির পদ্ধতিগত প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেশি বোধগম্য। কোম্পানিগুলো মনে করে বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানে সহযোগিতা খুবই চ্যালেঞ্জিং। কারণ, তাদের কাছে একমাত্র উপায় হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা।

ডিজিটালাইজেশন : দুর্নীতিরোধী আরেক হাতিয়ার
ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৬৮টি দেশের যে দুর্নীতির ধারণাসূচক তৈরি করেছে, তার মধ্যে ইউক্রেনের অবস্থান ১৩০তম স্থানে। সেখানে ‘ডিজিটাল ট্র্যান্সপারেন্সি’ হতে পারত দুর্নীতিবিরোধী এক কার্যকর হাতিয়ার। এমনটি বলেছেন ইটেরা (ওঃবৎধ) নামের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আর্নি এমজস। ইটেরা হচ্ছে একটি আইটি কোম্পানি। এর কর্মক্ষেত্র কমিউনিকেশন ও টেকনোলজি। নরওয়ের যেসব কেম্পানি ইউক্রেনের আইটি সার্ভিস ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে তার মধ্যে এটি একটি। এ কোম্পানির একটি অফিস রয়েছে কিয়েভে। আইটিতে ইউক্রেনিয়ানদের সক্ষমতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক উঁচু। বিশ্বে ইউক্রেনীয়রা এ ক্ষেত্রে অবস্থান করে অস্ট্রেলিয়ার পরেই। এদের অবস্থান ভারতের চেয়েও ওপরে। এমজস বলেন, এ তথ্যটি বিশ্বের অনেকেই জানে না।

বৈশ্বিকভাবে আইটি র‌্যাঙ্কিংয়ের তালিকায় নরওয়ের অবস্থান নবম স্থানে। নরওয়েজিয়ান কোম্পানিগুলোর মধ্যে আইটি আউটসোর্সিং খুবই আকর্ষণীয় ও সাধারণ এক অনুশীলন। আর্নি এমজস মনে করেন, এ ব্যাপারে নরওয়েজিয়ান কোম্পানিগুলোর উচিত ইউক্রেনের ওপর আরো বেশি করে নজর দেয়া। নরওয়েজিয়ান আইটি সেক্টরের চেয়ে ইউক্রেনের আইটি সেক্টর ২৫ গুণ বড়। ইউক্রেনের আইটি সার্ভিসের খরচ ভারতের চেয়ে কম। সেখানে ভৌত দূরত্ব ও সাংস্কৃতিক বিভাজন কম।

ইউক্রেনে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় করার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হচ্ছে সেখানে দুর্নীতি খুবই পরিব্যাপক। চলতি বছরে মধ্য-ইউরোপের সবচেয়ে বড় সম্মেলন ‘তেলআবিব আইটি এরিনা কনফারেন্স’ চলার সময় ন্যাশনাল পোস্টের এডিটর-এট-লার্জ ডিয়ানি ফ্রান্সিস বলেছেন, ইউক্রেনের আইটি ইন্ডাস্ট্রির ভালো করার কারণ অন্যান্য খাত থেকে ব্যতিক্রমী হয়ে এই খাত দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েনি। ইউক্রেনের আইটি সেক্টর মূলত কাজ করে পশ্চিমা বাজারের সাথে এবং এটি অভিজাত বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ। তারা জানেন দুর্নীতি করলে তারা তাদের কাজ হারিয়ে ফেলতে পারেন। ইউক্রেনীয় সরকার বর্তমানে নতুন সংস্কারের পেছনে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করছে।

ভ্যাট আদায়ে ইএফডি

বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভ্যাট আদায়ে ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করবে ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি)। প্রাথমিক অবস্থায় এজন্য দেশে ১০ হাজার ইএফডি আমদানি করা হচ্ছে। এটি ভ্যাট আদায় স্বচ্ছতা আনবে, দূর করবে দুর্নীতি। এটি একটি কমপিউটার যন্ত্র। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পণ্যসেবা কেনায় দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যবহার করা হয়। রাজস্ব বিভাগ এই মেশিনের সাহায্যে ব্যবসায়িক লেনদেন বা বেচাকেনা সরাসরি মনিটর করতে পারবে। ফলে এ ডিভাইসটি ব্যবহার করে ভ্যাট ফাঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

এই যন্ত্রটি রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারে সংযুক্ত থাকায় প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের বিক্রির তথ্য সরাসরি রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারে চলে যাবে। ব্যবসায়ীরাও যাবতীয় লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা তাদের ব্যবসায়িক হিসাব সংরক্ষণকে সহজ করে তুলবে। ইএফডিতে একবার ইনপুট দেয়া হলে সে তথ্য গোপন করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া ক্রেতারা চাইলে মোবাইল অ্যাপে কিআর কোডের মাধ্যমে এ ভ্যাটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

২০০৮ সালে ১১টি খাতে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যে দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছিল সরকার। তবে যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে সে কার্যক্রম তেমন সফল হয়নি। ইসিআর মেশিনে অফলাইনে হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীদের তথ্য আড়াল করার সুযোগ থাকে। যেসব প্রতিষ্ঠান এনবিআরের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ইসিআর ব্যবহার করে, সেগুলোতে অনেক ফিচার অনুপস্থিত থাকে, কিন্তু ভ্যাট আদায়ে ইএফডি সে তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

ভ্যাট দুর্নীতি ঠেকাবে ব্লকচেইন প্রযুক্তি
রাজস্ব খাতে ব্লকচেইন ব্যবহার করে কী করে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকানো যায়, সে ব্যাপারে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবা নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ দেশগুলো এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে, ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার কারণে ইইউভুক্ত দেশগুলোকে শত শত কোটি ডলার হারাতে হয়। তাই অতীতের সব তথ্য সংরক্ষণকারী এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ভ্যাটসংক্রান্ত যাবতীয় দুর্নীতি ঠৈকানোর লক্ষ্যে ইউরোপের অনেক দেশ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বিভিন্ন লক্ষ্যে এরই মধ্যে এ প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। যেমন ব্যক্তিগত ডাটা সুরক্ষা এবং আরো কার্যকর তথ্য বিনিময় ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। ভ্যাট ফাঁকি নিয়ে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বেশ কিছু প্রতারণা ফাঁস ঠেকাতে চায় ইইউ। এ নিয়ে চাপের মুখে পড়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি বিক্রীত পণ্যের একটি ডিজিটাল নিবন্ধন তৈরির মাধ্যমে এ ব্যবস্থার অনেক দুর্বলতা দূর করে দিতে পারে। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই সরকারের ডিজিটাল রিপোর্টিং সিস্টেমে পণ্যমূল্য তুলে দিতে পারে। এ ব্যবস্থায় ভ্যাট পরিশোধ হবে স্বয়ংক্রিয় এবং পণ্য বেচাকেনার সব রেকর্ড থাকবে। ফলে একটি পণ্য যখন হস্তান্তর হয়, তখন এর বিপরীতে কী পরিমাণ কর পরিশোধিত হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখতে পারবে। কোনো ভুল থাকলে তা তাৎক্ষণিক ধরা পড়বে। ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেবে ব্লকচেইন প্রযুক্তি। কারণ এটি পার্সন-টু-পার্সন লেনদেনের খুঁটিনাটি তথ্য সংরক্ষণ করে। এর ফলে আস্থার সঙ্কট দূর হবে। তবে ইউরোপের কোনো দেশ ভ্যাট লেনদেনে এখনো বøকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেনি। এটি বাস্তবায়ন করতে আরো কয়েক বছর সময় লাগবে।

শেষকথা

শুরুতেই আমরা জেনেছি বাংলাদেশের ভয়াবহ দুর্নীতির কথা। এই দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও সরকারের প্রতিশ্রুতির শেষ নেই। এরপরও বাস্তবতা হচ্ছে দুর্নীতি ঠেকাতে আমরা পুরোপুরি ব্যর্থ। এখন দুর্নীতি নাশে আমাদের সর্বশেষ অবলম্বন হচ্ছে ‘প্রযুক্তি’। আসুন প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নামি, দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় জানাই। এ ক্ষেত্রে যেসব দেশ সাফল্য লাভে সমর্থ হয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতাকে আমরা চাইলে কাজে লাগাতি পারি

ডেনমার্কের উদাহরণ
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রযুক্তি হতে পারে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার’। গত বছর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত একটি দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় জাতিসঙ্ঘ ও ডেনমার্ক সরকার। জাতিসঙ্ঘ ও ডেনমার্ক সরকার যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে সেইসব প্রযুক্তির অগ্রগতির বিস্তারিত বিবরণ দেয়, যেগুলো ব্যবহার করে আমরা দুর্নীতি কমিয়ে আনতে পারি। বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘের অঙ্গ সংস্থা ইউএনডিপি আহ্ববান জানায় এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে, যাতে বিকাশমান দেশগুলো তাদের অর্থনীতিকে বাঁচাতে পারে। কেননা, এসব দেশে দুর্নীতি শান্তি ও প্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউএনডিপির প্রশাসক আছিম স্টেনার বলেছেন, ‘দুর্নীতি একটি দেশের সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে আনে, অবনতি ঘটায় ‘চেক-অ্যান্ড-ব্যালেন্স’ পরিস্থিতির। এর ফলে আমাদের সমাজের সুরক্ষা বিঘ্নিত হয়, শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘নতুন নতুন প্রযুক্তি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করলে আমরা পেতে পারি উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক শাসনের এক প্রজন্ম।’

ইউএনডিপি বলেছে, বিকাশমান দেশগুলো থেকে দুর্নীতির মাধমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। ২০১৩ সালে এই অর্থের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন (১ ট্রিলিয়ন = ১ লাখ কোটি) ডলার। ইউএনডিপির মতে, বিশ্বে বছরে ঘুষ বিনিময় হয় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যেসব দেশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, সেসব দেশ প্রতি ১০ ডলারে ১ ডলার হারিয়ে ফেলে। দুর্নীতির মাধ্যমে হারানো অর্থ নিশ্চিতভাবে উন্নয়নকেই বারিত করে।

তা সত্তে¡ও আমাদের রয়েছে কিছু প্রযুক্তি, যা ঘুষ দেয়া ঠেকাতে পারে। সিয়েরা লিওনে রয়েছে নতুন ধরনের একটি ‘ডিজিটাল ম্যাপিং অব ফ্রিটাউন’, যা প্রদর্শন করে বাড়িগুলোর বাস্তব সংখ্যা, যেগুলো ব্যবহার করা যাবে কর নিবন্ধনে উন্নততর স্বচ্ছতা বিধানে। অবকাঠামোর প্রকল্পে রিয়েলটাইম মনিটরিংয়ের সিস্টেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুগলের সাথে মিলে ইউএনডিপি সহায়তা করেছে ফিলিপাইনকে। গত বছর ডেনমার্ক সরকার একটি বিবৃতি ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা উপকারিতার কথা। এর একটি উদাহরণ হচ্ছে ব্লকচেইন প্রযুক্তি প্রতিহত করতে পারে শরণার্থী শিবিরে সন্দেহজনক অর্থপ্রবাহ।

ইন্টিগ্রিটি টেক : দুর্নীতিরোধী ৩ উপায়
আমলাতন্ত্রে কাগজই হচ্ছে ক্ষমতা। আমলাতন্ত্রের আংশিক ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার চাইছে তাদের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলতে। আর এই কাজটি করছে ডিজিটাল সেবা ও অনলাইন প্ল্যাটফরম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা উভয়েরই উন্নয়ন ঘটিয়ে। ডিজিটাল সরকারের উচ্চাকাক্সক্ষা হচ্ছে অ্যানালগ ও কাগজভিত্তিক প্রচলিত ব্যবহারের লেগাসি সিস্টেমকে পাল্টে নাগরিকসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ গড় তোলা এবং সেবাকে আরো কার্যকর, দ্রুততর, চটজলদি করা। সেই সাথে সেবাকে নাগরিকসাধারণের চাহিদায় কেন্দ্রীভ‚ত করা।
উদাহরণত, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আর্জেন্টিনা হয়ে ওঠে একটি পেপারলেস গভর্নমেন্ট। এ কাজটি করতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ডিজিটালায়ন করা হয়, সূচনা করা হয় ডিজিটাল পরিচয়পত্রের এবং সর্বোপরি সম্প্রসারণ করা হয় ডিজিটাল সেবার। যেখানে পেপার-বেইজড কালচারের শেকড় গভীরে প্রোথিত ছিল, সেখানে আর্জেন্টিনার এই অর্জন ক্ষুদ্র কোনো অর্জন নয়। চিলিতে সেবাস্টিয়ান পিনেরার নয়া সরকার এ বছরের শেষ দিকেই হবে একটি পেপারলেস সরকার।

কাগজবিহীন সরকারে উত্তরণ ঘটিয়ে প্রগতিশীল সরকারগুলো মোকাবেলা করতে পারে দুর্নীতির। অবসান ঘটাতে পারে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও বিগ ডাটা এখন সরকারগুলোর সংস্কারক ও দুর্নীতি উদঘাটনকারীদের সামনে সুযোগ এনে দিয়েছে দুর্নীতির ঘটনা উদঘাটন, দুর্নীতিরোধ ও দুর্নীতিসম্পর্কিত আগাম আভাস-ইঙ্গিত দেয়ার। এর আগে কাগজভিত্তিক সরকারগুলোর পক্ষে তা সম্ভব ছিল না। এটি রাজনৈতিকভাবে জটিল কাজ। কারণ, এতে সংশ্লিষ্ট রয়েছে ডাটা প্রশাসনের অধিকার অর্জনের বিষয়টি। এবং এই অধিকার কার মালিকনায় রয়েছে, কে তা নিয়ন্ত্রণ করে, কে সরকারি খাতের ডাটা শেয়ার ও নিরাপত্তা বিধান করে, তা চিহ্নিত করাও একটি মুশকিলে ব্যাপার। ডিজিটাল বিপ্লব ক্রমেই করাপশন গেমের রীতিনীতি পাল্টে দিচ্ছে।

ইন্টিগ্রিটি টেকে রয়েছে দুর্নীতি ঠেকানোর তিন উপায়। আর এগুলো হচ্ছে : এক. ডাটাকে কার্যকর করে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, দুই. লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটিয়ে কমাতে হবে যা-ইচ্ছা-তা করা এবং তিন. সরকারে রূপান্তর ঘটাতে হবে ও জোর দিতে হবে উদ্ভাবনে।
এক : কার্যকর ডাটা ও জবাবদিহি

প্রথমত, সরকারের সংস্কারকেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন সরকারের কার্যকর তথ্যে নাগরিকদের প্রবেশ উন্মুক্ত করে দিয়েছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সরকারি ডাটা উন্মুক্ত করতে শুরু করেছে। এসব ডাটার মান ক্রমেই উন্নত হচ্ছে। এবং ডাটাও পাওয়া যাচ্ছে সময়মতো। এসব ডাটা কাজে লাগানো হচ্ছে নীতি-নির্ধারণের কাজেও। অপরদিকে, নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রাখতে পারছেন। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। মেক্সিকো, সাও পাওলো ও বুয়েনস আয়ার্সের মতো নগরীগুলো এ ক্ষেত্রে অন্যদের পথ দেখাচ্ছে। তা সত্তে¡ও অধিকতর চ্যালেঞ্জের ব্যাপার ছিল, দুর্নীতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ডাটাবেজ উন্মুক্ত করা। যেমন : ‘ওপেন ডাটা চার্টার’-এর দেয়া তথ্যমতেÑ সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, ক্রয় ও কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত ডাটার বিষয়গুলো ছিল সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।
মেক্সিকো হচ্ছে প্রথম নগরী, যেটি এর পারস্পরিক যোগাযোগ প্রকাশ করে ওপেন ফরম্যাটে। মেক্সিকো এর স্টেট-অব-দ্য আর্ট ‘ফিসক্যাল ট্র্যান্সপারিন্সে পোর্টাল’-এর মাধ্যমে বাজেট ডাটা সার্বিকভাবে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এই পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পাবলিক কন্ট্রাক্টস, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্টও ট্র্রান্সফারটু দ্য সাবন্যাশনাল গভর্নমেন্টস। মেক্সিকোই প্রথম নগরী, যেটি সর্বপ্রথম কন্ট্রাক্টগুলো উন্মুক্ত করল ওপেন ফরম্যাটে। জনবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারকারী মেক্সিকানেরা এসব তথ্য ব্যবহার করছে সরকারের কাজের তদারকি করতে।

বেশ কিছু দেশ অবলম্বন করছে জিও-রেফারেন্সিং ও বিভিন্ন ধরনের ডাটা ভিজ্যুয়েলাইজেশন টেকনোলজি। তা ব্যবহার করা হয়েছে মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও প্রাগের অবকাঠামো বিনিয়োগে সম্ভাব্য দুর্নীতি ঠেকাতে। ব্রাজিলিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এগুলো ব্যবহার করছে অ্যামাজন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি জানার কাজে। অডিট এজেন্সিগুলো কাজে লাগাচ্ছে গণপূর্তের কাজকর্ম পর্যালোচনায়। যেমন বুয়েনস আয়ার্স নগরী এর ‘পাবলিক ওয়ার্কস’ পোর্টালের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ডাটা উন্মুক্ত করে দিয়েছে লোকাল ফিন্যান্সের কাছে।
ডিজিটালায়নের মাধ্যমে সরকারগুলো সৃষ্টি করছে বিপুল পরিমাণ আমলাতান্ত্রিক নতুন ডাটা। ক্রস-রেফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব ডাটা মাইন করা যাবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টিতে। যেমন ব্রাজিলের ট্র্যান্সপারেন্সি মিনিস্ট্রির ‘পাবলিক স্পেন্ডিং অবজারভেটরি’ নিয়মিত চিহ্নিত করছে দেশটির সরকারি চাকুরেদের ক্রেডিট কার্ডসম্পর্কিত নানা অনিয়ম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রিডিকটিভ অ্যানালাইটিকস ও কর কর্তৃপক্ষ ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এর মাধ্যমে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে করফাঁকি। যুক্তরাজ্য এর ‘কানেক্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে কর প্রশাসন সম্পন্ন করছে সামাজিক নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ।

দুই : লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের অবসান
দ্বিতীয়ত, সরকারের সংস্কারকেরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমলাদের ‘যাচ্ছেতাই’ করা ঠেকাতে পারেন। যেমন, লাইসেন্স ও পারিমট দিতে আমলাদের ঘুষ নেয়া ঠেকাতে প্রযুক্তি-সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করে এ কাজটি করা সম্ভব। মেক্সিকো, পেরু, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ‘ইন্টিগ্রেটেড হোল-অব-গভর্নমেন্ট পোর্টালে’র মাধ্যমে সম্প্রসারণ করে চলেছে তাদের ডিজিটাল সার্ভিস। তা সত্তে¡ও সাম্প্রতিক তথ্যমতেÑ পাবলিক সার্ভিস এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজ করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক কিছুই করার বাকি। চাকরি হারানোর ভয়ে কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল ডিজিটাল সার্ভিস চালু করায় এসব দেশে বাধা সৃষ্টি করছে।
বাইজেন্টানিয়ান আমলাতন্ত্রে ডিজিটালাইজ করাই যথেষ্ট নয়। সরকারগুলোকে ভাবতে হবে কী করে সার্ভিসগুলোর সরলায়নের মাধ্যমে নাগরিক সাধারণের জন্য আরো বেশি উপকারী ও ছটজলদি করে তোলা যায়। পর্তুগালে ‘সিমপ্লেক্স প্রোগ্রাম’ সিভিল সোসাইটি ও সরকারি চাকুরেদের সাথে মিলে আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে। এর সাফল্য উৎসাহব্যঞ্জক। অনেক নতুন নির্বাচিত সরকার বিধিবিধানের সংস্কার ও প্রশাসনিক সরলীকরণকে তাদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে এসব দেশ প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে শুধু ২০১৮ সালেই ব্রজিলের Simplifique!, কলম্বিয়ার Estado Simple এবং আর্জেন্টিনার Productive Simplification উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিন : সরকারের রূপান্তর ও উদ্ভাবন
প্রযুক্তিভিত্তিক ও ডাটাতাড়িত গভটেক স্টার্টআপগুলো সহায়তা করছে সরকারের রূপান্তর ঘটাতে। এগুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সেবা সরবরাহে রাষ্ট্রীয় মনোপলির ওপর। গভটেক স্টার্টআপগুলোর আবির্ভাব সরকারি সেবায় নতুন ধরনের সহায়তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত নগর পর্যায়ে। এসব ক্ষুদ্র গতিশীল কোম্পানিগুলো প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে পুরনো সমস্যাগুলো নতুন উপায়ে সমাধানে। যেমন, এগুলো বিভিন্ন সরকারকে দিচ্ছে কার্যকর-ব্যয়ের সমাধান (কস্ট-ইফেকটিভ সলিউশন) হিসেবে ডাটা অ্যানালাইটিকস সার্ভিস। এর আগে এসব সরকারের জন্য ডাটা সায়েন্স টিম নিয়োগ দেয়া ছিল একটি বড় সমস্যা।

গত নভেম্বরে প্যারিসে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় বৈশ্বিক ‘গভটেক সামিট’। এতে প্রতিফলন ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও ইসরাইলের মতো প্রযুক্তিতে অগ্রসর দেশগুলোর সরকারি উদ্যাক্তা ও সরকারি স্টার্টআপের ওপর। সরকারগুলোর নতুন নতুন প্রাযুক্তিক সেবা সরবরাহে গভটেক স্টার্টআপগুলোই শুধু নতুন কোনো উপায় নয়। এসব প্রযুক্তিভিত্তিক ডাটাতাড়িত স্টার্টআপ ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে নীতি-নির্ধারণ ও সেবা সরবরাহের দিকে।

আসলে প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে সরকারি খাতে প্রযুক্তির ইন্টিগ্রিটি তৈরির মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়সহযোগী
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
২০১৯ - ডিসেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস