Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > লিনআক্স অফিস স্যুট এবং টেক্সট এডিটর
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মর্তুজা আশীষ আহমেদ
মোট লেখা:৭৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৮ - মে
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
লিনআক্স
তথ্যসূত্র:
লিনআক্স
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
লিনআক্স অফিস স্যুট এবং টেক্সট এডিটর




লিনআক্সের বেশ কিছু কমান্ড নিয়ে গত দুটি সংখ্যায় আলোচনা করা হয়েছে৷ অনেকেই কোডগুলো কাজে লাগাতে পেরেছেন বলে আমিও আনন্দিত৷ ই-মেইলে একটি সমস্যার কথা জানিয়ে একজন লিখেছেন যে Is কমান্ডটি কাজ করছে না৷ এর সমাধান হচ্ছে Is কোনো কমান্ডই নেই৷ কমান্ডটি হচ্ছে ls (লিস্ট; এলএস)৷ এটি একটি প্রিন্টিং ভুল৷ এই সংখ্যায় লিনআক্সের কয়েকটি টেক্সট এডিটর এবং লিনআক্সের অফিস স্যুট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে৷ পরবর্তী সময় যখন লিনআক্সের সিস্টেম কনফিগারেশন নিয়ে কাজ করা হবে তখন টেক্সট এডিটরে প্রচুর কাজ করতে হবে৷

টেক্সট এডিটর

লিনআক্সে বেশ কিছু টেক্সট এডিটর আছে৷ বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশনে এর নির্মাতারা তাদের ইচ্ছে এবং সুবিধা অনুযায়ী এসব এডিটর সংযুক্ত করে থাকেন৷ তবে সাধারণত Vi এডিটর এবং Emacs টেক্সট এডিটর দুটি থাকেই৷ এই দুটি টেক্সট এডিটর নিয়ে এ সংখ্যায় আলোচনা করা হয়েছে৷

Vi এডিটর

এর পুরো নাম হচ্ছে ভিজ্যুয়াল এডিটর৷ অনেক ডিস্ট্রিবিউশনে এটি vim নামে পরিচিত৷ vim হচ্ছে Vi এডিটরের আধুনিক সংস্করণ৷ তবে জিনিস একই৷ গ্রাফিক্যালি এই এডিটর স্টার্ট মেনু থেকে চালাতে পারেন৷ ইচ্ছে করলে কমান্ড লাইন থেকেও একে চালানো যায়৷ যদি এক্স উইন্ডোজ কনফিগার করে না থাকেন তাহলেও এই এডিটর চালাতে পারবেন৷ কমান্ড লাইন থেকে এই এডিটর চালানোর কোড হচ্ছে gvim৷ gvim লিখে এন্টার চাপলে এই টেক্সট এডিটর চালু হবে৷ এডিটর চালু হলে কিছু গারবেজ ভ্যালু দেখতে পাবেন৷ প্রত্যেকটি ভ্যালু একেকটি অর্থ বহন করে৷ যেমন,ক্যারেক্টারটি ব্যবহার করা হয়েছে ফাঁকা লাইন বুঝানোর জন্য৷ কিছু লিখতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে র চেপে এডিটরকে সক্রিয় করতে হবে৷ সক্রিয় করার পর এই এডিটরে লেখা যাবে৷ লেখা হয়ে গেলে এস্কেপ (Esc) চেপে কমান্ড মোডে ফেরত আসতে পারবেন৷ সেভ করার জন্য কমান্ড লাইনে টাইপ করতে হবে :wq৷ এর মানে হচ্ছে রাইট অ্যান্ড কুইট৷ ফাইলের নাম দেয়ার জন্য টাইপ করতে হবে : w x| এখানে x-এর স্থানে ফাইলের নাম লিখে দিতে হবে৷ এডিটর থেকে বের হবার জন্য লিখতে হবে :য়!৷

এই এডিটরের কিছু বিল্ট ইন কমান্ড

i - এডিটর সক্রিয় করা এবং ইনসার্ট মোড চালু করা৷
x - কার্সর যেখানে থাকবে তার নিচের ক্যারেক্টার মুছে যাবে৷
dw - ওয়ার্ডের যেখানে কার্সর আছে সেখান থেকে ওয়ার্ডের শেষ পর্যন্ত মুছে যাবে৷
d$ - কার্সর থেকে লাইনের শেষ পর্যন্ত মুছে যাবে৷
dd - পুরো লাইনটিই মুছে ফেলা যায় এই কমান্ডের মাধ্যমে৷
2dd - একসাথে দুই লাইন মুছে দেয়া যায় এই কমান্ডের মাধ্যমে৷
u -কমান্ড আনডু করার কমান্ড৷
U - লাইন আনডু করার কমান্ড৷
Ctrl+R - রি ডু করার কমান্ড৷
Esc - এডিটর থেকে কমান্ড মোডে ফেরত যাবার জন্য এই কমান্ড ব্যবহার করা যায়৷
l- কী বোর্ডের রাইট অ্যারো কী ব্যবহার করার জন্য বা কার্সরকে পরের ক্যারেক্টারে নিয়ে যাবার জন্য৷
h -কী বোর্ডের লেফট অ্যারো ব্যবহার করার জন্য বা কার্সরকে আগের ক্যারেক্টারে নিয়ে যাবার জন্য৷
j-কী বোর্ডের আপ অ্যারো কী ব্যবহার করার জন্য বা কার্সরকে এক লাইন উপরের ক্যারেক্টারে নিয়ে যাবার জন্য৷
k-কী বোর্ডের ডাউন অ্যারো কী ব্যবহার করার জন্য বা কার্সরকে এক লাইন নিচের ক্যারেক্টারে নিয়ে যাবার জন্য৷
w - পরের ওয়ার্ডে কার্সর নিয়ে যাবার জন্য৷
b - আগের ওয়ার্ডে কার্সর নিয়ে যাবার জন্য৷

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই এডিটরে বসেও কমান্ড লাইনের যেকোনো কমান্ড দিয়ে সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ এজন্য :! লিখে কোনো স্পেস না দিয়ে কাঙ্ক্ষিত কমান্ড লিখে এন্টার দিলেই কমান্ডটি কাজ করবে৷

এমাকস

কমান্ড লাইনে খুব সহজেই কাজ করা যায় বলে ার এডিটর বেশ জনপ্রিয়৷ কিন্তু লিনআক্সের খুব শক্তিশালী একটি টেক্সট এডিটর হচ্ছে এমাকস৷ অনেক ডিস্ট্রিবিউশনে এটি এক্স এমাকস বলেও পরিচিত৷ এমাকস খুব জনপ্রিয়, তার কারণ হচ্ছে এর ব্যবহার খুব সহজ৷ উইন্ডোজের নোটপ্যাডের মতো খুব সহজেই একে ব্যবহার করা যায়৷ এই এডিটর এতটাই শক্তিশালী যে এর সাহায্যে ইন্টারনেট ব্রাউজিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রোগ্রাম চালানো সম্ভব৷ এখানেই শেষ নয়৷ এই এডিটর দিয়ে সিস্টেম কনফিগারেশনও অনায়াসে পরিবর্তন করা যায়৷ লিনআক্স ডিবাগিং করার সবচেয়ে জনপ্রিয় এডিটর হচ্ছে এই এমাকস৷ স্টার্ট মেনু থেকে সরাসরি এটিকে চালানো যায়৷ কমান্ড লাইন থেকে emacs বা xemacs লিখলেই এই এডিটর চালু করা যাবে৷ নোটপ্যাডের সাথে এর ব্যবহারের মিল থাকায় এটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হলো না৷ এমাকস এডিটর বন্ধ করে কমান্ড লাইনে ফিরে যাবার কমান্ড হচ্ছে Ctrl+c Ctrl+x ৷

অফিস স্যুট

প্রত্যেকটি অপারেটিং সিস্টেমের অপরিহার্য সফটওয়্যার হচ্ছে অফিস স্যুট৷ অফিস স্যুট হচ্ছে কয়েকটি এডিটরের সমন্বয় যেখানে কোনো ডকুমেন্ট লেখা বা সম্পাদনা করা, প্রেজেন্টটেশন তৈরি করা, ছোট থেকে মাঝারি মানের ডাটাবেজ তৈরি এবং মেন্টেইন করা প্রভৃতির এডিটর থাকে৷ এরকম খুব জনপ্রিয় একটি অফিস স্যুট সফটওয়্যার হচ্ছে মাইক্রোসফট অফিস৷ এই সফটওয়্যারের বিকল্প কোনো সফটওয়্যার নেই তা কিন্তু নয়৷ বিশ্বব্যাপী উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জনপ্রিয়তার সাথে সাথে মাইক্রোসফটের এই অফিস স্যুট জনপ্রিয়তা পেয়েছে৷ বলা বাহুল্য এখন অফিস স্যুট সফটওয়্যার ছাড়া কমপিউটিং চিন্তাই করা যায় না৷

প্রতিটি লিনআক্সেই এখন একটি করে অফিস স্যুট সম্পৃক্ত করা হচ্ছে৷ যারা একটু লিনআক্স চালানো শিখে গেছেন তারা জানেন যে উইন্ডোজের মতো লিনআক্স ইনস্টল করার পর আলাদাভাবে বিভিন্ন অ্যাপি­কেশন সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই৷ লিনআক্স ইনস্টল হবার সময় অ্যাপি­কেশন সফটওয়্যারসহ ইনস্টল হয়৷ যেমন-গান শোনার সফটওয়্যার, ভিডিও, মিডিয়া রাইটিং (সিডি,ডিভিডি), টিভি দেখার সফটওয়্যার, অফিস স্যুট সফটওয়্যার প্রভৃতি লিনআক্সে আলাদাভাবে ইনস্টল করতে হয় না৷ লিনআক্সে যে অফিস স্যুট দেয়া হয় তা হচ্ছে সান মাইক্রোসিস্টেমস-এর তৈরি করা ওপেন অফিস৷ ওপেন অফিস ইচ্ছে করলে উইন্ডোজেও চালানো যায়৷ ইন্টারনেট থেকেও-এর উইন্ডোজ ভার্সন ডাউনলোড করা যায়৷ ভিজিট করুন www.openoffice.org৷ লিনআক্সে অফিস স্যুট ব্যবহার করার সাথে উইন্ডোজের অফিস স্যুট ব্যবহার করার তেমন কোনো পার্থক্য নেই৷ শুধু ফাইল সেভ করার সময় ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে .doc বা .rtf, প্রেজেন্টটেশন বা পাওয়ার পয়েন্ট অ্যাপি­কেশনের জন্য .ppt এবং ডাটাবেজ অ্যাপি­কেশনের জন্য .সফন এক্সটেনশনসহকারে সেভ করা হয়৷ তাহলে ওই ফাইল উইন্ডোজে পড়তে বা চালাতে কোনো সমস্যা হবে না৷ ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে .rtf-এ সেভ করলে মেশিনও সেই ডকুমেন্ট ফাইল পড়তে এবং এডিট করতে পারবে৷ এখন থেকে আমরা ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টটেশন, ডাটাবেজ তৈরি এবং সম্পাদন লিনআক্সেই করতে পারবো আশা করি৷


ফিডব্যাক : mortuza_ahmad@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৮ - মে সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস